অনলাইনে প্রতিদিন গড়ে ১৭ হাজার পশু বিক্রি

0
28

বাণিজ্য ডেস্ক: জমে উঠেছে অনলাইনে কোরবানির পশুর হাট। গত ২ জুলাই সরকারি ব্যবস্থাপনায় অনলাইনে পশুর হাটের কার্যক্রম শুরুর পর গত ১৩ জুলাই পর্যন্ত মাত্র ১২ দিনে ১ হাজার ৩২৮ কোটি টাকা মূল্যের ১ লাখ ৮৪ হাজার ৮৯৬টি গবাদিপশু বিক্রি হয়েছে। এ হিসেবে প্রতিদিন গড়ে বিক্রি হয়েছে ১৬ হাজার ৮০৮টি পশু। প্রতিদিনই পশু বিক্রির পরিমাণ বাড়ছে। গত মঙ্গলবার এক দিনেই বিক্রি হয়েছে ২৭ হাজার ৬০৮টি গবাদিপশু।


প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, বর্তমানে একই প্ল্যাটফরমে সারা দেশে ২৪১টি পশুর হাট থেকে কোরবানির পশু বিক্রি হচ্ছে। এর বাইরেও ব্যক্তি উদ্যোগে অনেক ফেসবুক পেজ থেকেও কোরবানির পশু বিক্রি করা হচ্ছে। সেসব তথ্য এখানে অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি। ব্যক্তি উদ্যোগে পশু বিক্রির সেসব তথ্য পাওয়া গেলে বিক্রির পরিমাণ আরো বাড়বে। এই সূত্র জানিয়েছে, করোনা সংক্রমণের ঝুঁকি এড়াতে মূলত গত বছর থেকেই অনলাইনে পশু বিক্রির পরিমাণ বেড়েছে। কিন্তু এ বছর এতটা বাড়বে তা ছিল কল্পনারও বাইরে। ক্রেতাদের অনলাইনে কোরবানির পশু কেনা নিয়ে যে দ্বিধা-সংকোচ ছিল তা অনেকটাই কেটে গেছে।


বর্তমানে অনলাইনে যে পরিমাণ কোরবানির পশু কেনাবেচা হচ্ছে তা খুবই আশাব্যঞ্জক বলে জানিয়েছেন মৎস্য ও পশুসম্পদ মন্ত্রী শ ম রেজাউল করিম। তিনি বলেন, ‘করোনা সংক্রমণ রোধে আমাদের জনসমাগম থেকে দূরে থাকতে হবে। এ বাস্তবতায় বিকল্প ব্যবস্থা হিসেবে ডিজিটাল হাট সময়োপযোগী উদ্যোগ। এ বছর মোট কেরবানির পশুর ২৫ শতাংশ ডিজিটাল ব্যবস্থায় বিপণনের লক্ষ্য রয়েছে বলে জানান তিনি।


প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর জানিয়েছে, গত বছর দেশে কোরবানিযোগ্য গবাদি পশু ছিল ১ কোটি ১৮ লাখ ৯৭ হাজার ৫০০টি। কোরবানি হয়েছে ৯৪ লাখ ৫০ হাজার ২৬৭টি গবাদি পশু। এর মধ্যে অনলাইনে গবাদি পশু বিক্রি হয়েছে প্রায় ৭০ হাজার। এ বছর ৪৫ লাখ ৪৭ হাজার গরু-মহিষ, ৭৩ লাখ ৬৫ হাজার ছাগল-ভেড়া এবং অন্যান্য ৪ হাজার ৭৬৫টি পশুসহ মোট ১ কোটি ১৯ লাখ ১৬ হাজার ৭৬৫টি কোরবানিযোগ্য গবাদিপশু রয়েছে। যা গত বছরের তুলনায় ১৯ হাজার বেশি। এবার করোনার প্রকোপ বাড়ায় অনলাইন থেকে কোরবানির গরু বিক্রির পরিমাণ কয়েক লাখ ছাড়িয়ে যেতে পারে।


সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছে, অনলাইনে গরু কেনা ও বিক্রিতে কোনো খরচ না থাকায় দিন দিন এই মাধ্যম জনপ্রিয় হচ্ছে। কেউ অনলাইনে গরু বিক্রি করতে চাইলে সংশ্লিষ্ট জেলা, উপজেলা প্রাণিসম্পদ অফিসে গিয়ে জানালেই সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা অনলাইন প্ল্যাটফরমে সেই পশুর তথ্য আপলোড করে দিচ্ছেন।


ডেইরি ফারমারস অ্যাসোসিয়েশনের তথ্য অনুযায়ী, দেশে বর্তমানে ছোট-বড় মিলিয়ে প্রায় ৮ লাখ খামার আছে। এর মধ্যে ঢাকা শহর ও আশপাশেই খামার আছে ৮ হাজারের বেশি। এসব খামারের রয়েছে নিজস্ব ফেসবুক পেজ। খামারের পাশাপাশি তারা তাদের ফেসবুক পেজ ও বিভিন্ন অনলাইন প্ল্যাটফরমের মাধ্যমেও কোরবানির পশু বিক্রি করছে।


অনলাইনে কেনা পশু ত্রুটিযুক্ত হলে কী করবেন
বাণিজ্য মন্ত্রণালয় থেকে দেওয়া ডিজিটাল হাট-এর নির্দেশিকায় বলা হয়েছে, বিক্রেতার ডেলিভারি করা পশুটি যদি ত্রুটিযুক্ত হয়, যে পশু অর্ডার করা হয়েছে তার সঙ্গে যদি মিল না থাকে, পশুর ওজনের ক্ষেত্রে বেশি অসামঞ্জস্য (১০% এর বেশি) অথবা অন্য কোনো যৌক্তিক কারণে পশুটি ক্রেতা গ্রহণ করতে অপারগতা প্রকাশ করলে সেক্ষেত্রে বিক্রেতা তাৎক্ষণিক সমমূল্যের/সমওজনের আরেকটি সমজাতীয় পশু ক্রেতাকে যথাসময়ে দিতে বাধ্য থাকবেন। এছাড়া, বিক্রেতা/মার্কেটপ্লেস যথাসময়ে ক্রেতার অথবা স্লটারিং হাউজে কোরবানির পশু সরবরাহ করতে ব্যর্থ হলে বিক্রেতা/মার্কেটপ্লেস পশুর সমপরিমাণ মূল্যের দ্বিগুণ অর্থ পরিশোধ করতে বাধ্য থাকবে।


একই প্ল্যাটফরমে ২৪১ ডিজিটাল হাট
এবার একই প্ল্যাটফরমে নিয়ে আসা হলো সারা দেশের ২৪১টি ডিজিটাল কোরবানির হাট। মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগ এবং ই-কমার্স অ্যাসোসিয়েশন (ই-ক্যাব)-এর যৌথ উদ্যোগে এবং এটুআই-এর কারিগরি সহায়তায় এই হাটের আয়োজন করা হয়েছে। গত মঙ্গলবার এক ভার্চুয়াল অনুষ্ঠানে এই সম্মিলিত হাট উদ্বোধন করেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী শ ম রেজাউল করিম।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here