করোনায় আশার আলো হোমিওপ্যাথি ও আয়ুর্বেদ

0
272

রশিদ মামুন: করোনায় এবার আশার আলো দেখাচ্ছে হোমিওপ্যাথি এবং আয়ুর্বেদিক চিকিৎসা। ছয় মাসের বেশি সময় ধরে চলা করোনার প্রকোপ কমাতে হোমিওপ্যাথিক এর একটি ওষুধকে প্রতিষেধকের চেয়ে প্রতিরোধমূলক বলছেন অনেকে। ভারতের দুটি অঙ্গরাজ্যে এই ওষুধ সরকারীভাবে বিতরণ করা হচ্ছে। ভারতের কেন্দ্রীয় আয়ুস মন্ত্রণালয় ইতোমধ্যে এর অনুমোদনও দিয়েছে। ভারতের এই চিকিৎসা পদ্ধতি দেশের কেন্দ্রীয় পুলিশ হাসপাতালে প্রয়োগের জন্য অনানুষ্ঠানিকভাবে একজন হোমিও চিকিৎসককে নিয়োগ করেছে।
ভারতে এবং দেশেও আর্সেনিক এ্যালবাম ৩০ নামের একটি হোমিওপ্যাথি ওষুধ গ্রহণের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। দিনকয়েক আগেই মানবদেহের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে আর্সেনিক এ্যালবাম ৩০ ওষুধটি গুরুত্বপূর্ণ বলে জানিয়েছিল ভারতের সেন্ট্রাল হোমিওপ্যাথিক কাউন্সিল।

দেশটির দি হিন্দু এবং ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসসহ বিভিন্ন গণমাধ্যম হ্যোমিওপ্যাথির এই চিকিৎসা পদ্ধতির খবর প্রকাশ করেছে। তবে এসব বিষয়ে বিস্তর বিতর্ক থাকলেও হোমিওপ্যাথি চিকিৎসকরা দাবি করছেন পার্শপ্রতিক্রিয়াহীন এসব ওষুধ গ্রহণে কারো কোনো ক্ষতি হওয়ার কথা নয়। ফলে অন্য ওষুধের সঙ্গেও এটি সেবন করা যায়।
কোভিড-১৯ এখন সারা বিশ্বে সব থেকে আলোচিত বিষয়। বিজ্ঞানীরা দিনরাত চেষ্টা চালাচ্ছেন মহামারি প্রতিরোধে টিকা আবিষ্কার করতে। কিন্তু টিকা আবিষ্কার হওয়াটা একটি সময়সাপেক্ষ বিষয়। এর পরও চলতি বছরের শেষদিকে বা আগামী বছরের শুরুর দিকে বাজারে আসতে পারে করোনা প্রতিরোধ টিকা। তবে এর আগে ছড়িয়ে পড়া এই ভাইরাস নিয়ন্ত্রণে ওষুধ আবিষ্কারের যেমন চেষ্টা চলছে ঠিক একইভাবে পুরাতন অনেক ওষুধ ব্যবহার করে ভাইরাসটি থেকে মুক্তি পাওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে। যদিও এর একটি ওষুধও ভাইরাসটি প্রতিরোধে তৈরি করা হয়নি।

করোনা মোকাবেলার ক্ষেত্রে বলা হচ্ছে- নিজের শরীরের মধ্যেই একটি প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গড়ে তুলতে পারে এবং যা আপনাআপনি সক্রিয় হয়ে ভাইরাসটি প্রতিরোধ করতে পারে, তাহলেই সব থেকে ভালো হয়। সাধারণত যাদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বেশি তাদের ক্ষেত্রে সাধারণ ফ্লুর সর্দি-কাশিতেই করোনা সেরে যাচ্ছে।

পরিসংখ্যান বলছে, বিশ্বে এখন করোনার এ্যাক্টিভ কেস বা করোনা সক্রিয় রোগী রয়েছেন ৩৩ লাখ ৫৪ হাজার ২০৪ জন। এদের মধ্যে ৯৮ ভাগের শরীরে কম এবং মাঝারি মানের সংক্রমণ রয়েছে। এদের সংখ্যা ৩৩ লাখ ২৯৮ জন। অন্যদিকে ক্রিটিক্যাল বিবেচনা করা হচ্ছে আরও ৫৩ হাজার ৯১৫ জনকে। শতকরা হিসেবে এর পরিমাণ মাত্র দুই ভাগ।

সঙ্গত কারণে বলা হচ্ছে, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে হবে। এজন্য শুধু ভালো খাবারই নয় সঙ্গে নানা রকম ওষুধ গ্রহণের পরামর্শও দিচ্ছেন চিকিৎসকরা। এজন্য জিঙ্ক এবং ভিটামিন ডি গ্রহণের পরামর্শ দিচ্ছেন অনেকে।
ভারতীয় গণমাধ্যম বলছে, দেশটির দুটি রাজ্য মহারাষ্ট্র এবং মুম্বাইতে সরকারীভাবে হোমিওপ্যাথি ওষুধটি বিতরণ করা হয়েছে। দুই রাজ্য সরকারের তরফ থেকে সাধারণ মানুষকে এই ওষুধ গ্রহণের জন্য পরামর্শও দেওয়া হয়েছে। দেশটির বিভিন্ন জায়গাতে এখন এই ওষুধের সঙ্কট তৈরি হয়েছে।

বাংলাদেশ পুলিশ হাসপাতালের হোমিও চিকিৎসক রাশিদুল হক গত ১৬ মে থেকে বসছেন। যদিও বলা হচ্ছে তিনি নন-কোভিড অংশে বসছেন। তবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমতি না থাকলে পুলিশ হাসপাতালের ভেতরে এ ধরনের চিকিৎসা কেউ দিতে পারার কথা নয়।

রাশিদুল হক বলেন, তিনি করোনার কোনো চিকিৎসা করছেন না, তবে প্রতিরোধমূলক ওষুধ দিচ্ছেন। এক হাজারের বেশি পুলিশ সদস্যকে প্রতিরোধমূলক ওষুধ দিয়েছেন; যাদের কেউ করোনা আক্রান্ত হয়নি বলে দাবি করেন তিনি।

অন্যদিকে ভারতের আয়ুর্বেদ চিকিৎসকরা তাদের পাঁচটি ওষুধের ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল করার কথা জানিয়েছেন। তাতে ভাল ফল পাওয়ারও দাবি করেছে। শ্রীলঙ্কায় অতি সঙ্কটজনক করোনা রোগী না হলে তাদেরকে আয়ুর্বেদ চিকিৎসায় সারিয়ে তোলার দাবি করা হয়েছে। একই দাবি অনেকদিন ধরেই করে আসছে চীন। তারাও বলছে ৪০০ বছরের পুরাতন আয়ুর্বেদে সারছে করোনা।

যদিও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) চিকিৎসার যে গাইড লাইন তৈরি করেছে এখনও দেশগুলো তাই অনুসরণ করছে। ডব্লিউএইচও’র গাইড লাইনে হোমিও এবং আয়ুর্বেদ চিকিৎসার কথা উল্লেখ নেই। এমনকি ডব্লিউএইচও তাদের গাইড লাইনের বাইরে গিয়ে অন্য কোন ওষুধ গ্রহণে নিরুৎসাহিত করছে। তবে করোনার জন্য এখনও কোনো নির্ভরযোগ্য একক ওষুধের নাম বলতে পারেনি ডব্লিউএইচও।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here