করোনা প্রতিরোধী স্প্রে উদ্ভাবন করে সাদিয়ার চমক

0
91


নারী ডেস্ক: ভল্টিক নামে করোনা প্রতিরোধী উদ্ভাবন করে চমক সৃষ্টি করেছেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত তরুণ ব্রিটিশ বিজ্ঞানী সাদিয়া। করোনারোধী স্প্রেকে করোনা মহামারির বিরুদ্ধে লড়াইয়ে যুগান্তকারী উদ্ভাবন হিসাবে মনে করা হচ্ছে। ইতোমধ্যে বিশ্বের ১৩টি দেশ থেকে ভল্টিক নামে এ জীবাণুনাশকটির ১ কোটি অর্ডার পেয়েছেন ২৬ বছর বয়সি সাদিয়া।


জানা গেছে, ভাইরাস, ব্যাকটেরিয়া, ছত্রাকসহ অন্য জীবাণুকেও ধ্বংস করতে সক্ষম এ জীবাণুনাশকটি কেবল হাসপাতাল, হোটেল, মোটেল, রেস্তোঁরা কিংবা বিমানই নয়, ব্যবহার করা যাবে নিউক্লিয়ার স্টেশনেও!
১৪ মাসের প্রচেষ্টায় তৈরি এ জীবাণুনাশকটি নাসাসহ বিভিন্ন স্বতন্ত্র পিয়ার-পর্যালোচিত ল্যাবে সফলভাবে পরীক্ষা করা হয়েছে। এরই মধ্যে বেশ কয়েকটি দেশের সরকার ও বেশকিছু প্রতিষ্ঠান এটি কিনতেও আগ্রহ প্রকাশ করেছে। এমনকি এটি ব্যবহারের ফলে হাসপাতালের পরিচ্ছন্নতা ৭০% সংরক্ষণ করা সম্ভব বলেও জানিয়েছে যুক্তরাজ্যের হাসপাতালগুলো।


শৈশব থেকেই সাদিয়া খানমের স্বপ্ন ছিল তিনি বিজ্ঞানী হবেন। বিশেষ করে তার দাদা আলঝেইমার রোগে আক্রান্ত হওয়ার পর তিনি স্বপ্ন দেখেন যে একদিন তিনি এই রোগের ওষুধ আবিষ্কার করবেন। তখন থেকেই তিনি এ নিয়ে পড়াশোনা শুরু করেন। সাদিয়া বলেন, আমার বয়স যখন ১৪, তখন থেকেই আমি স্বপ্ন দেখি যে আমি আলঝেইমার রোগের ওষুধ আবিষ্কার করব। কারণ এখন পর্যন্ত এর কোনো চিকিৎসা বের হয়নি। আমি আমার দাদাসহ সবাইকে সাহায্য করতে চাই। ভল্টিকের এই কাজ শেষ করার পর আমি আলঝেইমার রোগের গবেষণায় ফিরে যেতে চাই, যাতে এর ওষুধ আবিষ্কার করতে পারি।


সাদিয়া খানম বলেন, ভল্টিক স্প্রের উদ্ভাবন আলঝেইমার রোগের ওষুধ আবিষ্কারের ব্যাপারে তাকে অনেক আশাবাদী করে তুলেছে। তিনি বিশ্বাস করেন, তার স্বপ্ন একদিন পূরণ হবে। সাদিয়া স্যালফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে বায়োমেডিকেল সায়েন্স ও চেস্টার বিশ্ববিদ্যালয়ে জিনোমিক মেডিসিন বিষয়ে পড়াশোনা করেছেন। নতুন এ উদ্ভাবন প্রসঙ্গে সাদিয়া বলেন, ছোটোবেলা থেকেই বিজ্ঞানের প্রতি ঝোঁক ছিল আমার। ১৪ বছর বয়সে এই ঝোঁক নেশায় পরিণত হয়, যখন আমার দাদার আলঝেইমার ধরা পড়ে। আমি প্রতিরোধক তৈরির এ মিশনে নেমে পড়ি। তিনি বলেন, ভল্টিকের পরীক্ষামূলক ব্যবহারের জন্য প্রথমে তাদের নিজেদের রেস্তোরাঁ ‘ক্যাফে ইন্ডিয়া’কে বেছে নেই। তিনি আরও বলেন, কোভিড-১৯ ও বাজারে উপস্থিত সব সাধারণ জীবাণুনাশক নিয়েও বিস্তর গবেষণা করে অবশেষে জীবাণু ধ্বংসের নিখুঁত সূত্রটি পেয়েছি। এর থেকেই ভল্টিক আবিষ্কার করতে পেরেছি।


এদিকে মেয়ের এই উদ্ভাবনে গর্বিত বাবা কবির আহমেদ। তিনি বলেন, আমার মেয়ের এই আবিষ্কারের মাধ্যমে বিশ্বের মানুষকে যদি সাহায্য করতে পারি তাহলে এর চেয়ে আনন্দের আর কিছু নেই। তবে পারিবারিক ব্যবসার সঙ্গে নিজেকে না জড়িয়ে ছোটোবেলা থেকেই গবেষণায় মন দিয়েছিলেন সাদিয়া। ব্ল্যাকবার্ন মাদ্রাসা থেকে সফলভাবে জিসিএসই ও আলিমা কোর্স পাস করেন। পরে ম্যানচেস্টারের হলি ক্রস সিক্সথ ফর্ম কলেজে পড়াশোনা শেষ করে চেস্টার বিশ্ববিদ্যালয় থেকে জেনেটিক্সে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। আলঝেইমার ও নিউরোডিজেনার ওপর পিএইচডি শুরু করেছিলেন সাদিয়া। যদিও বর্তমানে করোনা ভাইরাস মহামারির কারণে তা স্থগিত রয়েছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here