কুমিল্লা টাউন হল: ঐতিহ্যবিনাশী উদ্যোগ কেন

0
270

অনলাইন ডেস্ক: কুমিল্লা টাউন হল একটি ঐতিহ্যবাহী নিদর্শন। কোনো দেশ বা জাতিগোষ্ঠী কতটা সভ্য, রুচিশীল ও উন্নত তার একটি প্রধান মাপকাঠি হচ্ছে তার ঐতিহ্যপ্রীতি ও ঐতিহ্য সংরক্ষণের সফল উদ্যোগ। সভ্য মানুষ নিজেদের ঐতিহ্য নিয়ে গর্ব অনুভব করে। নিজেদের এগিয়ে চলার ক্ষেত্রে অনুপ্রেরণার পাথেয় খুঁজে পায় নিজস্ব ঐতিহ্যের মধ্যে। কিন্তু আমরা যেন সভ্যতার সেই চিরায়ত ধারা থেকে অনেক দূরে। আমরা আমাদের ঐতিহ্য নিয়ে গর্বিত নই। ঐতিহ্যবাহী স্থাপনা গুঁড়িয়ে দিতে আমাদের দ্বিতীয়বার ভাবার প্রয়োজন হয় না। সেখানে বহুতল ভবন তৈরি করে আমরা তৃপ্তি অনুভব করি। অথচ সভ্যসমাজে হয় তার উল্টোটা। ঐতিহ্য বিনষ্টকারী যেকোনো কাজকে তারা লজ্জাকর মনে করে। তাহলে আমরা আমাদের পরিচয় নিয়ে, ঐতিহ্য নিয়ে এত উদাসীন কেন? কেন একের পর এক ঐতিহাসিক স্থাপনা ধ্বংস করছি?

বাংলার শিক্ষা ও সংস্কৃতি চর্চার এক গুরুত্বপূর্ণ ঐতিহাসিক নিদর্শন হচ্ছে কুমিল্লা টাউন হলের বীরচন্দ্র নগর মিলনায়তন ও পাঠাগার। ১৮৮৫ সালে ত্রিপুরার মহারাজা এই মিলনায়তন প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। মহাত্মা গান্ধী, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়, কাজী নজরুল ইসলাম, মওলানা ভাসানী, শেরেবাংলা এ কে ফজলুল হক, শহীদ ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত ও জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্মৃতি বহন করছে এই পাঠাগার ও মিলনায়তন। পাঠাগারটি দেশের প্রাচীনতম পুস্তক সংগ্রহালয়ের একটি। প্রকাশিত খবর থেকে জানা যায়, এই মিলনায়তন ও পাঠাগারের আদি ভবন ভেঙে নতুন স্থাপনা তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আর তার প্রতিবাদ জানিয়েছেন দেশের শিল্প-সাহিত্য-সংস্কৃতি অঙ্গনের ৫০ জন বিশিষ্ট ব্যক্তি। তাঁরা বীরচন্দ্র নগর মিলনায়তন ও পাঠাগারের আদি ভবন ভেঙে নতুন স্থাপনা নির্মাণের যে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে তাতে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। বিবৃতিতে বিশিষ্ট নাগরিকরা বলেন, ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলন, ভাষাসংগ্রাম ও মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিবিজড়িত এই ভবন ভাঙার পরিকল্পনা অত্যন্ত ন্যক্কারজনক এবং ইতিহাস-ঐতিহ্যের মূলে কুঠারাঘাতস্বরূপ। তাঁরা অবিলম্বে ঐতিহ্যবিনাশী এ ধরনের পরিকল্পনা থেকে সরে আসার আহ্বান জানান। পাশাপাশি তাঁরা কুমিল্লা টাউন হল প্রাঙ্গণে অবস্থিত উপমহাদেশের চিন্তাচর্চার অন্যতম সূতিকাগার ‘থিওসফিক্যাল সোসাইটি’র ভবনসহ পুরো প্রাঙ্গণকে‘ ঐতিহ্য এলাকা’ (হেরিটেজ সাইট) ঘোষণা ও সংরক্ষণের দাবি জানান। আমরা যে কতটা ঐতিহ্য বিমুখতার প্রমাণ পাওয়া যায় দেশের প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন ও ঐতিহাসিক স্থাপনাগুলো পরিদর্শনে গেলে। স্থাপনা ভেঙে পড়ছে, মানুষ ভবনের নানা নিদর্শন, এমনকি ইট পর্যন্ত খুলে নিয়ে গেছে বা যাচ্ছে। আমরা আশা করি, কুমিল্লা টাউন হলের বীরচন্দ্র নগর মিলনায়তন ও পাঠাগারের আদি ভবন ধ্বংসকারী পরিকল্পনা থেকে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ অবিলম্বে সরে আসবে এবং ঐতিহাসিক নিদর্শন হিসেবে এর যথাযথ সংরক্ষণ করা হবে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here