ওয়েবসাইটের ডোমেইন ও হোস্টিং কী? এগুলো কেন দরকার?

0
140

আবুল হাসনাত বাঁধন: অনলাইনে যারা কাজ করতে আসেন, বিশেষ করে যারা নিজের একটা ওয়েবসাইট বানাতে চান তারা অবশ্যই কখনো না কখনো ডোমেইন ও হোস্টিং শব্দ দুটো শুনেছেন! কিন্তু অনেকেই হয়তো এগুলো কী, এগুলো দিয়ে কী হয়, কীভাবে হয়, কিছুই জানেন না! আমাদের আজকের লেখাটি মূলত তাদের জন্যই! আজকের পোস্টে আমরা সহজ ভাষায় জানানোর চেষ্টা করব- ডোমেইন ও হোস্টিং কী, এগুলোর প্রয়োজনীয়তা কী, এগুলো কীভাবে কাজ করে, বিস্তারিত সব! চলুন তাহলে শুরু করা যাক!

ডোমেইন (Domain) কী?
মূলত কোনো ওয়েবসাইটের ওয়েব অ্যাড্রেস বা ইউআরএলটাকে ডোমেইন নেম বলা হয়। যেমন: আপনি যখন ফেসবুক ভিজিট করেন, তখন নিশ্চয়ই খেয়াল করেছেন, ব্রাউজারে আপনাকে একটা অ্যাড্রেস এন্টার করতে হয়। এই facebook.com হচ্ছে ফেসবুকের অ্যাড্রেস। একইভাবে biggannews.com হলো আমাদের সাইটের অ্যাড্রেস। bestbonebrot.com অন্য একটি সাইটের অ্যাড্রেস। এখানে facebook.com, biggannews.com, bestbonebrot.com এসব হচ্ছে ডোমেইন নেম, যেখানে com অংশটা মূলত domain suffix. এরকম আরও বেশ কিছু ডোমেইন সাফিক্স আছে যেমন .net.info.gov প্রভৃতি। m.facebook.com অ্যাড্রেসে স হচ্ছে সাব ডোমেইন। ইন্টারনেটে ওয়েব অ্যাড্রেসসমূহ ইউআরএল (URL–Uniform Resource Locator) হিসেবে পরিচিত। সহজ কথায়, ডোমেইন নেম হচ্ছে একটা ওয়েবসাইটের নাম বা পরিচিতি বা ঠিকানা।

ডোমেইন কেন দরকার?
প্রত্যেকটা ওয়েবসাইটের জন্য একটা আইপি অ্যাড্রেস নির্ধারিত আছে (এটা শেয়ার্ডও হতে পারে)। আইপি অ্যাড্রেস হচ্ছে অনেকটা ফোন নাম্বারের মতো। উদাহরণস্বরূপ ১৭২.৯৩.১২০.৬ হচ্ছে একটা আইপি অ্যাড্রেস। এই নাম্বারটা ব্রাউজারের অ্যাড্রেস বারে হুবহু লিখে এন্টার করলে আপনি আমাদের বিজ্ঞান নিউজ ওয়েবসাইটে চলে আসবেন। এভাবে আলাদা আলাদা সাইটের জন্য আলাদা আলাদা আইপি অ্যাড্রেস মনে রাখা খুব কঠিন কাজ। তার চেয়ে সাইটের অ্যাড্রেস মনে রাখার জন্য নরমমধহহবংি.পড়স ঠিকানাটি মনে রাখাই সহজ। এ ছাড়া গুগলে সার্চ করেও পাওয়া যায় এটা। এজন্যই মূলত ডোমেইন নেম ব্যবহার করা হয়। একটা স্ট্যান্ডার্ড .ঈড়স ডোমেইনের দাম বর্তমানে মোটামুটি ১০-১২ ডলারের মতো। ডোমেইন হচ্ছে একটা ওয়েবসাইটের অস্তিত্বের পূর্বশর্ত, যেটা আন্তর্জাতিক একটা নিয়ন্ত্রক সংস্থার নিকট নিবন্ধন করাতে হয়। নিবন্ধন করাতেই মূলত ওই ১০-১২ ডলার খরচ হয়। ডোমেইন কেনার জন্য দেশি বিদেশি অনেক সার্ভিস আছে!

হোস্টিং (Hosting):
ডোমেইন কেনা হয়ে গেলে এরপর আপনার সাইটের জন্য হোস্টিং সার্ভিস দরকার। কারণ সাইটের পোস্ট, ছবি, ভিডিও প্রভৃতি সংরক্ষণের জন্য একটা জায়গা বা স্পেস আবশ্যক। সাইটটি চালাতে যেসব সফটওয়্যার প্রয়োজন সেগুলোও তো কোথাও না কোথাও ইনস্টল করা থাকতে হবে, তাই না? হোস্টিং হচ্ছে সেই জায়গা যেখানে আপনার সাইটের ফাইলপত্র সব সংরক্ষিত থাকে। এটা অনেকটা কম্পিউটারের হার্ডডিস্ক বা ফোনের মেমরির মতো ব্যাপার! সেগুলোতে যেমন আপনার কম্পিউটার বা ফোনের সমস্ত ডাটা সংরক্ষিত থাকে, তেমনিভাবে হোস্টিং এ আপনার সাইটের সমস্ত ডাটা সংরক্ষিত থাকে। এক্ষেত্রে সাইটের ডাটা সেইভ করে রাখতে হোস্টিং কোম্পানিগুলো বিশাল বিশাল আলমিরার সাইজের সার্ভার ব্যবহার করে, যেখানে লক্ষ লক্ষ কোটি কোটি ডাটা সেইভ থাকে। বিভিন্ন দেশি বিদেশি কোম্পানি সাইটের জন্য হোস্টিং সার্ভিস দিয়ে থাকে।

কীভাবে আপনার সাইটের জন্য বেস্ট ডোমেইন ও হোস্টিং নির্বাচন করবেন?
বেস্ট ডোমেইন নির্বাচন করতে আপনাকে প্রথমে দেখতে হবে আপনার সাইটটি কোন টপিকে, অর্থাৎ সাইটে কী বিষয়ে কনটেন্ট পাবলিস করা হবে! আপনার সাইট যদি কোনো বিজনেস রিপ্রেসেন্ট করে তবে .com.net সাফিক্স আপনার সাইটের জন্য মানানসই। আবার আপনি যদি কোনো কোম্পানির জন্য কর্পোরেট সাইট বানান তবে .info ব্যবহার করতে পারেন। আবার আপনার সাইটটি যদি কোনো নন-প্রফিট অর্গানাইজেশন হয় তবে আপনি ব্যবহার করতে পারেন! এছাড়াও নির্দিষ্ট দেশের শর্ট কোড দিয়ে অনেক সাফিক্স থাকে। যেমন: : .bd , .us , .uk , .ca , .in । আপনার সাইট যদি ওয়ার্ল্ড ওয়াইড না হয়ে কোনো নির্দিষ্ট দেশের জন্য হয়ে থাকে, তবে এরকম সাফিক্স সিলেক্ট করতে পারেন! মোটকথা আপনার সাইটের সাথে মিল এ রকম ডোমেইনই আপনার বেছে নিতে হবে!

এবার আসি হোস্টিং এ। হোস্টিং নির্বাচনের জন্য আপনাকে আপনার সাইটের আকার সম্পর্কে ধারণা নিতে হবে। আপনার বিজনেস, কোম্পানি বা অর্গানাইজেশনটি কত বড়, এতে প্রতিদিন কী পরিমাণ ভিজিটর আসতে পারে, সাইটে কী পরিমাণ ফাইল ও কনটেন্ট থাকবে, সবকিছুর উপর ধারণা করে আপনার হোস্টিং কিনতে হবে! আপনার কোম্পানি যদি ছোট হয় তাহলে শুরুতে কম স্পেসের হোস্টিং কিনবেন। আর যদি অনেক বড় হয় সেক্ষেত্রে বেশি স্পেসের হোস্টিং কিনতে হবে! আর একেবারে শুরুতে শেয়ারেড হোস্টিং কেনাই ভালো! বড় সাইটের জন্য অবশ্য ভিপিএস অথবা ডেডিকেটেড সার্ভার কিনতে হবে।

ডোমেইন হোস্টিং একসাথে কীভাবে কিনবেন?
সারাবিশ্বে অসংখ্য ডোমেইন হোস্টিং সার্ভিস প্রোভাইডার কোম্পানি রয়েছে! আপনি সবগুলো ঘেটেঘুটে দেখে যেটা আপনার জন্য বেস্ট সেই কোম্পানি এবং ওই কোম্পানির বেস্ট প্ল্যান সিলেক্ট করবেন। এক্ষেত্রে বিদেশি কোম্পানিগুলোর মধ্যে আমি নেমচিপ, হোস্টগ্যাটর, ব্লু হোস্ট সাজেস্ট করব! তবে এসব বিদেশি কোম্পানি থেকে সার্ভিস কিনতে আপনার মাস্টার কার্ড বা ভিসা কার্ড থাকা লাগবে ইন্টারন্যাশনাল কারেন্সিযুক্ত। এখন যাদের এগুলো নেই তারা কী করবেন? তাদের জন্যেও উপায় আছে! বাংলাদেশি অনেক কোম্পানি ভালো মানের ডোমেইন হোস্টিং সার্ভিস দিয়ে থাকে! এখান থেকে আপনি বিকাশ/রকেটের মাধ্যমে পে করে সহজেই ডোমেইন হোস্টিং কিনতে পারবেন! বাংলাদেশি কোম্পানিগুলোর মধ্যে আমি সাজেস্ট করব- ইবিএন হোস্ট
বিদেশি কোম্পানি গুলোর মধ্যে সাজেস্ট করব-

NameCheap [ডোমেইন হোস্টিং দুটোই নিতে পারবেন। পেমেন্ট সিস্টেম- মাস্টার কার্ড, ক্রিপ্টোকারেন্সি, পেপাল]

Porkbun [শুধু ডোমেইন কিনতে চাইলে পর্কবুন বেস্ট! পেমেন্ট সিস্টেম- মাস্টার কার্ড, ক্রিপ্টোকারেন্সি, পেপাল]

এ ছাড়া যারা সবকিছু রেডিমেড চান, নিজে ডোমেইন হোস্টিং না কিনে সাইট বানাতে চান, তারা আমাদের জানাতে পারেন! আমরা আপনাকে ডোমেইন হোস্টিংসহ আপনার ওয়েবসাইট বানিয়ে দেবো আমাদের Blog Making Package এর মাধ্যমে! অর্থাৎ আমাদের প্যাকেজের মাধ্যমে নিজের ওয়েবসাইট বানালে আপনি ডোমেইন ও হোস্টিং পাবেন সম্পূর্ণ ফ্রিতে, নিজে কেনার ঝামেলা ছাড়াই!

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here