একজন সাই ইং এবং করোনা

0
135

নারী ডেস্ক: চীন ভূখণ্ডের খুব কাছের স্বাধীন দ্বীপরাষ্ট্র তাইওয়ান। জনসংখ্যা মাত্র ২ কোটি ৩০ লাখ। করোনার কারণে চীনের পর তাইওয়ানকেই ‘বিশ্বের অন্যতম ঝুঁকিপূর্ণ’ দেশ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছিল। কারণ দেশটির সাড়ে ৮ লাখ মানুষ সরাসরি চীনে কাজ করেন। তবে দেশটি স্বাস্থ্যসেবায় বিশেষ উদ্যোগ নেওয়ায় ঝুঁকি এখন প্রায় শূন্যের কোঠায়। যদিও দেশটি এখনও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সদস্য নয়।

জনসংখ্যার তুলনায় তাইওয়ানে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা খুবই কম। করোনায় পুরো বিশ্ব যখন নাজেহাল তখন ভাইরাসটি প্রতিরোধে দেশটি বিশ্বের সেরা দেশের তালিকায় উঠে আসে। বিশ্বের নজর পড়ে দেশটির নেতৃত্ব ও স্বাস্থ্যসেবায় গৃহীত উদ্যোগের দিকে।

আর দেশটির নেতৃত্বে আছেন একজন নারী। তিনি সাই ইং। বর্তমান তাইওয়ানের রাষ্ট্রপতি। পুরো নাম সাই ইং ওয়েন। জন্ম ৩১ আগস্ট, ১৯৫৬। বর্তমানে সাই নামেই বিশ্ব রাজনৈতিক অঙ্গনে তুমুল আলোচিত। মূল পেশা রাজনীতি। চীনবিরোধী নেত্রী হিসেবে তিনি বিখ্যাত।

ন্যাশনাল তাইওয়ান ইউনিভার্সিটি থেকে তিনি আইন বিষয়ে গ্র্যাজুয়েশন করেন। কর্নেল ইউনিভার্সিটি ল’ স্কুল থেকে আইন বিষয়ে মাস্টার্স করেন। সবশেষ ১৯৮৪ সালে লন্ডন স্কুল অব ইকোনমিক্স থেকে অর্থনীতি বিষয়ে পিএইচডি করেন। ব্যক্তিজীবনে সাই অবিবাহিত।

চীনে করোনা শনাক্তের পরই দেশটি নিজস্ব স্বাস্থ্যসেবায় শর্ত আর দিকনির্দেশনা দিয়ে জনগণকে সচেতন করে। গত জানুয়ারি থেকেই তাইওয়ান করোনা পরীক্ষা করে আসছে। সামান্য লক্ষণ বা ভ্রমণ ইতিহাস থাকলেই ওই ব্যক্তিদের পরীক্ষা নিশ্চিত করা হয়। যদিও একই সময়ে পার্শ্ববর্তী দেশ চীন প্রতিদিন মৃত্যুর সংখ্যা গুনছিল। বিশ্ব স্বাস্থ্য জরিপ সংস্থা ওয়াল্ডোমিটার সূত্র বলছে, তাইওয়ানে করোনা আক্রান্তের ৯০ ভাগই বিদেশ ফেরত নাগরিক।

ধীরে ধীরে দেশটি জাতীয় স্বাস্থ্য সুরক্ষা ব্যবস্থার কারণে শনাক্ত ও আক্রান্তের সংখ্যা কমিয়ে একেবারে শূন্যের কাছাকাছি নিয়ে এসেছে। যার নেপথ্যে আছে ব্যাপক হারে পরীক্ষা, ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞা, রোগীর সংস্পর্শে আসা ব্যক্তিদের শনাক্ত আর কোয়ারেন্টিনে কঠোর মনোভাবের কারণে দেশটি নিজেকে করোনা থেকে যথাযথ সুরক্ষা দিয়েছে।

মূলত ২০০৩ সালে তাইওয়ানে মহামারি সার্স ভয়াবহ রূপ নিয়েছিল। অতীত থেকেই শিক্ষা নিয়ে এবারে করোনার মোকাবিলায় দেশটি এখন বিশ্বের কাছে দৃষ্টান্ত। শুধু সামরিক শক্তিতে নয়, স্বাস্থ্যসেবায় উন্নত হয়েও বিশ্বের নজর কাড়া যায়- তাইওয়ান-ই তার প্রমাণ।

চীনের সঙ্গে চলমান সামরিক অস্থিরতার মধ্যেই নিজেদের স্বাস্থ্য সুরক্ষার সক্ষমতা দেখিয়েছে তাইওয়ান। করোনা সামাল দেওয়া প্রসঙ্গে রাষ্ট্রপতি সাই ইং ওয়েন বলেছেন, জাতি হিসেবে তারা দুর্বল নন। জনগণই আসল শক্তি। তাই জনগণের সুরক্ষায় যা যা করা দরকার রাষ্ট্র হিসেবে তাইওয়ান তার সবই করবে। আমরা জনগণকে লকডাউন করিনি। বিদ্যালয় থেকে শুরু করে শপিংমল এবং অফিস-আদালত চলেছে যথাযথ নিয়ম মেনেই। রাজধানীর ট্রেন থেকে শুরু করে পাতাল রেলেও মানুষ স্বাভাবিক চলাচল করেছে।

এদিকে নিজের দেশের চিকিৎসা সরঞ্জাম নিশ্চিত করে অন্যান্য দেশে তা প্রেরণ করে প্রশংসা কুড়িয়েছে তাইওয়ান। দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী জোসেফ উয়ো বলেন, করোনা নিয়ন্ত্রণে সফলতার কারণে এখন কূটনৈতিকভাবে আলাদা গুরুত্ব পাচ্ছি। আমাদের অনেক নতুন বন্ধু হচ্ছে। সম্ভাবনার নতুন নতুন দরজাও খুলছে।

অভিজ্ঞতা না থাকলে সিদ্ধান্ত নেওয়া কঠিন। এমনকি সিদ্ধান্ত ভুলও হতে পারে। ফলে কঠিন সময়ে দ্রুত সঠিক সিদ্ধান্তে এগোনো যায় না। নারী নেতৃত্ব হলেও দূরদর্শী অভিজ্ঞতা আর অতীত শিক্ষাই তাইওয়ানের করোনা পরিস্থিতি সামলে নেওয়ার নেপথ্যে কারণ বলে মনে করেন বিশ্লেষকরা।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here