ইবাদতের লক্ষ্য হতে হবে আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন- ইমাম ড. কুদরত এ খোদা

0
1481


মহান সংস্কারক সূফী সম্রাট হযরত সৈয়দ মাহবুব-এ-খোদা দেওয়ানবাগী (রহ.) হুজুর কেবলাজানের মেজো সাহেবজাদা, মোহাম্মদী ইসলামের নেতৃত্বদানকারী ইমাম ড. আরসাম কুদরত এ খোদা (মা. আ.) হুজুর বলেছেন, প্রতিটি মানুষের ইবাদতের মূল লক্ষ্য হতে হবে আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন। গত ১ অক্টোবর, শুক্রবার বাবে মদীনা দেওয়ানবাগ শরীফে সাপ্তাহিক আশেকে রাসুল (সা.) মাহফিলে দেওয়া বাণীতে দেওয়ানবাগ শরীফের পরিচালক, সমন্বয়ক ও সমস্যার ফয়সালাকারী ইমাম ড. কুদরত এ খোদা হুজুর এ কথা বলেন। আশেকে রাসুলদের জন্য তাঁর বাণীটি সংক্ষেপিত আকারে তুলে ধরা হলো:

আল্লাহর বন্ধু শাহ দেওয়ানবাগী (রহ.) এই মোহাম্মদী ইসলামকে নিজের সাজানো বাগানে পরিণত করেছেন। তিনি তাঁর অসিয়তে বলেছিলেন, এই মোহাম্মদী ইসলাম আমার সাজানো বাগান। আমি এই সাজানো বাগানকে নষ্ট করতে পারি না। বর্তমানে আমি এই বাগানের মালিক। আমি এই বাগানের ফুল চর্চা করি, মাটি গোছাই, পানি দেই, সূর্যের আলো ও তাপের ব্যবস্থা করি। আবার যদি বলি, বাগান বাদ দিয়ে দরবার। অনুষ্ঠানের উপস্থাপকরা আমাকে বলেছেন, মোহাম্মদী ইসলামের পরিচালক। এই শব্দগুলো শুনতে কানে অনেক ভালো লাগে। আমিত্বের শব্দতো? কানে খুব ভালো লাগে। আসলে শব্দটা পরিচালক নয়, শব্দটা পাহারাদার। দারোয়ানের চাকরি এটা। এখন দারোয়ান বললেতো খারাপ শোনা যায়, তাই সবাই বলে পরিচালক! নেতৃত্ব প্রদানকারী মহামানব! চাকরি কিন্তু দারোয়ানেরই। পাহারাদারের চাকরি। কাজ ওইটাই।

আমি এই মোহাম্মদি ইসলামের গোলাম। শাহ দেওয়ানবাগী (রহ.)-এর মনোনিত গোলাম। ভাইদের কাছে অনুরোধ করি, আমাকে অনেক বেশি সুপারলেটিভ ডিগ্রি দিবেন না। তরিকতে এই প্রশংসা মুরিদের ইমানকে ধ্বংস করে। প্রশংসার কারণে নিজের আমিত্ব, নিজের ঐশ্বর্য, নিজের অহংকার দিনে দিনে বৃদ্ধি পায়। আমিতো গোলাম মানুষ। পাহারাদারের চাকরি করি এখানে। গোলামি করি আল্লাহর বন্ধু শাহ দেওয়ানবাগী (রহ.)-এর। গোলামি করি রাহমাতুল্লিল আলামিন হযরত রাসুল (সা.)-এর। গোলামি করি রাব্বুল আলামিন দয়াল মাওলা দয়াল খোদার। যিনি আপনাকে-আমাকে সৃষ্টি করেছেন, যিনি পুরো বিশ্ব ব্রহ্মাণ্ড সৃষ্টি করেছেন। যার সন্তুষ্টি, যার কাছে নিজের দাসত্ব স্বীকার করি, যিনি আমাকে এই জগতে পাঠিয়েছেন।
আমার কথায় কষ্ট নিবেন না। আমি স্পষ্টবাদি মানুষ।

সম্মানিত আশেকে রাসুলেরা! প্রত্যেকটা মানুষের ইবাদতের মূল লক্ষ্য হতে হবে আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন। প্রত্যেকটা মানুষের ইবাদত এবং সকল কাজের মূল হচ্ছে আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন। দুনিয়াতে আমরা আসার পরে আলেম-ওলামাদের দ্বারা, জ্ঞানী-গুণীদের দ্বারা এবং মানুষের কথায় আমরা ইবাদতকে নিয়ে গিয়েছি জান্নাত পাবার আশায়, বেহেশত পাবার আশায়। তার মধ্য থেকে আমরা ইবাদতের মূল লক্ষ্য থেকে সরে গেছি। উদাহরণস্বরূপ বলা যায়, আমার কাছে একশ কোটি টাকা আছে। আমি যদি এই একশ কোটি টাকা ধারণ করে থাকি এবং আমি যদি বুঝতে পারি আপনি আমার সন্তুষ্টির জন্য প্রতিদিন কাজ করছেন; কিন্তু আপনার উদ্দেশ্য হলো আমার টাকা আত্মসাৎ করা বা আমার কাছ থেকে কিছু টাকা নেওয়া, তাহলে আমি কি আপনাকে ভাল জানবো? আপনি ভালো জানবেন? আল্লাহ তায়ালা হযরত আদম (আ.)-কে এই জগতের বুকে পাঠিয়ে বলেছেন, ইবাদত করো এবং আমার সন্তুষ্টি অর্জন করো। কিন্তু বান্দা দুনিয়ায় এসে ইবাদত করছে বেহেশতের হুর-পরির আশায়। ইবাদত করে বেহেশতের শরবত খাওয়ার আশায়। ইবাদত করে বেহেশতের ফল-ফলাদি খাওয়ার আশায়। অর্থাৎ ইবাদতের লক্ষ্য এবং উদ্দেশ্য থেকে সরে গেছে। আল্লাহ যদি বুঝতে পারেন, আপনি ইবাদত করেন ওই ৭০টি হুর-পরির আশায়, জান্নাতের নহর-পানের আশায়, বেহেশতের শরবতের আশায়; তাহলে আল্লাহ খুশি হবেন নাকি অসন্তুষ্ট হবেন? তাহলে ইবাদতের মূল লক্ষ্য ঠিক করতে হবে। আল্লাহ তায়ালা খুশি হয়ে জান্নাত দেবেন, কি দেবেন তাতো মালিকের ইচ্ছা।

পুরস্কারের লোভে আপনি যদি ইবাদত করেন, তাহলে আপনি মালিকের কাছ থেকে দূরে সরে যাবেন। তাই আগে নিজের ইবাদতের লক্ষ্য স্থির করতে হবে। আমাদের লক্ষ্য-উদ্দেশ্য কি? আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন। আমাদের গন্তব্য কোথায়? আল্লাহ রাব্বুল আলামিন। এখন বিষয় হচ্ছে, আমরা কি বাহনে যাবো সেই বাহন ঠিক করা। আমাদের বাহন কে? আল্লাহর বন্ধু শাহ দেওয়ানবাগী (রহ.)। আমাদেরকে গন্তব্যে পৌঁছাতে এই রাস্তাটা পার করাবে কে? আল্লাহর বন্ধু শাহ দেওয়ানবাগী। এইবার আসছি বাসের কথায়। এই যে বাসে উঠলেন, ড্রাইভারের ওপর ভরসা করতে হয়, বিশ্বাস করতে হয় যে ড্রাইভার আপনাকে গন্তব্যে পৌঁছে দেবেন। আপনাকে এক্সিডেন্ট করাবেন না। এখন কি বাসে উঠেই আপনি ড্রাইভারকে গিয়ে একটা চড় দিয়ে বলবেন, এই তোর ড্রাইভিং লাইসেন্সটা দেখাতো! তখন ড্রাইভার মনে মনে বলবে, দাড়া! তোকে দেখাচ্ছি! জোরে একটা ব্রেক করলে যখন উল্টে পড়বেন তখন টের পাবেন আমি ড্রাইভার কেমন। কি সত্য না মিথ্যা? বাসে উঠলে ড্রাইভারের ওপর আস্থা রাখতে হয়? বিশ্বাস রাখতে হয়? ধৈর্য ধরে নিয়ম মেনে বসতে হয়? বাসে উঠে যদি একটা দৌড় দেন তাহলে হবে, নাকি চুপচাপ বসতে হবে? আপনি বাসে বসে একটা চিৎকার দিলেন, ড্রাইভার পেছনে আপনার দিকে তাকালো, তখন সামনে আরেকটার সঙ্গে লাগিয়ে দিলো! তখন কি হবে? তাই বাসে উঠে ধৈর্য ধরে নির্দিষ্ট সময়ের জন্য অপেক্ষা করার পরে গন্তব্যে পৌঁছাতে পারবেন।

মোর্শেদের বেলায়ও একই নিয়ম। সবক নিলেন মানে বাসে উঠলেন। ওঠার পরে মোর্শেদের ওপর আস্থা রাখতে হয়। এই পাপের বোঝা পার করবে কে? এই তরী ওইপারে ভিড়াবে কে বলেন? আমাদেরকে হযরত রাসুল (সা.)-এর হাতে কে তুলে দেবেন? মোর্শেদ বাবা দেওয়ানবাগী (রহ.)। তাহলে সঠিক বাসে উঠলাম, ড্রাইভারের ওপর আস্থা রাখলাম এবং ড্রাইভারের গাড়ির ওপরেও আস্থা রাখতে হয়। এবার গন্তব্য ঠিক, জায়গা ঠিক, ঠিকানা যদি জানা থাকে এবং নিয়মতান্ত্রিকভাবে যদি যান তাহলে গন্তব্যে আপনি পৌঁছতে পারবেন। এবার মোর্শেদের গাড়িতে উঠলেন।

দরবার শরীফেরও কিছু নিয়ম আছে। তরিকার আমল করতে হবে; মোরাকাবা করতে হবে; সাধনা করতে হবে; নামাজ আদায় করতে হবে; ইসলামের সব নিয়ম পালন করতে হবে; নিজের রিপু যথা-কাম, ক্রোধ, মদ, লোভ, মোহ ও মাৎসর্য রিপুকে দমন করতে হবে; নিজেকে আদর্শ চরিত্রবান হতে হবে; নিজের মাঝে আল্লাহর অস্তিত্ব খুঁজে বের করতে হবে। এখন যদি এসব নিয়ম পালন না করেন, তাহলে কি আল্লাহ পর্যন্ত পৌঁছাতে পারবেন? শাহ দেওয়ানবাগীর কাজ স্কুল খোলা, সিলেবাস তৈরি করা, শিক্ষার ব্যবস্থা করা। আপনার কাজ ওই শিক্ষায় নিজেকে শিক্ষিত করা।

শিক্ষিত তো আমি করতে পারবো না। বর্তমানে, এই প্রতিষ্ঠানটা হলেন শাহ্ দেওয়ানবাগী (রহ.), কিন্তু গাড়ির চালকটা বর্তমানে আমি কুদরত এ খোদা। এখন আপনি যদি নিয়ম না মানেন, তাহলে আমি আপনাকে কিভাবে সাহায্য করতে পারি? আমি আপনাকে সাহায্য করতে চাই, আমি তো চাই না আমার একটা ভাই অন্ধকারে থাকুক। আমি তো চাই না আপনার মৃত্যুর পরে আপনি অন্ধকারের ওই কবরের মধ্যে থাকেন। আমি তো চাই না আপনার এতটা বছর আমার মোর্শেদকে দেওয়ার পরে, আমাকে দেওয়ার পরে আপনি ওই অন্ধকার কবরে আরো অন্ধকারে নিমজ্জিত থাকেন। আমিতো আপনাকে আলোকিত পথে আনতে চাই। আমিতো আপনাকে আপনার কবরকে অন্ধকার নয় আলোর পথ দেখাতে চাই। আমি আপনাকে আপনার ভিতরের কলুষতা থেকে আলোর পথে আনতে চাই। তবে আমি কিভাবে আনবো যদি আপনি আপনাকে পরিবর্তন না করেন? আপনি যদি নিজেকে পরিবর্তন না করেন, আমি কি পরিবর্তন করতে পারবো?

আমাদের অসুবিধাটা হলো, তরিকায় যদি স্কুলের মতো পরীক্ষা দেওয়ার সুযোগ থাকতো, আপনাকে পাশ ফেল করানোর সুযোগ থাকতো, তাহলে দেখা যেত কয়জন মুরিদ পাশ করতে পারে। তবে এই সাধনার রাস্তায় এভাবে পাশ-ফেল এর সুযোগ নাই। আল্লাহ তায়ালা পাশ ফেল এর সুযোগটা আপনার কাছে দিয়েছেন। আপনি যাতে নিজেই জানতে পারেন আপনি পাশ না ফেল। কিন্তু অন্য মানুষ তা জানতে পারে না। তাই আমরা সবাই সিনিয়র ভাই, জ্ঞানী ভাই, আলেম, বিজ্ঞজন সব সুপারলেটিভ ডিগ্রি লাগিয়ে আমরা আমাদেরকে যোগ্য প্রমাণের চেষ্টা করি। আল্লাহর কসম, সাবধান! যা না তা যদি আপনি প্রকাশ করেন, আপনি যেই রূপ নন সেই রূপ যদি প্রকাশ করেন, সাবধান! আপনি যা পারেন না, যদি বলেন আমি পারি, এতে শুধু আপনার ক্ষতি হয় না আপনার সাথে মোহাম্মদী ইসলামেরও ক্ষতি হয়।

আমি গত শনিবার দিন বাবে জান্নাতে যোহরের নামাজ আদায় করেছি। শুধু নারায়ণগঞ্জের প্রায় দুই আড়াই হাজার আশেকে রাসুল সেখানে একত্রিত হয়েছে। তারা আমার জন্য অনেক আয়োজন করতে চেয়েছে। বড় ফুলের গেইট, পুরো দরবারকে সাজাতে চেয়েছে। আমার জন্যে বিশাল স্টেজ করতে চেয়েছে। যখন আমার অনুমতি চেয়েছে আমি না করে দিয়েছি। এই মালা, এই গেইট, এই স্টেজ আমাকে সন্তুষ্টি দিতে পারে না। আপনি যদি আপনার ভিতরকে সজ্জিত করেন, সেটা সন্তুষ্টি দেয়। এই গেইট সাজানোর কি দরকার? আপনি আপনার ভিতরকে সাজান; আমি তো ওই সাজানোর দায়িত্বে আছি। আপনার ভিতরটা সাজানোর জন্য আছি।

একবার ভাবেন আপনার আত্মার সুরতের কথা। সেটা তো অনেক গন্ধ। আপনার আত্মাকে অনেক দিন আল্লাহর রহমতের ফায়েজ দিয়ে গোসল করাননি। ওইটাকে অনেক দিন পরিস্কার করেন না, মাথার চুল অনেক দিন আঁচরিয়ে দেননি। আপনার আত্মাটাকে একবার জিজ্ঞেস করেননি তুমি কেমন আছ? ভিতরের সুরতটিকে একবার দেখেন, দেখবেন ডাস্টবিনের চেয়ে বেশি গন্ধ সেখানে। ৩৫ বছর, ৪০ বছর, ৬০ বছর এর ময়লা পঁচা গন্ধ ভিতরে আছে যা থেকে এতো বেশি গন্ধ ছড়ায় যে কেউ সামনে দাঁড়াতে পারে না। ঐ ময়লা যদি আপনি পরিস্কার না করেন, আর শুধু চামড়ার উপরে পরিস্কার করেন, মাটির নিচে চামড়া গলে শেষ হয়ে যাবে কিন্তু ঐ গন্ধ রয়ে যাবে। সেই গন্ধ থেকে নিজেকে দূরীভূত করতে পারবেন না। যে মানব তার ভিতরকে আলোকিত করতে পারলো, যে মানব তার ভিতরকে ওই গন্ধ থেকে মুক্ত করতে পারলো, যে মানব তার মোর্শেদের নুরে মোহাম্মদীর নুর নিজের মাঝে ধারণ করে নিজের অন্তরকে আলোকিত করতে পারলো, ঐ মানবের মাটির নিচে আর গন্ধ নাই; কবর তার জন্যে আলোকিত। আর যিনি সমাজে বড়ো ডাক্তার, বড়ো ইঞ্জিনিয়ার, বড়ো শিক্ষক, বড়ো জ্ঞানী, বড়ো সম্পাদক, বড়ো উকিল, বড়ো আলেম, বড়ো সাংবাদিক, বড়ো বড়ো পেশায় দাড়িয়ে নিজেকে বুক ফুলিয়ে বললো- আমি এতো সম্মানী; কি লাভ? ভিতরটাতো ৬০ বছরের গন্ধে পরিপূর্ণ। গন্ধের কারণে আল্লাহ তায়ালা আপনার কাছে আসতে পারবেন না।

আমি আপনার ভিতরের গন্ধটাকে পরিষ্কার করতে চাই। এতো বছর মোর্শেদের গোলামি করেছি, এখনো তার গোলামি করছি। তবে একটু পার্থক্য আছে, মোর্শেদ আপনাদেরকে আমার কাছে আমানত হিসেবে দিয়ে গেছেন। আমি এই আমানত রক্ষা করার চেষ্টা করছি মাত্র। গোলাম আমি একই আছি এবং বাকি জীবনও গোলামি করে যাবো। আমি নেতা নই, আমি গোলাম মানুষ। আমি আপনাকে আলোর পথ দেখাতে এসেছি; যেই পথ আপনাকে আল্লাহকে পাওয়াবে। আমি আপনাকে মুক্তির পথ দেখাতে এসেছি; যেই পথে আপনি মুক্তি পাবেন।

মোর্শেদের প্রতি প্রেম, বিশ্বাস ও আস্থা থাকার কারণে এক আশেকে রাসুলের মুক্তির সুখবর দিয়ে ড. কুদরত এ খোদা (মা. আ.) হুজুর বলেন, এই জন্যইতো আমি বলি- বান্দা তত পাপ করতে পারে না, তার মালিক তাকে যত মাফ করতে পারে। আপনার জীবন, আপনার সন্তানের জীবন, তার সন্তানের জীবন যদি এক করেন, সকলের পাপকে যদি এক করেন, আমার মালিক আপনাকে এক নিমিষে ক্ষমা করতে পারেন। আমি ওই মালিকের গোলামি করি, যেই মালিক আপনাকে ক্ষমা করতে চান, যেই মালিক আপনাকে ক্ষমা করার জন্য অপেক্ষা করছেন। তিনি অপেক্ষা করছেন, কোথায় আমার বান্দা যে আমাকে ডেকে ডেকে বলবে- আমি ক্ষমা চাই, আমি ক্ষমা চাই, আমি ক্ষমা চাই। আপনি ডাকেন, আমার মালিক আপনাকে মাফ করবেন। আমি বিশ্বাস করি, দুনিয়ায় এমন কোনো পাপ নেই যেই পাপের জন্যে বান্দা যদি তার অশ্রুবিসর্জন দিয়ে মালিককে স্বরণ করে, আর ডেকে ডেকে বলে- আমি ক্ষমা চাই। আমি জানি তুমি আমার কুৎসিত চেহারা দেখবে না। তবে আমার মোর্শেদ শাহ দেওয়ানবাগীর নুরানিময় চেহারার দিকে তাকিয়ে এই কুৎসিত চেহারার মানুষকে তুমি মাফ করে দাও। আমি বিশ্বাস করি, আমার মালিক আপনাকে ক্ষমা করবেন ইনশাআল্লাহ।

সম্মানিত আশেকে রাসূলেরা! আমি আপনাকে মুক্তির বার্তা দিতে চাই। আপনার কাছে আল্লাহর সন্তুষ্টির বার্তা দিতে চাই। আমি আপনাকে চরিত্রবান হওয়ার বার্তা দিতে চাই। মনে রাখবেন, কোনো একক ব্যক্তি এককভাবে এই মোহাম্মদী ইসলামকে চালিয়ে নিতে পারবে না। আল্লাহর বন্ধু শাহ দেওয়ানবাগী আমাকে দায়িত্ব দিয়েছিলেন এই কারণে, তিনি জানতেন আমি আমার এই দায়িত্ব আপনাদের সবাইকে নিয়ে পালন করবো। তাই আমি আপনার কাছে সহযোগীতা চাই, আমার জন্য না আপনার জন্য আপনি নিজেকে পরিবর্তিত করেন। দুনিয়াতে কেউ জানে না আপনি কোন পাপে লিপ্ত; দুনিয়াতে কেউ জানে না আপনি কোথায় জুলুম করেছেন; কোথায় অন্যায় করেছেন; কোথায় অবিচার করেছেন; কার সাথে জিনা করেছেন; কার সম্পদ লুন্ঠন করেছেন; কাকে নির্যাতন করেছেন। কিন্ত আপনি জানেন আপনি কি কি অপরাধ করেছেন। আপনার চেয়ে আপনার অপরাধ আর কেউ বেশি জানে না। নিজের অপরাধগুলোকে স্মরণ করেন। স্মরণ করে মোরাকাবায় বসেন। চোখ বন্ধ করে ঐ পাপগুলোকে স্মরণ করে মোর্শেদের অসিলা ধরে আল্লাহর কাছে ক্ষমা চান। আল্লাহ যাতে আপনার পূর্বের কৃতকর্মগুলোকে মাফ করেন। তিনি যদি পূর্বের কৃতকর্মগুলোকে মাফ করে দেন তবে আপনি ইমানদারে পরিণত হবেন। আপনি বুঝবেন কিভাবে আপনি ক্ষমা পেয়েছেন। অনেকে বলবেন, আমিতো মোরাকাবায় অন্ধকার দেখি। কসম খোদার! এখন অন্ধকার দেখেন কারণ আপনি দশ মিনিটের মোরাকাবা করেন, পাঁচ মিনিটের মোরাকাবা করেন। দিনে একবার ৩০ মিনিটের মোরাকাবা করেন। দিনে যখন সময় পান রাত্রে ৩টায় হোক অথবা ঘুমানোর আগে অথবা সকালে ঘুম থেকে উঠে হোক; নীরব যখন থাকবে দুনিয়ার কেউ ডিস্ট্রাব করবে না, তখন একবার দিনে ৩০ মিনিটের মোরাকাবায় বসেন। নিজের পাপগুলোর জন্য মালিকের কাছে ক্ষমা চান। বিশ্বাস করেন, মৃত্যুর আগের দিনও যদি ক্ষমা চাওয়ার মতো চাইতে পারেন, আবশ্যই মালিককে আপনি ক্ষমাশীল পাবেন। অতএব এখন থেকেই নিজের পাপের জন্য নিজের অন্যায়ের জন্য নিজের অপরাধের জন্যে ক্ষমা প্রার্থনা করেন।

আমি আপনার শিক্ষক। আমি আপনাকে বলবো আপনি কিভাবে আল্লাহকে পাবেন। ভরসা করেন, আমি চাই আপনার ঐ কবরটা যাতে অন্ধকার না হয়। আমি চাই আপনি ঐ অন্ধকারে বসে হাহাকার না করেন। আপনাকে আলোকিত করতে চাই। আমাকে সহযোগীতা করেন। আপনি নিজেকে চরিত্রবান বানিয়ে আমাকে সহযোগীতা করুন।

নিজেকে জ্ঞানী মনে করবেন না। নিজেকে মুরুব্বি ভাবাপন্ন করবেন না। নিজেকে পাপি মনে করেন। নিজেকে পাপি মনে করতে হয় এই কারণে, আল্লাহর কাছে আপনি যতই পূণ্য করেন তা আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের জন্য পর্যাপ্ত নয়। ক্ষুদ্র মানুষ হয়ে আমরা যদি অহংকার করি, এটার কোনো যৌক্তিকতা আছে? সাধনার মধ্যে অন্ধকার দেখি আমরা, এটা কি কারণে জানেন? অহংকারের কারণে। আমিত্ব, অহংকার, ঐশ্বর্য মানুষের চোখের ওপর একটা কালো পর্দা ফেলে। যে কারণে মোরাকাবা শুরু করলে তাকিয়ে থাকে কিন্তু চোখে অন্ধকার দেখে।

চোখে ছানি পড়লে মানুষ অন্ধকার দেখে না? তেমনি আমিত্ব, অহংকার, ঐশ্বর্য অন্তরের চোখের ওপর ছানি ফেলে দিয়েছে। যতক্ষণ পর্যন্ত আমিত্ব দূর না হবে ততক্ষণ পর্যন্ত অন্তরের দৃষ্টির ঝাপসা পরিষ্কার হবে না। নিজেকে পরিষ্কার করতে হবে। আপনি যত বড়ো ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার, শিক্ষক, বড়ো পেশাদার, বড়ো উকিল, বড়ো আলেম, বড়ো সাংবাদিক যত বড়ো পেশায়ই যান, মালিকের কাছে আপনার এইটুকু মূল্যও নেই। এখন মোরাকাবায় বসে যখন মালিককে ডাকবেন, তখন কি নিজের আমিত্ব-অহংকার দেখিয়ে ডাকবেন নাকি নিজেকে নিকৃষ্ট হিসেবে উপস্থাপন করে ডাকবেন। আমিত্ব-সহ ডাকলেতো দেখতে পারবেন না, কারণ আমিত্বতো অন্ধকার। তখন অন্ধকারইতো দেখবেন। আর নিজেকে নিকৃষ্ট বানান, ন্যূনতম ৩০ মিনিটের মোরাকাবায় আসেন, যত বেশি সময় পারেন ভালো; মালিকের কাছে নিজের কৃতকর্মের জন্য ক্ষমা চান, দেখবেন মালিক আপনাকে ক্ষমা করছেন। আল্লাহর সামনে নিজেকে শ্রেষ্ঠ বানাবেন না; নিজেকে নিকৃষ্ট বানান। আল্লাহকে পাবেন। আর যদি নিজেকে শ্রেষ্ঠ বানান মালিকের কাছ থেকে দূরে সরে যাবেন। দুনিয়ার রাস্তা মালিকের থেকে দূরে সরায়। আর মালিকের রাস্তা দুনিয়াও দেবে, আখিরাতও দেবে।

নিজেকে নিকৃষ্ট ভাবলে নিজের মধ্যে পাপের অনুশোচনা হয়, নিজের পাপগুলোকে স্মরণ করলে সেগুলো থেকে ক্ষমা পাওয়ার জন্য মনটা ব্যাকুল হয়ে যায়। আপনার মনে হলো- আপনি একজনকে অন্যায়ভাবে চড় মেরেছিলেন। এখন মৃত্যুর আগে আপনাকে ক্ষমা পেতে হবে না? ক্ষমা পেতে হলে চাইতে হবে; চাইতে হলে ডাকতে হবে, ডাকতে হলে কাঁদতে হবে। মোরাকাবায় বসে ক্ষমা চান।

আশেকে রাসুলদের জন্য একটি সিলেবাস তৈরি করার চেষ্টা করছি। মোহাম্মদী ইসলামকে একটি প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়ার চেষ্টা করছি। যাতে মোহাম্মদী ইসলাম কেয়ামত পর্যন্ত আমরা ধরে রাখতে পারি। আল্লাহ আপনাদের হেফাজত করুন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here