ইমামত ও মোহাম্মদী ইসলাম

3
549

তাকী মোহাম্মদ জোবায়ের
‘ইমামত’ শব্দের আভিধানিক অর্থ হলো নেতৃত্ব বা পথপ্রদর্শন। কোনো জনসমষ্টির নেতৃত্বদানকারী ব্যক্তিকে আভিধানিক অর্থে ইমাম বলা হয়ে থাকে। কালামশাস্ত্রের পরিভাষায় ‘ইমামত’ হলো ইহলৌকিক ও পারলৌকিক সকল বিষয়ে মুসলিম জনগোষ্ঠী এবং ইসলামী সমাজের সর্বময় ও বিস্তৃত নেতৃত্ব প্রদান। এই ধরনের নেতৃত্ব শুধু মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে তাঁর বার্তাবাহকদের মাধ্যমে অনুমোদিত হয়। প্রকৃতপক্ষে যিনি এই মর্যাদার অধিকারী, তিনি আহকাম ও ইসলামের বর্ণনার ক্ষেত্রে সকল প্রকার ভুল-ভ্রান্তি থেকে সম্পূর্ণরূপে পবিত্র। তিনি সকল প্রকার পাপ পঙ্কিলতা থেকে মুক্ত, সম্পূর্ণ নিষ্পাপ। বস্তুত পবিত্র ইমামগণ নবুয়ত ও রিসালাত ব্যতীত মহান আল্লাহ্ কর্তৃক সর্বোচ্চ মর্যাদাপ্রাপ্ত। ধর্মের বিষয়ে ইমামগণের বক্তব্য নিঃশর্তভাবে গ্রহণ করা আবশ্যক।
আল্লাহ্ রাব্বুল আলামিন হযরত ইব্রাহিমকে (আ.)-কে নবুয়ত দান করার পর অত্যন্ত কঠিনতর সব পরীক্ষার সম্মুখীন করেছিলেন। সর্বোচ্চ ধৈর্য ও অসীম ত্যাগের মাধ্যমে সেসব পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হলে রাব্বুল ইজ্জত খুশি হয়ে হযরত ইব্রাহিম (আ.)-কে ইমামতের মর্যাদায় অভিষিক্ত করে তাঁকে সর্বোচ্চ সম্মানে সম্মানিত করেছিলেন। তখন হযরত ইব্রাহিম (আ.) রাব্বুল আলামিনের কাছে প্রশ্ন করেছিলেন, আমার বংশধরদের মধ্য থেকেও কী ইমাম বানানো হবে? তখন রাব্বুল আলামিন তাঁর বংশধরদের মধ্য থেকে ইমাম বানানোর বিষয়ে তাঁকে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন।

এই বিষয়ে পবিত্র কুরআনে আল্লাহ্ তায়ালা বলেছেন, “মনে করে দেখ, যখন ইব্রাহিমকে তার রব কর্তৃক বিষয়ে যাচাই করলেন এবং সব বিষয়েই তিনি সফলকাম হলেন, তখন তিনি বললেন, ‘আমি আপনাকে সব মানুষের ইমাম বানাতে চাই।’ ইব্রাহিম বললেন, ‘আমার সন্তানদের বেলায়ও কী এই ওয়াদা রয়েছে?’ তিনি জবাব দিলেন, ‘আমার ওয়াদা জালিমদের ব্যাপারে নয়” (সুরা বাকারা : আয়াত ১২৪)। অর্থাৎ এই ওয়াদা শুধু ইব্রাহিমের বংশের সেসব লোকদের জন্য করা হয়েছে, যারা নিজেদের প্রতি জুলুম করবেন না। যারা আল্লাহর হক ও সৃষ্টির হক শতভাগ পালন করবেন এবং যারা সম্পূর্ণরূপে নিষ্পাপ শুধু তারাই এই ইমামতের সম্মানে সম্মানিত হবেন।
হযরত ইব্রাহিম (আ.)-কে আল্লাহ্ তায়ালা যেমন ইমামতের মর্যাদা দিয়ে সম্মানিত করেছিলেন, তেমনি সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ মহামানব হযরত মুহাম্মদ (সা.)-কে ইমামুল মুরসালিন খেতাব দিয়ে আল্লাহ্ তায়ালা সকল নবি-রাসুল ও ইমামদের মধ্যে সর্বোচ্চ সম্মানে সম্মানিত করেছেন। নবুয়তের দায়িত্ব নিয়ে জন্ম নেওয়া দয়াল রাসুল (সা.) ৪০ বছর বয়সে রেসালাতের দায়িত্ব পেয়েছিলেন। আর মিরাজের রাতে বায়তুল মোকাদ্দাসে সকল নবি-রাসুলসহ পবিত্র আত্মাদের নিয়ে নামাজে ইমামতির মাধ্যমে ইমামুল মুরসালিন খেতাবে ভূষিত হন। এতে প্রমাণিত হয়, ইমামাত হচ্ছে সর্বোচ্চ ঐশী দায়িত্ব, আর ইমাম হলেন রাব্বুল আলামিন কর্তৃক সর্বোচ্চ সম্মানে সম্মানিত মহামানব।

দয়াল রাসুল (সা.) নবুয়তের সমাপ্তি করেছিলেন, আর ইমামতের সূচনা করেছিলেন। তিনি অসংখ্যবার ঘোষণা করেছেন, তাঁর মোহাম্মদী ইসলাম ইমামদের মাধ্যমে পরিচালিত হবে। আল্লাহ্ রাব্বুল আলামিন হযরত রাসুল (সা.)-কে এই ইমামতের দায়িত্ব হযরত আলী কাররামাল্লাহু ওয়াজহাহুকে বুঝিয়ে দিতে নির্দেশ দিয়েছিলেন।
বিদায় হজ থেকে ফেরার পথে ওহি নাজিল হয়েছিল, “হে রাসুল! পৌঁছে দিন আপনার প্রতিপালকের পক্ষ থেকে আপনার ওপর যা নাজিল হয়েছে। আর যদি আপনি এরূপ না করেন, তবে আপনি তাঁর পয়গাম কিছুই পৌঁছালেন না। আল্লাহ্ আপনাকে মানুষের কাছ থেকে রক্ষা করবেন। নিশ্চয়ই আল্লাহ্ কাফেরদের পথ প্রদর্শন করেন না।” (সুরা মায়েদা: আয়াত ৬৭)

এখানে একটা বিষয় লক্ষ্যণীয়, কী এমন বিষয় দয়াল রাসুলের কাছে আল্লাহ্ তায়ালা নাজিল করেছিলেন, যেটা নবুয়তের ২৩ বছরের মাথায় মানুষের কাছে প্রকাশ করতে বলেছিলেন এবং যেটা প্রকাশ না করা হলে কিছুই প্রকাশ করা হলো না বলে আল্লাহ্ তায়ালা ঘোষণা দিলেন। এটা নিশ্চয়ই কুরআন নয়। কারণ এই আয়াতটির পর পবিত্র কুরআনের আর মাত্র একটি আয়াত নাজিল হয়েছিল। আর সকল আয়াতই দয়াল রাসুল (সা.) মানুষের কাছে পৌঁছে দিয়েছিলেন।

হজ থেকে ফেরার পথে রাব্বুল আলামিনের এই নির্দেশের সঙ্গে সঙ্গেই দয়াল রাসুল (সা.) গাদিরে খুমে যাত্রা বিরতি করে সবাইকে একত্র হতে বলেছিলেন। যারা কাফেলার সম্মুখভাগে ছিলেন, তাদের থামানো হলো এবং যারা কাফেলার পেছনে ছিলেন, তারা এসে সাথে মিলিত হলেন। সেদিন দুপুর বেলা তীব্র গরম পড়েছিল। সাহাবায়ে কেরাম তাদের বহিরাবরণের একটি অংশ মাথার উপর এবং আরেকটি অংশ পায়ের নিচে রেখেছিল। চাদর গাছের উপর ছুঁড়ে দিয়ে মহানবি (সা.)-এর জন্য একটি শামিয়ানা তৈরি করা হলো; এবং কাফেলার উটগুলোর হাওদা একত্র করে মঞ্চ প্রস্তুত করা হলো।

মহানবি (সা.) জামাতে জোহরের নামাজ আদায় করলেন। এরপর সাহাবায়ে কেরাম তাঁর চারপাশে সমবেত হলে তিনি মঞ্চে উপবিষ্ট হলেন। বলিষ্ঠ কণ্ঠে ভাষণ দিলেন।

পাঠকদের জন্য দয়াল রাসুল (সা.)-এর পুরো ভাষণটি তুলে ধরা হলো, যা আয়াতুল্লাহ জাফার সুবহানীর লিখিত ‘চিরভাস্বর মহানবী (সা.)’ গ্রন্থের দ্বিতীয় খণ্ড থেকে নেওয়া হয়েছে- “মহান আল্লাহর জন্য সকল প্রশংসা। তাঁর কাছে আমরা সাহায্য প্রার্থনা করি, তাঁর প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করি এবং আমাদের যাবতীয় মন্দ কাজ থেকে তাঁর কাছে আমরা আশ্রয় নিচ্ছি। তাঁর ওপর ভরসা করি। তিনি ছাড়া আর কোনো পথপ্রদর্শক নেই। তিনি যাকে হিদায়েত করেন, তাকে কেউ পথভ্রষ্ট করতে পারে না। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি, তিনি ব্যতীত কোনো মাবুদ নেই এবং মুহাম্মদ (সা.) তাঁর বান্দা ও প্রেরিত পুরুষ (রাসূল)।

হে লোকসকল! অতি শীঘ্রই আমি মহান আল্লাহর আহবানে সাড়া দেব এবং তোমাদের কাছ থেকে বিদায় নেব। আমিও দায়িত্বশীল, তোমরাও দায়িত্বশীল (আমাকেও জবাবদিহি করতে হবে এবং তোমাদেরও জবাবদিহি করতে হবে)। তোমরা আমার ব্যাপারে কী চিন্তা কর? এই সময় উপস্থিত লোকসকল সত্যায়ন করে সাড়া দিলেন এবং বললেন: “আমরা সাক্ষ্য দিচ্ছি, আপনি রিসালাতের দায়িত্ব পালন করেছেন এবং চেষ্টা করেছেন। মহান আল্লাহ্ আপনাকে পুরস্কৃত করুক।”

মহানবি (সা.) বললেন : “তোমরা কি সাক্ষ্য দেবে যে, বিশ্বজগতের মাবুদ এক-অদ্বিতীয় এবং মুহাম্মদ (সা.) আল্লাহর বান্দা এবং তাঁর রাসূল; পরকালে চিরস্থায়ী জীবনের ব্যাপারে কোনো দ্বিধা ও সন্দেহ নেই?” তখন সবাই বললেন : “এসব সত্য এবং আমরা সাক্ষ্য দিচ্ছি।”

অতঃপর তিনি বললেন : “হে লোকসকল! আমি দু‘টি মূল্যবান জিনিস তোমাদের মাঝে রেখে যাচ্ছি। আমরা দেখব, তোমরা আমার রেখে যাওয়া এই দু‘টি স্মৃতিচিহ্নের সাথে কেমন আচরণ করছ?” ঐ সময় একজন দাঁড়িয়ে উচ্চকণ্ঠে বললেন : “এই দুই মূল্যবান জিনিস কী?” মহানবি (সা.) বললেন : “একটি মহান আল্লাহর কিতাব (পবিত্র কুরআন), যার এক প্রান্ত মহান আল্লাহর হাতে এবং অপর প্রান্ত তোমাদের হাতে আছে এবং অপরটি আমার বংশধর (আহলে বাইত)। মহান আল্লাহ্ আমাকে জানিয়েছেন, এই দুই স্মৃতিচিহ্ন কখনো পরস্পর বিচ্ছিন্ন হবে না। হে লোকসকল! পবিত্র কুরআন ও আমার বংশধর থেকে অগ্রগামী হয়ো না এবং কার্যত এই দুয়ের প্রতি অবহেলা প্রদর্শন করো না। এর অন্যথা করলে তোমরা ধ্বংস হয়ে যাবে।”

এই সময় মহানবি (সা.) হযরত আলী (রা.)-এর হাত ধরে এতটা উঁচু করলেন যে, তাঁদের উভয়ের বগলদেশ জনতার সামনে স্পষ্ট দেখা গেল এবং তিনি আলী (রা.)-কে উপস্থিত জনতার কাছে পরিচয় করিয়ে দিলেন। এরপর তিনি বললেন : “মুমিনদের চেয়ে তাদের নিজেদের ওপর কে সবচেয়ে বেশি অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত?” তখন সবাই বললেন : “মহান আল্লাহ্ এবং তাঁর রাসূলই ভালো জানেন।” মহানবি (সা.) তখন বললেন : “মহান আল্লাহ্ আমার মাওলা এবং আমি মুমিনদের মাওলা; আর আমি তাদের নিজেদের ওপর তাদের চেয়ে বেশি অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত এবং সবচেয়ে যোগ্যতাসম্পন্ন। সুতরাং হে লোকসকল! আমি যার মাওলা, এই আলীও তার মাওলা। হে আল্লাহ্! যে তাকে সমর্থন করবে তাকে তুমিও সমর্থন করো; যে তার সাথে শত্রুতা করবে, তার সাথে তুমিও শত্রুতা করো; যে তাকে ভালোবাসবে, তাকে তুমিও ভালোবাস; যে তাকে ঘৃণা করবে, তাকে তুমিও ঘৃণা করো; যে তাকে সাহায্য করবে, তাকে তুমিও সাহায্য করো এবং যে তাকে সাহায্য থেকে বিরত থাকবে, তাকে তুমিও সাহায্য থেকে বিরত থাক এবং সে যেদিকে ঘোরে, সত্যকেও তার সাথে সেদিকে ঘুরিয়ে দাও।”
উপস্থিত সকল সাহাবী হযরত আলী কাররামাল্লাহু ওয়াজহাহুর ইমামতের স্বীকৃতি দিলেন এবং দয়াল রাসুল (সা.) -এর অনুপস্থিতিতে হযরত আলী (রা.)-এর নির্দেশ মেনে চলার প্রতিশ্রুতি দিলেন।

এরপরই কুরআনে সর্বশেষ আয়াত নাজিল হলো, “আজ কাফেররা তোমাদের দ্বীন থেকে নিরাশ হয়ে গেছে। অতএব তাদেরকে ভয় করো না বরং আমাকে ভয় করো। আজ আমি তোমাদের জন্য তোমাদের দ্বীনকে পূর্ণাঙ্গ করে দিলাম, তোমাদের প্রতি আমার অনুগ্রহ সম্পূর্ণ করে দিলাম এবং ইসলামকে তোমাদের জন্য জীবন ব্যবস্থা হিসেবে পছন্দ করলাম।” (সুরা মায়েদা: আয়াত ৩) অর্থাৎ মাওলা আলীকে ইমাম ঘোষণা দেওয়ার পরেই আল্লাহ্ তায়ালা ধর্মকে পূর্ণাঙ্গ করে দিলেন এবং তাঁর অনুগ্রহ সম্পূর্ণ করে দিলেন এবং ইসলামকে জীবন ব্যবস্থা হিসেবে পছন্দ করে নিলেন।

যে ইমামতের ঘোষণার মাধ্যমে মোহাম্মদী ইসলাম পূর্ণতা পেল সেই ইমামতের দায়িত্ব মাওলা আলীর বংশধারায় চলমান থাকলো। আল্লাহ্ তায়ালা কুরআনে ঘোষণা করেন, “শপথ আসমানের যার মধ্যে বুরুজ (অর্থাৎ কক্ষপথ ও শিখর রয়েছে)।” (সুরা বুরুজ: আয়াত ১)

দয়াল রাসুল (সা.) এই আয়াতের ব্যাখ্যায় বলেছেন, “আসমান দ্বারা আমি এবং বুরুজ দ্বারা আমার বংশের পবিত্র ইমামগণকে বুঝানো হয়েছে।” ইমামগণের আনুগত্য প্রসঙ্গে দয়াল রাসুল (সা.) বলেছেন, “তাদের আনুগত্য আমার আনুগত্য এবং তাদের বিরোধিতা আমার বিরোধিতা।”

ইতিহাস সাক্ষ্য দেয়, দয়াল রাসুলের ওফাতের পর পরই ইমামগণসহ পবিত্র আহলে বাইতের সদস্যদের ওপর নেমে আসে নির্মম নির্যাতন। প্রত্যেককেই শাহাদাত বরণ করতে হয় মুসলিম নামধারী কোন গোষ্ঠী বা মুসলিম শাসকদের হাতে। যে কারণে একটা পর্যায়ে দয়াল রাসুলের পবিত্র বংশধারার ইমামগণকে চলে যেতে হয় লোকচক্ষুর অন্তরালে; হতে হয় দেশান্তরিত। এর মাধ্যমে মোহাম্মদী ইসলামকেও ভুলে যায় জগৎবাসী। জেকে বসে এজিদের ‘দ্বীন ইসলাম’।

এই দুর্যোগপূর্ণ পরিস্থিতিতে মুসলিম উম্মাহকে পথ দেখাতে জগতে তাশরিফ আনতে শুরু করেন, তরিকার ইমামগণ। বড় পীর হযরত আবদুল কাদের জিলানী (রহ.), গরীবে নেওয়াজ হযরত খাজা মইনুদ্দিন চিশতী (রহ.), সুলতানুল আরেফিন হযরত বাহাউদ্দিন নকশবন্দী (রহ.), মাহবুবে সোবহানী হযরত মুজাদ্দেদ আলফেসানী (রহ.), ইমাম সৈয়দ আবুল ফজল সুলতান আহমদ (রহ.)-সহ অনেক তরিকার ইমাম আবির্ভূত হন জগতবাসীকে পথ দেখাতে। তাঁদের এই তরিকার প্রচার ও প্রসারে অসংখ্য পির, অলী, গাউস, কুতুব দায়িত্ব পালন করেন।

মুসলমানদের অসংখ্য ফেরকার ভিড়ে ১০০০ শতাব্দীর পর থেকে বিভিন্ন তরিকার ইমামগণের মাধ্যমে ইসলামের প্রচার ও প্রসার চলতে থাকে। তবুও দয়াল রাসুলের (সা.) ওফাতের ১৪শ বছর পরেও মোহাম্মদী ইসলামের ওপর ছড়ি ঘুরাচ্ছিল এজিদের দ্বীন ইসলাম। এমন সংকটময় মুহূর্তে ধুলির ধরায় তাশরিফ আনেন জগৎশ্রেষ্ঠ মহামানব সূফী সম্রাট হযরত সৈয়দ মাহ্বুব-এ-খোদা দেওয়ানবাগী (মা. আ.) হুজুর কেবলাজান, যিনি দয়াল রাসুলের ২১তম পবিত্র বংশধর। তিনি তরিকার যুগের অবসান করে জগতে আবার মোহাম্মদী ইসলামের ঝাণ্ডা উড়ালেন; পুনর্জীবন দান করলেন দয়াল রাসুল (সা.)-এর মোহাম্মদী ইসলামের। মানুষকে আহ্বান করলেন আশেকে রাসুল তথা রাসুল প্রেমিক হওয়ার জন্য।

কারবালায় নবি (সা.) পরিবারের নির্মম শাহাদতের পর থেকে সূফী সম্রাটের আবির্ভাবের পূর্ব পর্যন্ত জগতে কাউকে মোহাম্মদী ইসলামের নাম নিতে দেখা যায়নি। মোহাম্মদী ইসলামের পুনর্জীবনদানকারী এই মাহামানব বললেন, ইমাম বুখারীর সংকলিত হাদিস গ্রন্থের নাম যদি বুখারী শরিফ হয়, ইমাম আবু হানিফার মাযহাবের নাম যদি হানাফি মাযহাব হয়, বড়পির আবদুল কাদির জিলানি (রহ.)-এর তরিকার নাম যদি কাদরিয়া তরিকা হয়, তাহলে হযরত মুহাম্মদ (সা.) যে ধর্ম জগতে নিয়ে আসলেন, সেটার নাম ‘মোহাম্মদী ইসলাম’ হবে না কেন? তিনি বলেন, দয়াল রাসুল (সা.) প্রবর্তিত ধর্মের নাম ছিল ‘মোহাম্মদী ইসলাম’। কিন্তু, এজিদের চক্রান্তে ধর্মের মালিক ‘মোহাম্মদের’ নাম বাদ দিয়ে এই ধর্মকে দ্বীন ইসলাম নামে প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে।

আল্লাহ্ কর্তৃক সর্বোচ্চ সম্মানের নিদর্শন পূর্ণিমার চাঁদে জীবন্ত প্রতিচ্ছবি সূফী সম্রাট হযরত দেওয়ানবাগী (মা. আ.) হুজুর বলেন, “আমি দয়াল রাসুলের মোহাম্মদী ইসলামটাই জগতে নিয়ে এসেছি। মোহাম্মদী ইসলামটা হলো মহাসড়ক। আর তরিকা হলো শাখা প্রশাখা। দয়াল রাসুলের পরে মোহাম্মদী ইসলাম ইমামগণের মাধ্যমে পরিচালিত হয়েছে। আমিও যেহেতু মোহাম্মদী ইসলাম নিয়ে এসেছি, তাই আমার পরে কোনো পির হবে না। আমার পরেও মোহাম্মদী ইসলাম ইমামগণের মাধ্যমে পরিচালিত হবে। আমার পরে আমার ছেলেরা ইমাম হিসেবে দায়িত্ব পালন করে মোহাম্মদী ইসলামকে এগিয়ে নিয়ে যাবেন। এভাবে কেয়ামত পর্যন্ত ইমামগণের মাধ্যমেই মোহাম্মদী ইসলামের কার্যক্রম চলমান থাকবে।’ সকল আম্বিয়ায়ে কেরামের ধর্মের দায়িত্ব ও বেলায়াত লাভকারী এই মহামানব এটাও স্পষ্ট করে বলেছেন, ‘আমার পরে যদি কেউ নিজেকে পির দাবি করে তবে সে বিপথগামী।’ মোহাম্মদী ইসলামে কেন আর পির আসবেন না, সেটাও ব্যাখ্যা করেছেন সূফী সম্রাট। তিনি বলেছেন, ‘পির হলেই তরিকার উদ্ভব হবে, আর তরিকা হলেই মোহাম্মদী ইসলাম হারিয়ে যাবে।’ তাই মোহাম্মদী ইসলাম ইমামগণের মাধ্যমেই কেয়ামত পর্যন্ত জারি থাকবে।

সূরা নিসার ৫৯ নম্বর আয়াতে আল্লাহ্ তায়ালা বলেন, “হে ইমানদারগণ! আল্লাহর আনুগত্য কর, রাসুলের আনুগত্য কর এবং তাদের যারা তোমাদের মধ্যে ফয়সালার অধিকারী (উলিল আমর)।

আর বিশ্বব্যাপী আশেকে রাসুলদের সকল সমস্যার ফয়সালাকারী ইমাম ড. আরসাম কুদরত এ খোদা (মা. আ.) হুজুর বলেছেন, ‘কেয়ামত পর্যন্ত মোহাম্মদী ইসলামের মোর্শেদ থাকবেন দেওয়ানবাগী হুজুর। কারণ মুরিদের মোর্শেদ কখনও মরে না।’

তাই আমাদের আল্লাহকে অনুসরণ করতে হলে হযরত রাসুল (সা.)-কে অনুসরণ করতে হবে; হযরত রাসুল (সা.)-কে অনুসরণ করতে হলে দয়াল রাসুলের সিরাজাম মুনিরার ধারক ও বাহক মহান মোর্শেদকে অনুসরণ করতে হবে। আর মহান মোর্শেদকে অনুসরণ করতে হলে ইমামগণকে অনুসরণ করতে হবে। কারণ, একমাত্র ইমামগণই পারেন আমাদের সঠিক পথে পরিচালিত করে মহান মোর্শেদ পর্যন্ত পৌঁছে দিতে। পক্ষান্তরে পবিত্র ইমামগণই হচ্ছেন আল্লাহ প্রাপ্তির একমাত্র পথ। ইমামগণের অনুসরণের বাইরে গিয়ে আশেকে রাসুলদের অন্য কোনও পথ চিন্তা করারই অবকাশ নেই। ইমামগণের বিরুদ্ধে গিয়ে অথবা ইমামগণের বিষয়ে নীরব থেকে দয়াল রাসুল (সা.)-এর পর অধিকাংশ মুসলিম বিপথগামী হয়েছিল। ঠিক একই ভুল যাতে আশেকে রাসুলগণ না করেন, সেজন্য সূফী সম্রাট দেওয়ানবাগী হুজুর কেবলাজান প্রতিনিয়ত তাঁর ভক্তদেরকে সাবধান করছেন এবং সঠিক পথের নির্দেশনা দিয়ে যাচ্ছেন।

3 COMMENTS

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here