আল্লাহ্ দয়া করে যতদিন আমাদের উপর খুশি না হন, ততদিন এই মহামারি দূর হবে না

7
540
সূফী সম্রাট হযরত সৈয়দ মাহ্বুব-এ-খোদা দেওয়ানবাগী (মা. আ.) হুজুর কেবলাজান ।

-সূফী সম্রাট দেওয়ানবাগী
বিশেষ সংবাদদাতা: মহান সংস্কারক মোহাম্মদী ইসলামের পুনর্জীবনদানকারী সূফী সম্রাট হযরত সৈয়দ মাহ্বুব-এ-খোদা দেওয়ানবাগী (মা. আ.) হুজুর কেবলাজান বলেন, মহান রাব্বুল আলামিন পবিত্র কুরআনে ফরমান- জলে ও স্থলে যত বিপদ আসে, সেটা তোমাদেরই কর্মফল। আজ সারা বিশ্বের মানুষ সেই কর্মফলে ভুগছে। আমরা যখন আল্লাহ্কে ভুলে গিয়েছি, রাসুলকে ভুলে গিয়েছি, রাসুলের উপর মিলাদ পড়ি না এবং রাসুলের প্রতি আমাদের সম্মান শ্রদ্ধাবোধ থাকে না, তখনই আমাদের উপরে বিপর্যয় নেমে আসে। এখন যে বিপদ এসেছে, এটা আল্লাহ্র পক্ষ থেকেই সারা দুনিয়া জুড়ে। আর এটা এমন একটা বিপদ, যে বিপদের কোনো ওষুধ নেই। এত উন্নত বিশ্ব কিন্তু এর কোনো ওষুধ আবিষ্কার করতে পারেনি। আর এটা এমনই একটা সংক্রামক ভাইরাস, যার উপরে এই বিপদ আসে, ছেলে-মেয়ে, মা-বাবা কেউই ঐ রোগীর কাছে যেতে পারে না। এটা ছোঁয়াচে রোগ, কাছে গেলে তারা অসুস্থ হয়ে পড়বে। মারা গেলে কবর দিতে পারে না। এটা একটা ভয়ানক গজব।
তিনি গত ১৭ জুলাই, শুক্রবার রাজধানী ঢাকার মতিঝিলের আরামবাগস্থ বাবে রহমত দেওয়ানবাগ শরীফে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে আয়োজিত সাপ্তাহিক আশেকে রাসুল (সা.) মাহ্ফিলে হাজার হাজার আশেকে রাসুলদের উদ্দেশে বাণী মোবারক দিচ্ছিলেন।

সূফী সম্রাট দেওয়ানবাগী বলেন, এই গজব থেকে বাঁচার জন্যে আমি আশেকে রাসুলদেরকে পরামর্শ দিয়েছি। গজবের বিপরীত হচ্ছে রহমত। পবিত্র কুরআনে এরশাদ হয়েছে, “ওয়ামা আরসালনাকা ইল্লা রাহমাতাল্লিল আলামিন।” অর্থাৎ হে রাসুল! আপনাকে জগতবাসীর জন্য রহমতরূপে প্রেরণ করা হয়েছে। যেখানে রহমত থাকে সেখানে গজব থাকতে পারে না। এই কারণে আমি জাকেরদেরকে পরামর্শ দিয়েছি যে, আপনারা প্রত্যেকে নিজ নিজ বাড়িতে সকাল সন্ধ্যা মিলাদ শরীফ পড়েন। হুজুরের দরকার নেই, আপনারা নিজেরা নিজেরাই পড়েন। তাহলে রাসুলের বরকতে এই গজব থেকে নিজেরা রক্ষা পাবেন আল্লাহ্র রহমতের আশ্রয়ে থাকতে পারবেন। আমি আরো পরামর্শ দিয়েছি প্রত্যেকেই যার যার বাড়িতে এই মহামারি যেন না আসে, সেজন্য একটা মানত করে রাখেন। মানতের বরকতে মহান রাব্বুল আলামিন আপনাদেরকে সাহায্য করবেন, আপনারা এই বিপদ থেকে পরিত্রাণ পাবেন।

তিনি বলেন, নিয়মিত দরবার শরীফের সাথে যোগাযোগ রাখবেন। আর আমি যে ওয়াজিফা আপনাদেরকে দিয়েছি সেই ওয়াজিফা আমল করবেন। এটা একটা মহাবিপদ। এমন বিপদ যে, যার বাড়িতে একজন আক্রান্ত হলে, তার পুরো বাড়িতেই লকডাউন দিয়ে রাখা হয়। মানে জেলখানার মতো বন্দি অবস্থা। এক রুম থেকে আরেক রুমে যেতে পারে না। এই মুসিবত চিরস্থায়ী নয়। আমরা যখন আল্লাহ্র কাছে প্রার্থনা করবো, আল্লাহ্র সাহায্য চাইবো তখন এই মুসিবত দূর হয়ে যাবে। তবে আমরা নির্দিষ্ট সময় কখন তা বলতে পারবো না যে, কতদিন এই মহামারি থাকবে। আল্লাহ্ দয়া করে যতদিন আমাদের উপর খুশি না হন, ততদিন এই মহামারি দূর হবে না। আল্লাহ্ যদি খুশি হন, তিনি দয়া করে এই মহামারি দূর করে দিবেন।

সূফী সম্রাট দেওয়ানবাগী বলেন, আপনারা নিয়মিত আমি যে ওয়াজিফা দিয়েছি সেটা আমল করবেন। আর প্রতিদিন সকাল সন্ধ্যা মিলাদ শরীফটা পড়বেন। আপনারা চাইলেও এখন আমার কাছে আসতে পারেন না। আপনারা যেমন মোর্শেদকে দেখতে চান, আমিওতো আপনাদেরকে দেখতে চাই। আমিতো আছি। আমিতো আপনাদেরকে দেখতে পাই না। এই কারণেই অনুষ্ঠান প্রচারের এইরূপ ব্যবস্থা করেছি যে, আমি আপনাদেরকে পরামর্শ দেই, আপনারা যেন সঠিকভাবে নিয়মিত তরিকার কাজ করতে পারেন।

সূফী সম্রাট দেওয়ানবাগী বলেন, মহব্বতের সাথে নিয়মিত তরিকার কাজ করবেন। আর দরবার শরীফের সাথে যোগাযোগ রাখবেন। আপনারা জানেন একটা অসৎ ব্যক্তিকে আমি বিপথগামী ঘোষণা করেছি। আগে তারে আমি দরবারে চাকুরী দিয়েছিলাম। কাজ করতে গিয়ে সে মনগড়া অনেক কিছু করেছে। যেমন- একজন পিএইচডি করেছে, সে ঐ পিএইচডির বই নিয়ে তার নাম দিয়ে ছাপিয়েছে। আমাদের পত্রিকা সে নিজের নামে নিয়েছে, ব্লেড দিয়ে কেটে আমার নাম মুছে তার নাম বসিয়েছে। আমারতো চার ছেলে। কোনো ছেলের নামেতো মাহবুবী নেই। কিন্তু সে নিজে নিজে সাইদুর রহমান আল-মাহবুবী হয়েছে। আমার ছেলে না হয়ে সে মাহবুবী কীভাবে হবে? চরম ষড়যন্ত্র করেছে। মানত থেকে কোটি কোটি টাকা নিয়ে গেছে। ৫টা বাড়ি করেছে। আরো অনেক জায়গা জমি কিনেছে। এই চুরি ও ষড়যন্ত্র করার অপরাধেই তাকে আমি বিপথগামী বলেছি। আপনারা তার সাথে যোগাযোগ করবেন না। সে পথভ্রষ্ট। সরাসরি বিপথগামী।

সূফী সম্রাট দেওয়ানবাগী বলেন, নিয়মিত তরিকার কাজ করবেন, এখন আমার চার ছেলেই আছে এখানে, যেটা আপনাদের বুঝে আসে না তাদের সাথে যোগাযোগ করবেন। মেজো হুজুরের সাথে যোগাযোগ করবেন। কেননা, সেই পরিচালনা করছে।

তিনি বলেন, ষড়যন্ত্র করে কোনো মানুষই অলী-আল্লাহ্ হতে পারে না। চক্রান্ত করে শয়তান হওয়া যায়, বিপথগামী হওয়া যায়, অলী-আল্লাহ্ হতে পারে না। সে চক্রান্ত করে নিজেকে অলী-আল্লাহ্ দাবী করেছিল। আমি তাঁর চক্রান্ত প্রকাশ করে দিয়েছি। পরিষ্কার করে দিয়েছি আপনাদের সামনে। আমি চাই না, আমার দরবারে একটা ফেৎনাবাজ থাকুক। একদিনের নোটিশে তাকে দরবার থেকে বের করে দিয়েছি। সে এবং তারা (তার স্ত্রী ও সন্তানেরা) আমার দরবার থেকে বিতাড়িত। তার সাথে তরিকার ব্যাপারে আপনাদের কোনো পরামর্শ নেই। আপনাদেরকে আমি যেভাবে পরামর্শ দিয়েছি, সেভাবেই কাজ করেন। আমার ১১টা দরবার শরীফ আছে। সবগুলো দরবার আমাদের কেন্দ্রীয় দরবার শরীফ থেকে পরিচালিত হচ্ছে। যাদের বুঝতে অসুবিধা হয়, তারা কেন্দ্রীয় দরবার শরীফের সাথে যোগাযোগ করবেন।

সূফী সম্রাট দেওয়ানবাগী বলেন, আমি এইভাবে (অনলাইন প্ল্যাটফর্ম তথা ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে) আলোচনা করাতে আপনাদের কী বুঝতে সুবিধা হচ্ছে? এখন থেকে নিয়মিত আমরা এইভাবে কাজটা চালিয়ে যাবো, যেন কোনো ফেৎনাই আপনাদেরকে ক্ষতি করতে না পারে। আসুন, আমরা মহান রাব্বুল আলামিনের কাছে মোনাজাত করি, তিনি যেন দয়া করে আমাদের সবাইকে তাঁর হেফাজতে রাখেন ।

দুপুর সাড়ে ১২টায় জুমার আজানের পর মোহাম্মদী ইসলামের মিলাদ মাহ্ফিল অনুষ্ঠিত হয়। অতঃপর অনুষ্ঠিত হয় জুমার নামাজ।

বাদ জুমা সূফী সম্রাট হুজুর কেবলাজান ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে আয়োজিত সাপ্তাহিক আশেকে রাসুল (সা.) মাহ্ফিলে আশেকে রাসুলদের উদ্দেশে বাণী মোবারক প্রদান করে মুনাজাত পরিচালনা করেন।
মাহ্ফিলে উপস্থিত ছিলেন সূফী সম্রাট হুজুর কেবলাজানের মেজো সাহেবজাদা ইমাম ড. আরসাম কুদরত এ খোদা (মা. আ.) ও কনিষ্ঠ সাহেবজাদা ইমাম ড. সৈয়দ এ.এফ.এম. মঞ্জুর-এ-খোদা (মা. আ.)

অনুষ্ঠানের সার্বিক দায়িত্বে নিয়োজিত ছিলেন মেজো সাহেবজাদা ইমাম ড. আরসাম কুদরত এ খোদা (মা. আ.)।

7 COMMENTS

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here