আপনাদের বাড়ি-ঘরে সর্বত্রই রাসুল প্রেমিক গড়ে তুলুন – ড. কুদরত এ খোদা

2
4700

স্বাধীনতা দিবসের আলোচনায় ড. কুদরত এ খোদা

বিশেষ সংবাদদাতা: শয়তান থেকে নিজেকে মুক্ত করতে না পারলে স্বাধীনতা মূল্যহীন উল্লেখ করে সূফী সম্রাট হযরত সৈয়দ মাহবুব-এ-খোদা দেওয়ানবাগী (রহ.) হুজুর কেবলাজানের মেজো সাহেবজাদা, দেওয়ানবাগ শরীফের পরিচালক, সমন্বয়ক ও সমস্যার ফয়সালাকারী ইমাম ড. আরসাম কুদরত এ খোদা (মা. আ.) হুজুর স্বাধীনতা দিবসের আলোচনা সভায় এ কথা বলেন।

তিনি বলেন, ‘আজ বাংলাদেশের স্বাধীনতার ৫০ বছর। আপনি কি নিজেকে শয়তান থেকে স্বাধীন করে আপনার কলুষিত অন্তরকে আল্লাহময় করতে পেরেছেন? যদি না পারেন, দেশ স্বাধীন হলে আপনার লাভ নেই! আপনি স্বাধীন হতে পারেননি।’

গত ২৬ মার্চ দেওয়ানবাগ শরীফে জুম প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে অনুষ্ঠিত মহান স্বাধীনতা দিবস ও সাপ্তাহিক আশেকে রাসুল (সা.) মাহফিলে ড. কুদরত এ খোদা বলেন, ‘আজ সময় এসেছে নিজেকে আলোকিত করার এবং নিজের বাড়িকে আলোকিত করার। আপনারা আপনাদের বাড়ি-ঘরে সর্বত্রই রাসুল প্রেমিক গড়ে তুলুন। নিজের আত্মীয়-স্বজন প্রতিবেশী যে যেখানে আছে তাদের মাঝে মোহাম্মদী ইসলামের দাওয়াত পৌঁছে দিন; হযরত রাসুল (সা.)-এর দাওয়াত পৌঁছে দিন।’

আলোচনার শুরুতেই মহান স্বাধীনতা সংগ্রামে আত্মত্যাগকারী সকল শহিদ, যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধাসহ সকল মুক্তিসংগ্রামীদের প্রতি শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করে ড. কুদরত এ খোদা বলেন, আজ বাংলাদেশের স্বাধীনতার ৫০ বছর পূর্তি। দেশ স্বাধীন হয়েছে ৫০ বছর আগে। এই স্বাধীনতা দিবসেই বহু মানুষের রক্তের বিনিময়ে আজ আমরা দেশকে স্বাধীন করতে পেরেছি। আলোচনার শুরুতেই শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করি সেই সকল শহিদদের, যারা এই দেশকে স্বাধীন করার জন্যে নিজের জীবনকে বাজি রেখে যুদ্ধ করে আজ আমাদেরকে বিশ্বের মানচিত্রে একটি জায়গা করে দিয়েছেন। বাংলাদেশ নামক একটি দেশ উপহার দিয়েছেন। শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করি যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধাদের, যাদের অঙ্গের বিনিময়ে আজ বাংলাদেশ স্বাধীন হয়েছে। শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করি সকল মুক্তিযোদ্ধাদের ত্যাগ-তিতিক্ষা, পরিশ্রম, সাহসিকতায় আজ বাংলাদেশ সারা বিশ্বে সমাদৃত হয়েছে।

মুক্তিযুদ্ধে সূফী সম্রাট হযরত দেওয়ানবাগী হুজুর কেবলাজানের গৌরবোজ্জ্বল ভূমিকা তুলে ধরে ড. কুদরত এ খোদা বলেন, ১৯৭১ সালে ২৫ মার্চ কালো রাত্রিতে পাকিস্তানীদের নির্মম হত্যাযজ্ঞের খবর শুনে সূফী সম্রাট হুজুর কেবলাজান অত্যন্ত ব্যথিত হন। তিনি ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের সদস্যদের নিয়ে ঢাকা থেকে আগত মানুষের সাহায্যার্থে এগিয়ে আসেন এবং দুর্দশাগ্রস্ত মানুষের পানাহার ও বিশ্রামের ব্যবস্থা করেন। দেশকে স্বাধীন করার লক্ষ্যে তিনি ১৯৭১ সালের ১১ এপ্রিল রোববার ৭২ জন সঙ্গী নিয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বেঙ্গল রেজিমেন্ট স্থাপিত মুক্তিযুদ্ধ ক্যাম্পে যোগ দেন। তিনি প্লাটুন কমান্ডার হিসেবে ৩নং সেক্টরের বিভিন্ন রণাঙ্গনে পাক হানাদার বাহিনীর বিরুদ্ধে অসীম সাহসিকতার সাথে যুদ্ধ করেন। রণাঙ্গনে তাঁর অসীম সাহসিকতা অন্যান্য মুক্তিযোদ্ধাদের অনুপ্রাণিত ও উৎসাহিত করেছে। একজন তরুণ আলেম হিসেবে তিনি পবিত্র কুরআন ও হাদিসের আলোকে মুক্তিযুদ্ধের উদ্দেশে দেশপ্রেমের উপর গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা করতেন। তাঁর আলোচনা শুনে মুক্তিযোদ্ধাদের মাঝে দেশকে শত্রুমুক্ত করার দৃঢ় প্রত্যয় জাগ্রত হয়। তিনি ৩নং সেক্টরের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে মুক্তিযোদ্ধাদের শপথ অনুষ্ঠান পরিচালনা করতেন। যুদ্ধ চলাকালে ভারতের হেজামারায় অনুষ্ঠিত ১৯৭১ সালের ১৯ নভেম্বর ঈদুল ফিতরের নামাজের খুতবায় তিনি মুক্তিযুদ্ধে বিজয়ের ভবিষ্যদবাণী করে বলেন- “আল্লাহর কসম! আগামী বকরা ঈদের আগেই দেশ স্বাধীন হবে। আমি আপনাদের নিয়ে ঢাকার রেসকোর্স ময়দানে ঈদুল আযহার নামাজ আদায় করব।” মহান রাব্বুল আলামিন তাঁর এই ভবিষ্যদবাণী কবুল করে নেন। এই ভবিষ্যদবাণী প্রদানের মাত্র ২৭ দিন পর বাংলাদেশ স্বাধীনতা যুদ্ধের চূড়ান্ত বিজয় লাভ করে। সূফী সম্রাট হুজুর কেবলাজান তাঁর ভবিষ্যদবাণী অনুযায়ী ১৯৭২ সালের ২৬ জানুয়ারি ঢাকার রেসকোর্স ময়দানে স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম ঈদুল আযহার নামাজের জামাতে ইমামতি করেন। স্বাধীনতা যুদ্ধে সূফী সম্রাট হুজুর কেবলাজানের অবদান চির স্মরণীয় হয়ে আছে এবং ভবিষ্যতেও থাকবে। স্বাধীনতার পর তিনি মেজর জেনারেল শফিউল্লাহ সাহেবের অনুরোধে নব গঠিত ১৬ বেঙ্গল রেজিমেন্টের রিলিজিয়াস টিচার পদে যোগদান করেন এবং শ্রদ্ধাভাজন শিক্ষক হিসেবে তিনি সেনাবাহিনীর সকলের আস্থা অর্জন করেন। তৎকালীন মাদ্রাসা শিক্ষক ও আলেম সমাজের বেশিরভাগ নির্লজ্জভাবে পশ্চিম পাকিস্তানের পক্ষ নিয়েছিল। এমনকি তারা দেশপ্রেমিক মুক্তিযোদ্ধাদের কাফের ফতোয়া দিতে কুন্ঠাবোধ করেনি, অথচ একজন তরুণ আলেম হওয়া সত্ত্বেও মুক্তিযুদ্ধে সূফী সম্রাটের যোগদান সত্যিই প্রশংসার দাবি রাখে। যুদ্ধ চলাকালীন সময়ে সূফী সম্রাট হুজুর কেবলাজান রণাঙ্গণে দুটি মসজিদ প্রতিষ্ঠা করেন। তিনি যুদ্ধে গিয়েও মানুষের সিজদার স্থান প্রতিষ্ঠা করেছিলেন।

যুদ্ধ পরবর্তীতে বহু মুক্তিযোদ্ধা বিভিন্ন বইয়ে মোর্শেদ কেবলাজানের ঐ খুৎবার ভবিষ্যদবাণীর কথা উল্লেখ করে বলেন- আমিও কেঁদেছিলাম। সেদিন শত সহস্র মুক্তিযোদ্ধারা কেঁদে কেঁদে চিৎকার করে বলেছিল- হে আল্লাহ! তুমি দয়া করে আমাদের দেশকে স্বাধীন করে দাও। মোর্শেদ কেবলাজান বলেছিলেন- আপনারা ধৈর্য ধরেন। আগামী বকরা ঈদের আগে আমরা দেশ স্বাধীন করব। ঠিকই ২৭ দিন পরে দেশ স্বাধীন হয়েছে এবং স্বাধীন বাংলার প্রথম ঈদের জামাত আল্লাহর বন্ধু শাহ দেওয়ানবাগীর ইমামতিতেই হয়। বাংলাদেশে এমন কোনো আলেম আছেন যারা সরাসরি মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করে মুক্তিযোদ্ধা খেতাবে ভূষিত হয়েছেন বলে আমার জানা নেই। আল্লাহর বন্ধু শাহ দেওয়ানবাগী (রহ.) একদিকে যেমন মাদ্রাসার ছাত্র ছিলেন, মাদ্রাসায় পড়ে নিজেকে সুশিক্ষিত করেছিলেন। মহান আল্লাহ ও হযরত রাসুল (সা.)-এর জ্ঞানে, আল্লাহ ও রাসুলকে পাবার আশায় তিনি মাদ্রাসায় ভর্তি হন। তিনি দেশকে স্বাধীন করার যুদ্ধে নিযুক্ত হন।


স্বাধীনতার পরবর্তী ৫০ বছর আল্লাহর বন্ধু শাহ দেওয়ানবাগী (রহ.) তাঁর যুদ্ধকে থামিয়ে দেননি। তিনি ১৯৭১ সালে যুদ্ধ করেছিলেন পাক হানাদার বাহিনীর কাছ থেকে দেশকে স্বাধীন করার জন্য। পরাধীন মানুষকে স্বাধীন করার জন্য তিনি যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়েছিলেন শত সহস্র মুক্তিযোদ্ধাদের সাথে। দেশ স্বাধীনের পরে তিনি পুনরায় যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়েছেন মানুষকে শয়তানের হাত থেকে এবং কুপরামর্শ থেকে আল্লাহ ও হযরত রাসুল (সা.)-এর পথে মানুষকে অগ্রসর করতে। আমরা আশেকে রাসুলেরা জানি ওনার এই রাস্তা সহজ ছিল না। উনি ইমাম শাহ চন্দ্রপুরী (রহ.)-এর দরবারে ১২ বছর গোলামি করেন। ইমাম শাহ চন্দ্রপুরী (রহ.) নিজে উৎসাহী হয়ে তাঁর কন্যা কুতুবুল আকতাব সৈয়দা হামিদা বেগম (রহ.)-কে তাঁর সাথে বিয়ে দেন। তারপরে সেই দরবার থেকে ১৯৮৫ সালে ঢাকায় এসে একের পর এক তাঁকে যুদ্ধে অবতীর্ণ হতে হয়। মোহাম্মদী ইসলাম জগতে প্রচার করা তো বড়ো কঠিন কাজ। ইতঃপূর্বে যারাই এর দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন, তাঁরা কেউ যুদ্ধ ছাড়া এই মোহাম্মদী ইসলাম প্রতিষ্ঠা করতে পারেননি। আমরা যদি রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর দিকে তাকাই, দেখা যাবে রাসুলুল্লাহ (সা.)-কে ২৭টি যুদ্ধ করতে হয়েছে। ঠিক তেমনিভাবে আল্লাহর বন্ধু শাহ দেওয়ানবাগী (রহ.) যুদ্ধ শুরু করেন মানুষকে ষড়রিপু থেকে স্বাধীন করতে। শয়তানকে পরাজয় করে মানুষকে আল্লাহময় করার এই যুদ্ধে তিনি অবতীর্ণ হন। এই যুদ্ধ উনাকে এত কষ্ট দিয়েছে যে, উনার বাকি জীবন এই যুদ্ধেই পার করতে হয়েছে। একদিকে তিনি যেমন আশেকে রাসুলদের জন্যেই সকাল থেকে রাত্রি পর্যন্ত বসে থেকেছেন। অন্যদিকে তাদেরকে খোঁজার জন্যেই আবার তিনি মোহাম্মদী ইসলামকে চালিয়ে নিয়ে যাওয়ার লক্ষ্যেই একের পর এক কর্মসূচি চালিয়ে গেছেন। তিনি ক্ষান্ত হননি। তিনি মানুষকে নিজের কলুষিত অন্তর থেকে মুক্ত করার লক্ষ্যে বাংলাদেশে ১১টি দরবার শরীফ, শতাধিক খানকাহ শরীফ, সহস্রাধিক জাকের মজলিস প্রতিষ্ঠিত করেন। বিশ্বের শতাধিক দেশে মজলিস স্থাপন করে মানুষকে নিজের রিপু পরিবর্তন করার চেষ্টা করে গেছেন।


সূফী সম্রাট হুজুর কেবলাজানের মহাপ্রয়াণে আশেকে রাসুলদের বিরহ বেদনার কথা উল্লেখ করে মেজো সাহেবজাদা হুজুর বলেন, আমি জানি মোর্শেদের বিয়োগ ব্যথা মুরিদের জন্যে কতটা কষ্টকর। যেখানেই কথা বলি, যেখানেই মানুষের সাথে যোগাযোগ করি, অশ্রুভরা চোখে শুধু ক্রন্দনে তারা মোর্শেদের কথাই বলে। সকালে ঘুম থেকে উঠছি, ঘুম ভেঙেছে, দেখতে পাচ্ছি মোর্শেদ কেবলাজানের নুরানিময় চেহারা মোবারক। এত কাছ থেকে দেখেছি, এত কাছ থেকে অনুভব করেছি, যা ভাষায় প্রকাশ করা কঠিন। মোর্শেদের বিয়োজন মুরিদের কাছে তেমন, যেমন নিজের পিতাকে হারানো, সন্তানকে হারানো; এই বিয়োজনের ব্যথায় সে ব্যকুল থাকে। মানুষ যতদিন বাঁচবে তার অন্তরে ঐ ব্যথা থাকবে। তারা ঐ অন্তরের ব্যথায় ব্যথিত হবেন, শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করবেন আল্লাহর বন্ধু শাহ দেওয়ানবাগীকে।


আশেকে রাসুলদের দায়িত্ব স্মরণ করিয়ে দিয়ে ড. কুদরত এ খোদা বলেন, আমরা মোর্শেদের ঔরসজাত সন্তান, আর আপনারা মোর্শেদের রূহানি সন্তান। আমাদের উপর এই দায়িত্ব ন্যস্ত করা হয়েছে যে, মোহাম্মদী ইসলামকে সামনে এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে। আমাদেরকে মোর্শেদের স্বপ্ন বাস্তবায়নে সামনে এগিয়ে আসতে হবে।


মোহাম্মদী ইসলামের বর্তমান কার্যক্রম তুলে ধরে ড. কুদরত এ খোদা বলেন, আমি বিগত দেড় মাস গ্রামে-গঞ্জে, জেলায়-জেলায়, দেশে-বিদেশে প্রোগ্রাম করে বেড়াচ্ছি। প্রায় বিভিন্ন জেলায় কথা বলেছি। ভাইদের কথা শুনেছি। এখনও করছি, নিয়মিত এ কার্যক্রম চলছে। আমি জানি না পুরো কাজ শেষ করতে কত দিন লাগবে। তবে আল্লাহ যদি গোলামকে সহযোগিতা করেন, চেষ্টা করছি এই মোহাম্মদী ইসলামকে এক সুতায় গেঁথে রাখতে।

আশেকে রাসুলদের করণীয় সম্পর্কে বলতে দিয়ে মেজো সাহেবজাদা হুজুর বলেন, ‘মোহাম্মদী ইসলাম’ তথা রাসুল (সা.)-এর এই আদর্শ ধরে রেখেছিলেন আল্লাহর বন্ধু শাহ দেওয়ানবাগী। তিনি তাঁর জীবনের সকল বাধা-বিপত্তি মোকাবিলা করে গেছেন এই মোহাম্মদী ইসলামকে সামনে এগিয়ে নেওয়ার জন্য। আমাদের মতো হতভাগাদের সময় হয়েছে মোর্শেদের ভালোবাসার প্রতিদান দেওয়ার। আজ সময় এসেছে দেওয়ানবাগী যে আলো জ্বালিয়ে গেছেন সেই আলো সারা বিশ্বে ছড়িয়ে দেওয়ার। আজ সময় এসেছে নিজেকে আলোকিত করার এবং নিজের বাড়ি ও সমাজকে আলোকিত করার। আমি বলি একজন আশেকে রাসুল যেখানে আছে ওখানেই নুরে মোহাম্মদীর আলো জ্বলবে। আপনারা আপনাদের বাড়ি-ঘরে রাসুলের দুর্গ গড়ে তুলুন। নিজের আত্মীয়-স্বজন প্রতিবেশী যে যেখানে আছে তাদের মাঝে মোহাম্মদী ইসলামের দাওয়াত পৌঁছে দিন। আমরা বড়ো বড়ো অনুষ্ঠান করেছি, মানুষকে দাওয়াত দিয়েছি। এবার আপনাদের বলছি, আপনারা আপনাদের পরিবারের মধ্যে মোহাম্মদী ইসলাম প্রতিষ্ঠিত করুন। মোহাম্মদী ইসলাম তখন শক্তিশালী, যখন একটি পরিবার শক্তিশালী হবে। মনে রাখবেন, একজনের বিরোধিতা করা সহজ, একটি পরিবারের বিরোধিতা করা কঠিন, একটি বংশের বিরোধিতা করা কঠিন। যদি পরিবারে আশেকে রাসুল হয়ে যায়, এবার আপনি আপনার বংশ-গোষ্ঠীকে কাজে লাগান, তাদেরকে আশেকে রাসুল বানানোর জন্য। তাহলে মোহাম্মদী ইসলাম এগিয়ে যাবে।


আত্মশুদ্ধির প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে ড. কুদরত এ খোদা বলেন, মোহাম্মদী ইসলামকে আগাতে হলে শুধু পরিবার নয় নিজেকে পরিশুদ্ধ করা প্রয়োজন। মনে রাখতে হবে, ঐ অন্ধকার কবর আপনার আমার সবার জন্য অপেক্ষমান। আমি বলি মরার আগে মৃত্যু বিদ্যা বা জ্ঞান অর্জন করেন। সমাজে আপনি একজন বড়ো ডাক্তার, বড়ো ইঞ্জিনিয়ার, বড়ো সম্মানীয় অথচ শেষ নিঃশ্বাসের সাথে সাথে ঐ ইঞ্জিনিয়ার সাহেব, ঐ বড়ো কর্তা আর চেয়ারে গিয়ে বসবে না। তাকে সুন্দর করে মাটিতে শুইয়ে দিবে। আর চেয়ার নসিব হবে না। এত সুন্দর দালান, বাড়ি, এতো কিছু করলেন, নিজের খাট জাজিম দিয়ে নরম করলেন, বালিশ দিয়ে মাথা আরামে রাখলেন, আর কেউ মাথার নিচে বালিশ দেবে না। জাজিমের গদি আর আপনার নসিব হবে না। ঐ অন্ধকার কবরে আপনাকে নামিয়ে দেওয়া হবে। একেবারে সাদা কাফনের কাপড় পরিয়ে অসহায়, নিরুপায় অবস্থায়। ঐ অসহায়, নিরুপায় অবস্থায় কারো সাথে একটু কথা বলার সুযোগ নেই। যিনি নিজেকে পরিশুদ্ধ করতে পারলেন, যিনি নিজের অন্তরকে আলোকিত করতে পারলেন, যিনি দুনিয়াতে বসেই মালিকের সন্তুষ্টি অর্জন করতে পারলেন, ভয় নাই তার কবরে। তিনি দেখবেন মোর্শেদ কেবলা তার পাশে এসেছেন রাসুল (সা.)-কে নিয়ে। তিনি বলবেন, তুমি না আমার জন্য করেছিলে? তুমি না আমার জন্য প্রতিক্ষমান ছিলে? আজ প্রতিদান দিবস, আমি তোমার পাশে আছি।


আশেকে রাসুলদের আল্লাহ ও রাসুল (সা.)-কে লাভ করার বিষয় তুলে ধরে মেজো সাহেবজাদা হুজুর বলেন, মোর্শেদ তাঁর সারাটি জীবন আমাদেরকে দিয়ে গেছেন ইমানদার করানোর লক্ষ্যে। নিজেদেরকে চরিত্রবান করানোর লক্ষ্যে। যদি আমরা নিজেদেরকে চরিত্রবান বানাতে না পারি, যদি আমরা নিজেদের মাঝে ইমানের বীজ বপন করতে না পারি, তাহলে এই মোহাম্মদী ইসলামের মূল্য কোথায় থাকবে বলেন? আমি শিক্ষকতা করি। ইউনিভার্সিটির শিক্ষকতায় আমাদের নির্দিষ্ট নিয়ম আছে। আমার মিনিমাম কত পারসেন্ট ছাত্র পাশ করতে হবে। যদি ইউনিভার্সিটির টার্গেট ফিলাপ করতে না পারি অর্থাৎ অত পারসেন্ট ছাত্রকে পাশ করাতে না পারি, তাহলে আমার চাকরি থাকবে না। এটাই নিয়ম। যারা শিক্ষকতা করেন আমার মনে হয় চাকরি থাকলেও তাকে অনেক জবাবদিহি করতে হয়। কেন এত ছাত্র ফেল করলো?

আজ তিন কোটি আশেকে রাসুল, যদি তাদেরকে আমি আদর্শে গড়ে তুলতে না পারি আমারতো আল্লাহর বন্ধু শাহ দেওয়ানবাগীর কাছে জবাব দিতে হবে। আমারতো রাসুল (সা.)-এর কাছে জবাব দিতে হবে। আমারতো মালিকের কাছে জবাব দিতে হবে। আমি কী জবাব দিবো?


আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাওয়ার গুরুত্ব তুলে ধরে ড. কুদরত এ খোদা বলেন, নিজেদের কলুষিত অন্তরকে আলোকিত করতে হবে। নিজের মধ্যে কাম, ক্রোধ, লোভ, মদ, মোহ ও মাৎসর্য এই রিপুগুলোর বেড়াজাল থেকে বের হয়ে আসতে হবে। আমি বলি, বান্দা তত পাপ করতে পারে না, আল্লাহ যত ক্ষমা করতে পারেন। আমি ঐ মালিকের গোলামী করি না, যেই মালিক আপনাকে ক্ষমা করতে পারে না। মালিক আপনাকে ক্ষমা করার জন্যেই বসে আছেন। আপনি ক্ষমা চান। আল্লাহর কসম, আপনি মালিককে ক্ষমাশীল পাবেন। আপনি ক্ষমা চান আল্লাহর কসম, তিনি আপনাকে আমাকে ক্ষমা করার জন্যেই বসে আছেন।


আশেকে রাসুলদের উদ্দেশে মেজো সাহেবজাদা হুজুর বলেন, মনে রাখতে হবে এই মোহাম্মদী ইসলাম কারো একার নয়। আল্লাহর বন্ধু আমাকে বলেছিলেন, এই মোহাম্মদী ইসলাম তোমাকে এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে। আর আমি বলি আপনারাই মোহাম্মদী ইসলামকে এগিয়ে নিয়ে যাবেন। মনে রাখবেন, একটি ছুরির ব্যবহার অনেক রকম। এই ছুরি যখন কসাইয়ের হাতে যায় এই ছুরি দিয়ে গরুর মাংস কাটে কসাই। এই ছুরি যখন মুরগি কাটা লোকের হাতে যায়, এই ছুরি দিয়ে সে মুরগি কেটে আপনাকে পরিবেশন করে। এই ছুরি যখন আপনার স্ত্রীর হাতে যায়, এই ছুরি দিয়ে সে সবজি কাটে। এই ছুরি যখন সন্ত্রাসীর হাতে যায়, এই ছুরি তখন মানুষ হত্যার কাজে ব্যবহার হয়। ছুরি কিন্তু অপরাধী নয়। অপরাধী যিনি হাতে নেন, তিনি। প্রবাদ আছে- কাজ তারই সাজে অন্য গেলে লাঠি বাজে। সন্ত্রাসীকে যদি গরুর মাংস কাটতে দেন, সে গরুর মাংস কাটা রেখে কারো পেটে ছুরি ঢুকিয়ে দিতে পারে। এটা খুবই জরুরি যে, আপনার উপরে ন্যস্ত দায়িত্ব আপনি পালন করুন। আপনি জানেন মোর্শেদ আপনাকে, কতটুকু ভালোবেসেছেন, আপনি জানেন দেওয়ানবাগী আপনাকে কতটুকু ভালোবেসেছিলেন। ওনার নির্দেশ ভুলে যাবেন না। যারা মোর্শেদকে ভালোবেসেছেন, যারা মোর্শেদকে চিনেছেন তাদের কাছে অনুরোধ করি, চোখ বন্ধ করে দেখেন আপানার মোর্শেদ কী বলেন। মনে রাখবেন, আপনি মোর্শেদের পরীক্ষিত আশেকে রাসুল। আপনাকে মোর্শেদ বেছে এনেছেন ইমানের পথ দেখানোর জন্য। আমি আপনাদের ওপরে দায়িত্ব ন্যস্ত করছি। আপনারা মোহাম্মদী ইসলামকে এগিয়ে নিয়ে যাবেন। মনে রাখবেন কেয়ামত পর্যন্ত এই মোহাম্মদী ইসলামের মোর্শেদ থাকবেন বাবা দেওয়ানবাগী। মোর্শেদ বলেছেন, তোমাকে নেতৃত্ব দিতে হবে। আমি বলেছি, আমি গোলাম, গোলামি করব। আমি গোলাম ছিলাম। গোলাম আছি। বাকী জীবন গোলামি করব। আমি আমার দায়িত্বকে নেতৃত্ব হিসেবে নেইনি। আমি আমার দায়িত্বকে গোলামি হিসেবে নিয়েছি।


ড. কুদরত এ খোদা হুজুর আলোচনা শেষে আখেরি মোনাজাত পরিচালনা করে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘোষণা করেন।

2 COMMENTS

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here