করোনা ভাইরাস থেকে পরিত্রাণ পাওয়ার জন্য আশেকে রাসুলদের করণীয়

17
1013
সূফী সম্রাট হযরত সৈয়দ মাহবুব-এ-খোদা (মাঃ আঃ) হুজুর কেবলাজান।

বিশেষ সংবাদদাতা: যুগে যুগে বহুবার মহামারি এসেছে এবং মানব সভ্যতাকে আতংকিত ও স্থবির করে দিয়ে গেছে। এবার বিশ্বময় মহামারি রূপ নিয়েছে করোনা ভাইরাস। বিশ্বের ২০৩টি দেশে আজ ছড়িয়ে পড়েছে করোনা ভাইরাসের আক্রমণ। বিশ্বের এই ভয়ংকর মহামারি থেকে পরিত্রাণ পাওয়ার জন্য মহান সংস্কারক মোহাম্মদী ইসলামের পুনর্জীবনদানকারী সূফী সম্রাট হযরত সৈয়দ মাহ্বুব-এ-খোদা দেওয়ানবাগী (মা. আ.) হুজুর কেবলাজান দেশে-বিদেশে আশেকে রাসুলদের প্রতি মূল্যবান দিকনির্দেশনা প্রদান করছেন। যেগুলো পালন করলে মহান রাব্বুল আলামিন এবং রাহমাতুল্লিল আলামিনের দয়া ও রহমত লাভ করা সম্ভব। সেই দিক নির্দেশনাগুলো হচ্ছে- প্রত্যেকে আজিজি করে ৫ ওয়াক্ত নামাজের সাথে মোহাম্মদী ইসলামের ওয়াজিফা শরীফ আমল করবেন। প্রতিদিন সকাল ও সন্ধ্যায় আজিজির সাথে মোহাম্মদী ইসলামের মিলাদ পাঠ এবং করোনা ভাইরাস থেকে পরিত্রাণের লক্ষ্যে নিজের এবং নিজের পরিবারের জন্য মানত করে রাখবেন।

এ প্রসঙ্গে মহান সংস্কারক সূফী সম্রাট হযরত দেওয়ানবাগী (মা. আ.) হুজুর কেব্লাজান বলেন, করোনা ভাইরাসের আক্রমণ থেকে পরিত্রাণ পাওয়ার জন্য আমি যে নিয়ম বলে দিয়েছি, এটি পালন করলে আপনারা আল্লাহর সাহায্য পাবেন। আপনাদের বিপদ হবে না। প্রত্যেকেই যার যার বাড়িতে ছেলে-মেয়ে নিয়ে সকাল সন্ধ্যায় দুইবার মিলাদ পড়বেন। আর একটা মানত করে রাখবেন বাসার সকলের জন্য। নিয়মিত দরূদ পড়বেন এবং মোহাম্মদী ইসলামের আমলগুলো করবেন। এগুলো আমল করলে আপনারা আল্লাহর সাহায্য পাবেন।

সূফী সম্রাট হযরত দেওয়ানবাগী আরো বলেন, বালা-মুসিবতে আল্লাহ্কে স্মরণ রাখুন, তিনিই সাহায্য করবেন। নিয়মিত তরিকার কাজ করেন, আল্লাহ্র সাহায্য চান। কারণ এটা একটা খোদায়ি গজব। বিশ্বের এমন কোনো দেশ নেই যেখানে এই ভাইরাসাটা ছড়ায়নি। সবাই সতর্কতার সাথে চলাফেরা করবেন।

বর্তমান পরিস্থিতিতে করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য হোম কোয়ারেন্টিনের কোনো বিকল্প নেই। এই কোয়ারেন্টিনের ব্যাপারে সর্বপ্রথম যিনি বলেছিলেন তিনি হলেন সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ মহামানব হযরত মুহাম্মদ (সা.)। এ প্রসঙ্গে আল্লাহর রাসুল (সা.) বলেন, “যখন তুমি কোনো ভূখন্ডে প্লেগ ছড়িয়ে পড়ার খবর শুনতে পাও তখন সেখানে প্রবেশ কোরোনা। পক্ষান্তরে প্লেগ যদি তোমার অবস্থানস্থল পর্যন্ত পৌঁছে যায় তাহলে ঐ জায়গা ত্যাগ কোরোনা।” হযরত রাসুল (সা.) আরও বলেন, “যারা সংক্রামক রোগে আক্রান্ত হয়েছে তাদের সুস্থ মানুষ থেকে দূরে থাকতে হবে।”

হযরত আয়েশা (রা.) হতে বর্ণিত হয়েছে, তিনি বলেন- আমি আল্লাহ্র রাসুল (সা.)-এর নিকট মহামারি সম্পর্কে জানতে চাইলাম, অতঃপর আল্লাহর রাসুল (সা.) আমাকে জানালেন, নিশ্চয় মহামারি হলো এক প্রকার আজাব। মহান আল্লাহ্ এ আজাব যাকে ইচ্ছা তাকেই দিয়ে থাকেন, তবে মু’মিনদের জন্য এটি একটি রহমত। যখন এ মহামারি কোনো ব্যক্তির ওপর দেখা দিবে, তখন সে তার ঘরে অবস্থান করবে ধৈর্যশীল হয়ে কল্যাণের আশায়। সে যদি এ বিশ্বাস রাখে যে, তার ভাগ্যে যা আল্লাহ্ লিখেছেন তাই ঘটবে, তবে মহান আল্লাহ্ তাকে শহিদের সমান ফজিলত দান করবেন।” (মুসলাদে আহমদ ১৮নং খণ্ড, পৃষ্ঠা ১৪৫-১৪৬)

এ প্রসঙ্গে সূফী সম্রাট হযরত দেওয়ানবাগী (মা. আ.) হুজুর কেবলাজান বলেন, আল্লাহর গজব থেকে পরিত্রাণের জন্য হযরত রাসুল (সা.)-এর রহমতের প্রয়োজন। সুতরাং মহামারি-সহ যাবতীয় গজব থেকে পরিত্রাণের জন্য হযরত রাসুল (সা.)-এর উপর অধিক পরিমাণে দরূদ ও মিলাদ শরীফ পাঠ করা প্রয়োজন।

করোনা ভাইরাসটির সংক্রমণ সারাবিশ্বে মহামারি আকারে দেখা দেওয়ায় বিশ্বময় লকডাউন পরিস্থিতি বিরাজ করছে। বাংলাদেশেও বর্তমানে একই পরিস্থিতিতে বিরাজ করছে। তাই সরকারী সিদ্ধান্ত মোতাবেক সকলকে হোম কোয়ারেন্টিনে থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে এবং সকল কাজে ন্যূনতম সামাজিক দুরত্ব বজায় রাখার নির্দেশ প্রদান করা হয়েছে।

মহান সংস্কারক সূফী সম্রাট হুজুর কেবলাজানের নির্দেশক্রমে সারাদেশের আশেকে রাসুলগণ সরকারী সিদ্ধান্ত মেনে চলে নিজ নিজ পরিবারের সদস্যদের নিয়ে মিলাদ শরীফ, মোহাম্মদী ইসলামের ওয়াজিফা আমল করছেন। তাই বর্তমান পরিস্থিতিতে কেহ দরবার শরীফে না এসে একজন দায়িত্বশীল সুনাগরিক হিসেবে বাড়িতে থেকেই দিনে ২ বার মিলাদ শরীফ পাঠ ও দৈনন্দিন ওয়াজিফা আমল করে মহান রাব্বুল আলামিনের সাহায্য, দয়া ও রহমত কামনা করুন। মহান আল্লাহ্ আপনাদের হেফাজত করুন।

17 COMMENTS

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here