অহংকার মানুষের পতনের মূল

2
439

ইমাম ড. আরসাম কুদরত এ খোদা
ইলম-আমল, জ্ঞান-গরিমা, অর্থ-সম্পদ, ইজ্জত-সম্মান, প্রভাব-প্রতিপত্তি, বংশমর্যাদা, ইবাদত-উপাসনা ইত্যাদি যে কোনো বিষয়ে নিজেকে বড়ো মনে করা এবং অন্যকে তুচ্ছ ও নগণ্য মনে করাকে অহংকার বলা হয়। আল্লাহ তায়ালা পবিত্র কুরআনে এরশাদ করেন, “তাদেরকে বলা হবে, তোমরা জাহান্নামের দরজা দিয়ে প্রবেশ করো, সেখানে চিরকাল অবস্থানের জন্যে। কত নিকৃষ্ট অহংকারীদের আবাসস্থল।” (সূরা যুমার ৩৯ : আয়াত ৭২)
ইমাম গাজ্জালি (রহ.) বলেন, নিজেকে বড়ো মনে করা এবং নিজেকে অন্যের তুলনায় অধিক মর্যাদাবান মনে করাই হলো অহংকার। আল্লামা রাগেব ইস্পাহানি (রহ.)-এর মতে, অহংকার হলো নিজেকে অন্যের তুলনায় উত্তম বা মহৎ মনে করা এবং আল্লাহর পক্ষ থেকে আসা সত্যকে প্রত্যাখ্যান করা।
হযরত লোকমান (আ.) তার ছেলেকে যে উপদেশ দিয়েছিলেন তার বর্ণনা দিয়ে আল্লাহ তায়ালা এরশাদ করেন, “আর তুমি অহংকার বশে মানুষকে অবজ্ঞা করো না এবং পৃথিবীতে গর্বভরে পদচারণ করো না। নিশ্চয় আল্লাহ কোনো দাম্ভিক অহংকারীকে পছন্দ করেন না।” (সূরা লোকমান ৩১ : আয়াত ১৮)
ইতঃপূর্বে বহু সম্প্রদায়কে অহংকারের কারণে ধ্বংস করা হয়েছে। এ অহংকারের কারণেই ফেরেশতাদের সর্দার ইবলিসের ঠিকানা হয়েছে চির জাহান্নাম।
হযরত ইবনে মাসউদ (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) এরশাদ করেন- ‘অহংকার হচ্ছে দম্ভভরে সত্য ও ন্যায়কে অস্বীকার করা এবং মানুষকে ঘৃণা করা।’ (মুসলিম শরীফ) প্রিয়নবি হযরত মুহাম্মদ (সা.) আরও এরশাদ করেন- ‘যার অন্তরে সামান্য পরিমাণ অহংকার থাকবে, সে জান্নাতে প্রবেশ করবে না।’ (মুসলিম শরীফ)
হাদিসে কুদসিতে মহান আল্লাহ এরশাদ করেন- ‘অহংকার হলো আমার চাদর। সুতরাং যে ব্যক্তি তা নিয়ে টানাটানি (অর্থাৎ অহংকার) করবে, আমি তার গর্দান ছিঁড়ে ফেলব।’ (আবু দাউদ শরীফ)
সমাজে শান্তি, সম্প্রীতি ও সমৃদ্ধির বড়ো অন্তরায় হলো অহংকার, যা মানুষের ইহকাল-পরকালকে ধ্বংস করে। ধ্বংস করে মানুষের মনুষ্যত্ব, জাগিয়ে তোলে হিংস্রতা। সর্বোপরি অহংকার মানুষের পতন ত্বরান্বিত করে। তাই তো বলা হয়, অহংকার পতনের মূল। আল্লাহ তায়ালা আমাদের অহংকার নামক ধ্বংসব্যাধি থেকে হেফাজত করুন। আমিন।

2 COMMENTS

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here