কেমন গেল এবারের অনলাইন পশু বাজার

0
165

দেওয়ানবাগ প্রতিবেদক: করোনাকালে অনলাইনে পশু বিক্রির সাড়া মিলেছে বেশ। ই-কমার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ই-ক্যাব) দেওয়া তথ্য মতে, বিভিন্ন মাধ্যম মিলে প্রায় ২৭ হাজার গরু, ছাগল ও অন্যান্য কোরবানির পশু অনলাইনে বিক্রি হয়েছে। এছাড়া অনলাইন থেকে ছবি দেখে কৃষকের বাড়িতে বা খামারে এসে ক্রেতারা যে পরিমাণ গরু ক্রয় করেছেন, তার সংখ্যা হবে এর তিন থেকে চারগুণ।

ই-ক্যাব আরও জানায়, ডিজিটাল হাট এবং এই হাটের সঙ্গে সম্পৃক্ত মার্চেন্ট ও ই-ক্যাব মেম্বারদের অনলাইনে বিক্রি হওয়া গরু, ছাগল ও ভেড়ার সংখ্যা ৬ হাজার ৮০০। জেলাভিত্তিক সরকারি প্ল্যাটফর্মে কমপক্ষে ৫ হাজার ৫০০ গরু-ছাগল বিক্রির কথা জানা গেছে। বাংলাদেশ ডেইরি ফার্ম অ্যাসোসিয়েশনের সদস্যভুক্ত কোম্পানির অনলাইন প্ল্যাটফর্ম থেকে বিক্রীত পশু সাড়ে ৯ হাজারের কাছাকাছি। বিচ্ছিন্ন অন্যান্য প্ল্যাটফর্ম থেকে ৫ শতাধিক গরু বিক্রির ধারণা পাওয়া গেছে। সরকারি প্ল্যাটফর্ম ফুড ফর ন্যাশন চার হাজার গরু বিক্রির তথ্য ট্র্যাক করতে পেরেছে। এভাবে পুরো অনলাইন বাজারে প্রত্যক্ষ বিক্রি হওয়া পশুর সংখ্যা বের হয়ে আসছে। ধারণা করা হয়, আরও লাখ খানেক কোরবানির পশু পরোক্ষভাবে বিভিন্নভাবে অনলাইন শপ থেকে বিক্রি করা হয়েছে এবং অন্তত পাঁচ লাখ গরু ফেসবুকসহ বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে প্রদর্শিত হয়েছে।

ই-ক্যাবের মহাসচিব আবদুল ওয়াহেদ তমাল গণমাধ্যমকে বলেছেন, অনলাইনে কোরবানির পশুর বেশ চাহিদা ছিল এবার। খামারিদের মধ্যে একটা অনিশ্চয়তা ছিল যে তারা পশু কীভাবে বিক্রি করবেন-এটা একটা চ্যালেঞ্জ ছিল। আরেকটা বিষয় ছিল যে সাধারণ মানুষ ঘরে বসে কিনতে পারে কিনা। এক্ষেত্রে মানুষের আস্থা অর্জন করা খুব জরুরি বিষয় ছিল। ক্রেতাদের কেনা পশুর মাংসের ওজন ঠিক মতো দিলো কিনা, পেমেন্ট ঠিক মতো হচ্ছে কিনা, সময় মতো ডেলিভারি হবে কিনা। এই জায়গাগুলোতে আমাদের অ্যাসোসিয়েশনের সদস্যদের দিয়ে ডিজিটাল হাট ক্যাম্পেইন করি। যাতে ক্রেতারা কোনোভাবেই প্রতারিত না হয়। এছাড়া যাদের অভিযোগ আছে, সেগুলোও গুরুত্বের সঙ্গে দেখছি।

তিনি আরও বলেন, আমাদের পশু স্লটারিং হাউজ যেগুলো আছে-সেখানে স্লটারিংয়ের ব্যবস্থা করা হয়েছে। সেখান থেকে হোম ডেলিভারি করার ব্যবস্থা করা হয়েছে। কিছু ইস্যু চ্যালেঞ্জিং ছিল- যেহেতু এটা একেবারেই প্রথমবার। ই-কমার্স উদ্যোক্তারা যেহেতু এই ব্যবসা প্রথমবার করছেন, তাদেরও অভিজ্ঞতা কম ছিল। আমরা যারা ম্যানেজমেন্টে ছিলাম তাদেরও অভিজ্ঞতার ঘাটতি ছিল। কিছু অভিযোগ এসেছে, সেগুলো আমরা সমাধান করার চেষ্টা করেছি এবং এখনও চেষ্টা করছি। যাদের অভিযোগ আছে তাদের কীভাবে ক্ষতি পূরণ করা যায়, সেটা আমরা সমাধানের চেষ্টা করছি।

অনলাইনে পশু কেনায় গ্রাহক ভোগান্তি সম্পর্কে তিনি বলেন, অনেকেই হয়তো গরুর অর্ডার দিয়েছেন, কিন্তু গরুর দাঁত ওঠেনি। আবার দেখা গেছে যে, গরুটা অর্ডার দেওয়া হয়েছে কিন্তু প্রান্তিক পর্যায় থেকে সেই গরুটা আসেনি। সেটা পরিবর্তন করে অন্য গরু দেওয়া হয়েছে। পছন্দ মতো গরু সরবরাহ না করতে পারায় অনেককে আবার টাকা ফেরত দিতে হয়েছে। টাইম ম্যানেজমেন্টের বিষয়ে একটা বড় কমপ্লেইন থাকতে পারে মানুষের। হয়তো সকালে যাওয়ার কথা দুপুরে গিয়েছে, মাংস পেয়েছেন সবাই, পাননি এমন হয়নি। আমাদের কাছে এমন অভিযোগ এখনও আসেনি। এদিকে অনলাইনে বিক্রিত পশুর বাজারমূল্য ২৫০ কোটি টাকা বলে জানিয়েছে ই-ক্যাব।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here