করোনা-পরবর্তী নতুন পৃথিবীতে কিশোর-তরুণেরা

1
340

দেওয়ানবাগ ডেস্ক: করোনা ভাইরাস পুরো বিলীন হোক আর না–ই হোক, এই মহামারিকাল কিন্তু অনন্ত থাকবে না। ধাপে ধাপে নতুন জীবনধারার সঙ্গে সবাইকে মানিয়ে নিতেই হবে। সেই অনাগত পৃথিবীতে হয়তোবা মোটেই করোনা ভাইরাসের অস্তিত্ব থাকবে না অথবা এই ভাইরাসের সঙ্গেই আমাদের বসবাস করতে হবে। সেই নতুন পৃথিবীতে কিশোর-তরুণেরাই হবে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। স্বাস্থ্যঝুঁকি বিবেচনায় প্রবীণদের কার্যক্রম খানিকটা শ্লথ হয়ে আসবেই। করোনা ভাইরাস থাকুক আর নাই-থাকুক, আমাদের সামাজিক আচরণ, জগৎ সম্পর্কে ধারণা (কগনিশন), আমাদের নীতি নৈতিকতা আর আবেগ অনেকাংশেই পরিবর্তিত হয়ে যাবে। প্রযুক্তিনির্ভর কর্মপরিবেশ তৈরি হবে। আমূল বদলে যাবে স্বাস্থ্যব্যবস্থা। শিক্ষাব্যবস্থাও সাজবে নতুন রূপে। সেই নতুন পৃথিবীতে টিকে থাকতে এবং দক্ষতার সঙ্গে টিকে থাকতে কিশোর-তরুণদের দরকার এখন থেকেই প্রস্তুতি নেওয়া। এ জন্য তারা যেসব দিকে বেশি নজর দেবে, তা হলো:

নিজের দক্ষতা বাড়াতে হবে: নিউ নরমাল পৃথিবীতে নতুন নতুন দক্ষতার চাহিদা বেড়ে যাবে। সৃজনশীল দক্ষতা শিখে নিতে হবে তরুণদের। এবং তা এখনই। অনলাইন প্ল্যাটফর্ম বা অন্য যেকোনো মাধ্যম থেকে নিজেদের একটু বেশি দক্ষ করে নিতে হবে। শিখতে হবে ব্যতিক্রমী নানান বিষয়। কে কোনটা শিখবে, তা নির্ভর করবে যার যার লক্ষ্যের ওপর। নতুন ভাষা শেখা থেকে শুরু করে গান শেখা, বাদ্যযন্ত্র বাজানো বা কম্পিউটারের প্রোগ্রাম-যেকোনো কিছু শিখে নিতে পারেন তরুণেরা এই সময়ে।

চর্চা করতে হবে মানবিক গুণেরও: আগামী পৃথিবীতে মানুষের সঙ্গে মানুষের একধরনের সংহতি তৈরি হতে পারে বলে সমাজবিজ্ঞানীরা ধারণা করছেন। সেই পৃথিবীতে মানবিক গুণগুলোর কদর বেড়ে যাবে। তাই এই দুর্যোগের মধ্যে প্রত্যেক তরুণকে মানবিক মানুষ হয়ে ওঠার সুযোগটিকে কাজে লাগাতেই হবে। অন্যের প্রতি ভালোবাসা, ধন্যবাদ দেওয়া, কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করা আর অপরের প্রশংসা করার মতো বিষয় থেকে শুরু করে নিজেকে নিরাপদে রেখে যতটা সম্ভব আর্ত মানুষের পাশে থাকতে হবে।

হতাশ হওয়া যাবে না: করোনার কারণে অনেক সময় নষ্ট হলো, অনেক পিছিয়ে গেলাম-এসব ভেবে হতাশ হওয়া যাবে না। মনে রাখতে হবে, এ সময় নিজের আর প্রিয়জনের জীবন বাঁচিয়ে রাখাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। তাই করোনা-পরবর্তী সময়ে নিজের বেঁচে যাওয়া জীবনটাকে কত কার্যকরভাবে কাজে লাগানো যায়, সেটার জন্য পরিকল্পনা করে রাখতে হবে। মনে রাখতে হবে, কেউ পিছিয়ে যায়নি, পৃথিবীটাই থেমে আছে।

সামাজিক আচরণের পরিবর্তনগুলো রপ্ত করতে হবে: কর্মস্থলে বা রাস্তাঘাটে দূরত্ব রক্ষা করা, স্বাস্থ্য নিরাপত্তাবিধিগুলো মেনে চলা-এগুলোকে হালকা ভেবে উড়িয়ে দেওয়া যাবে না। যথাসম্ভব কঠোরভাবে সেগুলো মেনে চলতে হবে।

জীবনের অগ্রাধিকারগুলো সাজিয়ে নিতে হবে: যাপিত জীবনে অনেক কিছু আছে অবশ্যপ্রয়োজনীয়, কিছু মোটামুটি প্রয়োজনীয় আর কিছু একেবারেই বাহুল্য। তাই সব বাহুল্য বর্জন করে প্রয়োজনীয় বিষয়গুলোকে নিজের আর সামাজিক জীবনে অগ্রাধিকার দিতে হবে।

শিক্ষা, স্বাস্থ্য আর বিজ্ঞান: নিউ নরমাল পৃথিবীতে শিক্ষা, স্বাস্থ্য আর বিজ্ঞানকে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিতে হবে। তাই কিশোর-তরুণদের সব ধরনের কূপমুণ্ডুকতা আর অন্ধবিশ্বাস ঝেড়ে ফেলে বিজ্ঞানচর্চায় সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিতে হবে।

প্রয়োজনে জীবনের নতুন লক্ষ্য: করোনাকাল থেকে শিক্ষা নিয়ে কিশোর-তরুণদের এখন থেকেই নিজের জীবনের লক্ষ্য নতুন করে নির্ধারণ করে নিতে হবে। করোনা-পূর্ববর্তী অনেক হিসাব-নিকাশ পাল্টে যাবে। তাই পরিবর্তিত নতুনের সঙ্গে নিজেকেও পরিবর্তন করে নেওয়া জরুরি। পরিবর্তনের ঢেউকে ভয় পেলে চলবে না। সেই ঢেউয়ের তালে তালে নিজেকে পরিবর্তন করে এগিয়ে নিয়ে যাওয়াই কিশোর-তরুণদের মূল কাজ।

1 COMMENT

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here