কমতে শুরু করেছে বন্যার পানি

0
302

অনলাইন ডেস্ক: সাগরের সুস্পষ্ট লঘুচাপটি উত্তর বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন উত্তর ওড়িশা, পশ্চিমবঙ্গ ও বাংলাদেশ উপকূলে অবস্থান করছে। অন্যদিকে মৌসুমি বায়ু বাংলাদেশের ওপর সক্রিয় হয়ে উত্তর বঙ্গোপসাগরে প্রবল অবস্থায় বিরাজ করছে। সাগর এখনো উত্তাল রয়েছে। ফলে চার সমুদ্রবন্দরকে ৩ নম্বর সতর্কতা সংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে। সুস্পষ্ট লঘুচাপটি বুধবার রাতে স্থলভাগ অতিক্রম করে দুর্বল হয়ে পড়েছে। এর প্রভাবে বৃহস্পতিবার দেশের বিভিন্ন স্থানে হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টি হয়। এদিকে বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র জানিয়েছে, ঢাকার চারপাশের নদ-নদীর পানি কমতে শুরু করেছে। ফলে ঢাকার নিম্নাঞ্চলের বন্যা পরিস্থিতির আজ থেকে উন্নতি হতে পারে।

আবহাওয়া অফিস বলছে, সুস্পষ্ট লঘুচাপের প্রভাবে বাতাসের গতি দক্ষিণ থেকে পূর্ব দিকে ঘণ্টায় ১০ থেকে ১৫ কিলোমিটার বেগে বইছে। দুদিন আগে অসহনীয় গরমের সময় বাতাসের গতিবেগ ছিল ৩ থেকে ৫ কিলোমিটার। অন্যদিকে দেশের কয়েকটি জেলার ওপর দিয়ে বয়ে যাওয়া মৃদু তাপপ্রবাহ আজও অব্যাহত থাকবে। কয়েক দিনের টানা অসহনীয় গরম বুধবার কিছুটা কমেছে। আবহাওয়া অফিসের তথ্য মতে, গতকাল দেশের অধিকাংশ জেলায় বৃষ্টি হয়েছে। সর্বোচ্চ বৃষ্টি রেকর্ড করা হয়েছে যশোরে ৭৩ মিলিমিটার। অন্যদিকে গতকাল দেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রাও ছিল যশোরে ৩৮.৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস।

আবহাওয়াবিদ রুহুল কুদ্দুস বলেন, সুস্পষ্ট লঘুচাপটি নিম্নচাপে রূপ নেওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়নি। তার আগেই এটি স্থলভাগে উঠে এসেছে। অবশ্য এর প্রভাবে বায়ুচাপে তারতম্যের আধিক্য থাকায় বাতাসের গতিবেগ বেশি হচ্ছে।

এদিকে বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র জানিয়েছে, গাইবান্ধা, বগুড়া, জামালপুর, সিরাজগঞ্জ, টাঙ্গাইল, নওগাঁ, নাটোর, মানিকগঞ্জ, মুন্সীগঞ্জ, ফরিদপুর, মাদারীপুর, চাঁদপুর, রাজবাড়ী, শরীয়তপুর ও নারায়ণগঞ্জের বন্যা পরিস্থিতিও আজ থেকে উন্নতি হতে পারে। এ ছাড়া ব্রহ্মপুত্র ও যমুনা নদীর পানি সমতল থেকে কমতে শুরু করেছে; আজ আরো কমবে। উত্তর-পূর্বাঞ্চলের আপার মেঘনা অববাহিকার প্রধান নদ-নদীর পানি সমতল থেকে কমছে। এটি আজ আরো কমবে। বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের পর্যবেক্ষণে থাকা ১০১ স্টেশনের মধ্যে গত ২৪ ঘণ্টায় পানি কমেছে ৩৫টি স্টেশনের, পানি বেড়েছে ৬২ স্টেশনের ও অপরিবতির্ত আছে চারটি স্টেশনের। বিপৎসীমার ওপরে এখনো পানি বইছে ১৫টি নদীর। বিপৎসীমার ওপরে স্টেশনের সংখ্যা ২৪।

এদিকে গোপালগঞ্জে বন্যার পানি বাড়ার কারণে মধুমতী নদীর বিভিন্ন স্থানে ভাঙন দেখা দিয়েছে। এতে আতঙ্কের মধ্যে রয়েছে ওই সব এলাকার বাসিন্দারা। গোপালগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, মধুমতী নদীতে পানি এখনো বিপৎসীমার ৩৮ সেন্টিমিটার ও মধুমতী বিলরুট চ্যানেলে ৫ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে, যা গত বুধবার যথাক্রমে বিপৎসীমার ৪০ ও ১০ সেন্টিমিটার নিচে দিয়ে প্রবাহিত হয়েছিল। এদিকে বন্যার পানিতে প্রতিদিনই গোপালগঞ্জের নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হচ্ছে। গোপালগঞ্জ সদর, কাশিয়ানী, মুকসুদপুর ও কোটালীপাড়ার কমপক্ষে ২৫ গ্রামের মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে।

সাগরে লঘুচাপ ও পূর্ণিমার প্রভাবে বরিশাল নগরীর পাশ দিয়ে বয়ে যাওয়া কীর্তনখোলা নদীর পানি বুধবার বিকেলে বিপৎসীমার ২০ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়। এতে নদীর পানি উপচে নগরীর অধিকাংশ এলাকা জলমগ্ন হয়ে পড়েছে। কীর্তনখোলাসহ দক্ষিণাঞ্চলের সব নদ-নদীর পানি গতকাল বিকেলে বিপৎসীমা অতিক্রম করে।

সিরাজগঞ্জে গতকাল বিকেলেও যমুনার পানি বিপৎসীমার ২০ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে। ফলে সিরাজগঞ্জের সার্বিক বন্যা পরিস্থিতি অপরিবর্তিত রয়েছে। এখনো পানিবন্দি অবস্থায় রয়েছে জেলার প্রায় পাঁচ লাখ মানুষ।

ব্রহ্মপুত্রসহ গাইবান্ধার সব নদ-নদীর পানি কমতে শুরু করায় জেলার সার্বিক বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে। পানি উন্নয়ন বোর্ড বুধবার সন্ধ্যায় জানিয়েছে, ব্রহ্মপুত্রের পানি বিপৎসীমার সমান্তরাল, ঘাঘট বিপৎসীমার ১৩ সেন্টিমিটার, তিস্তা বিপৎসীমার ৫৯ সেন্টিমিটার ও করতোয়া নদীর পানি বিপৎসীমার ৭ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে।

টাঙ্গাইলের মধুপুরে বন্যা ও জলাবদ্ধতায় বিএডিসির ধানের জমি প্লাবিত হয়েছে। ডুবে যাওয়া বীজতলার পানি সেচের মাধ্যমে টিকিয়ে রাখার নানা চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে খামার কর্তৃপক্ষ।

কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারীতে দুধকুমার, ফুলকুমার, কালজানী, সংকোশ, গঙ্গাধরসহ সব নদ-নদীর পানি কমতে শুরু করেছে। দুধকুমার নদীর ভাঙনে বিলীনের পথে উপজেলার পাইকেরছড়া ইউনিয়নের পাইকডাঙ্গা গ্রামটি। ভাঙনের মুখে পড়েছে ওই গ্রামের তিনটি মসজিদসহ কয়েকশ হেক্টর আবাদি জমি ও শতাধিক বসতবাড়ি।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here