আশুরা আল্লাহর অভিষেকের দিন

3
713

সূফী সম্রাট দেওয়ানবাগী
বিশেষ সংবাদদাতা: মহান সংস্কারক মোহাম্মদী ইসলামের পুনর্জীবনদানকারী সূফী সম্রাট হযরত সৈয়দ মাহবুব-এ-খোদা দেওয়ানবাগী (মা. আ.) হুজুর কেবলাজান বলেন, এ মাসের শেষের দিকে পবিত্র আশুরা। এই আশুরার দিনেই আল্লাহ জগত সৃষ্টি করেছিলেন এবং আরশে সমাসীন হয়ে বলেছিলেন, “আমি কী তোমাদের প্রভু নই?” তখন সকল সৃষ্টি সমস্বরে জবাব দিয়ে বলেছিলো, “নিশ্চয়ই আপনি আমাদের প্রভু।”

তিনি গত ৭ আগস্ট, শুক্রবার রাজধানী ঢাকার মতিঝিলের আরামবাগস্থ বাবে রহমত দেওয়ানবাগ শরীফে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে আয়োজিত ‘আল্লাহর দেওয়া পুরস্কার: পূর্ণিমার চাঁদে বাবা দেওয়ানবাগীর জীবন্ত প্রতিচ্ছবি’’ উপলক্ষ্যে মাসিক আশেকে রাসুল (সা.) মাহ্ফিলে হাজার হাজার আশেকে রাসুলদের উদ্দেশে বাণী মোবারক দিচ্ছিলেন।

গত ৭ আগস্ট শুক্রবার ‘আল্লাহর দেওয়া পুরষ্কার: পূর্ণিমার চাঁদে বাবা দেওয়ানবাগীর জীবন্ত প্রতিচ্ছবি’ উপলক্ষ্যে বাবে রহমত দেওয়ানবাগ শরীফে সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে আশেকে রাসুলগণ সালাতুশ শোকর নামাজ আদায় করছেন।

সূফী সম্রাট দেওয়ানবাগী বলেন, এ দিনটা আমরা অন্যান্য বছর ব্যাপক প্রচার করে ঢাকাতে পালন করতাম। এই বছর যেহেতু সরকারী ছুটি আছে, সেহেতু এই দিনটা আমরা পালন করবো, যে যেখানে আছি সেখান থেকে। আজকের অনুষ্ঠানটা যেভাবে পালন করছি আমরা, এভাবেই পালন করবো। আপনারা বিদেশে যারা আছেন, আপনারাও প্রত্যেকে খানকাহ শরীফে বসে অনুষ্ঠানটা পালন করবেন। যাদের নিকটস্থ খানকাহ শরীফ নেই, তারা নিজ নিজ বাড়িতে এই দিনটা পালন করবেন।

সূফী সম্রাট দেওয়ানবাগী বলেন, আমরা এ অনুষ্ঠানটা করবো, তবে সিস্টেমটা চেইঞ্জ করে। যেমন অনলাইনের মাধ্যমে এখন আমি কথা বলছি, আপনারা আমাকে দেখছেন, আমিও আপনাদেরকে দেখছি, এভাবেই এই অনুষ্ঠানটা পালন করবো। আমরা করোনা মহামারির কারণে কিছু করতে পারছি না। এটা আমার মেজো ছেলে, ছোটো ছেলে ওরা মিলেই এই সিস্টেমটা চালু করেছে। ছেলেরা তো আপনাদের সাথে সবসময়ই যোগাযোগ রাখে। কখন কোথায় কার সমস্যা আছে, আমার কাছে এগুলো জানায়। আমাদের নিয়ম মতই কাজ করতে হবে। আশুরার সম্মেলনটা আমরা করবো, তবে চেষ্টা করবো জগতজুড়ে যেন অনুষ্ঠানটা পালন করা যায়। আপনারা যার যার এলাকায় পুরোপুরিভাবে প্রচার করেন অনুষ্ঠানটা করতে।

তিনি বলেন, আপনারা জানেন যে, নিয়মিত দরবার শরীফে আসতে না পারলে মনে কি কষ্ট। আপনাদের যেমন সবার মনে কষ্ট, আমি যে আপনাদেরকে সামনা সামনি দেখতে পারি না, তার জন্য আমারো কষ্ট হয়। আমি তো সারাদিন ঘরের ভিতরেই বসে থাকি। করোনা পরিস্থিতির কারণে আমরা এই নিয়ম মেনে চলছি। সরকারীভাবে সরকার যে বিধি বিধান দিয়েছে, আমরা সেভাবে কাজ করি। আপনারাও সরকারী নিয়ম মেনে তরিকার কাজ করে যান।

সূফী সম্রাট দেওয়ানবাগী বলেন, এই সমস্যা যে কবে দূর হবে, সেটা আল্লাহই ভালো জানেন। এটা তো একটা দেশে নয়, সমগ্র বিশ্বজুড়ে চলছে। বিশ্বজুড়ে হওয়ার কারণে সরাসরি যোগাযোগ করা কঠিন হয়ে পড়েছে। আপনারা সদা সর্বদা তরিকার কাজ করবেন, নিয়মিত তরিকার আমল করবেন এবং মোরাকাবা করবেন। আমি বলছি, এই মহামারি থেকে নিরাপদে থাকার জন্যে আপনারা নিজ নিজ বাড়িতে সকাল সন্ধ্যা মিলাদ পড়েন, আর একটা মানত করে রাখেন। আল্লাহ যেন এই গজবটা আপনাদের এখানে না দেন। গজবের বিপরীত হলো রহমত। মহান আল্লাহ ফরমান- রাহমাতুল্লিল আলামিন হযরত রাসুল (সা.)-কে জগতসমূহের রহমত হিসেবে পাঠানো হয়েছে। এই গজবের জবাব দিতে হলে দোয়া দরূদ দিয়ে হবে না, রাহমাতুল্লিল আলামিনের দয়ায় সেই গজব দূরীভুত হবে। তবে আমাদের জাকেরেরা যারা দেশে বিদেশে আছেন, মহান রাব্বুল আলামিনের অসীম দয়ায় কেউই এই গজবে ক্ষতিগ্রস্থ হয়নি।

সূফী সম্রাট দেওয়ানবাগী বলেন, নিয়মিত ফোনের মাধ্যমে দরবার শরীফে যোগাযোগ রাখবেন, কখন কি হচ্ছে এটা জেনে নিবেন। সাম্প্রতিককালে কিছু ফেতনা ফ্যাসাদ সৃষ্টি হয়েছিলো। আপনারা দরবারে যোগাযোগ রেখে ঐ ফেতনাকারীদের হাত থেকে নিজেদেরকে মুক্ত রাখবেন। এই ফেতনাকারীদেরকে আমি দরবার থেকে বের করে দিয়েছি। তারা ভুল কাজ করেছে, অন্যায় আচরণ করেছে, এইজন্য তাদেরকে বের করে দেওয়া হয়েছে। ষড়যন্ত্র করে এরা আমার দরবারটাকে ভাঙ্গার চেষ্টা করেছে। যেমন আমি একটা দরবার (বাবে বরকত) পরিচালনা করার জন্য এদের দায়িত্ব দিয়েছিলাম।

সূফী সম্রাট দেওয়ানবাগী বলেন, আমার ১১টা দরবার শরীফ রয়েছে। সেন্ট্রাল দরবার হচ্ছে দেওয়ানবাগ দরবার শরীফ। এই ১১টা দরবারেই আমি আমার তরিকা চালু রেখেছি এবং প্রত্যেক দরবার চালানোর জন্য দরবার থেকে লোক দিয়েছি। তারাই আমার নির্দেশ মতো দরবার চালাচ্ছে। এখন একটা গ্রুপ সাইদুর রহমান, তার ২ ছেলে ও তার স্ত্রীকে নিয়ে একটা চক্রান্ত শুরু করেছে। সেটা হচ্ছে, আমার বড়ো মেয়েকে আমার স্ত্রীর মৃত্যুর পরে দায়িত্ব দিয়েছিলাম মহিলাদের ক্বালব দেখাতে। পৃথিবীতে মহিলারা কোনো নবি হয়নি, কোনো রাসুল হয়নি। মহিলারা অলী-আল্লাহ হতে পারে কিন্তু হাদী শ্রেণীর অলী-আল্লাহ হয় না। ওদের প্রতারণাকে বাস্তবায়ন করার জন্য সাইদুর, আমার বড়ো মেয়েকে সামনে বাড়িয়ে দিয়ে তার পিছনে থেকে সে প্রতারণা করছে। তাই আমার মেয়েকেও দায়িত্ব থেকে বাদ দিয়েছি। সে যাদেরকে ক্বালব দেখিয়েছিল সেগুলো আমার নির্দেশেই দেখিয়েছিল।
তিনি বলেন, এরা তো কেউ পির নয়। পুরুষদেরকে বলে দেই, যার যার স্ত্রীকে স্বামী ক্বালব দেখিয়ে দিবে। কিন্তু তাই বলে স্বামী কি পির হয়? সুতরাং ক্বালব দেখালে কি সে পির হয়? এটা আমার কাজ চালানোর জন্য সুবিধা মতো আমি করে যাচ্ছি। অনেক মহিলাদেরকে আমার বড়ো মেয়ে ক্বালব দেখিয়েছে, আপনারা মনে করবেন না, সে আপনাদের পির। সে আপনাদের মতই জাকের। সুতরাং এর বেশি তাকে মানার কোনো সুযোগ নেই। সাইদুর ও তার পরিবারকে আমি ওপেন বলেছি, ওরা বিপথগামী, ওরা পথভ্রষ্ট।

সূফী সম্রাট দেওয়ানবাগী বলেন, আপনারা আপনাদের মোর্শেদের নির্দেশে চলবেন। আমি যা বলছি তা সরাসরি বলছি। কারো শিখানো কথা আমি বলছি না। আমি যে আপনাদের সামনে বলছি, আমার ছেলেরা কি আমাকে পরামর্শ দিচ্ছে? তাদের পরামর্শে আমি কি কথা বলছি? আমার ছেলেরা তো আমার দূরের কেউ নয়। সুতরাং যাকে যখন যে কাজের প্রয়োজনে দায়িত্ব দেই, সেটা কাজ করার জন্য। এখন বলছি মেজো হুজুরকে তুমি এখন এটা গুছাও। আর অন্য ছেলেদের বলছি তোমরা সহযোগীতা করো। অন্য ছেলেরা সহযোগীতা করছে, মেজো হুজুর এটা গুছাচ্ছে।


সূফী সম্রাট দেওয়ানবাগী বলেন, সাঈদুর আমার পত্রিকা গুলো ব্লেড দিয়ে আমার নামটা চেছে উঠিয়ে তার নাম বসিয়ে দিয়েছে। তার নাম বসিয়ে সে মালিক হয়ে গেছে। আমার মেজো মেয়ে থিসিস লিখে পিএইচডি করে যে বই বের করেছিল, সাঈদুর আমার মেজো মেয়ের নাম বাদ দিয়ে বইয়ে তার নাম বসিয়ে দিয়েছে। সে তো চোর। সাঈদুর চুরি করে দরবারের কোটি কোটি টাকা আত্মসাৎ করেছে। আপনারা কি এই চোরকে বিশ্বাস করবেন? আমি যখন জানতে পেরেছি, তখনই আমি দরবার থেকে তাকে তাড়িয়ে দিয়েছি।


সূফী সম্রাট দেওয়ানবাগী বলেন, নিয়মিত তরিকার কাজ করেন। আর দরবার শরীফের সাথে সব সময় যোগাযোগ রাখবেন। মনে রাখবেন, যেখানে সত্য, সেখানেই মিথ্যা। সত্যের বিরুদ্ধে মিথ্যা পাশাপাশি থাকে এবং প্রতারণা করে। হযরত রাসুল (সা.)-এর যুগেও মিথ্যাবাদীরা ধোঁকা দিয়েছে, প্রতারণা করেছে, সাহাবাদের ইমান নষ্ট করেছে। সুতরাং আপনারা প্রতারকদের পাল্লায় পড়বেন না, এদের কথা শুনবেন না। এরা কিছু বললে আমার সাথে যোগাযোগ করবেন। দরকার হয় সরাসরি আমার ছেলেদের মাধ্যমে যোগাযোগ করে বলবেন- আমার সাথে কথা বলিয়ে দিতে, তখন আমি কথা বলবো।

সূফী সম্রাট দেওয়ানবাগী বলেন, পরবর্তীতে যখন সুযোগ পান দরবারে আসবেন এবং নিয়মিত তরিকার কাজ করবেন। আর ১০ মহররম আমরা আশুরার সম্মেলন করবো। তখন আপনারা ধুমধামের সাথে ব্যাপক আকারে আশুরার প্রচার করবেন। নিজ নিজ এলাকায় প্রচার করবেন। আপনাদের প্রচারে যেন ঐদেশের মানুষ জানতে পারে, আশুরা কী? আশুরার গুরুত্ব কী? কেন এই আশুরা? এই ভুলগুলো ভাঙ্গিয়ে দিতে হবে এবং আমরা যে সংস্কারগুলো করেছি, এই সংস্কারগুলো মানুষকে বুঝিায়ে দিতে হবে। আসুন, মহান রাব্বুল আলামিনের সাহায্য চাই, তিনি যেন দয়া করে আমাদেরকে সাহায্য করেন।


বাদ জুমা সূফী সম্রাট হুজুর কেবলাজান ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে আয়োজিত ‘আল্লাহর দেওয়া পুরস্কার: পূর্ণিমার চাঁদে বাবা দেওয়ানবাগীর জীবন্ত প্রতিচ্ছবি’ উপলক্ষ্যে মাসিক আশেকে রাসুল (সা.) মাহ্ফিলে আশেকে রাসুলদের উদ্দেশে বাণী মোবারক প্রদান করে আখেরী মুনাজাত পরিচালনা করেন।

অনুষ্ঠান শুরুর পূর্বে সমস্ত আশেকে রাসুলদের পক্ষ থেকে সূফী সম্রাট হুজুর কেবলাজানকে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ করেন- কনিষ্ঠ সাহেবজাদা ইমাম ড. সৈয়দ এ.এফ.এম. মঞ্জুর-এ-খোদা (মা. আ.)।
অনুষ্ঠানটি উপস্থাপনা ও সার্বিক দায়িত্বে নিয়োজিত ছিলেন মেজো সাহেবজাদা ইমাম ড. আরসাম কুদরত এ খোদা (মা. আ.)।

3 COMMENTS

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here