করোনা ভাইরাস: বিশ্ব বিপর্যয় ও স্বপ্নের বিশ্বের প্রত্যাশা

0
273

মো. ইফতেখার হোসেন

পৃথিবীর সব দেশ, সব জাতি এখন এক হয়ে এক লক্ষ্যে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করে যাচ্ছে। মানব জীবন রক্ষার্থে যার যার শক্তি দিয়ে গবেষণা করে যাচ্ছে, মরিয়া হয়ে উঠেছে মানব জাতির সুরক্ষায় নতুন এক প্রতিষেধক আবিষ্কারের এবং নতুন কিছু আবিষ্কার করলে মুহূর্তে জানিয়ে দিচ্ছে বিশ্বের সকল জাতিকে। সবাই যোগ দিচ্ছে-টাকা দিয়ে, জ্ঞান দিয়ে, প্রযুক্তি দিয়ে, তথ্য দিয়ে, শ্রম দিয়ে। উদ্দেশ্য পৃথিবীর মানুষকে বাঁচানো, তাদের কষ্ট দূর করা। বিশ্বের মানুষদের বাঁচানোর যদি কোনো ব্যবস্থা করতে পারে নিজেদের ধন্য মনে করে সেই দেশ, সেই দেশের সরকার। বাহ! কী সুন্দর ভ্রাতৃত্ববোধ, কি স্ন্দুর মানবতা! মমতাময়, কল্যাণময় এক বিশ্ব, ভ্রাতৃত্ববোধে একাত্ম এক বিশ্ব। স্রষ্টার এইতো চাওয়া। পৃথিবীর মানুষের এই তো চাওয়া ও পাওয়া।

কোনো বর্বর সেনা কোনো শিশুর বুকে বন্দুক ধরছে না, রক্তে রঞ্জিত হচ্ছে না কোনো শিশু। কোনো বিশেষ গোত্রের ধর্ষিতা নারীদের আতঙ্কিত হাহাকার ধ্বনি শোনা যাচ্ছে না। কারোর উপাসনালয় কেউ ভাঙছে না, অগ্নি সংযোগ করছে না, তরতাজা যুবককে একা অসহায় পেয়ে দলবদ্ধভাবে রড দিয়ে, লাঠি দিয়ে পিটিয়ে রক্তাক্ত করে, মাথা থেতলে দিয়ে হত্যা করছে না কেউ। রাম দা’ দিয়ে কুপিয়ে, আগুনে পুড়িয়ে মারছে না কেউ। কোনো দেশ তার ক্ষমতার দম্ভ দেখাতে গিয়ে পারমাণবিক বোমা মেরে উড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দিচ্ছে না আরেক দেশকে। কেউ ঘর পুড়িয়ে, নারীদেরকে ধর্ষণ করে গায়ে আগুন দিয়ে, গুলি করে জাতিগত নিধন চালাচ্ছে না কোনো জাতিকে। ক্ষমতার মত্ত হয়ে হত্যার হুমকি দিচ্ছে না। টাকার দৌরাত্ম্য অন্যকে নিঃস্ব করে দেওয়ার পরিকল্পনা করছে না কেউ।

সমগ্র বিশ্বকে থমকে দিয়েছে করোনাভাইরাস ।

যে বিধাতা অনেক ভালোবেসে মানুষ সৃষ্টি করেছেন, তার এটাই তো চাওয়া ছিল। পৃথিবীর মানুষের এটাইতো চাওয়া। স্রষ্টা যা চাচ্ছেন আমরা তা কিছুতেই পূরণ করতে পারছিলাম না। আজকের জায়গায় দাঁড়িয়ে অদূর অতীতের দৃশ্য ফিরে দেখলে আমরা লজ্জায় মুখ লুকোনোর জায়গা পাব না। মানুষ হিসেবে এ কী করেছি মানবতার বিরুদ্ধে? কী কষ্ট-যন্ত্রণাই না দিয়েছি মানুষকে, আমার আরেক ভাইকে। মানুষকে আতঙ্কের মধ্যে রেখেছি শক্তির মত্ততায়। টাকার দম্ভ দেখাতে গিয়ে লক্ষ লক্ষ মানুষকে, শিশুকে অভুক্ত রেখেছি। বিনোদনের নামে নারীকে নগ্ন করে নাচিয়েছি। জেনে শুনে যুবকদের মগজ, বোধবুদ্ধিকে পঙ্গু করে দেবার জন্য নারী, মাদক, অস্ত্রের মোহে অন্ধ করে রেখেছি। যে যুবশক্তি সারাজীবন জগতের রক্ষাকবচ হিসেবে কাজ করেছে তাদের হীনমন্য, ব্যক্তিত্বহীন, ধ্বংসাত্বক এক জাতিতে পরিণত করে রেখেছি শুধুমাত্র আমার অবৈধ ব্যবসা টিকিয়ে রাখবার নেশায়। মানবতা-প্রেম-আবেগ-স্বার্থপরতা সবকিছুকে তুচ্ছ করে টাকাময় অর্থহীন এক জগৎ তৈরী করে রেখেছিলাম।

আজ এসবের উত্তেজনা নেই। আজ আরেকজনের মৃত্যু মানেই আমার মৃত্যু। আরেকজনর মৃত্যু ঠেকানো মানেই আমার মৃত্যু ঠেকানো। তাই আমি আমার সকল সম্পদ উজাড় করে দিচ্ছি, বাঁচো তুমি। আজ আমার গবেষণাগারে মারণাস্ত্র তৈরীর গবেষণা হয় না। গবেষণা হয় জীবন রক্ষাকারী ঔষধ আবিষ্কারের একান্তে যখন ডুব দিই হৃদয়ের গভীরে অবচেতন মন কথা বলে। দেখি আমার-আমাদের অদূর অতীত কর্মকান্ডে রুষ্ট হয়েছেন বিধাতা। আমাদের সকল জাতির একই স্রষ্টা- কেউ ডাকি গড, কেউ ঈশ্বর, কেউ আল্লাহ্, কেউ নারায়ণ, কেউ বা ভগবান। বিধাতা মুখ ফিরিয়ে নিয়েছেন আমাদের থেকে। আমরা পরোয়া করলাম না। ভাবলাম আমরাই হবো বিধাতা। অদক্ষ হাতে জগতকে চালাতে শুরু করলাম আমাদের ইচ্ছে মাফিক। যেখানে বিধাতা থাকেন না, সেখানে শয়তান বসবাস করে। শয়তানের প্ররোচনায় আমাদের দানবীয় তান্ডবে অতিষ্ঠ হয়ে উঠলো এ ধরা। আমরা তাকে পৌঁছে দিলাম ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে। আমাদের আত্মার উপর আধিপত্য বিস্তার করলো ষড়রিপু তথা কাম, ক্রোধ, লোভ, মোহ, মদ ও মাৎষর্য। আমরা ষড়রিপুর গোলাম হয়ে গেলাম আর আমাদের দাপটে ধ্বংস হলো মানবতাআর চুপ থাকতে পারলেন না বিধাতা। আব্রাহার বাদশাহকে নিবৃত করতে তিনি ছোটো ছোটো আবাবিল পাখি পাঠিয়েছিলেন। নমরুদ বাদশাহকে নিবৃত করতে মশার দল করে পাঠিয়েছিলেন। তেমনি একালের বাদশাহদের নিবৃত করতে তার সৈন্য হিসাবে পাঠালেন ক্ষুদ্রাতি ক্ষুদ্র ভাইরাস ‘করোনা’কে। এর আগে আমাদের সতর্ক করতে তিনি বেশি বেশি করে ঝড়- জলোচ্ছ্বাস-ঘূর্ণিঝড়-টর্নেডো-বজ্রপাত পাঠিয়েছিলেন। আমরা সতর্ক হইনি।

বিশ্ব বিবেকের প্রশ্ন, বিলিয়ন ডলারের এই মারণাস্ত্রগুলো মানবজাতির দুর্দিনে কোণ কাজে আসছে কি ?

আজ আমরা সমগ্র বিশ্ব অসহায় হয়ে পড়েছি করোনার কাছে। আমাদের তাবৎ অসভ্য কর্মকাণ্ড আমরা স্থগিত রেখেছি। আমাদের মানবতা, আমাদের ভ্রাতৃত্ব জেগে উঠেছে হে প্রভূ। আপনার অপার কৃপায় আমাদের আর একটু সাহায্য করুন, হে প্রভূ! দয়া করে আমাদের দীব্য দৃষ্টি খুলে দিন। আমরা যেন বুঝতে পারি এ আপনারই নিদর্শন, আমাদেরকে নিবৃত করতে আপনিই পাঠিয়েছেন। আমাদের বুঝতে সাহায্য করুন আপনি পরাক্রান্ত মহিমাময়, অপার দয়াময়। আপনি যাকে খুশি ধ্বংস করতে পারেন, যাকে খুশি সৃষ্টি করতে পারেন। বাদশাহকে ফকির করতে পারেন আর ফকিরকে বাদশাহ। আমাদের বুঝবার জন্য আপনি সকল নবি-রাসুলের মাধ্যমে কিতাব পাঠিয়েছেন। সে কিতাব থেকে যেন এইটুকু জেনে নিই যে, সকল নবি-রাসুলকে আপনিই পাঠিয়েছেন একের প্রত্যয়নকারীরূপে আরেকজনকে। তাঁরা ছিলেন পরস্পর ভাই। সুতরাং তাদের অনুসারী হিসেবে আমরাও যেন এক ধর্মের মানুষ আরেক ধর্মের মানুষকে ভাই বলে বুকে টেনে নিতে পারি। হে প্রভূ! মুসলমানদের যেন পবিত্র কুরআনের এ কথাটি দৃষ্টির বাইরে না থাকে, “নিশ্চয়ই জেনো, মুসলমান, ইহুদী, সাবেয়ী ও খ্রিষ্টানদের মধ্যে যে-ই আল্লাহ্ ও আখেরাতে বিশ্বাস করবে এবং সৎকর্ম করবে তাদের কোনো ভয় বা দুশ্চিন্তার কারণ নেই” [সুরা মায়েদা, আয়াত: ৬৯]। হে মুসলিম! তোমরাও এ অহংকার ভুলে যাও যে, তোমরাই একমাত্র আল্লাহ্র বান্দা।

আজ আমাদের ক্ষমতাদর্পী রাষ্ট্রসমূহের ক্ষমতা, বিত্তবানদের সম্পদ, পারমানবিক বোমা, অত্যাধুনিক অস্ত্র, রকেট লান্সার, অভিযোগ-পাল্টা অভিযোগ কোন কিছুই কাজে আসছে না। আজকের পরিস্থিতিতে নিশ্চয় বুঝতে পারছেন সম্পদ বা ক্ষমতা নয়, মানুষের বাঁচার একমাত্র উপকরণ আল্লাহ্র রহমত বা অনুগ্রহ। কোন কারণে আল্লাহর অনুগ্রহ উঠে গেলে তা ফেরত পাওয়ার আর কোন বিকল্প নেই। আর তা ফেরত পাওয়ার পূর্বশর্ত হলো, অতিতের পাপসমূহ স্মরণ করে স্রষ্টার কাছে পূরো আত্মসমর্পণ করে মাফ চাওয়া। বড় বড় ক্ষমতাধর, সম্পদশালী এবং ছোটো রাষ্ট্রসমূহ যার যার অবস্থান থেকে স্মরণ করুন মানবতা বিধ্বংসী কী সব কাজ বা আচরণ করেছেন আপনারা। নির্যাতিত অসহায় নিস্পাপ শিশু-নারী-পুরুষের কথা স্মরণ করুন। নিজেই নিজেকে ধিক্কার না দিয়ে পারবেন না, কারণ আজ আপনারা উত্তেজিত নন বা ক্ষমতার দম্ভে অন্ধ নন। আপনার আত্মা ষড়রিপূর বশিভূত নয়।

করোনাভাইরাস: সংক্রামক ব্যাধি ও মারণাস্ত্র উৎপাদন
ড. মুনীরউদ্দিন আহমদ

১৯১৮ সালে স্প্যানিশ ফ্লুতে ২৬৩ দিনে বিশ্বের তিন কোটি ৩৩ লাখ মানুষ মারা গিয়েছিল। এখন করোনা সারাবিশ্বকে কাঁপাচ্ছে। শুধু ফ্লু বা করোনা নয়, যুগে যুগে বহুবার ভাইরাস এসেছে এবং মানবসভ্যতাকে আতঙ্কিত ও স্থবির করে দিয়ে গেছে। তারপরও আমাদের টনক নড়েনি, টনক নড়েনি বিশ্বের পরাক্রমশালী শাসক ও নীতিনির্ধারকদের। ক্ষুদ্র একটি রাসায়নিক উপকরণ, যা ইলেকট্রন মাইক্রোস্কোপ ছাড়া খালি চোখে দেখা যায় না, তার নাম ভাইরাস। এই অদৃশ্য রাসায়নিক উপকরণটিকে মোকাবিলা করার জন্য, শনাক্ত ও প্রতিরোধ করার জন্য এবং পরাস্ত করার জন্য বিশ্বের কোনো দেশ বা শাসক যথাযথ মনোযোগ দেয়নি বা অর্থ বিনিয়োগ করেনি। অথচ বিশ্বের কুচক্রী রাষ্ট্রনায়ক ও তাদের অনুসারীরা প্রতি বছর ট্রিলিয়ন ট্রিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করে ধ্বংসাত্মক মারণাস্ত্র উৎপাদন, বিক্রি ও প্রয়োগ করে পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্তে শিশু-নারীসহ লাখো কোটি নিরীহ মানুষকে হত্যা করছে। করোনাভাইরাস সংক্রমণে বিশ্ব যখন কাঁপছে, তখনও থেমে নেই যুক্তরাষ্ট্র-উত্তর কোরিয়ার ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা। মহামারিতে বিশ্ব দুর্দিন পার করলেও পরাক্রমশালীদের তাতে পদক্ষেপ নেই।

যুক্তরাষ্ট্র, চীণ, রাশিয়া, ভারতের মত বৃহৎ ও শক্তিশালী রাষ্ট্রগুলো চিকিৎসা ও শিক্ষাখাতে গবেষণার চেয়ে সামরিকখাতে বেশি অর্থ ব্যয় করে।

বর্তমানে করোনাভাইরাসের ভয়ে বিশ্বের সবচেয়ে ক্ষমতাধর প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প থেকে শুরু করে সবচেয়ে বেশি অস্ত্র আমদানিকারক বিশাল ক্ষমতাবান ও ধনবান প্রিন্স পর্যন্ত ভয়ে কাঁপছেন। কেন, আপনারা আপনাদের অ্যাটম বোমা মেরে নিমেষেই লাখো মানুষ, ধনসম্পদ ধ্বংস করতে পারেন, আপনাদের ট্রিলিয়ন ট্রিলিয়ন ডলারের মারণাস্ত্র ও অ্যাটম বোমা ফাটিয়ে দেন না করোনাভাইরাসটিকে এক নিমেষে চিরতরে উড়িয়ে। পারছেন না। পারবেন না। আপনারা এখন পালিয়ে বেড়াচ্ছেন আর লুকিয়ে থাকাটাকে নিরাপদ মনে করছেন। বিশ্বের পরাক্রমশালীদের জানা উচিত, সাময়িক পালিয়ে ও লুকিয়ে, রুদ্ধঘরে আবদ্ধ থেকে পার পাবেন না। করোনা নতুনরূপে, নতুন আঙ্গিকে, নতুন পরাশক্তি নিয়ে আবার আসবে এবং আপনাদের-আমাদের তাড়িয়ে বেড়াবে, কাউকে ছাড়বে না। এখনও সময় শেষ হয়ে যায়নি। কোটি কোটি টাকার মারণাস্ত্র না বানিয়ে ও না কিনে সেই টাকা বিনিয়োগ করে ব্যাকটেরিয়া, ভাইরাস প্রতিরোধসহ সব ধরনের রোগ ঠেকাও, পর্যাপ্ত চিকিৎসক তৈরি করেন, হাসপাতাল বানান, স্বাস্থ্যসেবাকে উন্নত করেন, মানুষ বাঁচান।

জৈবিক যুদ্ধবিগ্রহ তথা জীবাণুভিত্তিক রণযুদ্ধ হলো মানুষ হত্যা কিংবা বিকলাঙ্গ করার উদ্দেশ্যে সামরিক যুদ্ধে জৈবিক বিষাক্ত পদার্থ কিংবা সংক্রামক অণুজীব যেমন ব্যাকটেরিয়া, ভাইরাস, ছত্রাকের ব্যবহার। বিগত চার দশকে (পেছনের কথা যদি নাও বলি) বিশ্বের বিভিন্ন দেশে পরাক্রমশালীরা হামলা-আক্রমণ চালিয়েছে। ব্যবহার করেছে নানারকম মারণাস্ত্র। ১৯৯২ সালে রাসায়নিক অস্ত্র নিষিদ্ধকরণ বিষয়ক কনভেনশন অনুমোদিত হয়। এই কনভেনশন অনুযায়ী জীবাণু ও রাসায়নিক মারণান্ত্রের উৎপাদন, মজুদ, বিস্তার ও ব্যবহার সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়। যেসব দেশের কাছে এসব অস্ত্র রয়েছে, তারা ওই কনভেনশন অনুযায়ী নিজেদের মজুদকৃত রাসায়নিক মারণাস্ত্রের ভাণ্ডার ধ্বংস করে ফেলতে বাধ্য। কিন্তু তাদের অনেকেই আজও যথারীতি এ ব্যাপারে তাদের অনাগ্রহ দেখিয়ে আসছে। এখনও বিশ্বের বিভিন্ন দেশে চলছে গৃহযুদ্ধ। এদের পক্ষ-বিপক্ষ হয়ে কোনো কোনো পরাক্রমশালী রাষ্ট্রনায়ক নাক গলিয়েই চলেছেন।

আমাদের মতো দেশগুলোর চিত্র আরও খারাপ। খাওয়ার পয়সা জোটে না, ওষুধ-পথ্যের জন্য বরাদ্দ নেই, পর্যাপ্ত ভালো চিকিৎসক নেই, নার্স নেই, সর্বসাধারণের জন্য হাসপাতাল নেই, ভাইরাস শনাক্তকরণের সাজসরঞ্জাম নেই। অথচ প্রতি বছর মারণাস্ত্র কেনা, আতশবাজি পোড়ানো, উৎসব, রংতামাশা ও বিলাসিতার জন্য কোটি কোটি টাকা ঢালা হচ্ছে। একেই বলে গরিবের ঘোড়া রোগ। বড় কষ্টে আছি, চিন্তায় আছি, আমাদের জন্য, মানুষের জন্য এবং সারাবিশ্বের সব অসহায় নিরীহ মানুষের জন্য। কিন্তু পরাক্রমশালীরা কি এসব কথা ভাবে, না বুঝে?

বাংলাদেশ ছোট একটা দেশ। জনসংখ্যার ভারে ন্যুব্জ। অর্থনৈতিক পশ্চাৎপদতা এবং দারিদ্র্যকে সঙ্গী করে একটা সর্বাত্মক জনযুদ্ধের মধ্য দিয়ে আমরা অর্জন করেছিলাম স্বাধীনতা। তারপর থেকে চলছে এগিয়ে যাওয়ার লড়াই। জন্মলগ্নেই বাংলাদেশ তার পররাষ্ট্রনীতিতে মূল অনুষঙ্গভুক্ত করেছিল- সবার সঙ্গে বন্ধুত্ব, কারও সঙ্গে বৈরিতা বা শত্রুতা নয়। এই অঙ্গীকারও রয়েছে আমাদের পররাষ্ট্রনীতিতে- আমরা কারও সঙ্গে সামরিক জোটে যাব না। কারও বৈশ্বিক রণকৌশলের অংশীদার হবো না। কিন্তু বিদ্যমান বাস্তবতায় প্রশ্ন জাগে, আমরা কি আমাদের অঙ্গীকারে শেষ পর্যন্ত অটল থাকতে পারব? বিকাশমান অর্থনীতির দেশ আজ করোনাভাইরাসের থাবায় ভয়াবহ হুমকির মুখে পড়েছে। জনস্বাস্থ্যগত সংকট তো প্রকট হচ্ছেই, এর সঙ্গে প্রকট হচ্ছে অর্থনৈতিক-সামাজিক সংকটও। মানুষের উদ্ভাবনী শক্তি কাজে লাগুক মানুষ মারার আয়োজনে নয়, মানুষকে রক্ষার প্রয়োজনে। এই যে নানারকম রোগব্যাধি কিংবা সংক্রামকের প্রকোপ বাড়ছে, এর গোড়ায় রয়েছে মারণাস্ত্রের নানারকম ব্যবহার কিংবা উৎপাদন প্রক্রিয়াজাতকরণের বিষক্রিয়া। মারণাস্ত্র উৎপাদন বন্ধ হোক, সংক্রামক ব্যাধি ঠেকাতে পরাক্রমশালীদের মধ্যে শুভবোধের উদয় হোক। মানবতা আজ নানাভাবেই বিপন্ন। মানুষকে আতঙ্কমুক্ত-বিপদমুক্ত করতে দরকার সম্মিলিত প্রয়াস।

শিক্ষাবিদ ও ফার্মাসি বিজ্ঞানের গবেষক


চিন্তা করুন, মানুষের প্রতি মমতা আর ভালবাসায় মানুষের কল্যাণে আসাই মানব জন্মের স্বার্থকতা। যার যার অবস্থান থেকে শপথ নিন, এ সকল মানবতা বিরোধি কাজ আপনারা আর করবেন না। এরপর স্রষ্টার কাছে মাফ চান, সকলেই যার যার অবস্থান থেকে। স্রষ্টার গুণবাচক নামসমূহ- পরম দয়ালু, ক্ষমাশীল, রেহাইদাতা, পরাক্রমশালী, অনুগ্রহকারী, প্রসংশিত, সর্বজ্ঞানী, তওবা কবুলকারী, সম্পদশালী, সম্পদদাতা ইত্যাদি গুনবাচক নাম সমূহ ধরে ডাকুন। তিনি নিশ্চয় সাড়া দিবেন এবং ক্ষমা করবেন।
তিনি যদি ক্ষমা করেন তবে তাঁর গজব তিনি তুলে নেবেন। এরপর আপনারা আপনাদের প্রতিশ্রুতি মতো কাজ করুন, দেখবেন গড়ে উঠেছে সব মানুষের জন্য এক স্বপ্নের পৃথিবী। এ নতুন পৃথিবীর উদ্যোক্তা আপনারা আজকের বিশ্ব নেতৃবৃন্দ। এ নতুন বিশ্ব সৃষ্টির কৃতিত্ব আপনাদের। সব দুর্যোগের পরে একটি কল্যাণ থাকে- সে সুযোগ এখন আপনাদের সামনে। তাকে স্বাগত জানান হে বিশ্ব নেতৃবৃন্দ। আপনারাই আগামীর স্বপ্নের পৃথিবীর নির্মাতা।
লেখক : সিইও প্রোমোট বিডি ফ্যাশনস

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here