আগামী দুই সপ্তাহ থাকবে করোনার তীব্রতা

2
422

দেওয়ানবাগ ডেস্ক: যতই দিন যাচ্ছে, ততই বাড়ছে দেশে করোনা ভাইরাসের সংক্রমণের তীব্রতা। এটি কমপক্ষে এক থেকে দুই সপ্তাহ অব্যাহত থাকতে পারে। এ সময়ে বাড়বে আক্রান্ত ও মৃতের সংখ্যা। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে সংশ্লিষ্ট এলাকায় যতদ্রুত সম্ভব ‘লকডাউন (অবরুদ্ধ)’ কার্যকরের তাগিদ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।
গত বুধবার দেশে করোনা ভাইরাস সংক্রমণের অভিমত দেন বেশ কয়েকজন ভাইরোলজিস্ট ও এপিডেমিওলজিস্ট। তারা জানান, আগামী ২ সপ্তাহের পর ভাইরাসের তীব্রতা খুবই ধীরে ধীরে কমতে পারে। অর্থাৎ তীব্রতা কমলেও প্রকোপ থেকেই যাবে।

সেক্ষেত্রে সংক্রমণ রোধে চিহ্নিত এলাকায় কার্যকর অর্থেই ‘লকডাউন’ হতে হবে। যেখানে নিশ্চিত করতে হবে-কন্টাক্ট ট্রেসিং (রোগীর সংস্পর্শে আসা ব্যক্তিকে অনুসন্ধান), আক্রান্তদের প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সেবা দেওয়া এবং সংশ্লিষ্ট সবার কোয়ারেন্টিন (সঙ্গত্যাগ)-এর ব্যবস্থাসহ স্থানীয়দের জরুরি কাজের চলাফেরায় স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণ ইত্যাদি।

সরকারের রোগতত্ত্ব, রোগনিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান (আইইডিসিআর)-এর তথ্যমতে, দেশে করোনা ভাইরাস সংক্রমণ নিশ্চিত হওয়ার পর ইতোমধ্যে ১০২ দিন অতিবাহিত হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার পর্যন্ত প্রাপ্ত তথ্যে জানা যায়, গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে করোনা ভাইরাসে সংক্রমিত হয়ে ৩৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়াল ১ হাজার ৩৪৩ জনে। এছাড়া একই সময়ে নতুন করে ৩ হাজার ৮০৩ জন করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত শনাক্ত হয়েছে। এ নিয়ে সর্বমোট এক লাখ দুই হাজার ২৯২ জন করোনা ভাইরাসে সংক্রমিত শনাক্ত হলেন। আক্রান্ত এবং মৃতের প্রায় অর্ধেক রোগী শনাক্ত হয়েছে চলতি মাসের প্রথম ১৭ দিনে। এই সময়ে আক্রান্ত হয়েছে প্রায় ৪৯ হাজার (৪৮ হাজার ৯৫৭) জন এবং মৃত্যু হয়েছে ৬৩৩ জনের।

আইইডিসিআরের তথ্যানুযায়ী, দেশে প্রথম ১০০ রোগী শনাক্ত হয় প্রথম ২৮ দিনে, অর্থাৎ ৬ এপ্রিল। পরবর্তী ৮ দিনে (১৪ এপ্রিল) এই সংখ্যা এক হাজারে পৌঁছায়। এর ১৯ দিন পর অর্থাৎ ৩ মে শনাক্ত রোগীর সংখ্যা দাঁড়ায় ১০ হাজারে। এরপর ১৮ মে রোগীর সংখ্যা দাঁড়ায় ২৫ হাজারে। গত ১ জুন এই সংখ্যা ৫০ হাজারে পৌঁছায়। আর ১৭ জুন পর্যন্ত আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৯৮ হাজার ৪৮৯ জনে।

আরও জানা গেছে, ৫ এপ্রিল পর্যন্ত মৃত্যুর ঘটনা ছিল অনিয়মিত। পরবর্তী সময়ে দেশে করোনায় মৃত্যু যেন প্রতিদিনের একটি স্থায়ী ঘটনায় পরিণত হয়েছে। এখন পর্যন্ত সরকার করোনা ভাইরাস সংক্রমণে ১ হাজার ৩০৫ জনের মৃত্যুর কথা নিশ্চিত করেছে। এর মধ্যে চলতি মাসের প্রথম ১৭ দিনে মৃত্যু হয়েছে ৬৩৩ জনের, যা মোট মৃত্যুর প্রায় অর্ধেক। গত ১৮ মার্চ প্রথম রোগীর মৃত্যু ঘটে।

এরপর ৬ এপ্রিল মৃতের সংখ্যা ছিল ১২ জন, ১৪ এপ্রিল ৪৬ জন, ৩ মে ১৭৭ জন, ১৮ মে ৩৪৯ জন, ১ জুন ৬৭২ জন, ১১ জুন ১০০০ জন এবং ১৮ জুন এই সংখ্যা দাঁড়ায় ১৩৪৩ জনে।

এর বাইরে রোগী শনাক্তের প্রথম থেকেই প্রতিদিন কোভিড-১৯ উপসর্গ নিয়ে অনেক মানুষের মৃত্যুর খবর আসছে। এ পর্যন্ত অন্তত এক হাজার মানুষ মারা গেছেন উপসর্গ নিয়ে, যাদের বেশিরভাগেরই নমুনা পরীক্ষা করা হয়নি।

ন্যাশনাল ইন্সটিটিউট অব প্রিভেন্টিভ অ্যান্ড সোশ্যাল মেডিসিন (নিপসম)-এর ভাইরোলজিস্ট ডা. মোহাম্মদ জামালউদ্দিন বলেন, আমাদের দেশে প্রাতিষ্ঠানিকভাবে ভাইরাসের রি-প্রোডাকশন নম্বর না করায় এটি বাড়া-কমার হার সঠিকভাবে বলা কঠিন। ভাইরাসের ট্রান্সমিশন স্বাভাবিক প্রক্রিয়ায় থাকলে সেটি বলা সহজ হতো। কিন্তু সংক্রমণ চলাবস্থায় সারা দেশে জনসাধারণের অবাধ যাতায়াতের ফলে সংক্রমণের হার কয়েকগুণ বেড়েছে। তবে ভাইরোলজিক্যাল বিশ্লেষণ করে বলা যায়, বর্তমানে যে হারে সংক্রমণ বাড়ছে, সেটি আগামী এক থেকে দু’সপ্তাহপরেধীরে ধীরে কমতে শুরু করবে।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার হিসাবে ২১৫ দেশ ও অঞ্চলের মধ্যে গত এক সপ্তাহে সবচেয়ে বেশি নতুন রোগী বেড়েছে, এমন দেশের তালিকায় বাংলাদেশ ১১তম। ওয়ার্ল্ডওমিটারসের তথ্যানুযায়ী, আক্রান্তের সংখ্যার দিক থেকে বাংলাদেশ বিশ্বে ১৮তম। মৃত্যুর সংখ্যার দিক থেকে ৩১তম।

এ প্রসঙ্গে স্বাস্থ্য অধিদফতরের কারিগরি পরামর্শক কমিটির সদস্য ডা. মুশতাক হোসেন বলেন, আমি মনে করি- সংক্রমণ যথেষ্ট ছড়িয়ে পড়েছে। তাই সময়ক্ষেপণ না করে লকডাউন অতিদ্রুত কার্যকর করা দরকার। কারণ, রোগী বাড়ছে, মৃত্যু বাড়ছে-প্রতিটি দিনই উদ্বেগের।

এ প্রসঙ্গে রোগতত্ত্ব, রোগনিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইন্সটিটিউটের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. এসএম আলমগীর বলেন, বিভিন্ন দেশের কোভিডের তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ করে মনে হচ্ছে আগামী এক থেকে দু’সপ্তাহের মধ্যেই সংক্রমণ কমতে শুরু করবে। তবে এটা প্রাকৃতিকভাবে কমবে না-এমন প্রমাণ পাওয়া যায় না। আন্তর্জাতিক পর্যায়ের ভাইরাসটির অসংখ্য ‘জিনমসিকোয়েন্সিং (জন্মরহস্য)’ বিশ্লেষণ করে তিনি এমন মত দেন।

2 COMMENTS

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here