করোনার টিকা আবিষ্কারে অন্ধকারে চিকিৎসা বিজ্ঞান

0
308

চিকিৎসা ডেস্ক: কবে বের হবে করোনাভাইরাসের টিকা বা ওষুধ? যাতে আক্রান্ত বা মৃতের সংখ্যায় রাশ টানা সম্ভব হবে। কবেইবা গোটা বিশ্বে নির্মূল করা যাবে এই ভয়ঙ্কর ভাইরাসকে? বিজ্ঞানী, ভাইরোলজিস্ট ও চিকিৎসকদের একাংশ এ ব্যাপারে এখনও পর্যন্ত একেবারেই রয়েছেন অন্ধকারে। কারণ, তাঁদের হাতে এখনও পর্যন্ত এই ভাইরাস সম্পর্কে তেমন পর্যাপ্ত তথ্যাদি নেই, যার ভিত্তিতে তাঁরা আমাদের এই সঙ্কট থেকে বেরিয়ে আসার দিনক্ষণ জানাতে পারেন।

বিজ্ঞানী ও ভাইরোলজিস্টদের একাংশ বলছেন, সমস্যা সামলে উঠতে আরও ৯/১০ মাস লাগতে পারে। আবার তা গড়িয়ে যেতে পারে এক থেকে দেড় বছরেও। কারণ, কোনও ভাইরাসকে বুঝে উঠে কোনও সফল ওষুধ বা টিকা আবিষ্কার করতে ও বাজারে আনতে যতটা সময় লাগে, করোনা এখনও আমাদের সেই সময় বা সুযোগ কোনওটাই দেয়নি। যদি ধরে নেওয়া যায় ডিসেম্বরের শেষদিকে এসেছে এই  নতুন ভয়ঙ্কর ভাইরাস, তা হলে তাকে চেনা-বোঝার জন্য মাত্র তিন মাস সময় মিলেছে। যা কোনও ভাইরাসকেই বুঝে ওঠার পক্ষে পর্যাপ্ত নয়। করোনার ক্ষেত্রে সমস্যাটা আরও বেশি। কারণ, এই ভাইরাস খুব অল্প সময়ের মধ্যে খুব দ্রুত নিজেদের জিনসজ্জা ও আচার, আচরণ ইতিমধ্যেই বহু বার বদলে ফেলেছে। ফলে, তাদের বুঝে ওঠার কাজটা আরও কঠিন হয়ে গিয়েছে।

ভাইরাস বিশেষজ্ঞ ভারতের অমিতাভ নন্দী বলছেন, “এই সঙ্কটের জন্ম হওয়ার পর দেখা গিয়েছে, যদি ১০০ জন রোগীর ক্ষেত্রে করোনা সংক্রমণের প্রাথমিক উপসর্গগুলি পাওয়া গিয়ে থাকে, তা হলে আরও অন্তত ১২০/১৩০ জনের ক্ষেত্রে তেমন কোনও প্রাথমিক উপসর্গের হদিশ পাওয়া যায়নি, অথচ তাঁদের শরীরেও রয়েছে কোভিড ১৯। এই সব মানুষ মূলত ইনকুবেশনে রয়েছেন। এবং এদের সিংহভাগেই কোনও দিন রোগের উপসর্গ প্রকাশ পাবে না। অথচ তাঁরা ক্যারিয়ার বা বাহক হয়েই ঘুরে বেড়াবেন। আবার কয়েক জনের ক্ষেত্রে দেখা গিয়েছে, অল্প কয়েক দিন পরেই ওই সব রোগীর শরীরে থাকা করোনাভাইরাস ইনকিউবিশন পর্ব চুকিয়ে ফেলে সক্রিয় হয়ে উঠেছে। তখন করোনা সংক্রমণের প্রাথমিক উপসর্গগুলি ওই রোগীদের শরীরে দেখা গিয়েছে।”

শুধু তাই নয়, কোনো রোগীর দেহে থাকা করোনাভাইরাসের এই ইনকিউবিশন পর্ব ঠিক কত দিনের হবে, সেটাও নিখুঁত ভাবে বলা যায় না। সেটা এক রোগী থেকে অন্য রোগীকে বদলে যেতে পারে।

মোহালির ‘ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অফ সায়েন্স এডুকেশন অ্যান্ড রিসার্চের (আইসার মোহালি)’ মলিকিউলার বায়োলজির অধ্যাপক ইন্দ্রনীল বন্দ্যোপাধ্যায় বলছেন, “সেই রোগী কোন দেশে কী সামাজিক ও অর্থনৈতিক অবস্থায় রয়েছেন, সেই দেশের জনসংখ্যার ঘনত্ব কতটা, গড় তাপমাত্রা কতটা, কেমন সেই দেশের জলবায়ু, তার উপর নির্ভর করেও বদলে যেতে পারে বিভিন্ন রোগীর দেহে থাকা করোনাভাইরাসের ইনকিউবিশনের মেয়াদ। কারও ক্ষেত্রে সেই মেয়াদ ২ থেকে ৪ দিন হতে পারে। কারও ক্ষেত্রে হতে পারে ৭ বা ১৫ দিন। আবার কারও কারও ক্ষেত্রে তা এক মাসও হতে পারে। তার মানে, কারও কারও ক্ষেত্রে করোনা সংক্রমণের প্রাথমিক উপসর্গগুলি এক মাস পরেও দেখা যেতে পারে।’’

কলকাতার বিশিষ্ট চিকিৎসক সুশ্রুত বন্দ্যোপাধ্যায়ও মনে করেন, “করোনা সঙ্কট থেকে বেরিয়ে আসার দিনক্ষণের পূর্বাভাস দেওয়াটা এখন মূর্খতা হবে। টিকা, নতুন ওষুধ বা চালু আন্টিভাইরাল ড্রাগগুলি দিয়ে ‘এটা না হলে ওটা’ পদ্ধতিতে এখন নানা পরীক্ষা নিরীক্ষা চলছে। কিন্তু সেগুলির কোনোটাই করোনা আক্রান্তকে পুরোপরি সারিয়ে তুলতে পারবে বলে আমার মনে হয় না।”

অমিতাভ জানাচ্ছেন, ওই ওষুধগুলি বানানো হয়েছে কোনও বিশেষ একটি ভাইরাসের কোনটা দুর্বল অংশ তা জেনে। সেই ভাইরাসের সেই দুর্বল অংশে আক্রমণের উদ্দেশে। সেই কৌশল করোনাভাইরাসের ক্ষেত্রেও যে পুরোপুরি সফল হবে তা সুনিশ্চিত ভাবে বলার জন্য আমাদের যতটা সময় পাওয়া প্রয়োজন, করোনা এখনও সেই সময়টা আমাদের দেয়নি।

তবে অমিতাভ ও ইন্দ্রনীল দু’জনেই মনে করেন, সভ্যতা করোনার আচমকা আক্রমণে দিশেহারা হয়ে পড়লেও নিশ্চিহ্ন হয়ে যাবে না। মানুষের স্বাভাবিক অভিযোজন ক্ষমতার জন্যই সেটা সম্ভব হবে। তবে সেটা কত দিনে তার পূর্বাভাস দেওয়া অসম্ভব বলেই মনে করছেন বিজ্ঞানী, ভাইরোলজিস্ট ও চিকিৎসকরা।

সূত্র: আনন্দবাজার   

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here