অছিয়ত মুরিদের মুক্তির পাথেয় – ইমাম ড. কুদরত এ খোদা

0
5343

বিশেষ সংবাদদাতা: অছিয়তকে মুরিদের মুক্তির পাথেয় উল্লেখ করে মহান সংস্কারক সূফী সম্রাট হযরত সৈয়দ মাহবুব-এ-খোদা দেওয়ানবাগী (রহ.) হুজুর কেবলাজানের মেজো সাহেবজাদা, মোহাম্মদী ইসলামের নেতৃত্ব প্রদানকারী ইমাম ড. আরসাম কুদরত এ খোদা (মা. আ.) হুজুর বলেন, অছিয়ত আপনার মুক্তির পাথেয়। আপনি মোর্শেদের পরে কার হাত ধরে রাস্তায় হাঁটবেন, কার গাড়িতে চড়বেন, তা বলা হয়েছে অছিয়তে।

গত ২০ অক্টোবর, বুধবার পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবি (সা.) উপলক্ষ্যে বাবে রহমত দেওয়ানবাগ শরীফ থেকে ভার্চ্যুয়াল প্ল্যাটফর্মে আয়োজিত আশেকে রাসুল (সা.) সম্মেলনে দেওয়া বাণীতে এ কথা বলেন দেওয়ানবাগ শরীফের পরিচালক, সমন্বয়ক ও সমস্যার ফয়সালাকারী ইমাম ড. কুদরত এ খোদা (মা. আ.) হুজুর।

আশেকে রাসুলদের উদ্দেশে ইমাম ড. কুদরত এ খোদা হুজুরের দেওয়া বাণীটি সংক্ষেপিত আকারে তুলে ধরা হলো:

আজ পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবি (সা.)। ঈদ শব্দের অর্থ খুশি। মিলাদুন্নবি শব্দের অর্থ হচ্ছে নবির জন্ম। ঈদে মিলাদুন্নবি (সা.) অর্থ নবির জন্মদিনের খুশি। আজ থেকে ১৪৯৬ বছর পূর্বে ৫৭০ খ্রিষ্টাব্দের ১২ রবিউল আউয়াল সোমবার সুবহে সাদিকের সময় কুরাইশ বংশে রহমাতুল্লিল আলামিন দয়াল রাসুল (সা.) এই ধূলির ধরায় আগমন করেন। তাঁর পিতা ছিলেন হযরত আব্দুল্লাহ (আ.) এবং তাঁর মাতা ছিলেন হযরত আমেনা (আ.)। পিতা এবং মাতার কোলকে আলোকিত করে জগতের বুকে পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ মহামানব, শ্রেষ্ঠ রাসুল, শ্রেষ্ঠ আল্লাহর বন্ধু রাহমাতুল্লিল আলামিন দয়াল রাসুল (সা.) মুক্তির বার্তা নিয়ে, মুক্তির জয়গান শুনিয়ে এই ধূলির ধরায় আগমন করেন। মানুষকে মহান আল্লাহ ও হযরত রাসুল (সা.)-এর পথে ধাবিত করার জন্য। আল্লাহর রাসুল (সা.)-এর এই আবির্ভাব প্রসঙ্গে রাসুল (সা.) বলেন, আমার মাতা দেখেছেন তাঁর মধ্য হতে একটি নুর বের হয়ে শাম দেশের প্রাসাদসমূহ আলোকিত করছে। এটি ইবনে কাছির থেকে বর্ণিত। হযরত রাসুল (সা.) হলেন জগতসমূহের জন্য রহমত। আল্লাহ তায়ালা এ প্রসঙ্গে বলেন, “ওয়ামা আরসালনাকা ইল্লা রহমাতাল্লিল আলামিন।” অর্থাৎ- হে রাসুল! আমি আপনাকে জগতসমূহের রহমতরূপে প্রেরণ করেছি। সুতরাং রাসুলের জন্মদিনে যারা আনন্দিত হবে নিঃসন্দেহে তারা যাবতীয় গজব থেকে বাঁচতে পারবে।

সম্মানিত আশেকে রাসুলেরা!

যে রাসুলকে সৃষ্টি করা না হলে সারা বিশ্বব্রহ্মাণ্ড সৃষ্টি হতো না। হযরত রাসুল (সা.) সম্পর্কে মহান রাব্বুল আলামিন বলেন, আমি জ্বলন্ত প্রদীপের মতো আর আমার রাসুল জ্বলন্ত প্রদীপ। যে রাসুলকে সৃষ্টি করা না হলে তখনকার বর্বর আরব জাতি পরিশুদ্ধ মানুষে পরিণত হতে পারত না; যে রাসুলকে সৃষ্টি করা না হলে আজও মানুষ মূর্তির মাঝে, গাছের মাঝে আল্লাহকে খুঁজে বেড়াত; মালিকের সন্ধান পেত না; যে রাসুলকে সৃষ্টি করা না হলে আল্লাহর একত্ববাদের জয়গান শ্লোগান সারা বিশ্বে তৈরি হতো না, সেই রাহমাতুল্লিল আলামিন সাফিয়াল মুজনবিন দয়াল রাসুল (সা.)-এর শুভ আগমন ঘটেছিল আজ থেকে ১৪৯৬ বছর আগে। আল্লাহ পবিত্র কুরআনে সূরা আলে ইমরানের ৩১ নং আয়াতে বলেন, “আপনি বলে দিন! তোমরা যদি আল্লাহকে ভালোবাসতে চাও তবে আমার অনুসরণ করো। তাহলে আল্লাহ তোমাদেরকে ভালোবাসবেন এবং তোমাদের পাপসমূহ ক্ষমা করবেন। অবশ্যই আল্লাহ পরম ক্ষমাশীল ও পরম দয়ালু।” যেই সৃষ্টিকর্তা আমাদেরকে সৃষ্টি করেছেন তিনি বলেন, তুমি যদি আমাকে ভালোবাসতে চাও, তাহলে রাসুলকে ভালোবাস। যদি আমাকে চিনতে চাও তাহলে আমার সেই প্রতিনিধি আমার সেই বন্ধু নুরে মোহাম্মদি, যার নামে নুর এসেছে ঐ নুরে মোহাম্মদীর ধারক ও বাহক দয়াল রাসুল (সা.)-কে ভালোবাস এবং অনুসরণ করো। তাঁকে অনুসরণের মাধ্যমে আল্লাহকে ভালোবাসা হয়। তাঁকে অনুসরণের মাধ্যমে আল্লাহকে পাওয়া যায়।

এ থেকেই তো প্রমাণিত হয় আল্লাহ তায়ালা তাঁর বন্ধুকে কতটুকু ভালোবাসেন। আল্লাহর বন্ধু শাহ দেওয়ানবাগী (রহ.) তাঁর জীবনের বেশিরভাগ সময় অতিবাহিত করেছেন এই আশেকে রাসুলের কাছে আদর্শ প্রচারের জন্য। আল্লাহর বন্ধু শাহ দেওয়ানবাগী (রহ.) ওনার ৭১ বছর জীবন পর্যন্ত তাঁর সকল মুরিদ সন্তানকে একটি সম্মাননা দিয়ে গেছেন, আর তা হচ্ছে আশেকে রাসুল। দেওয়ানবাগীর মুরিদ সন্তান গর্ব করে নিজেকে আশেকে রাসুলের পরিচয় দেয়। গর্ব করে নিজেকে নামের আগে পরিচয় দেয়, আমি একজন আশেকে রাসুল, যা আমাদের জন্য গর্বের।

সম্মানিত আশেকে রাসুলেরা!

ঈদে মিলাদুন্নবি (সা.) আমরা নিজেরা উদযাপন করব। আমরা আশপাশের সবাইকে নিয়ে পালন করব। আপনারা আপনাদের অফিসে, কর্মস্থলে, বাসায়, এলাকায় ঈদে মিলাদুন্নবি (সা.) পালন করুন। আপনারা শুধু যার যার বাড়িতে নয়, কর্মস্থলেও পালন করুন। অনেক বড়ো কিছু করতে বলিনি। দুই টাকা করে চকলেট কিনে নিয়ে যেতে পারেন। কর্মস্থলের সবাইকে একটু চকলেট দিয়ে বলেন, কালকে বাসায় ঈদে মিলাদুন্নবি (সা.)-এর ঈদ পালন করেছি, রাসুলের জন্মদিন পালন করেছি। চলো না একটু তোমাদেরকে চকলেট বিতরণ করি। যার সামর্থ্য চকলেট, যার সামর্থ্য মিষ্টি, যার সামর্থ্য বিরিয়ানি, যার সামর্থ্য ভাত, যার সামর্থ্য মাংস, যার সামর্থ্য সবজি। আসুন না আমরা রাসুলকে নিয়ে আবার ঐ আশেকে রাসুলের জোয়ার সারা বিশ্বে জাগিয়ে তুলি! আল্লাহর বন্ধু শাহ দেওয়ানবাগীর স্বপ্ন বাস্তবায়ন করি। শাহ দেওয়ানবাগীর স্বপ্ন বাস্তবায়ন করতে পারলেই এই মোহাম্মদী ইসলাম সামনে অগ্রসর হবে।

আপনারা জানেন, এই মোহাম্মদী ইসলাম আল্লাহর বন্ধু শাহ দেওয়ানবাগীর স্বপ্ন। তিনি তাঁর জীবনের সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছেন এই মোহাম্মদী ইসলামকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্যে। আমরা আমাদের জায়গা থেকে প্রতিনিয়ত চেষ্টা করি মোহাম্মদী ইসলামকে আমরা এগিয়ে নিয়ে যেতে পারি। আল্লাহর বন্ধু শাহ দেওয়ানবাগী (রহ.) তাঁর অছিয়তনামায় আমি-সহ ৪ জন ইমামকে দায়িত্ব দিয়েছেন এই মোহাম্মদী ইসলামকে সামনে অগ্রসর করার জন্য। এর মধ্যে আমার বড়ো ভাই ড. নূর-এ-খোদা আল আজহারী, আমি ড. কুদরত-এ-খোদা, আমার সেজো ভাই ড. ফজল-এ-খোদা এবং আমার ছোটো ভাই ড. মঞ্জুর-এ-খোদা। আমাদের ৪ ভাইকে তিনি ইমামতের দায়িত্ব দিয়ে তিনি বলেছেন তোমরা হবে মুরিদের ইমাম অর্থাৎ মুরিদের নেতা। সহজ ভাষায় বলছি, তোমরা মুরিদের নেতা। এই ৪ ভাই হচ্ছে মুরিদের নেতা এবং ইমাম। এই ৪ জনকে দায়িত্ব দিয়েছেন তোমরা এই মোহাম্মদী ইসলামকে সামনে অগ্রসর করবে। এতে কোনো সন্দেহ নেই। বাবাজান যেই দিন এই অছিয়ত করেন, উনি গোপনে করেননি। এ কথাগুলো ছিল ওনার শেষ কথা। এই কথাগুলোর পরে উনি আর তেমন কোনো কথা বলতে পারেননি। শুধু হাঁ বা না জবাব দিয়েছিলেন। এটাই ওনার জীবনের স্পষ্ট ভাষায় আমরা যা শুনেছি তার শেষ কথা। আল্লাহর কসম! আল্লাহর কসম! আল্লাহর কসম! আমি যা শুনেছি, আমি সত্য বলছি। আমি এক শত নয়, হাজার পার্সেন্ট সত্য বলছি। এটাই ওনার জীবনের স্পষ্ট ভাষায় শেষ কথা। তারপরে উনি আর শুধু হাঁ না অথবা দুই চারটি কথা বলার সুযোগ পেয়েছেন। আমরা কিন্তু ওনার অছিয়ত শুনতে সেখানে যাইনি। আমরা গিয়েছিলাম অন্য কারণে। এমন নয় সবাই ওজু করে পাক পবিত্র হয়ে বসেছিলাম, বাবাজান এসে আমাদরে অছিয়ত করবেন আর আমরা অছিয়ত শোনব, এরকম নয়। আমরা গিয়েছিলাম অন্য বিষয়ে আলোচনা করতে। উনি সেই সময় সবকিছু থামিয়ে দিয়ে ওনার কথা বলেছেন। ওনার এই অছিয়তের কথা বলেছেন। যা আত্মার বাণীতে প্রতিনিয়ত প্রকাশিত হয়। ওয়াজিফাতে প্রকাশিত হয়েছে। দরবারের বিভিন্ন বইতে যায়। উনি চেয়েছেন ওনার এই সাজানো বাগান অর্থাৎ ওনার এই মোহাম্মদী ইসলামকে যাতে কেউ ধ্বংস করতে না পারে। সেই জন্য আমাদের মধ্যেও যাতে ফেতনা তৈরি না হয়। তিনি ৪ জন ইমামকে স্পষ্ট ভাষায় এই মোহাম্মদী ইসলামকে সামনে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার দায়িত্ব দিয়েছেন। ৪ জন ইমামের মধ্যে ৩ জনকে রেখে আমাকে বলেছেন, তুমি এই ৩ জনের নেতৃত্ব দিবে। শুধু ৩ জন নয়, এই মোহাম্মদী ইসলামের নেতৃত্ব দিবে। তিনি দয়া করে মনে করেছেন, আমি গোলাম হয়তো এই মোহাম্মদী ইসলামকে সামনে এগিয়ে নিয়ে যেতে পারব। তিনি আমার উপরে আস্থা রেখেছেন যে, এই ৩ জন ইমাম-সহ ৩ কোটি আশেকে রাসুলকে আমি সামনে অগ্রসর করতে পারব। সেই জন্য তিনি দয়া করে আমাকে এই দায়িত্ব দিয়েছেন। জানিনা, কতটুকু তাঁর এই দায়িত্ব আমি পালন করতে পারব! তবে হাঁ আমি আমার মৃত্যুর আগ পর্যন্ত এই পথ থেকে সরব না। আমি যতদিন বেঁচে আছি, যতক্ষণ বেঁচে আছি, এই দেহে যতক্ষণ প্রাণ আছে, আল্লাহর বন্ধু শাহ দেওয়ানবাগীর আদর্শে কায়েম থাকব। এতে যদি সকল আশেকে রাসুল আমার বিপক্ষেও চলে যায়, আল্লাহর কসম! আমি কুদরত-এ-খোদা দেওয়ানবাগীর আদর্শে দাঁড়িয়ে থাকব।

সম্মানিত আশেকে রাসুলেরা!

আমাদেরকে মনে রাখতে হবে যে, আমরা মোর্শেদের আদর্শের সৈনিক। আমরা মোর্শেদের আলোয় নিজেকে আলোকিত করতে চাই। সেজন্য মোর্শেদ আমাকে বিশ্বাস করেছেন যে, কদর (কুদরত এ খোদা) হয়ত পারবে এই তরিকাকে এগিয়ে নিয়ে যেতে। পরিতাপের বিষয়, আমাদের মধ্যে এখনও কিছু মোনাফেক এবং ফেতনাকারী আছে। যারা এখনও বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন কথা বলেন, যা সঠিক নয়। আপনি আপনার আড়াই ইঞ্চি ব্রেইন দিয়ে আমাকে মাপতে যাবেন না। আপনার যোগ্যতা তৈরি হয়নি, আপনি আমাকে মাপতে পারেন। পাঁচ কেজি ওজনের বাটখারা মাপতে আর একটি পাঁচ কেজি ওজনের বাটখারা দরকার। আপনি আমার সমযোগ্য নন যে, আপনি আমাকে মাপতে যাবেন। মুরিদদের মধ্যে একদল বলেন, অছিয়ত পরিবারবর্গের জন্যে, অছিয়ত আমাদের জন্য নয়। অছিয়ত আপনার মুক্তির পাথেয়। আপনি মোর্শেদের পরে কার হাত ধরে রাস্তায় হাঁটবেন, কার গাড়িতে চড়বেন তা বলা হয়েছে অছিয়তে। আপনি যদি বলেন, অছিয়ত পরিবারবর্গের জন্য। আপনার মতো নির্বোধ কি এই জগতে আছে? আত্মার বাণীতে লেখা আছে অছিয়ত পরিবারের উদ্দেশে করেছেন। আপনিতো বাবাজানের ওফাতের সময় সামনে ছিলেন না। আমি সামনে ছিলাম, আমরা পরিবারের সদস্যরা ছিলাম। আমাদেরকে উদ্দেশ্য করে বলেছেন অর্থাৎ মোহাম্মদী ইসলামকে উদ্দেশ্য করে বলেছেন। আপনি কি মোহম্মদী ইসলামের বাইরে? যদি বাইরে থাকেন আল্লাহর কসম, এই মোহম্মদী ইসলামের বর্তমানে আমি পতাকা বাহক, আমি মোহম্মদী ইসলামের গাড়ির পরিচালক। আমি গাড়ি চালাচ্ছি- আমি আপনাকে মুরিদ হিসেবে গ্রহণ করব না। যদি আমি মুরিদ হিসেবে গ্রহণ না করি, আল্লাহর কসম! এই দুনিয়াতে আপনি আর কাউকে সুপারিশকারীরূপে পাবেন না। সাবধান! যারা নিজেকে ফেতনায় জড়িত করছেন। আপনাদের মধ্যে এক দল বলেন, আওলাদদের মধ্যে গন্ডগোল হবে, আওলাদদের মধ্যে অসুবিধা হবে। আওলাদদের মধ্যে কোনো অসুবিধা নেই। আমরা ৪ ভাই আজকেও বক্তব্য দেওয়ার আগে এক সাথে কথা বলে উঠে এসেছি। সমস্যা আপনাদের মধ্যে। আপনারা ছোটো বড়ো বানান। আপনারা হিংসাত্মক কথা ছড়ান। আপনারা ফেতনায় জড়িত হন। আপনি কি মনে করেছেন, আমি জানি না? আপনি কি ভেবে নিয়েছেন, আমি জানি না? আমি আপনার অন্তরের খবর জানি, আমার সাথে কী খেলা! তোমার খেলা সম্পর্কে হাজার গুণ জানি। কুদরত-এ-খোদার সাথে খেলো না। আশেকে রাসুলদের সাবধান করি! এই ফেতনাকারীদের থেকে দূরে থাকুন, যারা আওলাদেরকে নিয়ে সমালোচনা করে। ফেতনাকারীদের থেকে দূরে থাকুন, যারা মোর্শেদের আদর্শের সমালোচনা করে। আমি আপনাকে আমার সম্পর্কে অতিরঞ্জিত বলতে বলিনি। আমি আপনাকে কোনো আওলাদের সম্পর্কেও মন্তব্য করতে বলিনি। এটা মোহম্মদী ইসলাম, ফেতনা করার জায়গা নয়। আপনি আমার কাছে এসেছেন ইমানদার হওয়ার জন্য। আর আমি আপনাকে ইমানের পথ দেখাব। এর বাইরে আপনার সাথে আমার কোনো সম্পর্ক থাকবে না। আল্লাহকে পাওয়ার জন্য আসছেন, আল্লাহকে পাবেন। রাসুল (সা.)-কে পাওয়ার জন্য আসছেন। এই দেওয়ানবাগী (রহ.)-এর বিদ্যালয়ে থাকবেন, দেওয়ানবাগীর চরিত্রাদর্শে দাঁড়িয়ে থাকবেন, দেওয়ানবাগীর শিক্ষায় নিজেকে শিক্ষিত করবেন। আমি কথা দিচ্ছি, আপনাকে রাসুল (সা.) সুপারিশ করবেন। আমি দাঁড়িয়ে সুপারিশ করব, আমি সাক্ষী দিচ্ছি, উনি নিজেকে চরিত্রবান বানিয়েছেন।

সম্মানিত আশেকে রাসুলেরা!

অনুরোধ করব আপনাদেরকে, আপনারা নিজেরা ফেতনামুক্ত হোন। যদি সমালোচনা আপনি শুনেন, আপনিও সমান অপরাধী। আল্লাহর বন্ধু শাহ দেওয়ানবাগীর ওফাতের পরে, এই কুদরত-এ-খোদার জানের উপর দিয়ে কি গেছে? একবার কি বলতে পারবেন? ষোলো ঘন্টা দাঁড়িয়ে কাজ করেছি আমি। কোথায় ছিলেন? যখন আপনি রাতের পর রাত ঘুমান, আর আমি তখন রাত্রি জাগরণ করে আপনাকে পাহারা দেই। ভাবেন একবার! আমরা আমাদের জীবন উৎসর্গ করে, সবাই মিলে চেষ্টা করছি, আল্লাহর বন্ধুর স্বপ্ন বাস্তবায়ন করতে। আপনি দুই ইঞ্চি, আড়াই ইর্ঞ্চির একটা ব্রেইন নিয়ে বসেছেন। আর তাতেই আপনি ভাবেন, আমি এই করেছি, সেই করেছি। যারা নিজেকে জ্ঞানী ভাবাপন্ন মনে করে কথা বলেন-অছিয়ত পরিবারের জন্য নয়। অছিয়ত আপনার মুক্তির পাথেয়। অনেকেই বলেন, এতবার অছিয়ত প্রচারের দরকার কী? তাদের জন্য বলি, প্রতিদিন নতুন নতুন মানুষ তরিকা নিচ্ছে। সে জানবে কীভাবে, সে কাকে অনুসরণ করবে? কীভাবে অনুসরণ করবে? আশা করি আমার কথায় আপনার উত্তর পাবেন।

ফেতনাকারীদের এই মোহাম্মদী ইসলামে থাকার সুযোগ নেই। যখন এই মোহাম্মদী ইসলামের পাহারাদার কুদরত-এ-খোদা, যখন এই মোহাম্মদী ইসলামের দাড়োয়ান কুদরত-এ-খোদা। ততক্ষণ এই মোহাম্মদী ইসলামকে ধ্বংস করার সুযোগ তোমাদের নেই। যদি করতে হয় আমার লাশের উপর দিয়ে করতে হবে। আমি যতদিন বেঁচে আছি, আমি আল্লাহর বন্ধু শাহ দেওয়ানবাগীর আদর্শে দাঁড়িয়ে থাকব। আমার ভাইয়েরা আমার সাথে থাকবেন, আমার বোনেরা আমার সাথে থাকবেন এবং আমার আশেকে রাসুলেরা আমার সথে থাকবেন ইনশা আল্লাহ।

সম্মানিত আশেকে রাসুলেরা!

নিজেকে চরিত্রবান বানান। পরের সমালোচনা থেকে দূরে থাকুন। আত্ম সমালোচনায় মগ্ন হোন। নিজেকে গোলাম রূপে নিকৃষ্ট বানিয়ে আল্লাহর কাছে ক্ষমা চান। সাবধান করে বলছি, আমি যদি আপনার কাছ থেকে হাত উঠিয়ে নেই, আল্লাহর কসম, আপনার হাত ধরার আর কেউ থাকবে না। আমি দেওয়ানবাগীর মনোনীত গোলাম। আপনার পছন্দ হলেও সত্য, পছন্দ না হলেও সত্য। আমি যদি হাত উঠিয়ে নেই, আপনার হাত আর কেউ ধরবে না।

আল্লাহর বন্ধু কিয়ামত পর্যন্ত আমাদের সাথে থাকবেন। আমিই বলেছি, সবার উপরে মোর্শেদ সত্য তাহার উপরে নাই। আমিই বলেছি, কেয়ামত পর্যন্ত মোহাম্মদী ইসলামের মোর্শেদ থাকবেন বাবা দেওয়ানবাগী। আমি এখনও বলছি কিয়ামত পর্যন্ত এই মোহাম্মদী ইসলামের মোর্শেদ থাকবেন বাবা দেওয়ানবাগী। আমি উনার কদমে থেকে বাকী জীবন গোলামী করব। তবে আমি এই মোহাম্মদী ইসলামের নেতা হিসেবে এসেছি, এই মোহাম্মদী ইসলামকে বর্তমানে আমি নেতৃত্ব দিয়ে এগিয়ে নিয়ে যাব। এতেও সন্দেহের কোনো কারন নেই।

সম্মানিত আশেকে রাসুলেরা!

আমি আপনাদের প্রতি উদাত্ত আহবান জানাই পরনিন্দা, পরসমালোচনা থেকে নিজেকে দূরে রাখুন, নিজেকে পরিবর্তনের পথে আসুন। আমি আপনাকে সাহায্য করব। যে পথে চললে আপনি মালিককে পাবেন, যে পথে চললে আপনি আল্লাহকে পাবেন। সমাজ কী করল, সমাজ আপনাকে মুক্তি দিতে পারবে না। মানুষ কী বলল, মানুষ আপনাকে মুক্তি দিতে পারবে না। আপনি আল্লাহর হয়ে যান, আল্লাহ আপনার হয়ে যাবেন।

পরিশেষে তিনি তাঁর মূল্যবান বক্তব্য প্রদান করে বিশ্ববাসীর শান্তি ও সমৃদ্ধি কামনা করে আখেরি মুনাজাত পরিচালনা করেন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here