কৃষকের ছেলে জাপানের প্রধানমন্ত্রী

0
148


দেওয়ানবাগ ডেস্ক: কৃষকের ছেলে ইয়োশিহিদে সুগা হতে যাচ্ছেন জাপানের প্রধানমন্ত্রী। তিনি দেশটির ক্ষমতাসীন দল লিবারেল ডেমোক্র্যাটিক পার্টির ভোটে এ পদের জন্য মনোনীত হয়েছেন। ৭১ বছর বয়স্ক সুগা জন্ম নিয়েছিলেন একজন স্ট্রবেরি চাষির ঘরে। মেধা আর কঠোর পরিশ্রমে তিনি পরিণত হয়েছেন বর্ষীয়ান রাজনীতিবিদে। সূত্র : রয়টার্স।
তার নির্বাচন সম্পর্কিত খবরে জানা গেছে, জাপানের মন্ত্রিপরিষদ সচিব ইয়োশিহিদে সুগা ক্ষমতাসীন লিবারেল ডেমোক্র্যাটিক পার্টির (এলডিপি) প্রধান নির্বাচিত হয়েছেন। এর ফলে বিদায়ী প্রধানমন্ত্রী শিনজো আবের স্থলাভিষিক্ত হতে যাচ্ছেন তিনি। দলটির নেতৃত্ব নির্বাচনের ভোটে তিনি নিরঙ্কুশ জয় পেয়েছেন। এলডিপির সভাপতি নির্বাচনে জাপানের স্থানীয় সময় সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত দলীয় সংসদ সদস্যদের ৩৯৪ ভোট আর ৪৭টি প্রদেশের তৃণমূল নেতাদের ১৪১টি ভোট গ্রহণের কথা ছিল।
কিন্তু শেষ পর্যন্ত একটি ভোট কম পড়ে। ভোটের ফলাফল বিকাল সাড়ে ৩টায় প্রকাশ করা হয়। ফলাফলে দেখা গেছে, মোট ৫৩৪টি ভোটের মধ্যে ইয়োশিহিদে সুগা পেয়েছেন ৩৭৭ ভোট, তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী ফুমিও কিশিদা পেয়েছেন ৮৯ ভোট, আর অপর প্রতিদ্বন্দ্বী সাবেক প্রতিরক্ষামন্ত্রী শিগেরু ইশিবা পেয়েছেন ৬৮ ভোট। নিয়ম অনুযায়ী ক্ষমতাসীন দলের নির্বাচিত সভাপতিই প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব গ্রহণ করেন।
প্রধানমন্ত্রীত্বের পাশাপাশি সুগা এলডিপির নেতৃত্বও দেবেন। ১৯৭৩ সালে টোকিও হোসেই নামক এক নৈশ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আইনে স্নাতক করা ইয়োশিহিদে সুগার জন্ম হয় কৃষক পরিবারে। নিজের উপার্জিত অর্থে পড়াশোনা করা সুগা ১৯৮৬ সালে এলডিপিতে যোগদান করেন। পরবর্তীতে ১৯৯৬ সালে কানাজাওয়া প্রদেশ থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। শিনজো আবের নেতৃত্বাধীন সরকারের পুরো সময় মন্ত্রিপরিষদের সচিবের দায়িত্বে থাকা সুগা সরকারের নীতি-নির্ধারকের ভূমিকায়ও ছিলেন। নতুন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে সুগা শিনজো আবের রেখে যাওয়া প্রধানমন্ত্রীত্বের ২০২১ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত মেয়াদ পূরণ করবেন।
জাপানের সংসদ ইয়োশিহিদে সুগাকে দেশের নতুন প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত করেছে। তাঁর এই নির্বাচন ছিল প্রত্যাশিত এবং প্রত্যাশার সঙ্গে সংগতি রেখে নতুন মন্ত্রিসভাতেও খুব বেশি রদবদল তিনি ঘটাননি। সংসদের উভয় কক্ষ বুধবার বিপুল সংখ্যাধিক্য ভোটে সুগাকে নতুন সরকার প্রধান হিসেবে বেছে নিয়েছে। নতুন সরকার প্রধান নির্বাচিত হয়ে সুগা বলেছেন, করোনা ভাইরাস সামাল দেওয়ার পাশাপাশি অর্থনীতিকে সজীব করে তোলা হবে তার প্রাথমিক দায়িত্ব। নীতিগত অবস্থান থেকে আবের অনুসৃত পথ ধরে রাখার আভাস তিনি দিয়েছেন। মন্ত্রিসভায় ধারাবাহিকতা বজায় রাখলেও অনেকেই মনে করছেন নিজের পদে থিতু হয়ে বসার পর কিছুটা রদবদল তিনি হয়তো আনতে পারেন। তবে এর সবটাই নির্ভর করবে উপদলীয় বিভাজনের দিক থেকে ভারসাম্যগত অবস্থান অনুকূলে থাকার ওপর।
এলডিপি-এর শীর্ষ নেতাদের মধ্যে কয়েকজন অবশ্য চলতি বছরের মধ্যে সংসদ ভেঙে দিয়ে আগাম নির্বাচন ডাকার পক্ষপাতী। অর্থমন্ত্রী তারো আসো যেমন বলেছেন, স্থগিত হয়ে যাওয়া ২০২০ টোকিও অলিম্পিক আগামী বছর অনুষ্ঠিত হলে নির্বাচনের আয়োজনকে তা বিঘ্নিত করতে পারে। ফলে তিনি চাইছেন এ বছরের শেষদিকে যেন সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। তবে অন্যরা মনে করছেন করোনাভাইরাস সামাল দেওয়া নিয়ে সরকারের অবস্থান খুব বেশি পোক্ত না হওয়ায় আগাম নির্বাচন ডাকা ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে দেখা দিতে পারে।
এ দিকে নতুন প্রধানমন্ত্রী বাছাইয়ের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার আগে বুধবার সকালে আবের মন্ত্রিসভা ভেঙে দেওয়া হয়। বিদায়ী প্রধানমন্ত্রী এক বিবৃতিতে প্রায় আট বছর ধরে তাঁকে সমর্থন দিয়ে যাওয়ার জন্য জাপানের জনগণকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেছেন, কঠিন এক সময়ে সংকট উত্তরণে দেশকে সাহায্য করার যথাসাধ্য চেষ্টা তিনি করে গেছেন এবং সেই প্রক্রিয়ায় জন সমর্থন ছিল তার জন্য সবচেয়ে বড় সহায়ক শক্তি। প্রধানমন্ত্রীর পদ ছেড়ে দিলেও সংসদ সদস্য থেকে যাওয়ার উল্লেখ করে আবে তার সমাপনী বিবৃতিতে আরও বলেছেন যে একজন আইন প্রণেতা হিসেবে উত্তরসূরি সুগাকে তিনি সমর্থন দিয়ে যাবেন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here