অলী-আল্লাহর দরবার শরীফে জুতা খুলে যাওয়ার প্রয়োজন কেন?

1
225

হযরত মুসা (আ.) তুর পাহাড়ে যখন আল্লাহর দিদার লাভ করেন, তখন আল্লাহ তাঁকে পা থেকে জুতা খুলে ফেলার নির্দেশ দেন। এরশাদ হচ্ছে- “নিশ্চয়ই আমিই তোমার প্রতিপালক। তুমি তোমার জুতা খোল। তুমি পবিত্র তুয়া উপত্যকায় এসেছে।” (সূরা ত্বাহা ২০ : আয়াত ১২)
এরূপ নির্দেশের মাধ্যমে আল্লাহ তায়ালা এ কথা বুঝতে চেয়েছেন, তাঁর দর্শন বা নৈকট্য প্রত্যাশী ব্যক্তিকে আত্ম অহমিকা ভুলে নিজেকে অতি তুচ্ছ বলে মনে করতে হবে। পবিত্র হজ পালনের সময় হাজিগণ খালি পায়ে কাবাগৃহ তাওয়াফ করে থাকেন। এর উদ্দেশ্য কাবাঘরের পবিত্রতা রক্ষা এবং আল্লাহর কাছে নিজের তুচ্ছতা প্রকাশ করা। এ প্রসঙ্গে হযরত সাঈদ ইবনে জোবায়ের (রহ.) হতে বর্ণিত হয়েছে। তিনি বলেন, “প্রতিটি ব্যক্তিকে পবিত্র কাবা গৃহে প্রবেশ করার সময় জুতা খুলে ফেলার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। অনুরূপ ঐ স্থানেরও পবিত্র রক্ষার্থে জুতা খুলে ফেলার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কেউ কেউ বলেনÑ পবিত্র স্থান মাত্রেই খালি পায়ে চলার জন্য নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।” (তাফসীরে ইবনে কাছীর ৩য় খণ্ড, পৃষ্ঠা ২১২) হাদিস শরীফে বর্ণিত হয়েছে- “মুমিন ব্যক্তি কাবাগৃহ হতেও অধিক সম্মানিত।” (সুনানে ইবনে মাজাহ)
এ প্রসঙ্গে হযরত ইবনে উমর (রা.) হতে বর্ণিত হয়েছে। তিনি বলেন- “আমি নবি (সা.)-কে কাবা শরীফ তাওয়াফ করতে দেখলাম। তখন তিনি বলছিলেনÑ (হে কাবা!) তুমি কত পবিত্র এবং কতই না পবিত্র তোমার ঘ্রাণ! কতই না বড় মর্যাদাসম্পন্ন তুমি এবং তোমার সম্মান কতই না উচ্চ! যাঁর হাতে মোহাম্মদ (সা.)-এর প্রাণ নিবদ্ধ, তাঁর শপথ করে বলছিÑ তাঁর জানমাল এবং তাঁর ধারণা সবই কল্যাণকর।”
(তাফসীরে দুররে মানছুর ২৬নং খণ্ড, পৃষ্ঠা ৫৬৫ এবং সুনানে ইবনে মাজাহ, পৃষ্ঠা ২৮২; ই.ফা.বা কর্তৃক অনূদিত সুনানে ইবনে মাজাহ ৩য় খণ্ড, পৃষ্ঠা ৪৫৭)
উল্লেখিত হাদিসদ্বয়ে বিষয়টি আরো বেশি সুস্পষ্ট হয়েছে যে, মুমিন ব্যক্তির সম্মান করা কাবাঘরের চেয়েও বেশি। অলী-আল্লাহগণ অবশ্যই মুমিন; উপরন্তু তাঁরা যেমন আল্লাহর বন্ধু, তেমনি তাঁরা মানুষকে মুমিন হওয়ার পদ্ধতি শিক্ষা দেন। এজন্য তাঁদের মর্যাদা আল্লাহর কাছে কাবাঘরের চেয়ে অনেক বেশি। বস্তুত কাবাঘরে আল্লাহকে খুঁজে পাওয়া যাবে না। মুমিন ব্যক্তির ক্বালবে আল্লাহ বিরাজ করেন।

1 COMMENT

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here