করোনায় আয় বেড়েছে জুমের, এনক্রিপশন সুবিধা পেতে লাগবে টাকা

0
285

করোনা পরিস্থিতিতে বিশ্ব জুড়ে ভিডিও কলের ব্যবহার বেড়েছে। এতে ভিডিও মিটিং সেবা দাতা জুমের আয় বেড়ে গেছে বলে গত মঙ্গলবার তারা জানিয়েছে। বার্তাসংস্থা এএফপির প্রতিবেদনে একথা জানানো হয়।
জুম কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ৩০ এপ্রিল শেষ হওয়া প্রান্তিকে তাদের মুনাফা হয়েছে ২ কোটি ৭০ লাখ মার্কিন ডলার। আয় বেড়েছে ১৬৯ শতাংশ। গত প্রান্তিকে ৩২ কোটি ৮০ লাখ ডলারের বেশি আয় করেছে তারা। গত বছরের একই সময়ে জুমে শেয়ার প্রতি মূল আয় ছিল শূন্যের কোঠায়।

জুমের প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী এরিক ইউয়ান বলেন, কোভিড-১৯ সংকট জুম ব্যবহারে বেশ চাহিদা সৃষ্টি করেছে। গত প্রান্তিকের হিসাব অনুযায়ী, জুমে ২ লাখ ৬৫ হাজার ৪০০ ডলারের বিনিময়ে সেবা গ্রহণকারী গ্রাহক সৃষ্টি হয়েছে, যা ২০১৯ সালের তুলনায় ৩৫৪ শতাংশ বেশি।

জুম বিশ্লেষকদের বলেছে, অর্থ প্রদানকারী ব্যবহারকারীদের প্রায় অর্ধেক মাসিক ভিত্তিতে অর্থ পরিশোধের সেবা নিচ্ছেন।

এনক্রিপশন সুবিধা পেতে খরচ করতে হবে টাকা
জুম ভিডিও কলের বিশেষ নিরাপত্তা হিসেবে এনক্রিপশনকে জোরদার করার পরিকল্পনা করেছে। তবে এনক্রিপশন পেতে অর্থ খরচ করতে হবে। প্রতিষ্ঠানটির এক কর্মকর্তা বলেন, যেসব অ্যাকাউন্টের ব্যবহারকারীরা অর্থ খরচ করে জুম ব্যবহার করবেন, তাঁরা এনক্রিপশন পাবেন।

বর্তমান করোনা পরিস্থিতিতে ভিডিও কনফারেন্সিং সেবা হিসেবে জুমের ব্যবসা বহুগুণ বেড়েছে। তাদের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, বিভিন্ন গ্রুপের আহ্বানের ভিত্তিতে তারা স্কুলের মতো বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানকে এধরনের সুবিধা বিনা মূল্যে দিলেও ফ্রি অ্যাকাউন্ট ব্যবহারকারীদের এ সুবিধা দেবে না।

সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে জুমের নিরাপত্তা পরামর্শক অ্যালেক্স স্ট্যামোস বলেন, পরিকল্পনাটি পরিবর্তনযোগ্য। এটি এখনো পরিষ্কার করা হয়নি। প্রযুক্তি, সুরক্ষা ও ব্যবসায়িক দিক পরিকল্পনার সঙ্গে যুক্ত রয়েছে।

এন্ড টু এন্ড এনক্রিপশন অর্থ ভিডিও কলে অংশগ্রহণকারীরা কেবল তাদের ডিভাইসগুলোতে যা ঘটছে, তা দেখতে ও শুনতে পাবে। তাদের কথায় আর কেউ আড়ি পাতার সুযোগ পাবে না।

সুরক্ষা বিশেষজ্ঞ ও আইন প্রয়োগকারীরা সতর্ক করেছে, সাইবার দুর্বৃত্তরা শনাক্তকরণ প্রক্রিয়া এড়ানোর জন্য ক্রমবর্ধমান এন ক্রিপ্ট করা যোগাযোগ ব্যবহার করছে।

ব্যবসার দৃষ্টিকোণ থেকে, নিখরচায় ব্যয় বহুল এনক্রিপশন পরিষেবা দেওয়া কঠিন। ফেসবুক মেসেঞ্জারকে পুরোপুরি এনক্রিপ্ট করার পরিকল্পনা করছে, তবে তাদের অন্যপরিষেবা থেকে প্রচুর পরিমাণে আয় আসে।
এর আগে জুমের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছিল। তাই জুম কর্তৃপক্ষকে যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল ট্রেড কমিশনের মতো নিয়ন্ত্রকদের মুখোমুখি হতে হচ্ছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here