করোনা ঠেকাতে টিকা উৎপাদন জরুরি

0
11


করোনা মহামারি নিয়ন্ত্রণে দেশের অধিকাংশ জনগোষ্ঠীকে টিকা দেওয়ার পরিকল্পনা চলছে। কিন্তু ক্রয় চুক্তি এবং কোভ্যাক্সের পাওয়া টিকায় বর্তমানে টিকাদান কর্মসূচি চলছে ঢিমেতালে। দ্রুত সময়ের মধ্যে দেশের অধিকাংশ জনগোষ্ঠীকে টিকার আওতায় আনতে উৎপাদনে জোর দেওয়া উচিত বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। ভারতের টিকা ‘কোভ্যাক্সিন’ দেশে উৎপাদনের প্রস্তাব থাকলেও সাড়া না দিয়ে ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে সিদ্ধান্ত।

বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর গত ১৩ জুন প্রকাশিত তথ্যমতে, বাংলাদেশের জনসংখ্যা এখন ১৬ কোটি ৪৬ লাখ। এই জনসংখ্যার ৮০ ভাগ হলো ১৩ কোটি ১৬ লাখ। এখন এই জনগোষ্ঠীর ২৫ লাখকে যদি প্রতিমাসে টিকা দেওয়া হয় তাহলে সবাইকে টিকা দিতে সাড়ে চার বছরেরও বেশি সময় লাগবে। আর এর মধ্যে যদি শিশুদের টিকা এসে যায় তাহলে শতভাগ নাগরিককেই টিকা দিতে হবে। বিভিন্ন উৎস থেকে টিকা সংগ্রহ করতে বেগ পেতে হচ্ছে সরকারকে।

এত টিকা কিনতে সরকারকে গুনতে হবে বিপুল পরিমাণ অর্থ। এ সমস্যা সমাধানে ভারত তাদের আবিষ্কৃত কোভ্যাক্সিন বাংলাদেশে উৎপাদনের প্রস্তাব দিয়েছিল। কিন্তু তাদের ইতিবাচক কিংবা নেতিবাচক কোনো মতামতই জানানো হয়নি। এ প্রস্তাব দীর্ঘদিন ধরে ঝুলে আছে। এ বছরের জানুয়ারিতে ভারত বায়োটেক ও ইন্ডিয়ান কাউন্সিল অব মেডিকেল রিসার্চ (আইসিএমআর) উদ্ভাবিত টিকা কোভ্যাক্সিন ভারতে জরুরি ভিত্তিতে ব্যবহারের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। ১ মার্চ প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি করোনার টিকা ‘কোভ্যাক্সিন’ নিয়েছেন। তিনি বলেছেন, ‘এ টিকা হবে এক গেম চেঞ্জার।’ ভারতে করোনা পরিস্থিতি খারাপ হলে ব্যাপক পরিসরে গণটিকাদানের কর্মসূচি শুরু হয়। এতে খুব অল্প সময়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পেরেছে ভারত সরকার।


ভারত সরকারের সমর্থনে এই টিকা উৎপাদন করেছে ২৪ বছরের পুরনো টিকা উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান ভারত বায়োটেক। এখন পর্যন্ত প্রতিষ্ঠানটি ১৬টি টিকা উৎপাদন করে তা ১২৩টি দেশে রপ্তানি করেছে। কোভ্যাক্সিন টিকা মানবদেহে নিরাপদ বলে প্রমাণিত হয়েছে। টিকা প্রয়োগের পর এটিকে করোনা ভাইরাসের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের জন্য মানবদেহে অ্যান্টিবডি তৈরি করতে দেখা গেছে। চার সপ্তাহের ব্যবধানে দিতে হয় এর দুটি ডোজ। আর সংরক্ষণ করা যায় ২ থেকে ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রায়।


করোনা প্রতিরোধে এই টিকা ৭৮ শতাংশ সক্ষম বলে দাবি করেছে প্রস্তুতকারী সংস্থা ভারত বায়োটেক। রিপোর্টে বলা হয়েছে, স্বেচ্ছাসেবকের মধ্যে টিকার কার্যকারিতার মান ৭৭ দশমিক ৮ শতাংশ। রিপোর্টে ভারত বায়োটেকের দাবি, ডেল্টা ভ্যারিয়েন্টের বিরুদ্ধে ৬৫ দশমিক ২ শতাংশ কাজ করে কোভ্যাক্সিন। সংস্থার দাবি, গুরুতর উপসর্গযুক্ত করোনা সংক্রমণের ক্ষেত্রে এই টিকা ৯৩ দশমিক ৪ শতাংশ কার্যকরী। সামান্য ও গুরুতর সংক্রমণের ক্ষেত্রে ৭৮ শতাংশ কার্যকরী বলে দেখা গিয়েছে। উপসর্গহীন সংক্রমণের ক্ষেত্রে তা ৬৩ শতাংশ কার্যকরী। কোম্পানি তাদের ফলাফলে জানিয়েছে, ট্রায়ালে ১৮ থেকে ৯৮ বছরের ২৫ হাজার ৮০০ স্বেচ্ছাসেবককে শামিল করা হয়েছিল। দেশের ২৫টি জায়গায় পরীক্ষা চালানো হয়েছিল।


কোভ্যাক্সিনের প্রথম ও দ্বিতীয় দফার ট্রায়ালের তথ্যের ভিত্তিতে গত জানুয়ারিতে ভারত এই টিকার জরুরি ব্যবহারের অনুমতি দিয়েছিল। এই টিকা বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার অনুমোদনে অপেক্ষায় রয়েছে। এ মাসেই বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা কোভ্যাক্সিনের ব্যাপারে তাদের মতামত জানাবে। ভারতে এখন পর্যন্ত ৩৪ কোটির বেশি করোনা টিকার ডোজ দেওয়া হয়েছে। ভারতের কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গত শুক্রবার পর্যন্ত করোনা টিকার ৩৪ কোটি ৭৬ হাজার ২৩২ ডোজ দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে ৪৫ থেকে ৫৯ বছর বয়সীদের মধ্যে ৮ কোটি ৯২ লাখ ৪৬ হাজার ৯৩৪ জন প্রথম ডোজ ও ১ কোটি ৬৮ লাখ ৫৫ হাজার ৬৭৬ জনকে দুটি ডোজই দেওয়া হয়েছে।

৬০ বছরের বেশি বয়সীদের ৬ কোটি ৮৩ লাখ ৫৫ হাজার ৮৮৭ জনকে প্রথম ও ২ কোটি ৪৬ লাখ ৭০ হাজার ৫৭৬ জনকে দুটি ডোজই দেওয়া হয়েছে। বাকি টিকা সম্মুখ সারির বিভিন্ন বয়সী কর্মীদের দেওয়া হয়েছে। কোভিশিল্ডের পাশাপাশি কোভ্যাক্সিন দিয়ে ভারতে ব্যাপক পরিসরে চলছে গণটিকাদান। অল্প সময়ে অধিক জনগোষ্ঠীকে টিকা কর্মসূচির আওতায় আনায় নিয়ন্ত্রণে এসেছে ভারতের করোনা পরিস্থিতি। করোনা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে টিকার বিকল্প নেই। একযোগে বিপুল জনগোষ্ঠীকে টিকা দিতে প্রয়োজন দেশে টিকা উৎপাদন। দেশে সরকারি-বেসরকারি পর্যায়ে রয়েছে টিকা উৎপাদনের সক্ষমতা। এতে অল্প খরচে নির্বিঘ্নে দেশে ব্যাপক পরিসরে টিকা কর্মসূচি চালিয়ে নেওয়া সম্ভব।
সংকলিত

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here