অলৌকিক!

1
569

৮৩ বৎসরের বৃদ্ধ পুত্র সন্তানের জনক হলো

আশেকে রাসুল আবদুর রশিদ মোল্লা, জন্ম ১৯১৫ সালে। তিনি সরকারি চাকরি করতেন। চাকরি অবস্থায় তার পিতা-মাতা তাকে ঢাকার দোহার এলাকায় বিবাহ করান। বিয়ের কয়েক বছর অতিবাহিত হলেও তার স্ত্রীর কোনো সন্তান হয়নি। পরে তিনি আরেকটি বিয়ে করেন। বিয়ের দ্বিতীয় স্ত্রীরও কোনো সন্তান হয়নি। কয়েক বছর অতিবাহিত হওয়ার পর সন্তানের মুখ দেখতে না পেয়ে তিনি তৃতীয় বিবাহ করেন। তৃতীয় স্ত্রীর গর্ভে দু’টি কন্যা সন্তান জন্ম গ্রহণ করে। কন্যারা বড় হলে তিনি তাদের বিয়ে দিয়ে দেন। তার বাড়ি খালি হয়ে যায়। তখন তার মন পুত্র সন্তানের জন্য ব্যাকুল হয়ে ওঠে। শরিয়তের চার বিবাহ পর্যন্ত অনুমতি দেওয়া হয়েছে। তিনি স্ত্রীদের সম্মতি নিয়ে ৪র্থ বিবাহ করেন। চতুর্থ স্ত্রীর গর্ভেও কোনো সন্তান জন্ম হলো না। এরই মাঝে সকল স্ত্রী একে একে মারা যায়। আত্মীয় স্বজনের পরামর্শে তিনি ৫ম বিয়ে করেন। ৫ম স্ত্রীর গর্ভে ২টি কন্যা সন্তান জন্মগ্রহণ করে। যখন তার বয়স ৬০ বছর অতিক্রম করে তখন তিনি তার দুই কন্যাকে বিবাহ দিয়ে দেন। জীবনে তিনি বহু পির-ফকিরের কাছে গিয়েছেন। পুত্র সন্তানের জন্য অনেক তাবিজ কবজ ব্যবহার করেছেন। ডাক্তার-কবিরাজ থেকে চিকিৎসা নিয়েছেন। কিন্তু কিছুতেই তার মনের বাসনা পূরণ হচ্ছে না। অবশেষে তিনি বুঝতে পারল যে, তার ভাগ্যে পুত্র সন্তান নেই। সুতরাং, চেষ্টা করে কোনো লাভ হবে না। একবার এক জ্যোতিষী তার হাত দেখে বলেছিল তার ভাগ্যে কোনো পুত্র সন্তান নেই। কাজেই তিনি পুত্র সন্তানের পিতা হতে পারবে না। বিষয়টি নিশ্চিত হয়ে সেই বাসনা পরিত্যাগ করেন।

তার এক জামাতার নাম আশেকে রাসুল মো. ইব্রাহীম মিয়া। সে সৌদি আরবে দীর্ঘ দশ বছর চাকরি করে। সেখানেই সে সূফী সম্রাট হযরত দেওয়ানবাগী (মা. আ.) হুজুর কেবলাজানের পরিচয় পেয়ে তাঁর কাছে তরিকা গ্রহণ করে। ইব্রাহিম মিয়া দেশে ফেরার পর আর সৌদি আরব না গিয়ে মুর্শেদের দরবারে খেদমতে আত্মনিয়োগ করে। ইব্রাহিম মিয়ার পরিবার পরিজন তাকে সৌদি আরব যেতে বলেছিল, কিন্তু সে সেখানে না গিয়ে দেওয়ানবাগ শরীফে গাড়ি চালানোর কাজ নেয়। এজন্য দরবার শরীফে সে ইব্রাহিম ড্রাইভার নামে পরিচিত ছিল। ইব্রাহিম মিয়ার প্রায় ১ বছর দেওয়ানবাগ দরবার শরীফে থাকার পর একদিন আবদুর রশিদ মোল্লা ভাবলেন জামাই কেমন পিরের দরবারে থাকে একটু দেখে আসি। তখন ১৯৯৭ খ্রিষ্টাব্দ। তার বয়স তখন ৮২ বছর।

একদিন তিনি ইব্রাহিম মিয়ার সাথে সাক্ষাতের জন্য ঢাকার বাবে রহমতে দেওয়ানবাগ শরীফে আসেন। সেদিন ছিল বৃহস্পতিবার। বাবে রহমতে বাদ আসর থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত সাপ্তাহিক আশেকে রাসুল মাহফিল অনুষ্ঠিত হচ্ছিল। সূফী সম্রাট হুজুর কেবলাজানের বাণী মোবারক তিনি তন্ময় হয়ে শুনেন এবং আখেরি মুনাজাতের সময় অঝোর নয়নে কেঁদে কেঁদে আল্লাহর দরবারে প্রার্থনা জানান।

রাত ১১টার পর ইব্রাহিম মিয়া বাবে রহমতের নবম তলায় নিজের বিছানার পাশে তার শ্বশুরের বিছানা করে দেয়। তিনি তাবারুক খেয়ে শুয়ে পড়েন। আবদুর রশিদ মোল্লা বললেন, “ইব্রাহিম তোমার মুর্শেদ একজন উচ্চ স্তরের আল্লাহর অলী।” তখন ইব্রাহিম মিয়া বলে, “আপনি বুঝলেন কীভাবে? তিনি বললেন,”হ্যাঁ! আমি বুঝতে পেরেছি। তোমার ভাগ্য ভালো যে, এতো বড়ো আল্লাহর অলীর সন্ধান তুমি পেয়েছ। তুমি কি আগামীকাল সকালে আমাকে তাঁর সাথে সাক্ষাৎ করিয়ে দিতে পারবে?” ইব্রাহীম মিয়া তাকে জিজ্ঞেস করল, কেন? তিনি বললেন, “আমি তাঁর কাছে মুরিদ হব।” ইব্রাহিম মিয়া বলল, “ঠিক আছে, আমি ভোরে দয়াল বাবাজানের সাথে আপনার সাক্ষাতের ব্যবস্থা করে দেব।” পরদিন সকালে ফজরের নামাজের পর সূফী সম্রাট হুজুর কেবলাজান বাবে রহমতের ১০ তলার ছাদে বেড়াতে গেলে ইব্রাহিম মিয়া তাকে তাঁর সাথে সাক্ষাৎ করিয়ে দেয়। তিনি সূফী সম্রাট হুজুর কেবলাজানের কাছে তরিকা গ্রহণ করেন।

সকাল ১০টার সময় তিনি বাড়ি যাওয়ার জন্য প্রস্তুত হলেন। তখন ইব্রাহিম মিয়াকে বলল, “আমি দয়াল বাবাজানের কাছে একটা আরজি পেশ করতে চেয়েছিলাম, এখন যাওয়ার সময় কি তাঁর সাথে একটু দেখা করা যাবে?” ইব্রাহীম মিয়া বলল, “হ্যাঁ! দেখা করা যাবে।” তারপর ইব্রাহিম মিয়া বাবে রহমতের দোতলায় হুজরা শরীফে সূফী সম্রাট হুজুর কেবলাজানের সাথে সাক্ষাতের জন্য তাকে নিয়ে আসে। তিনি অতি বৃদ্ধ মানুষ। লাঠিতে ভর করে হাঁটতে হয়। তাকে দেখে হুজরা শরীফে উপস্থিত আশেকে রাসুলেরা ভিতরে ঢোকার জন্য জায়গা ছেড়ে দেন। তিনি সূফী সম্রাট হুজুর কেবলাজানের কাছে গিয়ে বসলেন। তারপর বললেন, “বাবাজান! আমার একটা আরজি আছে।” সূফী সম্রাট হুজুর কেবলাজান জিজ্ঞেস করলেন, “আপনার আবার কী আরজি? কেঁদে কেঁদে বলল, “বাবা! আমি বৃদ্ধ মানুষ, যে কোনো সময় মারা যেতে পারি। আমার কোনো পুত্র সন্তান নেই। আমি মারা গেলে আমার বসত ভিটায় বাতি জ্বালানোর কেউ থাকবে না। আপনি দয়া করে আমাকে একটি পুত্র সন্তান দান করুন।” তার কথা শুনে সূফী সম্রাট হুজুর কেবলাজানের হাসতে লাগলেন। তারপর বললেন, “আপনি বৃদ্ধ মানুষ, কীভাবে ইমান নিয়ে কবরে যাবেন, এখন সেটা চিন্তা করা দরকার। আপনি আবার ছেলের পাগল হলেন কেন?” তিনি সূফী সম্রাট হুজুর কেবলাজানের কদম মোবারক জড়িয়ে ধরে কেঁদে কেঁদে বললেন, “বাবা আমি আপনার কাছে একটা ছেলে ভিক্ষা চাই। আপনি দয়া করে একটা ছেলে দিন।” সূফী সম্রাট হুজুর কেব্লাজান বললেন, “ঠিক আছে, আপনি একটা মানত করেন, আর আল্লাহর উপর ভরসা করেন; দেখেন কি হয়।” সূফী সম্রাট হুজুর কেবলাজানের আশ্বাস বাণী শুনে তিনি মনে মনে একটি মানত করে কদমবুসি করে বিদায় নেন।

আল্লাহর কি অশেষ মেহেরবানী! তিনি বাড়ি ফেরার কিছুদিন পর তার স্ত্রীর গর্ভে সন্তান আসে। ওই সন্তান যথাসময়ে জন্ম নেয়ার পর দেখা গেলো সে একটি পুত্র সন্তান। ১৯৯৮ খ্রিষ্টাব্দে ৮৩ বছর বয়সে আল্লাহ্ তাকে পুত্র সন্তান দান করে তার বসতভিটায় বাতি জ্বালানোর ব্যবস্থা করলেন। তার মহান মুর্শেদ সূফী সম্রাট দেওয়ানবাগী (মা. আ.) হুজুর কেবলাজানের অসিলায় মহান রাব্বুল আলামিন তাকে পুত্রসন্তানের জনক করেছেন।

1 COMMENT

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here