আধুনিকতা: সময় এবং শিল্পের পরিপ্রেক্ষিত

0
233

সৈয়দ আলী আহসান
(পূর্ব প্রকাশিতের পর)
কবিতায় অথবা চিত্রকলায় একটি প্রকাশরীতি অথবা আঙ্গিক যখন অনেক দিন পর্যন্ত ব্যবহৃত হয় তখন সেই আঙ্গিক নতুন ভাবধারা বহনের উপযোগী থাকে না। কারণ, প্রথমত বহুল ব্যবহারের ফলে পরিচয়ের ত্রিসীমায় তার যে সহজলভ্যতা তা পাঠকের জন্য কোনো দুর্লভ সামগ্রী নয় এবং এই অর্থেই বহন প্রচলিত রীতি একটি গতানুগতিকতায় মলিন হয়ে পড়ে। নতুন সময়ে এবং নতুন চিন্তাধারার পরিপ্রেক্ষিতে যে কোনো গতানুগতিক রীতিই পূর্বভাবের অনুষঙ্গে ভারাক্রান্ত। তাই নতুন তাৎপর্যে তা কখনও বহমান হতে পারে না। দ্বিতীয়ত মানুষ সর্ব মুহূর্তে তার স্বভাব অনুসারে এবং সাময়িক অবস্থার শাসনে একটি বিশিষ্ট প্রকাশরীতি আবিষ্কারের জন্য উৎকণ্ঠিত থাকে। পূর্বতন রীতি মানুষের বর্তমান অবস্থায় পরিচয়কে প্রকাশ করতে সাধারণত সক্ষম হয় না। আমরা তাই দেখি যে কবিতা বা চিত্রকলার ভাব-বৈলক্ষণ্যের সঙ্গে সঙ্গে শিল্প পদ্ধতির পরিবর্তন ঘটেছে। ভিক্টোরিয়ান যুগে ইংল্যান্ড যখন পৃথিবীতে একটি বিপুল মর্যাদায় প্রতিষ্ঠিত, শিল্প-বিপ্লবের ফলে একটি অর্থনৈতিক স্বচ্ছলতায় আপামর সাধারণ যখন আনন্দিত এবং নব নব বৈজ্ঞানিক আবিষ্কারে জ্ঞানের তৎকালীন সমগ্রতায় ইংল্যান্ড পরিপুষ্ট তখন টেনিসন ছন্দোবদ্ধ, উপমা ও অনুপ্রাসে অলঙ্কৃত এবং স্বচ্ছলতার দীপ্তিতে উদ্ভাসিত যে কবিতাগুলি রচনা করেছিলেন, প্রথম মহাযুদ্ধের প্রাক্কালে সে কবিতাগুলো তাদের মর্যাদা হারিয়েছিল। টেনিসনের শৃঙ্খলাবদ্ধ এবং সুষমামন্ডিত কবিতা তখন ক্লান্তির উপঢৌকন হয়েছিল এবং শিক্ষিত সম্প্রদায় নতুন বিশ্বাস এবং নতুন বাণী ভঙ্গিকে আবিষ্কার করতে চাচ্ছিলেন। সাম্রাজ্যের অহমিকা তখন ক্রমশ বিনাশ হচ্ছে; অর্থনৈতিক অসফলতায় দেশের জনসাধারণ বিক্ষুব্ধ এবং রাজনৈতিক ক্ষেত্রে স্থিতিশীলতার অভাবে সর্বত্রই বিভ্রান্তি ও অবিবেচনা; এ সময় যারা কাব্য ক্ষেত্রে নতুন শিল্পীরীতির পরীক্ষা নিয়ে আবির্ভূত হলেন তাঁরা হচ্ছেন হপকিংস, ইয়েটস, এজরা পাউন্ড এবং টি. এস. ইলিয়ট। এঁরা প্রত্যেকেই ফরাসী প্রতীকী কবিদের দ্বারা প্রভাবিত হয়েছিলেন। মূলত দেখা যায় যে, ইংল্যান্ডের আধুনিক চেতনার উৎস ফরাসী প্রতীকীবাদ বিদ্যমান ছিল। ইংল্যান্ডের কবিতায় যে পরিবর্তন এলো তা মূলত ফরাসী কাব্যের পরিবর্তন সূত্রে।

শিল্পকলাকে একটি নতুন অভিধায় চিহ্নিত করেছিলেন সেজান। তিনি যে সংজ্ঞা দিয়ে ছিলেন আজও সে সংজ্ঞা সত্যধর্মী ও বাস্তববোধ সাপেক্ষ। তিনি বলেছিলেন: “একজন শিল্পী তার চিত্রকলার সাহায্যে একটি বোধকে অস্তিত্বে নিয়ে আসেন। যা আছে এবং যা দৃষ্টির অধিকারে চিহ্নিত তা আছে প্রকৃতির কাছে এবং প্রকৃতির সমগ্রতার মধ্যে। কিন্তু তাকে যখন রং ও রেখায় একটি পরিচিতিতে আনব তখন সেটি হবে তার জন্য একটি নতুন অস্তিত্বের দায়ভাগ।” তিনি এজন্য দুটি শব্দ ব্যবহার করেছিলেন; একটি হচ্ছে রিয়ালাইজেশন অর্থাৎ একটি যথার্থতা এবং প্রকৃত অস্তিত্ব নির্মাণ। দ্বিতীয় শব্দটি হচ্ছে মডেল্যাশন অর্থাৎ সামঞ্জস্য বিধান, যাকে সঙ্গীতে সুর-বাঁধা বলা যেতে পারে। যে বস্তুকে শিল্পী দেখছেন তার একটি ভাইটাল বা প্রাণপূর্ণ মন-নিবদ্ধতা আছে, তাকে তিনি বলেছেন ভাইটাল ইনসেনসিটি। আমি অবশ্য এখানে হারবার্ট রীডের অনুবাদকে গ্রহণ করেছি। অর্থাৎ একটি বস্তু অথবা আকৃতি নিজস্ব অস্তিত্বে যে শোভা এবং প্রাণ বিকীরণ করে শিল্পী তাকেই নবরূপে আনয়ন করেন। এটাই হচ্ছে নতুন অস্তিত্বে নিয়ে আসা। সেজান এ ধারণাটি রেনেসাঁ যুগের ধারণার সঙ্গে মেলে না। রেনেসাঁ যুগের শিল্পীরা বস্তুর যথার্থতা নির্মাণ করবার চেষ্টা করতেন, তাই তাঁরা শব-ব্যবচ্ছেদ শিখতেন এবং দূরত্বের জ্যামিতিক পরিমাপ শিখতেন। তাঁরা যা আছে অবিকল তার অনুকৃতি নির্মাণ করার প্রয়াস পেতেন।

আধুনিক কালে বিজ্ঞানের অগ্রগতিতে মানব চরিত্রের রহস্য বিচিত্রভাবে উদ্ঘাটিত হয়ে চলেছে। আমরা এখন জানি যে মানুষের মনোজগৎ বলে একটি বিরাট ও অতলস্পর্শী এক জগৎ আছে। মানুষের চিন্তা, অভিপ্রায়, বাস্তব জীবনে যা অপ্রাসঙ্গিক এ সমস্ত কিছু মনোজগতে সংগৃহীত হতে থাকে। মানুষের মস্তিষ্ক এ সমস্ত সংগ্রহকে বিচিত্ররূপে ধারণ করে, আলোড়িত করে, বিক্ষুদ্ধ করে। আবার প্রশান্তি নির্জনতায় সুপ্ত করে। মানুষের মনোজগতের এসব তাৎপর্য যখনই পরীক্ষিত হতে লাগে এবং প্রকাশিত হতে লাগে, তখনই শিল্পী এবং সাহিত্যিকরা এগুলোর বিশিষ্টতা নির্জেফের শিল্পকর্মে এবং আবেগের বিচার্যের মধ্যে পরিস্ফূট করার প্রয়াস পেলেন। দেখা যাচ্ছে যে, মনোজগতে বিভিন্ন চিন্তা অথবা আগ্রহ অথবা অনুসন্ধিৎসা অথবা আকাঙ্খা অথবা হতাশ্বাস একই সঙ্গে প্রকাশিত হতে চায়। অর্থাৎ মনোজগতের কর্মচৈতন্যের একটি এককালীনতা আছে। ফলে আসে ইংরেজিতে যাকে বলে স্পন্টেনিটি। এর অর্থ হচ্ছে মানুষের মন কখনই সীমার মধ্যে আবদ্ধ থাকতে পারে না; এবং মানুষের মনের কোনো প্রকার দিক নির্দেশনা নেই। সে একই সঙ্গে বর্তমানকে ধারণ করে, অতীতকে জাগ্রত করে এবং ভবিষ্যতের আকাঙ্খা স্বরূপ নির্ধারণ করে। এই তিনটি কাজ একই সঙ্গে সংঘটিত হয়। এগুলো সাহিত্যে এবং চিত্রকর্মে কি করে রূপ দেওয়া যায়, তা নিয়ে আধুনিক পাশ্চাত্যের শিল্পতত্ত্বজ্ঞ এবং সাহিত্যিকগণ ভাবনা শুরু করলেন। এ ভাবনার ফলশ্রুতিরূপে আমরা স্ট্রীম অব কনশাসনেস অর্থাৎ বোধের এককালীন ধারাক্রম এই চিন্তার প্রকাশ পেলাম। যারা এহেন চৈতন্যকে তাদের সৃষ্টিতে রূপ দেওয়ার চেষ্টা করলেন তারা যুক্তিকে ভেঙ্গে ফেললেন, ব্যাকরণের বিন্যাসকে অস্বীকার করলেন; এবং একটি অভিনব প্রচেষ্টায় এক ধরনের সমোচ্চারণ নির্মাণ করলেন। প্রুস্তু, জেমস্ জয়েস, বেকেট এবং উইলিয়াম ফকনার এঁরা এই সমুচ্চয়কে সার্থকভাবে রূপ দিলেন। চিত্রশিল্পী এবং ভাস্কর্য এই এককালীনবোধকে রূপ দেবার চেষ্টা যারা করেছেন তাদেরকে আমরা পরাবাস্তববাদী বলি, আবার কখনো অভিব্যক্তিবাদী কঠিন, আবার কখনো কখনো অন্যান্য নানা অভিধায় তাদেরকে চিহ্নিত করবার চেষ্টা করি। এগুলোর সূত্রপাত কিন্তু কিউবিষ্ট পদ্ধতির সময় থেকেই আরম্ভ হয়েছে। পিকাসো যদিও কিউবিষ্ট পদ্ধতির উদ্ভাবক; কিন্তু ব্রাক-কিউবিষ্ট পদ্ধতিকে দীর্ঘকাল পর্যন্ত লালন করলেন। তাঁর চিত্রকর্মের কর্মের মধ্যে আমরা দেখি ক্যানভাসের সম্মুখের সমান্তরলতায় পাশ্চাত্যের অভিব্যঞ্জনাগুলো জাগ্রত হয়ে উঠেছে। অর্থাৎ তিনিই একই সঙ্গে পশ্চাৎ এবং সম্মুখকে এককালীন করে ফেলেছেন। কৌশলগত এ দিকটি বর্তমান সময়ের এক ধরনের জীবনবোধে পরিণত হয়েছে। আমি যে কথা বলতে চাচ্ছি তা হচ্ছে, বর্তমানের মানুষ তার সময়কালের তাৎক্ষণিকতার মধ্যে যখন বাস করে তখন সে এই তাৎক্ষণিকতার সকল উপকরণগুলো একই সঙ্গে পেতে চায়। আবার পুরাতন ঐশ্বর্যকে সে অস্বীকার করতে চায় না। এর উপরেও ভবিষ্যৎ সম্পর্কে আকাঙ্খা করার যা আছে তাও সে তাৎক্ষণিক মুহুর্তের সঙ্গে মিলিয়ে ফেলতে চায়। এটা একটি জটিল প্রক্রিয়া। এ কারণে আধুনিক শিল্প অথবা কবিতা অথবা সৃষ্টিকর্মের অন্যবিধ প্রকাশ খুব সহজে আমাদের বোধগম্য হয় না। আধুনিক শিল্পকে অথবা সাহিত্যকর্মকে বুঝতে হলে বর্তমান কালের বিচিত্র জ্ঞানভান্ডারের সঙ্গে আমাদের পরিচিত হতে হবে।

পৃথিবীর ইতিহাসে সর্বকালেই বিশ্বাসের একটি স্থান ছিল। আদিম যুগের মানুষের কাছে বিশ্বাসের প্রতি বণীকরণ ছিল এক রকম, মধ্যযুগে ছিল অন্য রকম, রেনেসাঁ যুগে ছিল আর এক রকম; এবং বর্তমানে যথার্থ যে কি রকম তা আমরা বুঝে উঠতে পারছি না, আমরা যে সময়কালের মধ্যে বাস করছি সে সময়কালে আদিমবোধের মানুষও আছে; মধ্যযুগের অন্ধ বিশ্বাসের মানুষও আছে। আবার অপর নাস্তির মানুষও আছে। এরফলে আমাদের সমাজে নানা প্রকার বিচক্ষণী বারবার একে অন্যকে ধাক্কা দেয়। এগুলো বিশ্লেষণ করবার চেষ্টা আমি করব না। আমি শুধু আমার সময়কালে বিশ্বাসকে আধুনিকতার রূপসমেত কিভাবে দেখতে পাচ্ছি তা ব্যাখ্যা করার চেষ্টা করব। আমি দেখতে পাচ্ছি যে আধুনিকালে মানুষের সময় খুব কম। তাদের জীবন সামগ্রিকভাবে গ্রাস করেছে ব্যস্ততা। কর্মের দায়ভার বিজ্ঞাননির্ভরতার কারণে এতবেশী নিবিষ্টচিত্ততার জন্ম দিচ্ছে যে, মানুষ তার বিশ্বাসকে প্রকাশ করার অবসর খুঁজে পাচ্ছে না। বিজ্ঞানের প্রতি বিশ্বাস মানুষকে একটি অনুসন্ধান প্রক্রিয়ার মধ্যে নিয়ে এসেছে। দেখা যায়, আজকের বিজ্ঞানের অধিকার কোনো চরমতম সিদ্ধি নয়, নতুন আবিষ্কারে এর পরিবর্তন আসতে পারে। তাই বর্তমান সময়ের মানুষ সর্বমুহূর্তে একটি সংশয়ের মধ্যে থাকে। যে গ্রহলোককে সে এতদিন জেনেছে, দেখতে পাচ্ছে যে তার স্বরূপের পরিবর্তন হচ্ছে। কিছুদিন আগে আমরা খবরে জেনেছি যে, এতদিন অর্থাৎ বিগত পাঁচশত বৎসর ধরে যে রাশিচক্র আমরা মেনে আসছিলাম তাতে বারোটি রাশির অবস্থান ছিল। বর্তমানে বলা হচ্ছে যে রাশি বারোটি নয়, তেরোটি। ইউরোপের জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা বলছেন যে যদি এই গণনাটি শুদ্ধ হয় তবে এতদিনকার রাশি গণনা যে ত্রুটিপূর্ণ ছিল তাই প্রমাণিত হবে। অর্থাৎ আমরা দেখতে যাচ্ছি যে, বর্তমান কালে প্রাচীন বিশ্বাসের অবস্থাগুলো বিনষ্ট হয়ে যাচ্ছে এবং নতুন অভিপ্রায় নতুন নতুন চৈতন্যের জন্ম দিচ্ছে। এ সব কারণেই বর্তমান সময়ে মানুষ বেশ কিছুটা বিক্ষুদ্ধ। কিন্তু তবুও মনে রাখতে হবে যে, সকল দায়ভাগ গ্রহণ করলেও মানুষকে প্রশান্তির অন্বেষণ করতেই হয়। কেননা প্রশান্তি হচ্ছে মানব মনের অভ্যন্তরীণ নিরুক্ত ইচ্ছার একটি প্রকাশ। এই প্রশান্তি একমাত্র বিশ্বাসই এনে দিতে পারে। তাছাড়া আরো একটি বড় কথা আছে, একজন কবি অথবা নাট্যকার অথবা ঔপন্যাসিক অথবা চিত্রকর অথবা ভাস্কর সর্বদা বিশেষ একটি বিশ্বাসকে অনুসন্ধান করেন। যে কথা আমি শুরুতেই বলেছি, সেজান এ কথাই বলেছেন, তাঁর বক্তব্য হচ্ছে: একজন শিল্পী তাঁর বিশ্বাসকে এবং অন্তলীন অনুভূতিকে সর্বদাই চেষ্টা করেন অস্তিত্বে নিয়ে আসতে। এই অস্তিত্ব হচ্ছে শিল্পের প্রকাশরূপ। বর্তমানকালে আমেরিকায় এবং জাপানে আইডিয়া আর্টি বলে একধরনের শিল্পকলা গড়ে উঠেছে। একে আমি আখ্যা দিয়েছি ভাববাদী শিল্প বলে। এ শিল্প হচ্ছে এমন একধরনের তাৎক্ষণিক শিল্প যাকে অবলোকন করা যায়, কিন্তু অধিকার করা যায় না। যেমন এক জায়গায় কিছু বালু জড়ো করা হয়েছে, তার উপর রং ঢেলে দেওয়া হয়েছে। আবার শুষ্ক ও নতুন পাতা ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছে এবং কাছে একটি বোতল রেখে দেওয়া হয়েছে। এটা এক ধরনের সাময়িক অবস্থানগত ভাববাদী শিল্প। শিল্পীরা বলছেন: যথার্র্থ শিল্পকে অধিকার করা যায় না, গৃহ সজ্জার উপকরণ করা যায় না এবং চিরকালীন অভিব্যক্তিতে ধরে রাখা যায় না।
কিছুদিন আগে বিখ্যাত ভারতীয় শিল্পী সুলতান ফিদা হোসেন অনেকগুলো ছবি এঁকে সেগুলোর প্রদর্শনী করেছিলেন। তিনি সেই ছবিগুলোর ফটো তুলতে দেননি অথবা কাউকে নকল করতে দেননি। কিছুদিন প্রদর্শনী চলল, তারপর দর্শকদের সামনে তিনি একে একে ছবিগুলোকে পুড়িয়ে ফেললেন। এটাও ভাববাদী শিল্পের একটি নতুন প্রকরণ। অর্থাৎ শিল্পকে আয়ত্তে আনা যাবে না, অধিকার করা যাবে না, কিন্তু শিল্পকে অনুভবের মধ্যেই রাখতে হবে।
এভাবে অনুভবের মধ্যে রাখার অর্থ হচ্ছে একটি শিল্পকে যেভাবে প্রথম দেখেছিলাম, সেই দেখার স্মৃতি অনবরত রূপ পরিবর্তন করবে এবং এইরূপ পরিবর্তন করাটাই শিল্পের জন্য অনিবার্য সত্য।

আধুনিকতা বর্তমান কালে একটি জটিল পর্যায়ে এসে উপনীত হয়েছে। যেহেতু আমাদের দেশে অভীন্সার পরিবর্তন খুব ধীরে ধীরে হয় এবং আমরা আমাদের পুরাতনকে দীর্ঘকাল ধরে রাখতে চাই সে কারণে আধুনিক সময়ে যে প্রকৃতি পাশ্চাত্যে রূপলাভ করেছে সেই প্রকৃতি বর্তমানে পুরোপুরি আমাদের বোধের আয়ত্ত্বে নেই। সে কারণে আমরা আমাদের নগরজীবনের মধ্যে গ্রামীণ জীবনের অভিপ্রায়কে আনবার চেষ্টা করছি, আধুনিক সুরের মধ্যে গ্রামের সুরের মিশ্রণ ঘটাতে চাচ্ছি এবং নাগরিক জীবনের রূপকল্পকে এমনভাবে বিচূর্নিত করতে চাচ্ছি যে তার মধ্য দিয়ে আমাদের স্বভাবের বিচিত্র পরিপ্রেক্ষিত যেন ধরা পড়ে। বাংলা কবিতায়, উপন্যাসে এবং অংশত আমাদের চিত্রকর্মে এবং ভাস্কর্যে বর্তমান সময়ের বিভিন্ন ধরনের আবেগের বিচূর্ণতা ধরা পড়েছে। এটাই হচ্ছে বর্তমান সময়ের আধুনিকতা।

[লেখক: জাতীয় অধ্যাপক, সাবেক উপাচার্য, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়]

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here