কোভিড-১৯ বনাম হোমিওপ্যাথি

2
166

ডা. হাবীবা খানম
কোভিড-১৯ এক ভয়াবহ ভাইরাস। আরম্ভ যদিও সাধারণ সর্দি কাশি দিয়ে, কয়েক দিন পরেই দুর্বল দেহে অর্থাৎ যাদের ইমিউন সিস্টেম বা রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা (Immune System) দুর্বল তাদের দেহে অত্যন্ত মারাত্মক আকার ধারণ করে, যা মৃত্যু পর্যন্ত গড়ায়।

তবে আমি সারা পৃথিবীতে একটি সুখবর জানাতে চাই কোভিড-১৯ নিজে কোনো রোগ নয়, এটি একটি ভয়াবহ রোগবীজ, যা খুব দ্রুত ছড়ায় এবং খুবই ছোঁয়াচে। এই ভাইরাসের কোনো টিকা বা প্রতিষেধক নেই। তাই ভীষণ আতংকের নাম কোভিড-১৯।

স্বস্তির বিষয় হলো করোনার প্রতিষেধক না থাকলেও হোমিওপ্যাথিতে কোভিড-১৯ দ্বারা আক্রান্ত হলে উত্তম চিকিৎসা আছে। প্রশ্ন আসতে পারে, কীভাবে? আমি আগেই বলেছি করোনা কোনো রোগ নয় এটি একটি অচেনা অজানা আমদানি হওয়া এক ‘দূরারোগ্য রোগবীজ’। এই জীবাণু দ্বারা আক্রান্ত সকল রোগীর দেহে কিন্তু একই ধরনের ক্রিয়া বা লক্ষণ সৃষ্টি করেনা। রোগীর পরিবেশ, পারিবারিক ও সামাজিক অবস্থা এবং মনো-দৈহিক জগতে কি ধরনের আবেগ বর্তমান থাকে তার উপর নির্ভর করে রোগীর দেহে রোগের ক্রিয়া বা রোগের লক্ষণ প্রকাশ পায়, আর এই লক্ষণ সমস্যাটিই হলো রোগ। অর্থাৎ করোনার জীবাণু দ্বারা আক্রান্ত হওয়ার ফসলই হলো রোগ, যা বিভিন্ন দেহে বিভিন্নভাবে ডালপালা মেলে ভিন্ন ভিন্ন রঙে এবং ভিন্ন ভিন্ন রূপে।

করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত সকল রোগীর জন্য একই ঔষধ প্রযোজ্য হবেনা। কারণ এক হলেও প্রকাশ ভিন্ন, লক্ষণ ভিন্ন তাই ঔষধও হবে ভিন্ন। আসল কথা ঔষধটি সদৃশ হতে হবে, হোমিওপ্যাথির নিয়ম নীতি মেনে প্রয়োগ করতে হবে। সদৃশ অর্থ সম বা মিল। হোমিওপ্যাথিতে সদৃশ বলতে বোঝায় সুস্থ মানব দেহে পরিক্ষিত ঔষধের লক্ষণের সাথে রোগীর মনোদৈহিক লক্ষণের মিল। এই সদৃশতা থাকলে শুধু করোনা ভাইরাস দ্বারা আক্রান্ত রোগই নির্মূল হবে না, বরং ডেঙ্গু, ম্যালেরিয়া, নিপাহ, প্লেগ, টাইফয়েড, এবোলাসহ অসংখ্য ভাইরাস আক্রান্ত রোগ নির্মূলে শতভাগ সাফল্য আশা করা যায়।

কোনো রোগী হয়ত আগে থেকেই বিষণ্নতায়, হতাশায় মূহ্যমান ছিল, করোনা তাকে যেভাবে আক্রমণ করবে অন্যজন কে সেভাবে আক্রমণ করবে না। আবার একজন হৃষ্টপুষ্ট দেহে যেভাবে দ্রুত ক্রিয়া প্রকাশ করবে রোগা জীর্ণশীর্ণ দেহে ক্রিয়ার প্রকাশ ধীর ও ভিন্ন হবে। আগে থেকে হার্টের সমস্যায় ভুগছিল এমন রোগী যেভাবে আক্রান্ত হবে, হাঁপানি রোগী সেরূপ লক্ষণ প্রকাশ করবে না। প্রত্যেকটি রোগী তার মনো-দৈহিক অবস্থা থেকে নিজ নিজ সমস্যা অনুযায়ী রোগ লক্ষণ প্রকাশ করে থাকে। আক্রান্ত রোগীর রোগ লক্ষণগুলো যদি বিশেষ বিশেষভাবে পুঙ্খানুপুঙ্খরূপে সংগ্রহ করা যায় এবং হোমিও নিয়ম-নীতি মেনে চিকিৎসা দেওয়া যায় তবে কোভিড-১৯ দ্বারা মারাত্মকভাবে আক্রান্ত রোগীদেরও সুস্থ করা সম্ভব।

উল্লেখ্য যে, হোমিওপ্যাথির প্রত্যেকটা ঔষধ একেকটি নিদানতত্ত্ব। এটা জীনগত বিজ্ঞান। রোগ এক কিন্তু রোগী ভিন্ন তাই চিকিৎসাও ভিন্ন। কোভিড-১৯ এর চিকিৎসা করতে বললে আমিও বলবো এর কোনো চিকিৎসা নেই। এই ভাইরাসের চিকিৎসা করা অসম্ভব, কিন্তু এই রোগ বীজ দ্বারা আক্রান্ত হলে যে সকল লক্ষণ সমষ্টিগুলো দেখা দেয়, সেই লক্ষণ সমষ্টি সংগ্রহ করে চিকিৎসা করা সম্ভব।

আচেনা বীজ দেখে যেমন ফসল চেনা যায় না তেমনি অচেনা রোগবীজ নিয়েও চিকিৎসা অসম্ভব। হোমিওপ্যাথি চিকিৎসা করবে কোভিড-১৯ এর নয় রোগীর, রোগীর লক্ষণ সমষ্টির।

পরিশেষে বলবো হোমিওপ্যাথিতে চিকিৎসা বহির্ভূত কোনো রোগ নেই, কারণ হোমিওপ্যাথি এক উন্নত জীনগত বিজ্ঞান। এটি আমার কথা নয় মহাত্মা হ্যানিম্যানের প্রমাণিত সত্য ভাষ্য। জীনগত চিকিৎসাকেই তিনি ধাতুগত চিকিৎসা নামে প্রকাশ করেছেন। আমরা প্রত্যেক রোগীকে জীনগত চিকিৎসা দিয়ে থাকি, যার কার্যকারিতা অবশ্যই অবিসংবাদিত।

2 COMMENTS

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here