করোনাকালে বাংলাদেশ-সহ সারাবিশ্বে নারী ও কন্যাশিশুর প্রতি সহিংসতা বৃদ্ধি

0
155

আবুল কালাম আজাদ খান: করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ ঠেকাতে দীর্ঘদিন সারাবিশ্বে লকডাউন ছিল। সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিতকরণ ও স্বাস্থ্যবিধি মেনে নিজেকে সুরক্ষার আহ্বান জানানো হচ্ছে বারবার। ফলে বাংলাদেশ-সহ গোটা বিশ্বের বিপুলসংখ্যক মানুষকে ঘরে থাকতে বাধ্য করেছে। কিন্তু কীভাবে কেটেছিল মানুষের সময়? ঘরে থাকা মানুষের প্রাত্যহিক রুটিন পাল্টে গিয়েছে। নারী-পুরুষ নানা পদ রান্নার কৌশলটা রপ্ত করার চেষ্টা করছে, ঘরের কাজে নারীর সহায়ক হয়ে পাশে থাকছে অনেক পুরুষ। কেউ কেউ আবার ডুবে থাকছে সোশ্যাল মিডিয়ার নিউজ ফিড ও ইউটিউব চ্যানেলগুলোতে। ফলে রাতের ঘুম ভোরে, আবার অনেকের ভোর হচ্ছে দুপুরে। কোনো কাজে নেই কোনো তাড়া, নেই কোনো ব্যস্ততাও। সময় পার করাটাই যেন বড় দায় হয়ে দাঁড়িয়েছে। শিশুরা আটকে আছে ঘরে। স্কুলে যাওয়া বন্ধ। বন্ধুদের সঙ্গে ছোটাছুটি আর খেলাধুলা সবই প্রায় বন্ধ। বাইরে বেরুতে মানা। তাই শিশুর মনোজগতে ঘটছে নীরব যুদ্ধ। লকডাউনের কারণে ক্রমেই বাড়ছে মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাপনের ভবিষ্যৎ শঙ্কাটি। তৈরি হচ্ছে অনিশ্চিত জীবনবোধের।

তবে এটি গোটা দেশের পুরো চিত্র নয়। এর উল্টো চিত্রও রয়েছে। সবার দৃষ্টি যখন করোনার দিকে তখন প্রায় নীরবেই বেড়ে যাচ্ছে নারী ও শিশু নির্যাতনের সংখ্যা। যেসব পরিবারে স্বামীরা যে কোনো অজুহাতে বৌকে মারধর করেন, সবাই ঘরে থাকায় সেসব পরিবারে নির্যাতনকারী স্বামী এখন নির্যাতনের আরও নতুন নতুন ছুঁতো খুঁজে পাচ্ছেন। বর্তমান এই কঠিন সময়ে এ ধরনের পুরুষদের কাছে স্ত্রীরা হয়ে উঠছেন তাদের রাগ দেখানোর সহজ জায়গা। লকডাউনে ওই পরিবারগুলোতে নারী নির্যাতনের ঘটনা ঘটছে শিশুদের সামনেই। যা শিশুর মনোজগতে বিরূপ প্রভাব তৈরি করছে, বাধাগ্রস্ত করছে তার মানসিক বিকাশকেও।  লকডাউনের এ সময়ে ঘরে আবদ্ধ অনেক পুরুষই অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা ও ভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার ভয়ে হতাশাগ্রস্ত ও চিন্তিত হয়ে পড়ছেন। ফলে বাড়ছে তাদের মানসিক চাপও। নিজেকে হালকা করার কৌশল হিসেবে কারও কারও সব চাপ ও ক্ষোভ গিয়ে পড়ছে ঘরে থাকা নারী ও শিশুটির ওপর। এভাবেই বাড়ছে নারী ও শিশু নির্যাতনের পরিমাণ।

‘মানুষের জন্য ফাউন্ডেশন’ এর নির্বাহী পরিচালক শাহীন আনাম বলেন, আমরা মানবাধিকার ও সুশাসন নিয়ে ১৮ বছর ধরে কাজ করছি। এই করোনাকালের এপ্রিল মাসেও আমরা জরিপ করেছিলাম। ১৭ হাজার নারী ও শিশুর সঙ্গে কথা বলে জেনেছি এর মধ্যে ৪ হাজার ২৪৯ নারী ও শিশু সহিংসতার শিকার হয়েছে। মে মাসে ৫৩ হাজার নারী ও শিশুর সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ১৩ হাজারের বেশি নারী ও শিশু সহিংসতার শিকার। এর মধ্যে ১১ হাজার তিনশ নারী ও ২ হাজার শিশু।

 যার মধ্যে প্রথমবারের মতো নির্যাতিত ১ হাজার ৬৭২জন। তাদের মধ্যে ৮৪৮ জন শারীরিক নির্যাতন, প্রায় ২ হাজার নারী মানসিক নির্যাতন ও ১ হাজার ৩০৮ জন অর্থনৈতিক নির্যাতন (খাদ্য ও অর্থাভাব) এবং ৮৫ জন যৌন সহিংসতার শিকার হয়েছেন। এছাড়া পরিবারিক নির্যাতনের শিকার হয়েছে ৪২৪ শিশু।

এসব নির্যাতনের মধ্যে পারিবারিক, মানসিক ও যৌন নির্যাতন রয়েছে। আমরা ৫০টির বেশি জেলায় এই জরিপ করেছি। তাতে দেখছি, এই করোনাকালেও নারীর প্রতি সহিংসতা বেড়েছে। সেইসঙ্গে এই সময়ে বেড়েছে বাল্যবিয়ে। করোনা ভাইরাসের কারণে ঘোষিত সাধারণ ছুটির মধ্যে সব ধরনের জনসমাগম নিষিদ্ধ হলেও এর মধ্যেই ১৭৫টিরও বেশি বাল্যবিয়ের ঘটনা ঘটেছে। এর বাইরেও আড়াই শতাধিক  বাল্যবিয়ে বন্ধ করা হয়েছে।

বাংলাদেশে ধর্ষণের বিচার হয় মাত্র তিন শতাংশ। বাকি ৯৭ শতাংশ ঘটনার বিচারই হয় না। ধর্ষণ বিষয়টি প্রমাণ করা সবচেয়ে কঠিন কাজ। যেখানে ভিকটিমকেই প্রমাণ করতে হয় যে, সে ধর্ষণের শিকার হয়েছে। তার ওপর আমাদের বিচার ব্যবস্থা এখনো তেমন নারীবান্ধব নয়। যখন একজন নারী বা মেয়ে ধর্ষণের শিকার হয়ে বিচার চাইতে যান, তখন তাকে নানা ধরনের হয়রানিতে পড়তে হয়। সেইসঙ্গে একটি পরিবারের পক্ষে দীর্ঘদিন মামলা চালিয়ে নেওয়া সম্ভব হয় না। আবার কেউ কেউ মামলার মাঝপথে এসে ধর্ষকের সঙ্গে সমঝোতা করে ফেলে। এটাই হলো বাস্তবতা।

২০১০ সালে পারিবারিক দমন আইন করা হয়। কিন্তু আমরা সেটা ভালোভাবে বাস্তবায়ন করতে পারছি না। অনেকগুলো আইন আছে যেখানে নারী ও শিশুদের সুরক্ষা দেওয়ার কথা; কিন্তু বাস্তবায়ন করায় বিরাট একটা গলদ রয়ে গেছে। আমরা আইন প্রণয়নে তৎপর থাকি, কিন্তু তারপর বাস্তবায়ন করার বিষয়ে গুরুত্ব দিয়ে কাজ করি না। তবে নারীরা যে নিজের ঘরে সুরক্ষিত না, এটা আমাদের জন্য লজ্জাকর ও দুঃখজনক। তাই সবার মধ্যে একটা পরিবর্তন আনতে হবে। সেটা হলো- নারীদের সম্মান করা। শুধু আইন দিয়ে বা পুলিশ দিয়ে নারীর প্রতি সহিংসতা কমানো যাবে না। ঘরে ঘরে নারীর প্রতি সম্মান এবং তাদের মর্যাদা রক্ষার শিক্ষা আমাদের দিতে হবে।’

মহিলা পরিষদের সাধারণ সম্পাদক ডা. মালেকা বানু স্বাক্ষরিত উক্ত প্রতিবেদনে দেখা যায়, ধর্ষণের শিকার ১০১ জনের মধ্যে ৬৯ জন ধর্ষণ ও ২৫ জন গণধর্ষণের শিকার হয়েছে। এ সময় ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়েছে সাত জনকে। এ ছাড়া ধর্ষণের চেষ্টা করা হয়েছে ১৫ জনকে। উক্ত এক মাসে শ্লীলতাহানির শিকার হয়েছে তিন জন। যৌন নির্যাতনের শিকার হয়েছে ছয় জন। একই সময় অ্যাসিড আক্রান্তের শিকার হয়েছে এক জন। অগ্নিদগ্ধের শিকার হয়েছে চার জন। অপহরণের শিকার হয়েছে মোট ১৪ জন। এ সময় পতিতালয়ে বিক্রি করা হয় এক জনকে। একই সময় বিভিন্ন কারণে ৬২ জন নারী ও কন্যাশিশুকে হত্যা করা হয়েছে। এদের মধ্যে যৌতুকের কারণে হত্যা করা হয়েছে পাঁচ জনকে। এ সময় গৃহপরিচারিকা হত্যা করা হয়েছে দুই জন এবং এক জন গৃহপরিচারিকা আত্মহত্যা করতে বাধ্য হয়। গত মাসে যৌতুকের কারণে নির্যাতন করা হয়েছে সাত নারীকে। একই সময় শারীরিক নির্যাতনের শিকার হয়েছে ১৯ জন নারী ও কন্যাশিশু এবং উত্ত্যক্ত করা হয় পাঁচ জনকে। গত এক মাসে বিভিন্ন নির্যাতনের কারণে ১৭ জন নারী আত্মহত্যা করতে বাধ্য হয়েছে। ৩৪ জন নারী ও কন্যাশিশুর রহস্যজনক মৃত্যু হয়েছে। এ সময় ফতোয়ার শিকার হয়েছে এক জন। বাল্যবিবাহ হয়েছে এক কন্যাশিশুর। নারী নির্যাতনের ঘটনা বেড়েছে। কিন্তু সব তথ্য গণমাধ্যম পর্যন্ত পৌঁছায় না। নারী ও কন্যাশিশুর প্রতি সহিংসতার ঘটনায় গভীর উদ্বেগ ও তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে যথাযথ আইনি ব্যবস্থা গ্রহণসহ দ্রুত গ্রেফতার এবং সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্ত সাপেক্ষে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির জোর দাবি জানায়। এ ধরনের প্রতিরোধে আশু কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সরকার, প্রশাসনের বিশেষ দৃষ্টি আকর্ষণ করে।

ডা. ফওজিয়া মোসলেম বলেন, নারী ও কন্যার জীবন অনেক ক্ষেত্রে দুর্বিষহ হয়ে উঠছে। সার্বিকভাবে নারী আন্দোলনের ক্ষেত্রে বড় ধরনের প্রভাব ফেলবে। নারীর প্রতি সৃষ্ট চ্যালেঞ্জসমূহ চিহ্নিত করে দূর করতে হলে আলাদাভাবে বিনিয়োগ করতে হবে। বাংলাদেশ মধ্যম আয়ের দেশে উন্নীত হওয়ার পথে ছিল। এই ধারাকে অব্যাহত রাখতে হলে নারী ও কন্যাশিশুর প্রতি সহিংসতা প্রতিরোধ করতে হবে। সম্প্রতি নির্বাচন কমিশনের আরপিও সংশোধনের বিষয়টি উল্লেখ করে তিনি বলেন, নারীর রাজনৈতিক অগ্রগতির ক্ষেত্রকে এগিয়ে নিতে রাজনৈতিক দলে ৩৩% নারী প্রতিনিধিত্ব বিষয়ে পরিবর্তন আনার ক্ষেত্রে নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্তে প্রতিবাদ জানিয়েছেন। তিনি নারী-পুরুষের সমতাপূর্ণ সমাজ গঠনে পুরুষদের এগিয়ে আসার পাশাপাশি সকলকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান।

বাংলাদেশের জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের সদস্য ও নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের অনুষদ সদস্য ড. নমিতা হালদার বলেন, ‘করোনাকালে নারী ও শিশু নির্যাতন উদ্বেগজনক হারে বেড়ে গেছে। বর্তমানে একজন অপরাধপ্রবণ পুরুষ ঘরে থাকতে থাকতে অস্থির সময় পার করছেন। ফলে তিনি নারী নির্যাতন করছেন। তিনি বলেন, স্বামীর নামে নালিশ করলে অনেক নারী গৃহহারা হওয়ার ভয় পান। তাই অনেক নারী সবকিছু বলতে চান না। এরপরও আমি মনে করি, নির্যাতনের শিকার নারীদের এগিয়ে এসে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সাহায্য নিতে হবে। সরকার এবং সংগঠনগুলো নারীদের পাশে থাকলে তারা সুরক্ষিত থাকবে।

করোনা ভাইরাসের বিস্তার ঠেকাতে লকডাউন দিয়েছে বিশ্বের বহু দেশ। ফলে পরিবারের মধ্যে একই রকম নির্যাতন বেড়েছে অন্যান্য দেশেও। এ সময় ঘরের ভেতর যারা যৌন নির্যাতনের মুখে পড়ছেন তারা এই মহামারির নীরব শিকার বলে উদ্বেগ ক্রমশ বাড়ছে। কেননা সাধারণ সময়ে এসব নির্যাতন থেকে বাঁচতে যারা বিভিন্ন সংস্থার সহায়তা পেতেন বা সাহায্য নিতেন সেরকম নারীদের জন্য এখন কঠিন সময়। কারণ লকডাউনে থাকায় তারা না যেতে পারছেন বাইরে বা বাইরে থেকে তাদের সাহায্য করতে আসতেও পারছে না সংস্থাগুলো। ব্রিটেনে নির্যাতনের ঘটনা রিপোর্ট করার জন্য যে হটলাইনের ব্যবস্থা রয়েছে সেখানে ৬৫ শতাংশ বেশি টেলিফোন কল এসেছে বলে জানিয়েছে সরকার। প্রতিবেশী দেশ ভারতে লকডাউন শুরুর প্রথম ১১ দিনের মধ্যে ফোনে অন্তত ৩ লাখ ৭ হাজার নারী ও শিশু নির্যাতনের অভিযোগ পাওয়া গিয়েছে। যার মধ্যে ৯২ হাজার ১০৫টি ঘটনাই শিশু নির্যাতনের। আবার ইউএনএফপিএ পরিচালিত বৈশ্বিক সমীক্ষা বলছে, কোভিড-১৯ মহামারিতে বিশ্বব্যাপী গৃহ নির্যাতন বেড়েছে ২০ শতাংশ।

এ বিষয়ে হুঁশিয়ারি দিয়েছে জাতিসংঘও। তারা বলছে দরিদ্র দেশগুলোতে ছোটো ঘরের মধ্যে যারা নির্যাতনের শিকার হচ্ছেন, তাদের পক্ষে এসব অত্যাচার নির্যাতনের কথা বাইরে জানানোর সুযোগ এখন ক্রমেই সীমিত হয়ে পড়ছে। জাতিসংঘের নারী বিষয়ক সংস্থা ইউএন উইমেনের নির্বাহী পরিচালকের মতে, উন্নয়নশীল বেশিরভাগ দেশেই আমেরিকা ও ব্রিটেনের মতো হটলাইনে সাহায্য চাইবার মতো ব্যবস্থা নেই বা থাকলেও তৃণমূলের অধিকাংশ নারীই তা জানেন না। ফলে এসব দেশে নিম্ন আয়ের পরিবারগুলোতে নির্যাতনকারীর অত্যাচারের প্রতিকার চাওয়া বর্তমান সময়ে একটি বড় চ্যালেঞ্জ। যে চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হবে বাংলাদেশকেও। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থার তথ্য মতে, যে কোনো ধরনের সংকটে দুর্বল গ্রুপ হিসেবে নারী ও শিশুদের নির্যাতন এবং তাদের প্রতি অবহেলার ঝুঁকি বেড়ে যায়। এ কারণেই বিশ্বব্যাপী চলা হোম কোয়ারেন্টাইনে নির্যাতনকারীদের হাতে বেশি নির্যাতিত হচ্ছে নারী ও শিশুরা। পরিবারগুলোর সবচেয়ে খারাপ সময়ে যখন অবিশ্বাস্য চাপ থাকে তখন এমন নির্যাতনের ঝুঁকিও বেড়ে যায়।

লন্ডনের নিউহ্যাম’র কাউন্সিলর আয়েশা চৌধুরী বলেন, ‘শুধু বাংলাদেশ নয়, সারাবিশ্বেই নারীরা নির্যাতনের শিকার হচ্ছে। আর এই নির্যাতন নতুন নয়। তবে আশার কথা হচ্ছে, নারীরা বেরিয়ে আসছে এবং অভিযোগ করার সুযোগ পাচ্ছে। ইংল্যান্ডে বর্তমানে সাড়ে ৩ মিলিয়ন নারী নির্যাতনের শিকার হচ্ছে। এই চিত্রটা আগেও ছিল। এখনো নারী ও শিশু নির্যাতিত হচ্ছে। তবে এখানে সামাজিক সুরক্ষাটা বেশ শক্ত।

সারাবিশ্বে যেমন নারী নির্যাতন বেড়েছে, তেমনি বেড়েছে বাংলাদেশেও। এ জরিপের ফল আমাদের সমাজের এক দুর্বিষহ চিত্রকে সামনে নিয়ে এলো। বিষয়টি নিয়ে বিশেষজ্ঞরা বলছেন ঠিক এভাবে করোনা ভাইরাসে সংক্রমিত হয়ে বিশ্বে মৃত্যুর হার বেড়ে চলেছে। করোনাকালে বাড়ছে বেকারত্ব। ফলে বাড়ছে মানুষের উদ্বেগও। এসব কারণেও নারী ও শিশুরা ঘরে-বাইরে নির্যাতনের শিকার হচ্ছে। আবার এই সংকটময় অবস্থায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর মনোযোগ থাকছে অন্যদিকে। ফলে অপরাধীদের তৎপরতা যাচ্ছে বেড়ে। করোনা ভাইরাসের এই সংকট যদি দীর্ঘ সময় থাকে, তবে সমাজে নারী ও শিশু নির্যাতনের মতো অপরাধ আরও বেড়ে যাবে। তাই এখনই এই বিষয়ে পদক্ষেপ নিতে হবে, নিতে হবে দীর্ঘ পরিকল্পনাও। তাই সরকারকে করোনার কথা যেমন বলতে হবে, তেমন নারী নির্যাতনের কথাও বলতে হবে।

যেভাবে আমরা করোনা ও স্বাস্থ্যবিধিতে নজর দিয়েছি, সেইভাবে নারী ও শিশু নির্যাতনের বিষয়েও সরকারকে নজর দিতে হবে। সংশ্লিষ্ট দফতরকে দায়িত্ব নিয়ে কাজ করতে হবে।’ মাঠ প্রশাসনকে নারী ও শিশু নির্যাতন বিষয়ে সক্রিয় রাখা এবং করোনা পরিস্থিতিতে নারী ও শিশু নির্যাতন ট্রাইব্যুনাল ‘ভার্চুয়াল কোর্ট’-এর মাধ্যমে পরিচালনা করা যেতে পারে। পাশাপাশি নারীর প্রতি সহিংসতা বন্ধে হটলাইন ১০৯ ও পুলিশি সহায়তার হটলাইন ৯৯৯ আরও কার্যকর ও সক্রিয় রাখা বিশেষ প্রয়োজন। পাশাপাশি দরকার সামাজিক উদ্যোগেরও। নারীর প্রতি সম্মানের বিষয়টিকে গুরুত্ব দিয়ে গণমাধ্যমগুলোও প্রচার কার্যক্রম হাতে নিতে পারে। এ ধরনের প্রতিরোধে আশু কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সরকার, প্রশাসনের বিশেষ দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।

[লেখক: শিশু সংগঠক, কেন্দ্রীয় চাঁদের হাট]

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here