আশুরা আল্লাহর অভিষেকের অনুষ্ঠান -সূফী সম্রাট দেওয়ানবাগী

1
589

বিশেষ সংবাদদাতা: মহান সংস্কারক মোহাম্মদী ইসলামের পুনর্জীবনদানকারী সূফী সম্রাট হযরত সৈয়দ মাহবুব-এ-খোদা দেওয়ানবাগী (মা. আ.) হুজুর কেবলাজান বলেন, আজ মহররম মাসের ১ তারিখ। আজ থেকে আবার, চাঁদের নতুন বৎসর শুরু হয়েছে। মুসলমানদের ধর্মীয় অনুষ্ঠানগুলি চাঁদের বর্ষ অনুযায়ী হয়। হিজরি এই মাসের ১০ তারিখ আশুরা অর্থাৎ আল্লাহর অভিষেকের দিন। আমরা জানতাম আশুরা শিয়াদের অনুষ্ঠান, এটা শিয়ারা পালন করে। কিন্তু মোর্শেদ কেবলাজানের দরবার শরীফে যাওয়ার পরে গোলামির মাধ্যমে জানার সৌভাগ্য হয়েছে যে, আশুরা শিয়াদের অনুষ্ঠান নয়, আল্লাহর অভিষেকের অনুষ্ঠান। জগৎ সৃষ্টি করার পরে সমস্ত মানুষের রূহ সৃষ্টি করার পরে রাব্বুল আলামিন এই আশুরার দিনে সৃষ্টির সামনে তাশরিফ নিয়ে বলেছিলেন- আলাসতু বিরাব্বিকুম? আমি কি তোমাদের প্রভু নই? সমস্বরে সমস্ত রূহ বা আত্মা বলেছিল- ক্বালু বালা। নিশ্চয়ই আপনি আমাদের প্রভু।
ঐখান থেকেই আশুরা শুরু। এই বরকতময় দিনের অসিলায় রাব্বুল আলামিন অসংখ্য নবি-রাসুল যারা ধর্ম প্রচার করতে গিয়ে বাধা-বিপত্তি ও সমস্যার সম্মুখীন হয়েছেন, তাঁদের সকল বিপদ আল্লাহ দয়া করে দূর করে দিয়েছেন।
তিনি গত ২১ আগস্ট, শুক্রবার রাজধানী ঢাকার মতিঝিলের আরামবাগস্থ বাবে রহমত দেওয়ানবাগ শরীফে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে আয়োজিত সাপ্তাহিক আশেকে রাসুল (সা.) মাহ্ফিলে হাজার হাজার আশেকে রাসুলদের উদ্দেশে বাণী মোবারক দিচ্ছিলেন।
সূফী সম্রাট দেওয়ানবাগী বলেন, এই আশুরা আমাদের সামনে সমাগত। আপনারা প্রস্তুতি নেন আশুরা কীভাবে পালন করবেন। আমাদের জাতির ধারণা ছিল না যে, আশুরা মুসলমানদের অনুষ্ঠান। আমি সরকারের কাছে এই দিনে সরকারী ছুটির জন্য এবং এই দিন সরকারীভাবে অনুষ্ঠান পালন করার জন্য প্রস্তাব করেছিলাম। মহান রাব্বুল আলামিনের দয়ায় এখন আশুরা সরকারীভাবেই পালিত হচ্ছে। আগামী ৩০ আগস্ট অর্থাৎ ১০ মহররম এই আশুরার অনুষ্ঠানটি হবে। আমরাও ৩০ তারিখ, ১০ মহররম সকাল ১০টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত এই অনুষ্ঠান করব। প্রতি বৎসর যেমন এই অনুষ্ঠানে গজল এবং আশেকে রাসুলদের বক্তব্য ছিল, এবারও তেমনিভাবে আমরা ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে অনুষ্ঠানটি চালিয়ে যাব।
সূফী সম্রাট দেওয়ানবাগী বলেন, আপনারা প্রত্যেকে নিজ নিজ খানকা শরীফে জমায়েত হয়ে এই অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করবেন। আর যাদের এলাকায় খানকা শরীফ নেই, তারা সকল জাকের একত্রিত হয়ে এক বাড়িতে বসে অনুষ্ঠানের কার্যক্রমে শরিক হন। আশেকে রাসুলেরা আপনারা মনে রাখবেন এই অনুষ্ঠানটা আমাদের এখানেই হতো, কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতি ও রাষ্ট্রীয় নির্দেশনার কারণে আমরা ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে আমাদের ১১টা দরবার শরীফ ও প্রত্যেক খানকায় তা পালন করার জন্য পরামর্শ দিয়েছি। আপনারা দরবারে আসলে যে ফায়েজ, রহমত, বরকত পেতেন, বিভিন্ন দরবারে এবং বিভিন্ন খানকায় পালন করার পরে সেটাই পাবেন।
সূফী সম্রাট দেওয়ানবাগী বলেন, আমাদের মনে রাখতে হবে আমরা যখন যে অবস্থায়ই থাকি না কেন, তরিকার কাজ করে যাব। কাজ করতে গেলে সমস্যার সৃষ্টি হয়। অনেক সময় নিজেদের লোকই বিভ্রান্তি সৃষ্টি করে। এদের কথা পাত্তা দিবেন না। যারা বিভ্রান্তির সৃষ্টি করে তাদেরকে আমি দরবার থেকে তাড়িয়ে দিয়েছি, তাদের তরিকায় থাকার কোনো অধিকার নেই। আমি যা শিক্ষা দিচ্ছি, সেগুলোও তাদের মধ্যে নেই। আপনারা নিয়মিত তরিকার আমল করবেন। প্রতিটা খানকা শরীফে নিয়মিত চর্চা চালিয়ে যাবেন। এভাবে সারা দেশে সব জায়গায় তরিকার কাজ করবেন। কোনো মসজিদে তো নামাজ বন্ধ করা হয়নি। তাহলে আমাদের খানকায় কেন আপনারা নামাজ বন্ধ রাখবেন? নিয়মিত নামাজ পড়বেন, মোহাম্মদী ইসলামের ওয়াজিফা আমল করবেন। এতে তো সরকারের বাধা নেই। শুধু সরকারের নিয়ম মেনে কাজ করবেন।
সূফী সম্রাট দেওয়ানবাগী বলেন, আসলে প্রতিটা বিপদের পরে আবার একটা শুভ রাস্তা বের হয়। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে আশেকে রাসুলেরা আছেন। আপনাদের আকাঙ্খা থাকে আমাকে দেখার জন্য, আসার সুযোগ পান না। সম্মেলনে আসলেও তখন দেখা করারও সুযোগ পান না। লোকসংখ্যা আমাদের এত বেশি হয়েছে যে, সংকুলান করা কষ্ট। কোনো জায়গায়ই সম্মেলন দিয়ে আমরা আশেকে রাসুলদের জায়গা দিতে পারি না। ফলে আমরা সম্মেলনকে ভাগ করে ১১টা দরবারে করেছিলাম। এই ১১টা দরবারেই সম্মেলন হয়। আপনারা নিয়মিত জলসা, মাহফিল ইত্যাদি অনুষ্ঠান আমাদের দেওয়া নিয়ম অনুযায়ী করে যাবেন।
মানত আদায়ের গুরুত্ব সম্পর্কে সূফী সম্রাট দেওয়ানবাগী বলেন, মানুষের সমস্য নিয়ে আমার কাছে আসলে আমি মানতের কথা বলে দেই। এই বিপদের জন্য এই মানত করেন, আল্লাহ দয়া করে মাফ করলে পরে মানত দরবারে এসে আদায় করবেন। কিন্তু কেউ কেউ দরবারে মানত না দিয়ে, যাকে পায় তার কাছেই মানত দিয়ে দেয়। মানত যদি আমার কাছে না পৌঁছায়, আপনারা যে মানত করলেন, উপরকার পেলেন এই বিপদটা তো আবার আপনার ঘাড়ে চাপবে। সুতরাং কারো কাছে মানত আদায় না করে সরাসরি দরবারে আমাদের ঠিকানায় মানত পাঠাবেন অথবা নিজে এসে মানত দিয়ে যাবেন। অন্য কারো কাছে মানত দিবেন না। দিলে মানত আদায় হবে না।
তিনি বলেন, এই মানতের সিস্টেম হযরত রাসুল (সা.)-এর যুগে ছিল, হযরত ইব্রাহিম (আ.)-এর যুগেও ছিল, অন্যান্য নবি-রাসুলদের যুগেও ছিল। আমাদের দরবারে এই মানতের সিস্টেম আছে। তবে মানত করলে মানতটা উপকার হলে আমাদের এখানে আদায় করতে হয়। আপনারা চেষ্টা করবেন হযরত রাসুল (সা.)-এর বিধান মোতাবেক নিজেকে পরিচালিত করতে। আমার মোর্শেদ আমাকে এই শিক্ষাটিই দিয়েছেন। এই শিক্ষার জন্য আমাকে এক যুগ অর্থাৎ ১২ বছর মোর্শেদের দরবারে গোলামি করতে হয়েছিল এবং দরবারের যাবতীয় কাজকর্ম আমাকে শিখতে হয়েছে। মোর্শেদ ওফাত লাভ করার পূর্বে তিনি দরবার চালানোর দায়িত্ব, পরিবারবর্গকে চালানোর দায়িত্ব এবং মুরিদদের দেখাশোনার দায়িত্ব আমার উপরে দিয়ে যান। কিছু লোক হিংসা করে তখন আমার বিরুদ্ধে প্রোপাগান্ডা শুরু করে। আমি সেখানে ১ বছর ছিলাম, চেষ্টা করেছি দরবার চালাতে কিন্তু কিছু বিপথগামী লোকজন চক্রান্ত করে ফেতনা করতে চেষ্টা করেছে। ফলে আমি ঐখান থেকে ঢাকায় চলে আসি, এসে স্বাধীনমতো ধর্ম প্রচার করছি। আমি হযরত রাসুল (সা.)-এর ধর্ম মোহাম্মদী ইসলাম প্রচার করছি, আশুরার অনুষ্ঠান প্রচলন করেছি, ঈদে মিল্লাদুন্নবী (সা.) প্রচলন করেছি। আল্লাহর রাসুল (সা.)-এর ধর্ম প্রচার করতে গিয়েই ধর্মের কুসংস্কার দূর করে সংস্কার করেছি। আমি অধিকাংশ সংস্কার ঢাকায় এসে করেছি, এখনও সংস্কার কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছি। এই সংস্কারের ফলে মানুষ সত্যিকার ধর্ম সম্পর্কে জানতে পারছে। আমরা জানতাম যে, আল্লাহ নিরাকার। দুনিয়াতে আল্লাহকে দেখা যায় না। আমি ‘তাফসীরে সূফী সম্রাট দেওয়ানবাগী’ ৮ খণ্ড লিখে প্রমাণ করেছি- আল্লাহ নিরাকার নন, আল্লাহর আকার আছে। আল্লাহ কখনো নিরাকার ছিলেন না, তা আমি পবিত্র কুরআন ও হাদিসের দ্বারা প্রমাণ করেছি। আমার এই সংস্কারের বিপক্ষে আজ পর্যন্ত কোনো হুজুর একটা টু শব্দ করতে পারেনি। এত যে জিহাদ করে অথচ আমার লেখার বিরুদ্ধে কারও কোনো অভিযোগ নেই। আর অভিযোগ দিবে কী! আমিতো সব পবিত্র কুরআন ও হাদিস দিয়ে প্রমাণ করেছি।
রাহমাতুল্লিল আলামিন হযরত রাসুল (সা.)-এর শান ও মান সম্পর্কে বলতে গিয়ে সূফী সম্রাট দেওয়ানবাগী বলেন, হযরত রাসুল (সা.) গরিব ছিলেন, ৭০ তালি জামা পড়তেন, এইগুলো আমাদের মুসলিম সমাজের ধারণা ছিল। আমি প্রমাণ করেছি হযরত রাসুল (সা.) ধনীর ধনী, বাদশা ছিলেন। হযরত মা খাদিজাতুল কোবরা (রা.)-কে বিয়ে করার পরে তাঁর যাবতীয় সম্পত্তি হযরত রাসুল (সা.)-কে অর্পণ করে দিয়ে বলেন- এখন থেকে আমার সম্পত্তির মালিক আপনি। আপনি ইচ্ছা করলে রাখতে পারেন, বা বিক্রি করতে পারেন, তা আপনার ইচ্ছা। হযরত রাসুল (সা.), হযরত খাদিজা (রা.)-এর সম্পত্তি পেয়ে আরবের সেরা ধনী হলেন। আর পৈত্রিক সম্পত্তিতেও হযরত রাসুল (সা.) ধনী ছিলেন, তাঁর দাদা মক্কার শাসনকর্তা ছিলেন। আল্লাহর হুকুমে হযরত রাসুল (সা.) মক্কা থেকে মদীনায় হিজরত করেন। মদীনা হযরত রাসুল (সা.)-এর বাড়ি না, হিজরতের জায়গা। হিজরত করে মদীনায় গিয়ে আল্লাহর রাসুল (সা.) সেখানে অবস্থান করলেন। কিন্তু মক্কার কাফেরের দল মদীনায় গিয়ে রাসুলের (সা.) উপরে বারবার আক্রমণ করেছে। কাফেররা হযরত রাসুল (সা.)-এর সাথে অনেকগুলো যুদ্ধ করেছে। প্রতিটা যুদ্ধে কাফেরেরা হযরত রাসুল (সা.)-কে হত্যা করতে চেষ্টা করছে। ওহুদের যুদ্ধে তারা হযরত রাসুল (সা.)-এর উপর পাথর মেরে তাঁর দান্দান মোবারক শহিদ করেছে। আমাদের মিলাদের ক্যাসেটটিতে আপনারা দেখতে পারবেন সেই দান্দান মোবারক, মদীনায় হযরত রাসুল (সা.)-এর রওজা শরীফ, মদীনায় রাসুলের স্মৃতিবিজড়িত স্থানগুলো। শুধু তাই নয়, হযরত রাসুল যে প্লেটে খেতেন আমরা সেগুলোও দেখিয়েছি এবং আল্লাহর রাসুলের জামা মোবারকও দেখিয়েছি। এগুলোই প্রমাণ করে যে, তিনি গরিব ছিলেন না, তিনি ধনী ছিলেন। তিনি মদীনার শাসনকর্তা ছিলেন। একজন শাসনকর্তা কি ৭০ তালির জামা পড়তে পারে? এটা হযরত রাসুল (সা.)-কে ছোটো করা, হেয় করার পরিকল্পনা। এটা ছিল ইহুদি এবং খ্রিষ্টানদের পরিকল্পনা ও চক্রান্ত।
সূফী সম্রাট দেওয়ানবাগী বলেন, হযরত রাসুল (সা.) ধনী ছিলেন, এই বিষয়টি নিয়ে আমি কিতাব লিখেছি, প্রমাণ করেছি, দলিল প্রমাণ দিয়ে। এছাড়া হযরত রাসুল (সা.)-এর ধর্মটা তাঁর নাম অনুসারে মোহাম্মদী ইসলাম হবে আমি তা প্রমাণ করে দিয়েছি। হযরত ইব্রাহিম (আ.)-এর নাম অনুযায়ী তাঁর ধর্মের নাম ছিল ইব্রাহিমী ইসলাম। হযরত মুসা (আ.)-এর প্রচারিত ধর্ম ছিল মুসায়ী ইসলাম। হযরত ঈসা (আ.)-এর প্রচারিত ধর্ম ছিল ঈসায়ী ইসলাম। হযরত রাসুল (সা.)-এর নাম মোহাম্মদ, সুতরাং তাঁর প্রচারিত ধর্ম তো মোহাম্মদী ইসলামই হবে। আমি যখন মোহাম্মদী ইসলাম প্রচার করি, তখন হুজুরেরা আমার বিরুদ্ধে জিহাদ, মিছিল, জ্বালিয়ে দাও, পুড়িয়ে দাও এগুলো করে প্রোপাগান্ডা সৃষ্টি করেছিল। তাদের বুঝতে হবে যে, মোহাম্মদ কি আমার নাম? আমি আমার রাসুলের নাম বলব, এটা হুজুরদের সহ্য হয় না। তাহলে আমি কি হুজুরদের ইসলাম করব, না আল্লাহর রাসুলের ইসলাম করব? সুতরাং এই মোহাম্মদী ইসলাম আজ সারা বিশ্বে প্রচার হচ্ছে। মানুষ দলে দলে তা গ্রহণ করছে। লোকসংখ্যা এত বেশি হচ্ছে যে, আমি কোথাও একত্রিত করে সম্মেলন করার স্থান করতে পারি না। ফলে ভাগ করে করে আমরা এই কাজ চালাচ্ছি।
সূফী সম্রাট দেওয়ানবাগী বলেন, এরমধ্যে একের পর এক কিছু কিছু স্বার্থান্বেষী মহল চেষ্টা করে দরবারের বিপক্ষে অবস্থান নিতে। আমি তাদেরে তোষামোদ করি না। যদি আমি তাদের ভুল দেখি, তাদের উল্টা-পাল্টা কাজ দেখি, তখন আমি নিজেই তাদেরকে দরবার থেকে বের করে দেই। এই ‘সাঈদুর’ আমি তাকে কোনো দিন মহাসচিব বানাইনি। মহাসচিবতো সে নিজে নিজে লিখেছে। সাঈদুরের সার্টিফিকেট দেখেন কোনো জায়গায় সাঈদুর রহমান আল মাহবুবী আছে নাকি? আমার নাম মাহবুব। আমার ছেলেরা হবে-‘আল মাহবুবী’। অথচ সে নিজের নামের পরে মাহবুবী লিখেছে। এটা জালিয়াতি না? তার সমস্ত কাজকর্ম মনগড়া, সে নিজে নিজে মহাসচিব হয়েছে। আমার পত্রিকাগুলো সে জালিয়াতি করে আমার নাম ব্লেড দিয়ে উঠিয়ে ঐখানে তার নাম বসিয়েছে। আমার লিখিত কিতাব সে তার নামে নিয়ে গেছে। আমার মেজো মেয়ে পিএইচ.ডি করেছে, তার থিসিসের বইটির আইএসবিএন-এর নাম্বার নিতে গিয়ে তার নাম বসিয়ে দিয়েছে। জালিয়াতিরতো একটা ক্লাস আছে! এটা কোন ক্লাসের জালিয়াতি!
সূফী সম্রাট দেওয়ানবাগী বলেন, আমার মোট ১১টি দরবার শরীফ রয়েছে। আমার ছেলেরা ছোটো ছিল, আমাকে অনেক বেশি কাজ করতে হয়েছে, ফলে ১১টা দরবার চালানোতো সহজ নয়। এই দরবারগুলো চালাতে গিয়ে আমি আমার দরবার থেকে হুজুর পাঠিয়ে সাপ্তাহিক জলসা করাতাম, মাহফিল করাতাম, দরবারগুলো চালাতাম। এরপরে ত্রিশাল দরবার, এটা ছিল আরেক পির সাহেবের দরবার। তার নাম আনসার উদ্দিন চিশতী পির সাহেব। তিনি স্বপ্নে দেখে আমার এখানে এসে মুরিদ হয়েছেন। এরপর তিনি আমাকে বারবার অনুরোধ করেছেন যে, আমার দরবার শরীফটা দয়া করে আপনি নেন। আমি বললাম, আমার দরবারইতো আমি চালাতে পারি না। আপনার দরবার চালাবো কিভাবে? তখন সে বারবার অনুরোধ করার পরে একবার আমি ঐখানে গেলাম স্থানটা দেখার জন্য। এটা ময়মনসিংহ জেলার ত্রিশাল থানায় অবস্থিত। ময়মনসিংহটা অনেক বড়ো জেলা ছিল।
ঐ দরবারটা দেখে আমার পছন্দ হয়। তখন আনছার উদ্দিন চিশতি ঐ দরবারটি আমাকে লিখে দিলেন। এরপরে আমি আস্তে আস্তে বিভিন্ন দরবারের সাথে এই দরবারটাও চালু করলাম। ঐখানে আমি নিজেই যেতাম।
সূফী সম্রাট দেওয়ানবাগী বলেন, ঐ এলাকার অধিকাংশই লোকই লা-মাজহাবি, এরা কোনো মাজহাব মানে না। পিরের তো প্রশ্নই আসে না। এর মধ্যে আমার শাশুড়ি আম্মা আমার বাসায় ইন্তেকাল করেন। তখন তাঁকে ঐ দরবারে রওজা শরীফে রাখলাম। তখন এলাকার মধ্যে সমালোচনার ঝড়। তারা বলে- মেয়ে লোকের আবার মাজার হয় নাকি? তখন আমাকে পরপর কয়েকবার যেতে হয়েছে। আমি গিয়ে তখন আলোচনা করেছি, তাদেরকে বুঝিয়েছি। তখন অতীতের মহিলা আউলিয়া কেরামের কথা বলেছি। আর বলেছি বর্তমানেও দেখেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী একজন নারী। আপনারা কি তাকে মানেন না? যদি একজন নারী অলী-আল্লাহ হয়, তাকে কি মানবেন না? বুঝিায়ে বলার পরে মানুষের বুঝ হয়েছে। তখন এলাকার লোক আস্তে আস্তে দরবারে আসতে শুরু করেছে।
তিনি বলেন, হযরত বড় মা (রহ.)-এর রওজা থেকে খোশ ঘ্রাণ বের হয়। ত্রিশাল এলাকার লোকজন রাস্তায় আসলেই বলে- এই ঘ্রাণটা কোথা হতে আসে? পরে আমি যখন ব্যাখ্যা করে বুঝিায়েছি এটা কিসের ঘ্রাণ। তখন কিছু কিছু লোকের বিশ্বাস হয়েছে, তবে আমি বলে আসছি আপনারা যদি কোনো বিপদে পড়েন, এই রওজা শরীফে মানত করলে উপকার হবে। যদি উপকার না হয়, আমি তো জীবিত, আমাকে ধরেন। আমি দেখবো কী হয়। রাব্বুল আলামিনের দয়ায় মানুষ উপকার পাচ্ছে। এখন দলে দলে লোক ঐখানে ছুটছে। এগুলো দেখে সাইদুরের লোভ হয়েছে যে, এই দরবারটা সে দখল করবে। দখল করতে গিয়ে আমার নামে এক একর পনেরো শতক দলিল করা জায়গা সে তার নামে জাল দলিল করেছে। সে এখন এটার দাবীদার! আমি যদি কেইস করি, তখন তো সত্য ঘটনা বের হবে।
সূফী সম্রাট দেওয়ানবাগী বলেন, এই রকম জালিয়াত! আমার এখানে বসে থাকতো, আর মানুষের মানতের টাকা চুরি করত। যারা বিভিন্ন অনুষ্ঠানে টাকা পয়সা শরিক হতো, এগুলো চুরি করে সে কোটি কোটি টাকা বানিয়েছে। পাঁচ ছয়টা বাড়ি করেছে, আর পেট্রোল পাম্প করেছে এবং আরও জায়গা-জমি খরিদ করেছে। আমি মাসে সাঈদুরকে ৭০ হাজার টাকা বেতন দিতাম। সে চুরি না করে আমাকে বললে আমি বেতন বাড়িয়ে দিতাম। আমিতো ওকে রেখেছি কর্মচারী হিসেবে। সে নিজে নিজে ‘পির’ হয়ে যেতে চায়। যেহেতু আমার এগারোটা দরবার। প্রতিটা দরবারের ভিন্ন ভিন্ন নাম দিয়ে দেওয়ানবাগ শরীফ করেছি। ত্রিশাল দরবারের নাম দিয়েছি ‘বাবে বরকত দেওয়ানবাগ শরীফ’। সাঈদুর রহমান বলে, এটা তার ছেলের নামে দিয়েছি। আমার ছেলেদের নামে আমি কোনো দরবার দেইনি। তার ছেলের নামে দরবার দেবো কেন, কোন হিসেবে?
সূফী সম্রাট দেওয়ানবাগী বলেন, আমার এখানে তাকে ৭০ হাজার টাকা দেওয়ার পরেও তার ছেলেদের লেখাপড়া এবং এদের চলাফেরার জন্য গাড়ি আর চিকিৎসার খরচ, সবকিছু আমিই দিয়েছি। আমার যখন অসুখ হলো, তখন সে অসুস্থতার সুযোগে হসপিটাল থেকে বলেছে যে, আমার বাবার আজকে এই অবস্থা। আপনারা এগুলো বলতে শুনেছেন না? আমি অসুস্থ অথচ সে ঐখানে লেকচার দিচ্ছে। এটি ছিল তার কৌশল, অর্থাৎ সে জাকেরদের তার কাছে ভিড়ার জন্য কৌশল করেছিল। আমাকে যখন হসপিটালে অক্সিজেন দিয়ে রেখেছে, সে ইচ্ছাকৃতভাবে আমার মুখ থেকে অক্সিজেন মাস্ক খুলে দিয়েছিল, যেন আমি মারা যাই। সেই সময় সে প্রকাশ্যে জাকেরদেরকে বলতো- উপর থেকে আমরা জানতে পেরেছি যে, ওনার আর সময় নাই, ওনি মারা যাবেন। আর জাহেরিতে এই কাজ করেছে। সে যে কতো বড়ো খারাপ, এটা বলার ভাষা নেই। আমি তাকে তাড়িয়ে দিয়েছি। সাঈদুরের হাত থেকে আপনারা মুক্ত থাকেন, আপনারা বাঁচেন। সে বিপথগামী।
সূফী সম্রাট দেওয়ানবাগী বলেন, আমার স্ত্রীর মৃত্যুর পরে জাকের মহিলাদের ক্বালব দেখানোর জন্য আমার মেয়েটাকে বলেছিলাম। তখন সে জাকের মহিলাদের ক্বালব দেখাতো, আর যাদের দেখানোর সুযোগ ছিল না, পুরুষ জাকেরদেরকে বলে দিয়েছি- আপনারা আপনাদের নিজের স্ত্রীকে ক্বালবের স্থানটা দেখিয়ে দিবেন। আর আমার কথা বলবেন, আমার হুকুমে জিকির চালু হবে। এইভাবেই আমাকে তরিকা চালাতে হয়েছে। কিন্তু এখন অবস্থা এমন হয়েছে, একেকজন একেক জায়গায় হুজুর সাজতে চায়। চুরি বাটপারি করে কি ধর্ম শিক্ষা করা যায়?
আমি সাইদুরের সামনেই বলে দিয়েছি সাইদুর বিপথগামী। যারা তার সাথে চলবে, তারাও বিপথগামী। আমার বড়ো মেয়েকেও বলে দিয়েছি- তুমিও বিপথগামী। আপনারা এদের কথা বিশ্বাস করবেন না। যে সমস্ত মহিলাদেরকে আমার বড়ো মেয়ে অর্থাৎ সাইদুরের স্ত্রী ক্বালব দেখিয়েছে, আমার নামেই ক্বালব দেখিয়েছে। সুতরাং আপনারাতো এদের মুরিদ না। এদের কথা শুনলে আপনারাও বিপথগামী হবেন। দরবারের সাথে খোলা মনে যোগাযোগ করবেন।
সূফী সম্রাট দেওয়ানবাগী বলেন, আমি আমার চার ছেলেকেই দায়িত্ব দিয়েছি। আর নেতৃত্ব দেওয়ার জন্য মেজো ছেলেটাকে বলেছি যে, তুমি এগিয়ে যাও, আমি তোমার সাথে আছি। আমি যা আপনাদের সামনে বলতেছি, বুঝা যায় কি আমি অসুস্থ? আমি কি এখন অসুস্থ? সাঈদুর রহমান প্রচার করছে আমি অসুস্থ। সাঈদুর অপপ্রচার করে, আমার ছেলেরা নাকি পিস্তল ধরে, বন্দুক ধরে আমাকে যা বলতে বলে, আমি তাই বলি। এখন দেখেনতো আমার চারপাশে ছেলেরা কি বন্দুক ধরে রেখেছে? সাঈদুর রহমান ভন্ড, প্রতারক, ধোকাবাজ, মিথ্যাবাদী। তার কথা আপনারা শুনবেন না।
পরিশেষে তিনি সকল আশেকে রাসুলকে আগামী আশুরার জন্য প্রস্তুতি নেওয়ার আহ্বান জানান। অন্যান্য বৎসর যেভাবে প্রস্তুতি নিতেন, ঐভাবেই প্রত্যেক এলাকায় আশুরার প্রস্তুতি এবং দরবার শরীফের সাথে যোগাযোগ রেখে কাজ করার আহ্বান জানান।
বাদ জুমা সূফী সম্রাট হুজুর কেবলাজান ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে আয়োজিত সাপ্তাহিক আশেকে রাসুল (সা.) মাহফিলে আশেকে রাসুলদের উদ্দেশে বাণী মোবারক প্রদান করে আখেরী মুনাজাত পরিচালনা করেন।
মাহফিলে মহান সংস্কারক, সূফী সম্রাট হুজুর কেবলাজানের মঞ্চে তাশরিফ আনার পূর্বে মিলাদ মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়। মিলাদ মাহফিল শেষে পবিত্র আশুরার দিক নির্দেশনা সম্পর্কে বক্তব্য রাখেন, মেজো সাহেবজাদা ইমাম ড. আরসাম কুদরত এ খোদা (মা. আ.)।
তাছাড়া অনুষ্ঠানটির উপস্থাপনা ও সার্বিক দায়িত্বে নিয়োজিত ছিলেন- সূফী সম্রাট হুজুর কেবলাজানের মেজো সাহেবজাদা ইমাম ড. আরসাম কুদরত এ খোদা (মা. আ.)।

1 COMMENT

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here