খাদ্য নিরাপত্তাহীনতা বাড়ছে

0
270

শ্রীলঙ্কায় ইউনিসেফের এক সমীক্ষায় দেখা গেছে, মহামারির এই সময়ে ৩০ শতাংশ পরিবারের খাদ্য গ্রহণের মাত্রা কমে গেছে। বাংলাদেশে দরিদ্রতম কিছু কিছু পরিবার প্রতিদিনের তিন বেলার খাবার যোগাড় করতেও ব্যর্থ হচ্ছে।

স্কুল বন্ধ থাকায় ৪৩ কোটিরও বেশি শিশুকে দূরবর্তী (অনলাইন) শিক্ষা কার্যক্রমের ওপর নির্ভর করতে হয়েছে। তবে অনেক পরিবারের, বিশেষ করে অনেক গ্রামীণ অঞ্চলে বিদ্যুৎ ও ইন্টারনেট ব্যবহারের সুযোগ না থাকায় এই ব্যবস্থা আংশিক প্রয়োজন মেটাতে পেরেছে।

সুবিধাবঞ্চিত অনেক শিশু কোভিড ১৯-এর প্রাদুর্ভাবের কারণে আগে থেকেই স্কুলশিক্ষার বাইরে থাকা প্রায় তিন কোটি ২০ লাখ শিশুর সঙ্গে যুক্ত হতে পারে বলে শঙ্কা প্রকাশ করেছে ইউনিসেফ।

এ সময়ে ঘরে থাকা অবস্থায় অনেক শিশু সহিংসতা ও নিগ্রহের শিকার হওয়ার পাশাপাশি শিশুদের মধ্যে হতাশা এবং আত্মহত্যার প্রবণতাও দেখা দিচ্ছে বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।

ইউনিসেফ হাম, নিউমোনিয়া, ডিপথেরিয়া, পোলিও এবং অন্যান্য রোগের টিকাদান কার্যক্রম পুনরায় শুরুর পাশাপাশি হাত ধোয়ার পর্যাপ্ত ব্যবস্থা এবং অন্যান্য শারীরিক দূরত্ব মেনে চলার বিষয়গুলো নিশ্চিত করে যত দ্রম্নত সম্ভব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খোলার পক্ষে মত দিয়েছে।

দক্ষিণ এশিয়ার অর্থনীতির ওপর কোভিড ১৯-এর প্রভাব তুলে ধরে ইউনিসেফের প্রতিবেদনে বলা হয়, অর্থনৈতিক বিশৃঙ্খলায় মারাত্মক ক্ষতির মুখে পড়েছে অনেক পরিবার। রেমিট্যান্স এবং পর্যটন খাত থেকে আয় কমে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ব্যাপক হারে চাকরি হারানো ও আয় কমে যাওয়ার ঘটনাও ঘটছে।

ইউনিসেফের প্রক্ষেপণ অনুযায়ী, আগামী ছয় মাসে আরও প্রায় ১২ কোটি শিশু দারিদ্র্য ও খাদ্য নিরাপত্তাহীনতায় নিপতিত হতে পারে, যা তাদের ইতোমধ্যে দরিদ্র হিসেবে চিহ্নিত হওয়া ২৪ কোটি শিশুর কাতারে নিয়ে যাবে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দরিদ্র পরিবারগুলোর ওপর মহামারির প্রভাব কমাতে সরকারগুলোর উচিত জরুরি সর্বজনীন শিশু সুবিধা ও স্কুল ফিডিং কর্মসূচিসহ সামাজিক সুরক্ষা প্রকল্পগুলোতে আরও অর্থ বরাদ্দ করা।
গফ বলেন, ‘এখন এই ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া হলে তা দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোকে কোভিড ১৯-এর কারণে সৃষ্ট মানবিক সংকট থেকে দ্রম্নত সময়ের মধ্যে একটি স্থিতিস্থাপক ও টেকসই উন্নয়নের মডেলে রূপান্তরিত হতে সহায়তা করবে, যেখানে শিশুদের কল্যাণ, অর্থনীতি এবং সামাজিক সংহতির জন্য দীর্ঘমেয়াদে সুবিধা পাওয়া যাবে।’

প্রতিবেদনে কোভিড ১৯-এর কারণে সৃষ্ট শিশুবিষয়ক সমস্যাগুলো সামাল দিতে বেশকিছু বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

এর মধ্যে রয়েছে- কমিউনিটি স্বাস্থ্যকর্মী এবং অন্যান্য সামাজিক সেবায় নিয়োজিত কর্মীদের ব্যক্তিগত সুরক্ষা সরঞ্জাম (পিপিই) দেওয়া; স্বল্প প্রযুক্তি ব্যবহার বাড়িয়ে গৃহভিত্তিক শিক্ষার ব্যবস্থা করা (যেমন- কাগজ ও মোবাইল ফোনভিত্তিক উপকরণের সমন্বয় করা) বিশেষ করে মেয়ে শিশু, দুর্গম এলাকা ও শহুরে বস্তিতে বসবাসরত এবং শারীরিকভাবে অক্ষমসহ ঝুঁঁকির মুখে থাকা শিশুদের জন্য; বিদ্যালয় ও স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রগুলোতে পানি সরবরাহ, শৌচাগার ও পরিচ্ছন্নতাবিষয়ক পরিষেবাগুলোর চাহিদা পূরণের ব্যবস্থা করা; মহামারি ঘিরে যেসব কাল্পনিক ও বিদ্বেষমূলক বক্তব্য উঠে আসছে সেগুলো শনাক্ত করতে ধর্মীয় নেতা ও অন্য সহযোগীদের সঙ্গে কাজ করা।

দক্ষিণ এশিয়ায় কোভিড-১৯ মোকাবিলায় জুনের শুরুতে ইউনিসেফ ও অন্য সহযোগীরা যেসব কাজ করেছে তার খতিয়ানও তুলে ধরা হয়েছে সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে।

এতে বলা হয়, শিশুসহ ৩ লাখ ৫৬ হাজার ৮২০ জনকে কমিউনিটিভিত্তিক মানসিক স্বাস্থ্য এবং মনো-সামাজিক সেবা দেওয়া হয়েছে।

কোভিড-১৯ সম্পর্কিত বিষয়ে ঝুঁকির মুখে থাকা জনগোষ্ঠীর সঙ্গে যোগাযোগ ও কমিউনিটিভিত্তিক বিষয়গুলোতে প্রায় ১০ কোটি মানুষকে সম্পৃক্ত করা হয়েছে।

সংক্রমণ প্রতিরোধ নিয়ন্ত্রণের অংশ হিসেবে এক কোটি ৬০ লাখ মানুষের কাছে গুরুত্বপূর্ণ ওয়াশ সেবা এবং উপকরণ পৌঁছানো হয়েছে।

এ সময়ে শিশুদের পাশাপাশি অন্তঃসত্ত্বা ও বুকের দুধ খাওয়ানো নারীদের কোভিড ১৯-এর সংক্রমণ শনাক্তসহ চিকিৎসা সেবা দিতে ১৪ লাখ স্বাস্থ্যকর্মীকে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে।

ইউনিসেফের সহায়তাপ্রাপ্ত কেন্দ্রে টিকাদান, প্রসবপূর্ব ও প্রসবোত্তর যত্ন, এইচআইভি যত্ন এবং লিঙ্গভিত্তিক সহিংসতার পরিষেবাসহ অপরিহার্য স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দেওয়া হয়েছে ৭৩ লাখ নারী ও শিশুর কাছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here