করোনা-উত্তর পৃথিবী

0
140

ড. মাহবুব উল্লাহ্
বিশ্বে কোভিড-১৯ মহামারি আকারে ছড়িয়ে পড়ার পর অনেক বিদ্বান, জ্ঞানী ও প্রজ্ঞাবান মানুষ বলেছেন, কোভিড-১৯-এর সংক্রমণ কেটে গেলে পৃথিবীতে এক বিরাট পরিবর্তন আসবে। করোনা-পরবর্তী পৃথিবী আর আগের মতো থাকবে না।

অনেক দেশেই করোনা-পরবর্তী সামাজিক ও অর্থনৈতিক পুনর্গঠনের স্বরূপ কী হতে পারে বা কী রকম হওয়া উচিত তা নিয়ে চিন্তাভাবনা চলছে। বাংলাদেশেও যে সামান্যসংখ্যক প্রজ্ঞাবান ব্যক্তি আছেন, তারাও করোনা-পরবর্তী বাংলাদেশের চেহারা কী রকম হওয়া উচিত তা নিয়ে মন্তব্য করেছেন।

বিংশ শতাব্দীতে পৃথিবী করোনার মতো মহামারিতে শুধু একবার বিপর্যস্ত হয়েছে। এ বিপর্যয় হয়েছিল প্রথম মহাযুদ্ধের সমাপ্তি লগ্নে। এ মহামারী ‘স্প্যানিশ ফ্লু’ নামে পরিচিত। এ মহামারিতেও লাখ লাখ মানুষ প্রাণ হারিয়েছিল।

অর্থনীতিবিদরা তাদের বুদ্ধি ও মেধা ব্যবহার করে বিভিন্ন ধরনের তত্ত্ব আমাদের উপহার দেন। তত্ত্ব যদি তত্ত্ব হতে হয়, তাহলে এর মধ্যে স্ববিরোধী কিংবা সঙ্গতিহীন কোনো বক্তব্যের উপস্থিতি থাকতে পারে না। তত্ত্ব গঠন নিয়ে অর্থনীতিবিদদের মধ্যে এক ধরনের বিতর্ক লক্ষ করা যায়।

একদল অর্থনীতিবিদ মনে করেন, কোনো অর্থনৈতিক ব্যবস্থায় যখন কোনো সমস্যার উদ্ভব ঘটে তখনই এ সমস্যার সমাধানকল্পে নতুন তত্ত্বের উদ্ভব ঘটে। ১৯৩০-এ যে বিশ্ব মহামন্দা হয়েছিল তা কীভাবে মোকাবেলা করা সম্ভব তার জন্য প্রখ্যাত ব্রিটিশ অর্থনীতিবিদ জেএম কেইন্স লিখেছিলেন তার কালজয়ী গ্রন্থ A General Theory of Employment, Interest and Money।

শিকাগো বিশ্ববিদ্যালয়ের নোবেল জয়ী অর্থনীতিবিদ স্টিগলার মনে করতেন তত্ত্বের সঙ্গে সামাজিক ইতিহাসের ঘটনাবলীর কোনো সম্পর্ক নেই। যারা তত্ত্ব রচনা করেন, তারা এ থেকে যে আনন্দ পান তার জন্যই তারা তত্ত্ব গঠন করেন এবং তত্ত্ব চিন্তা করেন।

ইতোমধ্যেই স্প্যানিশ ফ্লুর কথা বলা হয়েছে। অর্থনীতিবিদরা অনেকেই লক্ষ করেছেন, বিভিন্ন দেশের কৃষিতে ছদ্ম বেকারত্ব বিরাজ করে। যেসব দেশ শিল্পায়িত হতে পারেনি সেসব দেশ ছদ্ম বেকারত্বের সমস্যায় জর্জরিত থাকে। ব্যাপারটা এ রকম যে, গ্রামে গেলে আপনার মনে হবে সবাই কাজ করছে, এমনকি ছোট্ট শিশুটিও কাজ করছে। কিন্তু যে কাজ দুজন মিলে করলে এক কর্মদিবসেই সম্পন্ন হওয়ার কথা সেই কাজ ৭-৮ জন মিলে করে।

অর্থাৎ অনুন্নত দেশের গ্রামে বিশাল উদ্বৃত্ত শ্রমশক্তি আছে। এ উদ্বৃত্ত জনশক্তির পুরোটাকেই গ্রাম থেকে শহরে নিয়ে এসে শিল্প শ্রমিক হিসেবে কাজে নিয়োগ দেওয়া সম্ভব। এর ফলে কৃষি উৎপাদনের ওপর কোনো নেতিবাচক প্রভাব পড়বে না।

১৯১৮ সালে স্প্যনিশ ফ্লু মহামারির সময় বঙ্গদেশের গ্রামে লাখ লাখ মানুষ মৃত্যুবরণ করেছিল। এ মহামারির অবসানের পর দেখা গেল গ্রামের উদ্বৃত্ত শ্রমশক্তি নিশ্চিহ্ন হয়ে যাওয়ার পর কৃষি উৎপাদনের ওপর খুবই নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। কৃষি উৎপাদন বহুলাংশে হ্রাস পেয়েছিল।

কিন্তু তত্ত্বের মূল দাবিতে কোনো হেরফের হয়নি। কৃষি সেক্টরের উদ্বৃত্ত শ্রমশক্তি নিশ্চিহ্ন হয়ে গিয়েছিল। এ থেকে বোঝা যায় কৃষিতে উদ্বৃত্ত শ্রমশক্তি তত্ত্বের প্রায়োগিক দিক নিয়ে অর্থনীতিবিদদের চিন্তা ত্রুটিপূর্ণ অথবা চিন্তার সীমাবদ্ধতার ফলে এক ধরনের প্রতিবন্ধিত্বে আক্রান্ত।

আমার মনে হয় ওই সময় মৃত্যুর মিছিল দেখে যারা বেঁচেছিল, তারা মারাত্মক ট্রমার শিকার হয়েছিল। শত শত মানুষকে মরতে দেখে তারা তাদের সাহস, উদ্যম ও কর্মস্পৃহা হারিয়ে ফেলেছিল। এ পরিস্থিতিতে কৃষি উৎপাদন ঐতিহাসিকভাবে নির্ধারিত প্রবণতার ধারেকাছেও থাকতে পারেনি। বঙ্গদেশের কৃষি তার নিজস্ব অবস্থানে ফিরে আসতে যথেষ্ট সময়ের প্রয়োজন ছিল। মূল কথা হলো, যে কোনো মহামারি সাধারণ মানুষের অভ্যস্ত জীবনযাত্রার ওপর প্রবল আঘাত হানে।

বাংলাদেশের জিডিপিতে সবচেয়ে বেশি অবদান রাখে সেবা খাত। এ সেবা খাত প্রাতিষ্ঠানিক ও অপ্রাতিষ্ঠানিকভাবে বিভক্ত। চলমান করোনা দুর্যোগে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে অপ্রাতিষ্ঠানিক সেবা খাত। অপ্রাতিষ্ঠানিক সেবা খাতে বিপুলসংখ্যক সেবাপণ্য লেনদেন হয়।

অপ্রাতিষ্ঠানিক সেবা খাতের মধ্যে রয়েছে ফুটপাতের হকার, রিকশাচালক, সিএনজিচালক, ভ্যান গাড়িতে সবজি বিক্রেতা, পুরনো ব্যবহৃত জিনিসপত্রের ক্রেতা, মাছ-মুরগি বিক্রেতা, দুধ বিক্রেতা, প্লাস্টিক ও অ্যালুমিনিয়ামের সামগ্রী বিক্রেতা, ফল বিক্রেতা এবং আরও বহুবিধ কর্মকাণ্ডে নিয়োজিতরা। যেমন- বাসাবাড়িতে কাজ করা গৃহকর্মী, জুতা সেলাইওয়ালা, নানারকম যন্ত্রপাতি মেরামতকারী ইত্যাদি।

দেশে করোনা ভাইরাস অত্যন্ত মারাত্মক রূপ পরিগ্রহ করার পর সরকার ‘লকডাউনের’ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে। কিন্তু সরকার গৃহীত এ পদক্ষেপটিকে ‘লকডাউন’ না বলে ‘সাধারণ ছুটি’ নামে ঘোষণা করা হয়। এর ফলে মানুষ বিভ্রান্ত হয় এবং সমস্যার ভয়াবহতার দিকটিও অনেকে উপেক্ষা করে।

সাধারণ ছুটি চলা অবস্থায় হুট করে ঘোষণা দেওয়া হয়- গার্মেন্ট কারখানাগুলো খুলছে। এর ফলে গ্রাম থেকে শত শত পোশাকশিল্প শ্রমিক ঢাকায় ফিরে আসতে বাধ্য হয়। কিন্তু ট্রেন ও বাস না চলার ফলে অনেকে অতিরিক্ত ভাড়ায় ছোট ছোট যানবাহন ব্যবহার করে ঢাকায় পৌঁছানোর চেষ্টা করে ১০০-২০০ কিলোমিটার পথ হেঁটে আসতে বাধ্য হয়।

কিন্তু এর পরপরই পোশাকশিল্প কর্মীদের ছুটি অব্যাহত থাকার ঘোষণা দেওয়া হয়। ফলে এই গরিব মানুষগুলোর প্রচুর আর্থিক ক্ষতি হয় এবং শারীরিক কষ্টের সীমা থাকে না। সবকিছু মিলিয়ে সিদ্ধান্তের প্রশ্নে দোদুল্যমানতা এবং স্পষ্টতার অভাবে করোনার মতো মহামারির বিরুদ্ধে আমাদের জনগণের টিকে থাকার প্রয়াস ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
সাধারণ ছুটির ফলে অনানুষ্ঠানিক সেবা খাতের কর্মীরা হঠাৎ বেকারত্বের মুখোমুখি হয়। দিনে আনা এবং দিনে খাওয়া এ লোকগুলো এক ধরনের নীরব দুর্ভিক্ষের শিকার হয়। এর ফলে প্রশ্ন ওঠে, আমরা কোথায় মনোযোগ দেব? জীবন বড়, না জীবিকা বড়? জীবন ও জীবিকাকে সমন্বিত করে কীভাবে দৃঢ়তার সঙ্গে একটা নীতিকে আঁকড়ে ধরে সমস্যা অতিক্রম করতে হয় সেটা আমরা বুঝতে পারলেও সমাধানের পথে পা বাড়াতে পারিনি।
দিনে আনা দিনে খাওয়া মানুষগুলোর ক্ষুধার যন্ত্রণা আমরা দেখেছি। অনেকে ছোট ছোট সংগঠন করে এই মানুষগুলোকে বাঁচিয়ে রাখার জন্য ত্রাণ বিতরণ করেছে। ধনাঢ্য ব্যক্তিরাও অনেকে মানবিক কারণে ত্রাণ দেওয়ার কাজে এগিয়ে এসেছেন। তবে দুর্ভোগ কেবল গরিব মানুষের মধ্যে অথবা দারিদ্র্যসীমার ওপর থেকে নিচে পতিত হওয়া মানুষগুলোর মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকেনি। এদের দুর্ভোগ মধ্যবিত্ত ও নিম্ন-মধ্যবিত্তদের দুর্ভোগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

অনানুষ্ঠানিক সেবা খাতের লাখ লাখ কর্মী বেকার হয়ে যাওয়ার ফলে মধ্যবিত্তদের জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি পেয়েছে। এদের পক্ষে সম্ভব হচ্ছিল না বাসার দরজার সামনে থেকে সবজি ও মাছ-মুরগি ক্রয় করা। সম্ভব হচ্ছিল না ফুটপাতের হকারদের কাছ থেকে প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র কেনা।

এ অবস্থায় মধ্যবিত্ত ও নিম্ন-মধ্যবিত্তদের বেঁচে থাকার জন্য বাড়তি অর্থ ব্যয় করতে হয় অথবা বাড়তি ঝামেলার মুখোমুখি হতে হয়। এ বিষয়গুলো তত্ত্বীয় কাঠামো দিয়ে তুলে ধরেছেন হেনরি বার্নেস্টাইন তার Simple Reproduction Squeeye তত্ত্বের মাধ্যমে।

তৃতীয় বিশ্বে প্রায় সব দেশেই অনানুষ্ঠানিক সেবা খাত জীবনযাত্রার ব্যয়কে কমিয়ে রাখতে সাহায্য করে। গরিব মানুষগুলোও জীবনযাত্রার একটা অবলম্বন খুঁজে পায়। অন্যদিকে যারা বিভিন্ন কাজকর্মে নানা ধরনের শ্রমশক্তি নিয়োগ করতে চায়, তারাও কম মজুরিতে শ্রমশক্তি নিয়োগ করতে পারে। এর ফলে তাদের পুঁজি গঠন সহজসাধ্য হয়।

নোবেলজয়ী প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূস লিখেছেন, ‘করোনা মহামারি পৃথিবীর যে ক্ষতিসাধন করছে, এক কথায় তা কল্পনাতীত। এই বিশাল ক্ষতি সত্ত্বেও এই মহামারি মানবজাতির সামনে একটি এমন সুযোগ এনে দিয়েছে যা আরও কল্পনাতীত।

এই মুহূর্তে মানুষের মাথায় একটি বড় প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে। করোনার এই ধ্বংসযজ্ঞ থেকে বের হয়ে কীভাবে আবার বিশ্ব অর্থনীতিকে পুনর্গঠন করব। সৌভাগ্যক্রমে এর উত্তর আমাদের জানা। একটি পুনরুদ্ধার কর্মসূচি কীভাবে ব্যবস্থাপনা করতে হয় সেই অভিজ্ঞতা আমাদের ভালোই আছে।

যে প্রশ্নটা আমি তুলে ধরতে চাচ্ছি সেটা কিন্তু ভিন্ন। সবার কাছে আমার প্রশ্ন হলো : করোনা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের আগে পৃথিবীটা যেখানে ছিল, আমরা কি তাকে সে জায়গাতেই ফিরিয়ে নিয়ে যাব? নাকি আমরা একে নতুনভাবে গড়ে তুলব? সিদ্ধান্তটা পুরোপুরিই আমাদের হাতে।’

করোনার অভিজ্ঞতা আমাদের পৃথিবীকে নতুন করে গড়ে তুলতে শিক্ষা দিচ্ছে। কিন্তু কী হবে সেই পৃথিবী? পৃথিবীর অনেক অভিন্ন সম্পদ আছে। সেগুলো কি সবার জন্য অবারিত দ্বারে রাখা হবে? সম্পদ ব্যবহারে সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়া কী হবে? এ ব্যাপারে সবাই কি অংশগ্রহণ করতে পারবে? ধনী ও দরিদ্রের মধ্যে এ মুহূর্তের পৃথিবীতে যে বিরাট ব্যবধান, সেটাই বা কীভাবে হ্রাস করা যাবে এবং অর্থ ও সম্পদ পুনর্বণ্টিত করে গরিব মানুষগুলোকে মানবসভ্যতার অংশ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করা সম্ভব হবে?

পুঁজিবাদ তার চরিত্র অনেক পরিবর্তন করেছে। গত বছর Shoshana Zuboff একটি মূল্যবান গ্রন্থ প্রকাশ করেছেন। গ্রন্থটির নাম হল The Age of Surveillance Capitalism. বর্তমান পুঁজিবাদে উদ্বৃত্ত মূল্য সৃষ্টি করছে নলেজ ক্যাপিটাল।

বিপজ্জনক এক অবস্থার মধ্যে আমরা আছি। কম্পিউটার ও ইন্টারনেট প্রযুক্তি ব্যবহার করে লাখ লাখ কোটি কোটি মানুষের আচরণ সম্পর্কে বোঝার চেষ্টা চলছে। আমরা এখন বাস করছি বিশাল এক নজরদারির আচ্ছন্নতার মধ্যে।

কাজেই এ ধরনের ব্যবস্থা আর যা কিছু হোক না কেন, এটা কিছুতেই গণতান্ত্রিক হবে না। মানুষের অনেক অধিকার আছে। শুনলে হয়তো অনেকে অবাক হবেন। বিস্মৃত হতে পারাও একটি অধিকার। কিন্তু গুগল বা এ ধরনের অন্যান্য কম্পিউটার কোম্পানিতে আমার আপনার সম্পর্কে বহু তথ্য সংরক্ষিত হয়ে আছে। স্পেনের জনগণ গুগলকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে বলেছিল, তাদের সম্পর্কে ভুলে যাওয়ার অধিকার মেনে নিতে হবে।
৩০ জুনের পত্রিকায় পড়লাম- বিভিন্ন উপায়ে গুগলের সংস্পর্শে আসার পর যে ব্যক্তিরা এই সংস্পর্শে এসেছেন তাদের সম্পর্কে যে তথ্য জমা হয়েছে সেটা দু’বছর পর মুছে ফেলা সম্ভব হবে। এখন গবেষণা চলছে বিগ ডেটা নিয়ে। এ গবেষণার ফলে গণতন্ত্রের পরিসর ক্রমান্বয়ে ছোট থেকে ছোট হচ্ছে। ইনক্লুসিভ পৃথিবী গড়ার নামে কোনো না কোনো উপায়ে ইনক্লুসিভ মানবগোষ্ঠী গড়ে তোলার কাজটিকে হিমঘরে তুলে রাখা হচ্ছে।
আমি মনে করি, আমাদের অনেক কিছুই পরিবর্তন করতে হবে। জাতিসংঘ, বিশ্বব্যাংক, আইএমএফ, ডব্লিউএইচও, এফএও-সহ যত বৈশ্বিক সংস্থা আছে সেগুলোতে ব্যাপক সংস্কার প্রয়োজন। আন্তঃরাষ্ট্রীয় সম্পর্কের ক্ষেত্রে জেনেভা কনভেনশন থেকে শুরু করে আর যেসব প্রথা ও নিয়ম-কানুনের প্রচলন আছে সেগুলো নিয়েও চিন্তাভাবনা করতে হবে।

ইউনিপোলার বিশ্বব্যবস্থা থেকে মাল্টিপোলার বিশ্বব্যবস্থার দিকে অগ্রসর হতে হবে। পৃথিবীর সম্পদকে সৃষ্টিকর্তার দান হিসেবে গণ্য করে সব মানুষের এ থেকে উপযোগিতা লাভের সুযোগ করে দিতে হবে। এ রকম সংস্কার ও পুনর্গঠনের জন্য বহু ধরনের মানুষের অংশগ্রহণ প্রয়োজন হবে।

তবে শুরুটা যদি নোবেল লরেটরা করেন, তাহলে সমস্যার গুরুত্ব যথাযথভাবে স্বীকৃত হবে এবং শিক্ষিত জনগোষ্ঠী এ ব্যাপারে সহজে সাড়া দিতে এগিয়ে আসবে। শিক্ষার আলোকবঞ্চিত মানুষগুলোকে জাগ্রত করার জন্য শিক্ষিত মানুষগুলো ভূমিকা রাখতে পারে। আমরা চাই এমন এক পৃথিবী যেখানে মানুষের ভাগ্য আমরা চিত্রিত করতে পারব Shared prosperity রূপে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here