করোনার প্রভাবে ঢাকা ছেড়েছে ১৬ শতাংশ মানুষ

0
246

দেওয়ানবাগ ডেস্ক: মহামারি করোনা ভাইরাসের প্রভাবে ঢাকা ছেড়ে গেছেন ১৫ দশমিক ৬ শতাংশ মানুষ। বাড়িভাড়া, চিকিৎসা খরচ, যাতায়াতের ব্যয় এবং অন্য নানামুখী ব্যয় মেটাতে না পেরেই এসব মানুষ ঢাকা ছেড়েছে। অতি দরিদ্ররা আরো দরিদ্র হয়ে পড়েছেন। এই সময়ে ১৭ শতাংশ মানুষ বেকার হয়েছেন এবং ৭ শতাংশ মানুষ পেশা পরিবর্তন করেছেন। পাওয়ার অ্যান্ড পার্টিসিপেশন রিসার্চ সেন্টার (পিপিআরসি) ও ব্র্যাক ইনস্টিটিউট অব গভর্ন্যান্স ডেভেলপমেন্টের (বিআইজিডি) এক যৌথ জরিপে এ তথ্য উঠে এসেছে। গত মঙ্গলবার দুই প্রতিষ্ঠানের এক যৌথ অনলাইন সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানানো হয়। বিআইজিডি নির্বাহী পরিচালক ড. ইমরান মতিন ‘লাইভলিহুড, কোপিং অ্যান্ড রিকভারি ডিউরিং কোভিড-১৯’ শীর্ষক জরিপের ফল তুলে ধরেন। তিনি জানান, সারা দেশে ৭ হাজার ৬৩৮ জনের ওপর একটি জরিপ করা হয়েছে। ফেব্রুয়ারি-মার্চ মাসে যাদের কাজ ছিল, তারা এপ্রিল-মে-জুন মাসে গিয়ে বেকার হয়ে পড়েন। সবচেয়ে বেশি বেকার হয়েছেন নারী, অদক্ষ শ্রমিক ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা। আর গৃহকর্মী নারীদের মধ্যে ৫০ শতাংশের বেশি বেকার হয়েছেন।
গত ফেব্রুয়ারি থেকে জুনের মধ্যে পরিচালিত গবেষণায় বলা হয়, জুনে এসে অতি দরিদ্র মানুষের আয় কমেছে ৩৪ শতাংশ। অর্থাৎ ফেব্রুয়ারিতেও যারা প্রতিদিন ১০০ টাকা আয় করতেন, জুনে তাদের আয় ৩৪ টাকা কমে ৬৬ টাকায় দাঁড়িয়েছে। এতে অতি দরিদ্ররা আরো দরিদ্র হয়ে পড়েছেন। তিন বেলা খাবার জোটানোই এখন তাদের প্রধান সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
জরিপে আরো বলা হয়, করোনার শুরুতে গত এপ্রিল মাসে দেশে দারিদ্র্যের হার ৪৩ দশমিক ৮ শতাংশ হলেও জুন মাসে এসে তা দাঁড়িয়েছে ৪২ দশমিক ৮ শতাংশে। জুন মাসে লকডাউন কিছুটা শিথিল থাকায় এপ্রিলের তুলনায় দারিদ্র্য ১ শতাংশ কমেছে। এ সময়ে সবচেয়ে বেশি আয় কমেছে রিকশাচালকদের। তাদের প্রায় ৫৪ শতাংশের আয় কমেছে। এরপরই রয়েছে ছোট ছোট ব্যবসায়ী, পরিবহন ও অদক্ষ শ্রমিকরা।
পিপিআরসির নির্বাহী চেয়ারম্যান ড. হোসেন জিল্লুর রহমান বলেন, বেঁচে থাকার তাগিদে মানুষ এখনো বাধ্য হয়ে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে কাজে বের হচ্ছেন, এর কোনো বিকল্প নেই। কেননা করোনা মহামারিতে সরকারি সহায়তা খুবই অপ্রতুল। সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচিতে দরিদ্র মানুষকে যে সহায়তা দেওয়া হয়েছে, তা এক ধরনের টোকেন সহায়তা। নগদ সহায়তা নিয়ে ব্যাপক অনিয়ম হয়েছে। মাত্র ১৫ শতাংশ মানুষ সরকারি সহায়তা পেয়েছে। এই ১৫ শতাংশ সবাই আবার সাহায্য পাওয়ার যোগ্য ছিল না।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here