কৃষিখাতে ৫ হাজার কোটি টাকার প্রণোদনা

0
268

সালাহ উদ্দিন : করোনা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের কারণে খাদ্য উৎপাদন ও সরবরাহ স্বাভাবিক রাখার লক্ষ্যে কৃষিখাতে ৫ হাজার কোটি টাকার প্রণোদনা ঘোষণা করেছে সরকার।

গত ১২ এপ্রিল খুলনা ও বরিশাল বিভাগের কর্মকর্তাদের সাথে ভিডিও কনফারেন্সে প্রধানমন্ত্রী এ প্রণোদনা ঘোষণা দেন। এই প্রণোদনার আওতায় ক্ষুদ্র ও মাঝারি চাষীগণ ৪% সুদে ঋণ নিতে পারবেন। এছাড়া সারের ভর্তুকি বাবদ ৯ হাজার কোটি টাকা, কৃষিতে যান্ত্রিকীকরণের জন্য ১০০ কোটি টাকা, বীজের জন্য ১৫০ কোটি টাকা এবং কৃষকদের জন্য আরো ১০০ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে বলে প্রধানমন্ত্রী ঘোষণা দেন।
এর পরিপ্রেক্ষিতে বাংলাদেশ ব্যাংক গত ১৩ এপ্রিল এডিসি সার্কুলার ১-এর মাধ্যমে ‘কৃষিখাতে বিশেষ প্রণোদনামূলক পুন: অর্থায়ন স্কিম’ ও গত ২৭ এপ্রিল এডিসি সার্কুলার ২-এর মাধ্যমে নভেল করোনা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের কারণে সৃষ্ট সংকট মোকাবিলায় শস্য ও ফসল খাতে ৪% রেয়াতি সুদ হারে ‘কৃষি ঋণ প্রদান স্কিম’ জারি করে।

স্কিম দুটি পর্যালোচনা করে দেখা যায়, পূর্ববর্তী বছরগুলোতে আমদানি বিকল্প ফসলসমূহ যেমন- ডাল, তৈলবীজ ও মসলাজাতীয় ফসল ও ভুট্টা চাষে কৃষকগণ ৪% সুদে কৃষি ঋণ পেতেন। বর্তমানে নতুন স্কিমের আওতায় এসব ফসলের পাশাপাশি ধান ও গমসহ সকল দানাশস্য, অর্থকরী ফসল, শাক-সবজি ও কন্দাল ফসল চাষের ক্ষেত্রেও কৃষক ৪% সুদে ঋণ সুবিধা পাবেন।

এছাড়া শস্য ও ফসল ব্যতীত কৃষির অন্যান্য চলতি মূলধন নির্ভরশীল খাতসমূহ যেমন- মৌসুমি ফুল ও ফল চাষ, মংস্য চাষ, পোল্ট্রি, ডেইরি ও প্রাণী সম্পদ খাত ৪% সুদে ঋণ সুবিধার আওতায় আসবে।

তফসিলি ব্যাংকগুলো ৪% রেয়াতি সুদে কৃষকদের কৃষি ঋণ প্রদান করবে এবং নিয়মিত সুদ হারের বাকী ৫% বাংলাদেশ ব্যাংক হতে প্রাপ্য হবেন। ব্যাংকসমূহ পুন: অর্থায়ন স্কিমের আওতায় বাংলাদেশ ব্যাংক হতে প্রয়োজনীয় অর্থ লাভ করবে।

একজন কৃষক জাতীয় পরিচয়পত্র ও কৃষি উপকরণ সহায়তা কার্ডের ভিত্তিতে অথবা কৃষি উপকরণ সহায়তা কার্ডের মাধ্যমে খোলা ১০ টাকার ব্যাংক অ্যাকাউন্টের মাধ্যম নিকটস্থ তফসিলি ব্যাংকের শাখা হতে ঋণ নিতে পারবেন। তাছাড়া ক্ষুদ্র, প্রান্তিক ও বর্গাচাষীগণ একক ও দলবদ্ধভাবে এই ঋণ নিতে পারবেন। ফসল উৎপাদনের জন্য একজন কৃষককে সর্বোচ্চ ১৫ বিঘা জমি চাষের জন্য ৪% সুদে নির্ধারিত পরিমাণ অর্থ ঋণ প্রদান করা যাবে। এছাড়া স্বাভাবিক সুদ হারে (৯%) তফসিলি ব্যাংকসমূহ হতে কৃষি খাতের অন্যান্য ঋণ গ্রহণ করা যাবে।
[লেখক : উপজেলা কৃষি অফিসার, তিতাস, কুমিল্লা ]

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here