কোভিড-১৯ মোকাবিলায় ব্যায়ামের ভূমিকা

0
255

ডা. স্নিগ্ধা সরকার
কোভিড-১৯ এর মহামারির সময় আমাদের সবার জীবনযাপনে বেশ পরিবর্তন এসেছে। ভাইরাসের সংক্রমণ রুখতে এখন আমরা ঘরেই থাকছি। পার্কে, খেলার মাঠে এবং ব্যায়ামাগারে যাওয়ার ব্যাপারে এখনও নিষেধাজ্ঞা রয়ে গেছে। অনেকেই আবার রোগের উপসর্গ বা ঝুঁকির কারণে রুমে আইসোলেশনে বা কোয়ারেন্টাইনে আছেন। কিন্তু এভাবে দীর্ঘ সময় ঘরে থাকার জন্য কম শারীরিক পরিশ্রম স্বাস্থ্যের উপর আরও বিরূপ প্রতিক্রিয়া ফেলছে। তাই কোভিড-১৯ রোগটির প্রাদুর্ভাবের সময় শারীরিক ও মানসিকভাবে সুস্থ থাকার জন্য ব্যায়াম অত্যন্ত জরুরি।

কোভিড-১৯ মোকাবিলায় ব্যায়াম কেন জরুরি?

  • শারীরিক ব্যায়াম পরোক্ষভাবে আমাদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়।
  • যাদের ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্ত চাপের মতো কো মরবিডিটি আছে, তারা কোভিড-১৯ রোগের মারাত্মক ঝুঁকিতে আছেন। তাদের জন্য ব্যায়াম ডায়াবেটিসসহ বাড়তি ওজন নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে থাকে।
  • আমরা ইতিমধ্যে জানি কোভিড-১৯ রোগটি শরীরে শিরা ও ধমনীতে রক্তজমাট (থ্রম্বোসিস) ঘটায়। নিয়মিত শারীরিক পরিশ্রম এই ঘটনা অনেকাংশে রোধ করে।
  • এছাড়া স্ট্রেস কমিয়ে মানসিক প্রশান্তি এবং ঘুমের সমস্যা কমাতে ব্যায়াম সহায়ক।

করোনায় শ্বাস-প্রশ্বাসের ব্যায়াম:

  • করোনা ভাইরাসের পাশাপাশি শ্বাসতন্ত্রের অন্যান্য ইনফেকশনেও এই ব্যায়াম বেশ কার্যকরী।
  • বারান্দায় বা খোলা জানালার কাছে বসে গভীরভাবে শ্বাস নিন। ৩-৫ সেকেন্ড ধরে রাখুন। তারপর জোরে শ্বাস ছাড়ুন। ৪ থেকে ৫ বার এভাবে করার পর জোরে কাশি দিবেন। তবে অন্য কারো সামনে এমন না করাই ভালো। দিনে ২-৩ বার পর্যায়ক্রমে এই ব্যায়াম ফুসফুসকে শক্তিশালী করবে।
  • যারা শ্বাস কষ্টে বা হার্টের সমস্যায় ভুগছেন, তাদের ক্ষেত্রে সাবধানতা অবলম্বন করতে হবে।

উপুর হয়ে শোয়া:
উপুর হয়ে শোয়ার ফলে আমাদের ফুসফুস প্রশস্ত হবার জন্য জায়গা বেশি পায়। এতে রক্তে অক্সিজেনের স্যাচুরেশনের মাত্রা বৃদ্ধি পায়।
এরজন্য প্রতি দুই ঘন্টায় আধাঘন্টা উপুড় হয়ে শোবেন। এই পদ্ধতি করোনায় আক্রান্ত রোগীদের অবস্থা আরও জটিল দিকে যাওয়া প্রতিরোধ করে।
উপুড় হয়ে শোবার পর বাম কাত হয়ে কিছুক্ষণ বিশ্রাম নেওয়া যেতে পারে।
তবে যারা বেশি স্থূলকার, গর্ভাবস্থার মাঝামাঝি বা শেষদিকে, রক্তচাপ কম তাদের এইভাবে শোয়া যাবে না।

বাসায় বসে করা সহজ কিছু কাজ:

  • দড়ি লাফ বা বারবার সিঁড়ি দিয়ে উঠানামা করা।
  • অনলাইনে ভিডিও দেখে শারীরিক ব্যায়ামের ক্লাস করা।
  • যারা অনেকক্ষণ ধরে কম্পিউটার বা ল্যাপটপে কাজ করেন, তারা ৩০ মিনিট পরপর ২-৩ মিনিটের জন্য হেঁটে আসা।
  • যোগ ব্যায়ামের পাশাপাশি ছাদে বা বাসার খোলা জায়গায় খেলাধুলার ব্যবস্থা করা। সাথে অবশ্যই কম ক্যালরিযুক্ত খাবার খেতে হবে।

কতক্ষণ ব্যায়াম জরুরি:
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার গাইড লাইন অনুযায়ী

  • ৫-১৭ বছরের বাচ্চারা দিনে কমপক্ষে ৬০ মিনিট ব্যায়াম করবে।
  • ১৮ বছরের বেশি যারা তারা প্রতি সপ্তাহে কমপক্ষে মোট ১৫০ মিনিট বা তিন দিন পরপর ৭৫ মিনিট করে মাঝারি ধরনের শারীরিক ব্যায়াম করবে।

যারা কোভিড-১৯ থেকে সেরে উঠেছেন তারা কখন থেকে ব্যায়াম শুরু করবে?
কোভিড-১৯ রোগের উপসর্গ কমে যাবার দুই সপ্তাহ পর থেকে তারা ব্যায়াম শুরু করতে পারে। এক্ষেত্রে হালকা ধরনের ব্যায়াম দিয়ে শুরু করতে হবে। যদি উপসর্গহীন বা মৃদু উপসর্গ থাকে তাহলে হাঁটা চলা, শ্বাস-প্রশ্বাসের ব্যায়াম চালিয়ে যেতে হবে।

তবে যাদের কার্ডিয়াক মানে হার্টের সমস্যা আছে তারা অবশ্যই ডাক্তারের পরামর্শ নিবেন।
মনে রাখবেন, শারীরিক ব্যায়াম আপনাকে হয়তো রোগ থেকে রক্ষা করবে না। কিন্তু এই রোগের মারাত্মক জটিলতাগুলো অবশ্যই কমাবে।
[লেখক: এম.ডি (নিউরোলজি), রেসিডেন্ট, ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল]

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here