অলীকুল সম্রাট বাবা দেওয়ানবাগী

3
238

অধ্যাপক এম কামাল উদ্দীন

মহান আল্লাহ্ প্রেরিত নবি-রাসুল, অলী-আল্লাহ্সহ মুমেনগণের হৃদয় হলো আল্লাহ্্র বাসস্থান। এই সৃষ্টিজগতের মালিকানা হলো আল্লাহ্ রাব্বুল আলামিনের। যারা তাঁর মনোনীত হয়ে এই ধরণীর বুকে যে স্থানে অবস্থান করেছেন- সে স্থান মানবজাতির জন্য মহাপবিত্র স্থান। জেরুজালেম, মক্কা, মদীনা, বাগদাদ, আজমীর, বাবে রহমত, বাবে জান্নাত, বাবে মোর্শেদসহ অসংখ্য প্রসিদ্ধ স্থান পবিত্র স্থান হিসেবে আশেকে রাসুলগণের পরম সম্মানিত। এসব স্থানে অবস্থানকারীরা হলেন আল্লাহ্র বন্ধু, আল্লাহ্র হাবীব। তাঁরা হলেন অমর, অক্ষয় অব্যয়। মহান আল্লাহ্ তাঁদের দেহ-মোবারককে মাটির জন্যে হারাম ঘোষণা করেছেন। সেখানে যেতে হলে- নিজের পায়ের জুতা খুলে যেতে হয়। পবিত্র স্থানে অবস্থান করায় আল্লাহ্ হযরত মুসা (আ.)-কে জুতা খুলে যেতে নির্দেশ দিয়েছিলেন। হযরত মোজাদ্দেদ আলফেসানি (রহ.)-এর সম্মানে সেরহিন্দ শহরে পবিত্র কাবাঘরকে পাঠিয়েছিলেন। হজ¦ব্রত পালনের উদ্দেশ্যে যাত্রা পথে হযরত রাবেয়া বসরী (রহ.)-কে সম্ভাষণ জানানোর জন্য আল্লাহ্ কাবাঘরকে পাঠিয়ে ছিলেন। গরীবে নেওয়াজ খাজা মঈনউদ্দিন চিশতি (রহ.) তাঁর মোর্শেদ হযরত উসমান হারুনির সাথে হজ¦ব্রত পালনার্থে মদিনায় যাওয়ার পথে জমিনের পবিত্রতা রক্ষার্থে হামাগুড়ি দিয়ে হযরত রাসুল (সা.)-এর রওজা শরীফে উপস্থিত হয়েছিলেন। প্রেমাস্পদ মহান আল্লাহ্ তাঁর প্রেমিক মহামানবগণের জীবনে এ রকম অসংখ্য ঘটনা ঘটিয়ে তাঁদেরকে অমরত্ব দান করেছেন।

আমাদের প্রাণপ্রিয় মোর্শেদ, মোহাম্মদী ইসলামের পুনর্জীবনদানকারী সূফী সম্রাট হযরত সৈয়দ মাহ্বুব-এ-খোদা দেওয়ানবাগী (মা. আ.) হুজুর কেব্লাজান মহান আল্লাহ্র একত্ববাদ প্রচারের মাধ্যমে মানব মুক্তির অসিলা হিসেবে সর্বপ্রথম ঢাকার অদূরে ‘বাবে জান্নাত’ এবং পরবর্তীতে ঢাকার প্রাণকেন্দ্রে ‘বাবে রহমত’ দরবার শরীফ প্রতিষ্ঠা করেন। তাঁর প্রতিষ্ঠিত এই দরবার মোহাম্মদী ইসলামের প্রচারের প্রাণকেন্দ্র হিসেবে বিশ^বাসীর কাছে এক মহাপবিত্র স্থান। এখানেই জগদ্বিখ্যাত মহামানব বাবা দেওয়ানবাগী (মা. আ.) হুজুর কেব্লাজানের অবস্থান স্থল।
এখান থেকেই প্রচারিত হচ্ছে- আল্লাহ্কে আকাররূপে দেখার সুসংবাদ। আশেকে রাসুল হয়ে তাঁর দিদার লাভের সুসংবাদসহ ধর্ম সংস্কারের মতো কঠিন দায়িত্ব মহান আল্লাহ্ তাঁর প্রিয় বন্ধুর উপর অর্পণ করেছেন। প্রধান কার্যালয়সহ বর্তমানে ১১টি আঞ্চলিক দরবার প্রতিষ্ঠা করে তিনি বিভাগীয় এলাকায় মানুষদের মোহাম্মদী ইসলাম শিক্ষার ব্যবস্থা করেছেন। এ ছাড়া টেলিভিশনের বিভিন্ন চ্যানেলসহ ইন্টারনেটের মাধ্যমে দেশ-বিদেশে থেকেও মানুষ যাতে সরাসরি দরবার কর্তৃক প্রচারিত বাবা দেওয়ানবাগী (মা. আ.)-এর অমীয় বাণী, ধর্মীয় শিক্ষা ও সংস্কারসমূহ প্রতিনিয়ত দেখতে, শুনতে ও উপলব্ধি করতে পারেন তার কার্যক্রম গ্রহণ করা হয়েছে। দরবার শরীফের বিভিন্ন অনুষ্ঠানে দেশ-বিদেশ থেকে আগত লক্ষ লক্ষ আশেকে রাসুল, সাধক এবং ধর্মপ্রাণ মুসলমানগণের জন্য রয়েছে তাবারুকের ব্যবস্থা। দরবার শরীফের বড়ো বড়ো সম্মেলনে আগত মেহমানদের উপস্থিতিতে জনসমুদ্রে রূপান্তিত হয় এবং অনুষ্ঠানসমূহের পবিত্রতা রক্ষায় মানুষ যে কতটুকু সচেতন থাকে, তা না দেখলে অনুমান করা সম্ভব নয়। দরবার শরীফের শিক্ষা কার্যক্রমে অন্তর্ভূক্ত আছে দয়াল রাসুল (সা.)-এর আদর্শ শিক্ষা শরিয়ত এবং মারেফত তথা তাসাউফ শিক্ষা। সূফী সম্রাট বাবা দেওয়ানবাগী বলেন, ‘‘মারেফত থেকে শরিয়তের জন্ম। মারেফত বিহনে শরিয়ত অন্তঃসারশূণ্য। শরিয়ত ও মারেফত উভয়ের আমলকারী ব্যক্তিই সঠিক পথে আছে।’’

এই তাসাউফ শিক্ষা আমরা ১৪ শত বছর আগেই হারিয়ে ফেলেছি। যখন হযরত রাসুল (সা.)-এর প্রাণপ্রিয় দৌহিত্র হযরত ইমাম হাসান এবং হযরত ইমাম হোসাইন (রা.)-কে মাবিয়ার পুত্র দুশ্চরিত্র ক্ষমতালোভী লম্পট এজিদ হত্যা করেছিল। এজিদের এবং তার দোসরদের দ্বারা প্রতিষ্ঠিত চক্রান্তের সেই ইসলাম অদ্যাবধি তথা কথিত ধর্মীয় নেতাগণ দ্বারা পরিচালিত হয়ে আসছে। পবিত্র কুরআন এবং হাদিসের অপব্যাখ্যা করে ফতোয়া নামের মনগড়া বিধান চালু করে আমাদের মোহাম্মদী ইসলামের আকিদা নষ্ট করে দিয়েছে। আল্লাহ্ প্রপ্তির সহজ পথকে কণ্টকাকীর্ণ করে দিয়ে মহান আল্লাহ্ এক নিরাকার বলে প্রচারিত করেছে। তাদের ভ্রান্ত আকিদায় পরবর্তীতে পৃথিবীতে ধর্মীয় পুস্তক যা রচিত হয়েছে, তা সবই তাদের ভ্রান্ত প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার ফসল। এতে আমরা হযরত রাসুল (সা.)-এর চরিত্র হারিয়ে এজিদের জঘণ্য চরিত্র ধারণ করেছি। আমাদের পূর্বপুরুষ যাদের থেকে মোহাম্মদী ইসলাম শিক্ষা করেছিলেন- সেই সম্মানিত আল্লাহ্র অলীগণের বিরোধীতা করতে দ্বিধা করছি না। এই বিভ্রান্তি এবং ভ্রান্ত আকিদা থেকে মুক্তি লাভ করার লক্ষ্যে আমি জামানার ইমামকে লাভ করার জন্য কঠিন এবং কঠোর সাধনায় লিপ্ত। এর কারণ দয়াল রাসুল (সা.) বলেন- ‘‘যারা যুগের ইমামকে চিনতে পারেনি- তারা দুনিয়াতে যেমন অন্ধ আখেরাতেও অন্ধ হয়ে উঠবে।’’ এই অন্ধত্ব দূর করার লক্ষ্যে ২৮ বছর আগে একজন কামেল অলীর বায়াত গ্রহণ করে সাধনা শুরু করি। কিন্তু রাত্রিদিন কান্নাকাটি, নফল রোজা, নফল নামাজ এবং তাসবিহ পাঠেও আল্লাহ্র শ্রেষ্ঠ বন্ধু জামানার ইমামের দর্শন লাভ আমার নসিব হয়নি। মহান আল্লাহ্ তাঁর জগত শ্রেষ্ঠ মহামানবের দিকনির্দেশনা যেভাবে আমাকে দিলেন তাঁর সংক্ষেপ তুলে ধরছি।

আল্লাহ্ প্রাপ্তির পথে জগদ্বিখ্যাত মহামানবকে চেনা এবং পাওয়ার জন্য যখন আমি ব্যাকুল-বেকারার এই সময় সংসারে উদাসীনতায় আমার ৯ মাসের সন্তানের অসুস্থতায় সে ছিল জীবন্মৃত। অসুস্থতায় অতিক্রান্ত হলো ২২ দিন। শিশু বিশেষজ্ঞ প্রফেসর ডা. এম আর খান সাহেবের চিকিৎসাধীন ছিল। কিন্তু চরম অসুস্থতায় উপায়ন্তর না দেখে বাবা দেওয়ানবাগী হুজুর কেব্লাজানের ঠিকানায় আরামবাগে এসে সাক্ষাৎ করি এবং দীর্ঘক্ষণ বাবাজানের অমীয় বাণী ও আলোচনা শ্রবণান্তে আমি অন্য পিরের মুরিদ তাঁকে জানাই। অবশেষে বিনীতভাবে সন্তানের অসুখের কথা আলোচনা শেষে বাবাজানের কাছে প্রচলিত তাবিজ-কবজ পানি পড়ার প্রত্যাশা ব্যক্ত করলাম। তিনি তা শুনে বললেন- ‘‘আমি এসবের কিছুই জানিনা।’ আমি বললাম, তাহলে আমার সন্তানের কী হবে? তিনি বললেন, ‘আপনার পিরের সাথে যোগাযোগ করেন।’’

আমি বললাম- এত অল্প সময়ে চট্টগ্রামে অবস্থানরত পির সাহেবের সাথে কিভাবে যোগাযোগ করা সম্ভব। পরিশেষে দয়াল বাবাজান মোহাম্মদী ইসলামে দীক্ষিত হতে বললেন। আমি এহেন কাজ আগের পির সাহেবের অনিষ্টতার কথা উল্লেখ করায় তিনি তাঁর চেহারা মোবারকের বিশেষ দ্যুতি ছড়িয়ে আমাকে বললেন- ‘‘ক্ষমতাসীন প্রেসিডেন্টের ছেলের ক্ষতি যদি কোনো মন্ত্রী করে তাহলে তার মন্ত্রীত্ব থাকবে? তিনি তাঁর পবিত্র শাহাদাৎ অঙ্গুলী দিয়ে একটা ছক এঁকে আমাকে বললেন- ‘‘আসমানের নীচে এমন কোনো পির গজায় নাই যে আমার কলমের উপরে কলম রাখে।’’

তখনই আমি বুঝতে পারলাম- আমি যে মহামানবের সন্ধান পাবার জন্য একটি বছর আল্লাহ্র দরবারে কান্নাকাটি করেছি ইনিই সেই মহামানব। তিনি এ যুগের ইমাম। তাঁর দ্ব্যর্থহীন ভাষায় এ ব্যাপারে আমি পরিপূর্ণ নিশ্চিত হলাম। এতে কোনো সন্দেহ নেই। কারণ মহান আল্লাহ্ তাঁর প্রিয় বন্ধুকে পাবার অসিলা হিসেবে সন্তানের অসুস্থতা আমার নিকট রহমত স্বরূপ ছিল। তিনি আরও বললেন- যান আপনার ছেলে সুস্থ হয়ে গেছে।

আমি জানি বন্ধুকের গুলি মিস হতে পারে, আল্লাহ্র বন্ধুগণের কথা কখনও মিস হয় না। আসলে তখন থেকেই আমার ছেলে সুস্থ হয়ে গেছে। বর্তমানে সে বাবা দেওয়ানবাগী হুজুরের দরবার শরীফের একজন একনিষ্ঠ কর্মী।
সেদিন থেকেই বাবা দেওয়ানবাগী (মা. আ.) হুজুর অবস্থান নিলেন আমার অন্তর্লোকে। তাঁর আদর্শ থেকে বিচ্যুত হইনি কিঞ্চিতও। আজও অবধি আমি এবং আমার পরিবার তাঁর অসংখ্য অলৌকিক কারামত দ্বারা পরিবেষ্টিত।
অলৌকিক মুজিজা এবং কারামত সম্পর্কে বাবা দেওয়ানবাগী বলেন- নবি ও রাসুলগণের পরিচয় হলো আল্লাহ্র দেওয়া মোজেজা এবং অলী-আল্লাহ্গণের পরিচয় হলো আল্লাহ্র পক্ষ থেকে দেওয়া অলৌকিক কারামত। তা না হলে মানুষ তাঁদের পরিচয় লাভ করবে কীভাবে? বর্তমানে আমরা মূর্খ স্বার্থান্বেষী দুনিয়াদার আলেমদের খপ্পরে পড়ে তাদের এ ভুল প্ররোচনায় অলী-আল্লাহ্ কর্তৃক সংঘটিত কারামতকে অস্বীকার এবং অবজ্ঞা করে থাকি। যুগের ইমাম জামানার মোজাদ্দেদ বাবা দেওয়ানবাগী কর্তৃক প্রতিনিয়ত সংঘটিত অলৌকিক কারামত প্রত্যক্ষ করে তাঁর কাছে বায়াত গ্রহণ করে ইমানের আলো হৃদয়ে প্রজ¦লিত করছিনা। এর পরিণাম কত যে ভয়াবহতা পবিত্র কুরআনে আল্লাহ্ উল্লেখ করেছেন। আল্লাহ্ বলেন- ‘‘নিশ্চয়ই যারা আমার মুজিজা (বা কারামত) কে অস্বীকার করেছে, অবশ্যই আমরা তাদেরকে আগুনে জ¦ালাব। যখনই তাদের চামড়া জ¦লে পুড়ে যাবে, তখনই আমরা নতুন চামড়া দিয়ে তা পাল্টে দেব যেন তারা শাস্তি ভোগ করে। নিশ্চয়ই আল্লাহ্ মহাশক্তিশালী, মহাবিজ্ঞানী।’’ (সূরা আন নিসা ৪ : আয়াত ৫৬); তাফসীরে সূফী সম্রাট দেওয়ানবাগী ২য় খণ্ড, পৃষ্ঠা ৭২১।
বাবা দেওয়ানবাগী হুজুর কেব্লাজান স্বধর্মীদের অজ্ঞতা ও বিধর্মীদের চক্রান্তের ফলে ইসলামের নামে পবিত্র কুরআন ও হাদিস বহির্ভূত যেসব বিধান মুসলিম সমাজে প্রচলিত রয়েছে তার অসংখ্য সংস্কার করেছেন। বিশেষ করে এলমে শরিয়তের পাশাপাশি এলমে মারেফত তথা তাসাউফ শিক্ষার মাধ্যমে মানুষকে আশেকে রাসুল বানিয়ে হযরত রাসুল (সা.)-এর দিদার লাভের সুযোগ করে দিচ্ছেন। ক্বালবে আল্লাহ্র জি¦কির জারি করে দিয়ে বেলায়েত নির্দেশনায় ধর্ম পালন করে আল্লাহ্র নৈকট্য লাভের সুযোগ করে দিচ্ছেন। নৈকট্য লাভকারী আশেকে রাসুলগণ যাতে নিরাকারের ভ্রান্ত ধারণা পোষণকারীদের পবিত্র কোরআন ও হাদিসের আলোকে সঠিক শিক্ষা দিতে পারে তার শিক্ষা দিচ্ছেন। যেখানে আল্লাহ্ সম্পর্কে আমাদের ধারণা ছিল না- তা আমরা বাবা দেওয়ানবাগী হুজুর কেব্লাজান কর্তৃক প্রণীত মাতৃভাষা বাংলায় কুরআনের পরিপূর্ণ তাফসীর পড়ার সুযোগ পেয়ে হৃদয়ে আলো জ¦ালাতে সক্ষম হয়েছি। ধারণা পরিস্কার হয়েছে- আল্লাহ্ কোনো কালে নিরাকার ছিলেন না, এখনো নিরাকার নন। আল্লাহ্ হচ্ছেন-আকার। দয়াল বাবাজান কুরআনের পৃথিবী বিখ্যাত তাফসীর ‘তাফসীরে সূফী সম্রাট দেওয়ানবাগী’- আল্লাহ্র জাত পাকের পরিচয় কিতাবখানা লিখে রাব্বুল আলামিনকে আকার প্রমাণিত করেছেন। তাঁর এমন মহৎ কর্মে সন্তুষ্ট হয়ে ২০০৮ সালের ১০ অক্টোবর বাবা দেওয়ানবাগীকে মহান আল্লাহ্ পুরস্কার স্বরূপ পূর্নিমার চাঁদে প্রদর্শন করেছেন। উল্লেখ্য যে, মাতৃভাষা বাংলায় কুরআনের এই তাফসীর বাঙ্গালীদের জন্য মহাসম্পদ।

পূর্ণিমার চাঁদে বাবা দেওয়ানবাগীকে প্রদর্শনের দ্বারা মানবগোষ্ঠী যাতে আল্লাহ্র প্রিয় বন্ধুর পরিচয় জেনে তাঁর সান্নিধ্যে এসে হেদায়েত লাভ করতে পারে, তিনি সেই সুযোগ করে দিয়েছেন।
তিনি ১৬ ডিসেম্বর ১৯৮৩ সালে মহান রাব্বুল আলামিনের পক্ষ থেকে জামানার মোজাদ্দেদ বা মহান সংস্কারকের দায়িত্ব লাভ করেন। অসংখ্য ধর্মীয় সংস্কারসহ তিনি সারা পৃথিবী থেকে নাস্তিকতাবাদের (নিরাকারবাদ) মূলোৎপাটন করেন।

১৯৮৮ সালের ২৪ আগস্ট মুসলমানদের মাঝে বিদ্যমান কুসংস্কার ও অন্ধবিশ^াস দূর করে ধর্ম পালনের সঠিক পথ নির্দেশনা দিতে তিনি যুগের ইমামের দায়িত্ব লাভ করেন।

১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ স্বাধীনতা যুদ্ধে অংশ নিয়ে ১৬ ডিসেম্বর ১৯৭১ খ্রিষ্টাব্দে বাবা দেওয়ানবাগী বিজয়ীর বেশে দেশে ফিরেন। মুক্তিযুদ্ধকালীন সময়ে ভারতের হেজামারায় ঈদুল ফিতরের নামাজে ইমামতিকালে সমবেত মুক্তিযোদ্ধাদের উদ্দেশে বলেছিলেন- ‘‘আল্লাহ্র কসম! বকরা ঈদের আগে দেশ স্বাধীন হবে।’’ আল্লাহ্র রহমতে তার ঘোষণা সঠিক প্রমাণিত হয়েছিল। বাংলাদেশের স্বাধীনতার স্বপ্ন যার অন্তরে জন্মলগ্ন থেকে অংকুরিত ছিল তার প্রকাশ ঘটে এই বাণীতে।

১৯৮৯ সালের ৫ এপ্রিল বিশ^নবি হযরত রাসুল (সা.) তাঁকে ইসলাম ধর্মের পুনর্জীবনদানকারী খেতাবে ভূষিত করেন। কারণ বাবা দেওয়ানবাগী (মা. আ.) মৃতপ্রায় হযরত রাসুল (সা.)-এর ইসলামকে সজীব ও সতেজ করতে গিয়ে ধর্মান্ধ মূর্খদের কোপানলে পড়ে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে তার মোকাবিলা করেছেন। আজ তিনি একজন সফল মোহাম্মদী ইসলামের প্রতিষ্ঠাকারী।

সূফী সম্রাট বাবা দেওয়ানবাগী (মা. আ.) ১৯৯৬ সালের ২ অক্টোবর সকল ধর্মাবলম্বীদের পথপ্রদর্শক হিসেবে হযরত ইব্রাহীম (আ.) কর্তৃক আম্বিয়ায়ে কেরামের বেলায়েত প্রাপ্ত হন। সেই অনুসারে তিনি সকল মানবকুলের পথ প্রদর্শক হিসেবে সকল সম্প্রদায়কে স্ব-স্ব ধর্মের আলোকে দীক্ষিত করে আল্লাহ্ প্রাপ্তির দিকনির্দেশনা দিয়ে যাচ্ছেন। তাই প্রতিনিয়ত জাতি-ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে মানুষ তাঁর সান্নিধ্যে এসে হৃদয়ে স্রষ্টার নূর ধারণ করে ধন্য হচ্ছেন। পরিত্রাণ পাচ্ছেন সকল প্রকার বিপদ-আপদ থেকে। ষড়রিপুর বেড়াজাল থেকে মুক্ত হয়ে আল্লাহ্র চরিত্রে চরিত্রবান হচ্ছেন। আত্মশুদ্ধি অর্জন করে পরম শান্তি লাভে সক্ষম হচ্ছেন। সূফী সম্রাট বাবা দেওয়ানবাগী (মা. আ.) বলেন- ‘‘ইতিপূর্বে অসংখ্য অলী-আল্লাহ্ পৃথিবীতে আগমন করেছেন। ধর্ম সংস্কারের এত বড়ো কঠিন দায়িত্ব মহান আল্লাহ্ কারও কাছে অর্পণ করেন নি, যা আমার উপর অর্পিত হয়েছে।”
ধর্ম সংস্কারের গুরু দায়িত্ব কাঁধে নিয়ে মহান আল্লাহ্র অশেষ মেহেরবানীতে দয়াল বাবাজান ধর্ম ব্যবসায়ী এজিদপন্থী দুষ্টচক্রের বেড়াজাল থেকে মোহাম্মদী ইসলামকে মুক্ত করে তা জগতে প্রতিষ্ঠাকল্পে নিরলস কঠোর পরিশ্রম করে যাচ্ছেন- যা আমার অন্তর্লোককে ভীষণভাবে আন্দোলিত এবং বিমোহিত করে। মনের মাঝে ভেসে উঠে এ কাজ একমাত্র আল্লাহ্র এই প্রিয় বন্ধুর পক্ষেই সম্ভব।

লাখো শোকর দয়াল বাবা দেওয়ানবাগীর নুরের কদমে, যিনি দয়া করে তাঁর সান্নিধ্যে রেখে তাঁর দরবারে গোলামি করার সুযোগ করে দিয়েছেন। মহান রাব্বুল আলামিনের নিকট সবিনয় প্রার্থনা- তিনি যেন তাঁর বন্ধুর সকল প্রকার সুস্থতা এবং দীর্ঘায়ু দান করেন। অবশেষে সকল ধর্মের মানবকুলের নিকট আমার বিশেষ অনুরোধ: আসুন, শ্যামল বাংলার এই পবিত্র জমিনে আল্লাহ্ প্রেরিত মহান শান্তির দূত জামানার ইমাম সূফী সম্রাট বাবা দেওয়ানবাগীর সান্নিধ্যে এসে তাপিত হৃদয়কে শীতল করি এবং নিজেদের আত্মার মুক্তির ব্যবস্থা করি। আমিন।

3 COMMENTS

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here