করোনাকালীন হজের প্রস্তুতি সম্পন্ন কোয়ারেন্টাইনে ১০ হাজার হজযাত্রী

2
258

দেওয়ানবাগ ডেস্ক: বৈশ্বিক করোনা মহামারির ভয়াল পরিস্থিতিতে সীমিত পরিসরে পবিত্র হজের প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে সৌদি সরকার। তবে শুধু সৌদি আরবে বসবাসকারী অন্তত ১৬০টি দেশের অধিবাসী ও দেশটির নাগরিকদের সমন্বয়ে ১০ হাজার মানুষ এবার হজ পালন করবেন। প্রত্যেক হজযাত্রীর স্বাস্থ্য পরীক্ষা করে প্রয়োজনীয় ওষুধ ও স্বাস্থ্যবিধি প্রদান করা হয়েছে। এরপর নির্বাচিতদের রবিবার থেকে সাত দিনের হোম কোয়ারেন্টাইনে পাঠানো হয়েছে।

সৌদি আরবের গণমাধ্যমগুলো বলছে, সাত দিনের কোয়ারেন্টাইন শেষে ৩ জিলহজ পবিত্র মক্কায় এসে হজযাত্রীগণ আরো চার দিন কোয়ারেন্টাইনে থাকবেন। অতঃপর ৮ জিলহজ বাদ ফজর রওনা হবেন পবিত্র মিনার উদ্দেশে।

কঠোর নিরাপত্তা, কড়া স্বাস্থ্যবিধি : এদিকে রবিবার ভোর থেকে কড়া নিরাপত্তার চাদরে ঢেকে ফেলা হয়েছে মক্কার পবিত্র স্থানগুলো। মক্কার নির্দিষ্ট এলাকাসহ মিনা, মুজদালিফা ও আরাফাতে সর্বসাধারণের প্রবেশ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। এসব স্থানে অনুমোদিত ব্যক্তি ছাড়া কেউ প্রবেশ করলে তাকে ১০ হাজার সৌদি রিয়াল জরিমানা করা হবে। এসব স্থানের প্রবেশপথে চেকপোস্ট বসানো হয়েছে। আরব নিউজ ও আল আরাবিয়া হজ ও ওমরাহ মন্ত্রণালয়ের সূত্র জানায়, মিনা, জামারাত, মুজদালিফা ও আরাফাতের ময়দানের যে অংশে হাজিরা অবস্থান করবেন, সেসব স্থান জীবাণুমুক্ত করা হয়েছে। এবার হাজিরা মিনার তাঁবুতে থাকবেন না, নির্দিষ্ট কতগুলো ভবনে অবস্থান করবেন। এছাড়া তাওয়াফের সময় কাবা শরিফ স্পর্শ ও হাজরে আসওয়াদে চুম্বন করা যাবে না। নির্দিষ্ট দূরত্বে থেকে তাওয়াফ ও সায়ি সম্পন্ন করতে হবে। নামাজের জামাতেও দূরত্ব বজায় রেখে দাঁড়াতে হবে। সর্বাবস্থায় হজযাত্রীদের জন্য মাস্ক পরা বাধ্যতামূলক। হজযাত্রীরা বাইরে থেকে কোনো ধরনের খাবার বা পানীয় আনতে পারবেন না, খাবার ও পানি কর্তৃপক্ষ সরবরাহ করবে। কোরবানি সম্পন্ন করতে হবে ব্যাংকের মাধ্যমে। কোনো হজযাত্রী নিজে কোরবানির পশু ক্রয় কিংবা জবাই করতে পারবেন না।

আগামী ২৯ জুলাই, ৮ জিলহজ থেকে হজের আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়ে চলবে পাঁচ দিন।হজ নিবন্ধন বাতিলের আবেদন শুরু : সৌদি সরকারের নিষেধাজ্ঞার কারণে নিবন্ধন করেও যারা হজে যেতে পারেননি, তারা নিবন্ধ বাতিল করে টাকা তুলে নেওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন। ধর্ম মন্ত্রণালয়ের হজ অনুবিভাগ জানায়, হজ নিবন্ধন বাতিলের আবেদন নেওয়া শুরু হয়েছে। তবে কেউ নিবন্ধন বাতিল না করলে তার নিবন্ধন ২০২১ সালের জন্য কার্যকর থাকবে। ধর্ম মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে বলা হয়, সরকারি ও বেসরকারি উভয় ব্যস্থাপনার যেসব প্রাকনিবন্ধিত ব্যক্তি ২০২০ সালের হজের জন্য নিবন্ধন করেছিলেন, তাদের নিবন্ধন ২০২১ সালের জন্য বৈধ থাকবে। নিবন্ধনকারী হজযাত্রীদের জমা টাকা ২০২১ সালের প্যাকেজ মূল্যের সঙ্গে সমন্বয় করা হবে। সরকারি ব্যবস্থাপনার হজ নিবন্ধন বাতিলকারী ব্যক্তির ক্ষেত্রে সোনালী ব্যাংক থেকে প্রাকনিবন্ধন ও নিবন্ধনের জন্য জমা সমুদয় অর্থ অনলাইনে সরাসরি হজযাত্রীর অ্যাকাউন্টে স্থানান্তর করা হবে। কোনো হজযাত্রীর ব্যাংক হিসাব না থাকলে তার ইচ্ছানুযায়ী পে-অর্ডারের মাধ্যমে পরিশোধ করা হবে। এজন্য তাকে সংশ্লিষ্ট ব্যাংকে নিবন্ধন বাতিল ভাউচার ও জাতীয় পরিচয়পত্র প্রদর্শন করতে হবে। বেসরকারি ব্যবস্থাপনার হজযাত্রীদের ক্ষেত্রে নিবন্ধনের জন্য জমা সমুদয় অর্থ হজযাত্রীর ইচ্ছানুযায়ী সরাসরি নিবন্ধনকারী ব্যাংক থেকে অনলাইনে হজযাত্রীর অ্যাকাউন্টে স্থানান্তর অথবা এজেন্সির মাধ্যমে দেওয়া হবে। এক্ষেত্রে প্রাকনিবন্ধনের জন্য জমা অর্থ আগের মতো পরিচালক, হজ অফিস, ঢাকা থেকে হজযাত্রীর ইচ্ছানুযায়ী সরাসরি তাকে অথবা এজেন্সির মাধ্যমে ফেরত দেওয়া হবে

2 COMMENTS

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here