গ্রামীণ অর্থনীতি চাঙ্গা করছে পশুপালন

0
219

দেওয়ানবাগ প্রতিবেদক: গ্রামের মানুষ আগে পশুপালন করত নিজেদের খাবারের জন্য। কিন্তু সেই অবস্থা এখন আর নেই। সাম্প্রতিক সময়ে কৃষির উপখাত হিসেবে গরুসহ পশুপালনের হার বাড়ছে। ব্যক্তি উদ্যোগের বাইরে এখন বাণিজ্যিকভাবেও গরুপালন হচ্ছে। মাংসের চাহিদা আমরা এখন নিজেরাই পূরণ করছি। দিন দিন দেশে ফার্মের সংখ্যা বাড়ছে। চাহিদাও তৈরি হচ্ছে। পশুপালনে বড়ো ইতিবাচক দিক হলো নারীরাও পশুপালনে এগিয়ে আসছেন। নারী উদ্যোক্তারা ফার্ম দিয়ে বাণিজ্যিকভাবে পশুপালন করে বিক্রিও করছেন। আগে শুধু ব্যক্তি উদ্যোগে গরুর খামার দেখা যেত। এখন বাণিজ্যিকভাবেও দেশের সবখানে ফার্ম দেখা যাচ্ছে। এতে একদিকে যেমন গ্রামীণ অর্থনীতি আরো চাঙ্গা হচ্ছে; তেমনি জেলা ও বিভাগীয় শহরও চাঙ্গা হচ্ছে। এখন এমনও দেখা যাচ্ছে, পশুপালনের হার বেশি হয়ে যাচ্ছে। রপ্তানিও শুরু হচ্ছে।

তবে একটা বিষয় মনে রাখতে হবে, ব্যক্তি উদ্যোগের পাশাপাশি সরকারের উন্নয়ন প্রকল্পের মাধ্যমেও পশুপালনে উৎসাহিত করা হচ্ছে। সরকারের ‘আমার বাড়ি, আমার খামার’ প্রকল্প, পল্লী কর্মসহায়ক ফাউন্ডেশন বা পিকেএসএফের সমৃদ্ধি কর্মসূচির মাধ্যমে গ্রামের মানুষদের গরুসহ অন্যান্য পশুপালনে সহযোগিতা করা হচ্ছে। গ্রামীণ অর্থনীতিতে দরিদ্র মানুষদের জন্য এই সহযোগিতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। গ্রামীণ নারীদের দারিদ্র্য বিমোচন ও আয় সৃজনে গরু পালন কার্যকর ভূমিকা রাখছে। দেশে অনেক গরুর খামার তৈরি হয়েছে। তা ছাড়া গরুর খামারের বর্জ্য থেকে জৈব সার ও বায়োগ্যাস দিন দিন জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। গরুকে খাওয়ানোর জন্য ফিডশিল্পের বিকাশ ঘটছে। ব্যাংকিং ঋণ দেওয়া হচ্ছে। সব মিলিয়ে একটি শিল্পকে ঘিরে নানা ধরনের চাহিদা তৈরি হয়েছে। একসময় দেশে ভারতীয় গরুর ওপর নির্ভরতা বেশি ছিল। ভারত থেকে গরু আমদানি বন্ধ হওয়ায় আমাদের এখানে প্রচুর খামার তৈরি হলো। অন্যদিকে চাহিদাও তৈরি হলো। ফলে অবৈধভাবে যারা গরু আনছে, তারা সুবিধা করতে পারছে না। কারণ দেশে প্রচুর গরুপালন হচ্ছে। যারা গরুপালন করছে, তারা গরুর ন্যায্য দামও পাচ্ছে। ভারত থেকে গরু আমদানি নিষিদ্ধের পর উত্তরবঙ্গে প্রচুর নারী উদ্যোক্তা তৈরি হয়েছে। তাঁরা গরুপালন করছে বাণিজ্যিকভাবে। পশুপালন বেশি হওয়ায় দুধের উৎপাদনও বেড়েছে। তা ছাড়া সারা বছরই মাংস পাওয়া যাচ্ছে। এসবের মাধ্যমে গ্রামীণ অর্থনীতি এখন বেশ চাঙ্গা। মাংসের চাহিদা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে চামড়াজাত পণ্যের চাহিদাও বাড়ছে। একটার সঙ্গে আরেকটি ওতপ্রোতভাবে জড়িত। চামড়াশিল্পে নতুন নতুন পণ্য তৈরি হচ্ছে। সে জন্য চামড়াজাত পণ্যের রপ্তানি পাঁচ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত করার স্বপ্ন দেখছে সরকার। যেটি এখন এক বিলিয়ন ডলারে আছে। তবে কোরবানির সময় চামড়ার দাম কমে যাওয়া অত্যন্ত দুঃখজনক। সাধারণ মানুষ কোরবানির সময় তার চামড়ার দাম পান না। এতে প্রচুর চামড়ার অপচয় হচ্ছে। মানুষ দাম না পেয়ে চামড়া ফেলে দিচ্ছেন। মধ্যস্বত্বভোগীরা এই সুযোগ নিচ্ছে। চামড়া সঠিকভাবে সংগ্রহ না হলে এর মূল্যও কমে যায়। তাই অবশ্যই মধ্যস্বত্বভোগীদের অপতৎপরতা বন্ধ করতে হবে। যাঁরা সত্যিকার ব্যবসা করেন, তাঁদের ব্যবসার সুযোগ করে দিতে হবে। এটি করতে না পারলে তাঁরা ক্ষতিগ্রস্ত হবেন। মধ্যস্বত্বভোগীদের লাগাম টেনে ধরতে হবে সরকারকে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here