এবার হজ করতে পারবেন মাত্র ১০ হাজার ব্যক্তি

1
387

অনলাইন ডেস্ক: মহামারি (কোভিড-১৯) পরিস্থিতিতে এবার স্বল্প পরিসরে হজ অনুষ্ঠানের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সৌদি আরব। দেশটির নাগরিক ও দেশটিতে অবস্থানরত বিদেশি নাগরিকদের মধ্য থেকে সর্বোচ্চ ১০ হাজার ব্যক্তি এবার হজে অংশ নিতে পারবেন। তাদের হতে হবে রোগব্যাধিমুক্ত ও ৬৫ বছরের চেয়ে কম বয়সী। হজের আগেই অংশগ্রহণেচ্ছু ও হজ কার্যক্রমে অংশ নেয়া ব্যক্তিদের কঠোরভাবে স্বাস্থ্য পরীক্ষা করবে সৌদি কর্তৃপক্ষ, এতে উত্তীর্ণ হলেই শুধু অংশ নেওয়ার সুযোগ মিলবে। দেশটির হজ ও ওমরাবিষয়ক মন্ত্রণালয় মঙ্গলবার এসব শর্ত দিয়েছে।

সৌদি আরবে বাংলাদেশের হজ কাউন্সিলর (অতিরিক্ত সচিব) মাকসুদুর রহমান বুধবার এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, ‘সৌদি আরবের হজ ও ওমরাহবিষয়ক মন্ত্রী ড. মোহাম্মদ সালেহ বিনতাহ এবং স্বাস্থ্যমন্ত্রী ডা. তাওফিক আল রাহিয়া সংবাদ সম্মেলন করে এসব বিষয়ে সরকারের অবস্থান তুলে ধরেন।’

এর আগে সৌদি সরকার বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে এক হাজার ব্যক্তির অংশগ্রহণে এবার হজ হবে বলে জানিয়েছিল।

হজে অংশগ্রহণে সৌদি আরবের দেওয়া অন্য শর্তের মধ্যে রয়েছে- ১. অন্য কোনো দেশ থেকে কেউ হজে অংশ নিতে পারবে না। ২. হজের পর বাড়ি বা কর্মস্থলে ফেরার আগে অবশ্যই কোয়ারেন্টিনে থাকতে হবে। ৩. স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সরাসরি তত্ত্বাবধান, নিয়ন্ত্রণ ও পরিকল্পনায় হজ অনুষ্ঠিত হবে। করোনা ভাইরাস প্রতিরোধে স্বাস্থ্যবিধি সংক্রান্ত যাবতীয় বিষয় তারা নিয়ন্ত্রণ করবেন। ৪. হজের সময় শুধু হাজীদের জন্যই হাসপাতাল ব্যবস্থাপনার জরুরি কার্যক্রম চলবে। ৫. ছোট ছোট দলে যথাযথ স্বাস্থ্যবিধি ও সামাজিক দূরত্ব মেনে হজের রোকনগুলো পালন করতে হবে। ৬. আন্তর্জাতিকভাবে হজের জন্য কোনো ব্যতিক্রম কিছু হবে না। কূটনৈতিক মিশনের লোকজনকেও যথাযথভাবে নিবন্ধন সাপেক্ষে অংশ নিতে হবে। ৭. আগে থেকে ঘোষিত সৌদি আরবের বাইরের কোনো দেশের এজেন্ট বা হজ মিশনের কেউই এবার যাত্রী বা প্রতিনিধি পাঠাতে পারবে না। ৮. প্রতিদিনই প্রত্যেক হজযাত্রীর স্বাস্থ্যের অবস্থা পর্যবেক্ষণ করা হবে। ৯. স্বাস্থ্যবিধি মেনেই মিডিয়া ব্যবস্থাপনা করা হবে।

এর আগে সোমবার সৌদি আরবের হজ মন্ত্রণালয় জানায়, এবার বহির্বিশ্বের হজ পালনকারীরা হজে অংশ নিতে পারবেন না। সীমিতভাবে সৌদি আরবে বসবাসকারী দেশটির নাগরিক অথবা প্রবাসীরা স্বাস্থ্যবিধি মেনে হজ পালনের সুযোগ পাবেন। মঙ্গলবার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়- এ বছর এক হাজারের কম মানুষ হজ করার সুযোগ পাবেন। করোনা পরিস্থিতির কারণে এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে বলে সে সময় জানান দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী ফয়সাল বিন ফারহান আল সৌদ। ওই দিনই সৌদি পররাষ্ট্রমন্ত্রী বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আবদুল মোমেনকে টেলিফোনে এসব কথা জানান। চাঁদ দেখা সাপেক্ষে ২৮ জুলাই থেকে হজের আনুষ্ঠানিকতা শুরু হবে। ২০১৯ সালে হজ পালন করেছেন ২৪ লাখ ৮৯ হাজার ৪০৬ জন। এর মধ্যে সৌদি নাগরিক ছিল ২ লাখ ১১ হাজার ৩ জন, আর সৌদিতে কর্মরত বিভিন্ন দেশের নাগরিক ৪ লাখ ২৩ হাজার ৩৭৬ জন।

হজের টাকা তুলতে চাইলে আবেদন ১২ জুলাইয়ের পর : করোনা মহামারির কারণে এবার সৌদি আরব ছাড়া অন্য দেশে অবস্থানকারীদের হজে অংশ নেয়ার সুযোগ নেই। এ কারণে এ বছর যারা হজের জন্য নিবন্ধন করেছিলেন, তাদের নিবন্ধন ২০২১ সালের প্রাক-নিবন্ধন এবং নিবন্ধন হিসেবে কার্যকর থাকবে। তবে হজযাত্রীরা (সরকারি বা বেসরকারি ব্যবস্থাপনা) চাইলে নিবন্ধনের টাকা তুলে ফেলতে পারবেন। এজন্য ১২ জুলাইয়ের পর থেকে আবেদন করতে হবে। আর টাকা তুললেই ওই ব্যক্তির হজ নিবন্ধন বাতিল হবে। সচিবালয়ে বুধবার ধর্ম সচিব মো. নুরুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত চলতি বছরের হজ ব্যবস্থাপনাবিষয়ক সভায় এ সিদ্ধান্ত হয়। পরে ধর্ম মন্ত্রণালয় বিজ্ঞপ্তি দিয়ে এ তথ্য জানায়।

সভা শেষে জানানো হয়, সৌদি সরকারের ঘোষণা অনুযায়ী এ বছর পবিত্র হজে অংশগ্রহণের সুযোগ না থাকায় যেসব বাংলাদেশি নাগরিক হজে যাওয়ার জন্য নিবন্ধন করেছিলেন, তারা যে কোনো সময় তাদের নিবন্ধনের টাকা তুলে নিতে পারবেন। টাকা তুলে নেয়ার ক্ষেত্রে কেউ যাতে হয়রানির শিকার না হন, সে বিষয়টিও খেয়াল রাখা হবে।

ধর্ম সচিব নুরুল ইসলাম বলেন, চলতি বছরের প্রাক-নিবন্ধন এবং নিবন্ধন যথারীতি ২০২১ (১৪৪২ হিজরি) সালের প্রাক-নিবন্ধন এবং নিবন্ধন হিসেবে কার্যকর থাকবে। ২০২১ সালে কোনো কারণে হজ প্যাকেজের ব্যয় কমবেশি হলে তা বর্তমান হজযাত্রীর জমা দেয়া অর্থের সঙ্গে সমন্বয় করা হবে। কোনো হজযাত্রী নিবন্ধন বাতিল করলে একই সঙ্গে তার প্রাক-নিবন্ধন বাতিল হয়ে যাবে এবং তাকে নতুন করে প্রাক-নিবন্ধন করে হজে যেতে হবে।

ধর্ম সচিব আরও বলেন, বেসরকারি হজ ব্যবস্থাপনার হজযাত্রী নিবন্ধন বাতিল করে টাকা উত্তোলন করতে চাইলে তার হজ এজেন্সির মাধ্যমে অনলাইনে আবেদন করবেন এবং মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন সাপেক্ষে এজেন্সি বা ব্যাংকের মাধ্যমে জমা করা অর্থ গ্রহণ করবেন।

সরকারি বা বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় যেসব হজযাত্রী তাদের জমা করা নিবন্ধনের টাকা তুলতে চান, তাদেরকে ১২ জুলাইয়ের পর আবেদন করতে হবে। নিবন্ধিত হজযাত্রীদের মধ্যে কেউ যদি টাকা না তুলে মনে করেন যে আগামী বছর হজে যাওয়ার জন্য তা রেখে দেবেন, তাহলে সে বিষয়টিকেও স্বাগত জানাবে মন্ত্রণালয়।

সৌদি বাংলাদেশ দ্বিপাক্ষিক হজ চুক্তি অনুযায়ী ১৪৪১ হিজরিতে (এ বছর) সরকারি ও বেসরকারি মিলিয়ে বাংলাদেশ থেকে ১ লাখ ৩৭ হাজার ১৯৮ হজযাত্রীর হজে যাওয়ার সুযোগ ছিল। কিন্তু সরকারি-বেসরকারি মিলিয়ে চূড়ান্ত নিবন্ধন করেছিলেন ৬৪ হাজার ৫৯৯ হজযাত্রী। এর মধ্যে সরকারি ব্যবস্থাপনায় ৩ হাজার ৪৫৭ জন ও বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় ৬১ হাজার ১২৪ জন।

হজ এজেন্সিজ অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (হাব) সভাপতি এম শাহাদাত হোসাইন তসলিম বলেন, আল্লাহর মেহমানরা হজের নিয়ত করে টাকা জমা দিয়েছেন। অনেকেই হয়তো হজের টাকা ওঠাবেন না। আর হজের টাকা কেউ তুলে নিলে তার প্রাক-নিবন্ধনসহ পুরো নিবন্ধন বাতিল হয়ে যাবে। সেক্ষেত্রে আগামী বছর হজে যেতে চাইলে তাদেরকে নতুনভাবে প্রাক-নিবন্ধন করতে হবে। সেক্ষেত্রে তারা সিরিয়ালে পিছিয়ে পড়বেন। কারণ কোটার চেয়ে প্রাক-নিবন্ধন করা হজযাত্রীর সংখ্যা প্রায় দ্বিগুণ।

1 COMMENT

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here