গ্রামীণ দরিদ্রদের আয় বাড়ানো পাঁচ খাতে গুরুত্বের তাগিদ

0
65

অর্থনৈতিক ডেস্ক: গ্রামীণ দরিদ্রদের আয় বাড়াতে পাঁচ খাতে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়ার তাগিদ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। তারা বলেছেন, সার্বিকভাবে দেশের টেকসই উন্নয়নের জন্য গ্রামীণ অর্থনীতির উন্নয়ন জরুরি। গুরুত্বের জায়গাগুলো হলো: কৃষিক্ষেত্রকে বহুমুখীকরণ করতে সঠিক নীতিমালা তৈরি করা, যা কৃষি উৎপাদনকে আধুনিকীকরণ করবে। সব সময়ের জন্য পানি ব্যবস্থাপনা উন্নয়ন এবং মানসম্মত বিদ্যুৎ ও রাস্তার সুবিধা নিশ্চিত করা। বাজার ব্যবস্থার উন্নয়ন এবং জমির বাজারকে ভালোভাবে কাজ করতে দেওয়া। সেবা সম্প্রসারণের জন্য দক্ষতার মান বাড়ানো। সেই সঙ্গে নারীর কর্মের সীমিত সুযোগের বাধা দূর করে গ্রামীণ কর্মক্ষেত্রে নারী-পুরুষের সমতা নিশ্চিত করা।


বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (বিআইডিএস) গবেষণা সম্মেলনের শেষ দিনে শুক্রবার বিষয়টি তুলে ধরা হয়। গবেষক দলের পক্ষে মারিয়া ফৌজিনিয়া জেনানী ‘বাংলাদেশ রুরাল ইনকাম ডায়াগনস্টিক’ শিরোনামের প্রতিবেদনটি উপস্থাপন করেন। রাজধানীর লেকশোর হোটেলে অনুষ্ঠিত এ সম্মেলনে সভাপতিত্ব করেন বিআইডিএসের মহাপরিচালক ড. বিনায়ক সেন। সারা দিনে ৪টি গবেষণাপত্র ও ৬টি মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করা হয় সম্মেলনে। স্বাধীনতার ৫০ বছর উপলক্ষ্যে এ সম্মেলনের আয়োজন করে সংস্থাটি।


সম্মেলনে প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন নিউইয়র্কের পপুলেশ কাউন্সিলের সিনিয়র অ্যাসোসিয়েট সাজেদা আমিন, ইউএনডেসার চিফ অব ডেভেলপমেন্ট রিসার্স নজরুল ইসলাম, অলস্টার ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক এস. আর. ওসমানী, অধ্যাপক কুনাল সেন প্রমুখ। সমাপনী অধিবেশনে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ইকোনমিক রিসার্স গ্রুপের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ওয়াহিদ উদ্দিন মাহমুদ। গোলটেবিল আলোচনায় সভাপতিত্ব করেন বিআইডিএস গ্রাজুয়েটস স্কুল অব ইকোনমিকসের পরিচালক সুলতান হাফিজ রহমান।


এতে প্রধান অতিথি ছিলেন পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী ড. শামসুল আলম। আলোচনায় অংশ নেন প্রধানমন্ত্রীর অর্থনৈতিকবিষয়ক উপদেষ্টা ড. মসিউর রহমান, সাবেক অর্থমন্ত্রী এম. সাইদুজ্জামান, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব ড. আহমদ কায়কাউস, বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. ফজলে কবির, অর্থ মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব আব্দুর রউফ তালুকদার, পরিকল্পনা সচিব প্রদীপ রঞ্জন চক্রবর্তী, ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিআই’র সভাপতি জসিম উদ্দিন, ব্র্যাকের নির্বাহী পরিচালক আসিফ সালেহ, এমসিসিআই’র সভাপতি নিহাদ কবীর প্রমুখ।


বাংলাদেশ রুরাল ইনকাম ডায়াগনস্টিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গ্রামীণ অর্থনৈতিক উন্নয়নে কৃষিকে বিশেষ গুরুত্ব দিতে হবে। কৃষি উৎপাদনের ৭১ শতাংশই হচ্ছে ধান ও চাল। ধানের বাইরে যেসব শস্য উৎপাদন হয় সেগুলোর কিছুটা বহুমুখীকরণ হলেও তার গতি ধীর। ধানের পাশাপাশি উচ্চ দামের শস্য, পশুপালন এবং মাছ উৎপাদন বাড়িয়ে মানুষের আয় বাড়ানো যায়।


এ ছাড়া গ্রামীণ নারী সাধারণত পশুপালনে যুক্ত থাকে। তাদের এই কাজের পাশাপাশি অন্যান্য আয়বর্ধক কাজে যুক্ত করা গেলে গ্রামের মানুষের দারিদ্র্য হ্রাসে ভূমিকা রাখতে পারে। গ্রামীণ আয় বৃদ্ধির অন্যতম উপায় হচ্ছে গ্রামীণ উৎপাদনের বহুমুখীকরণ।


জিডিপি প্রবৃদ্ধি ও মানুষের মাথাপিছু আয় বাড়াতে নারীদের শ্রমে অন্তর্ভুক্তি জরুরি। উন্নয়নশীল দেশগুলোতে গ্রামীণ নারী কাজে যুক্ত হলেও তাদের মজুরির হার কম। মজুরি বাড়ানোর কৌশল ও উদ্যোগ থাকতে হবে। শিক্ষা ও দক্ষতা বাড়িয়ে নারীদের প্রাতিষ্ঠানিক কাজে যুক্ত হওয়ার সুযোগ তৈরি করতে হবে।


সম্মেলনে উপস্থাপিত আরেক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অ্যাপারেল খাতে তিন ধরনের বাধা রয়েছে। এগুলো হলো-জাতীয় আয়ের চেয়ে কম মজুরিতে শ্রমিক নিয়োগ দেওয়া। শ্রমিকদের নিম্ন শিক্ষাগত যোগ্যতা। বিশেষ করে নারী শ্রমিকদের ক্ষেত্রে এটি আরও কম। ফলে তারা তাদের পেশাগত উন্নয়ন ঘটাতে পারে না। এছাড়া শিল্পে নারীদের অংশগ্রহণ এখনো কম। অ্যাপারেল খাতে প্রযুক্তির উন্নয়ন ও রোবটের ব্যবহার বৃদ্ধি পাওয়ায় আগামীতে কর্মসংস্থান কমার আশঙ্কা আছে। এক্ষেত্রে ডিজাইন, মার্কেটিং এবং আরএনডিতে গুরুত্ব দিতে হবে।


রপ্তানিমুখী শিল্পে নারী শ্রমিকদের অংশগ্রহণ বাড়াতে হবে। প্রতিযোগিতায় টিকতে স্বল্প ও দীর্ঘমেয়াদি প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা থাকা উচিত। এতে তারা অপ্রাতিষ্ঠানিক খাত থেকে প্রাতিষ্ঠানিক খাতে নিয়োগ পেতে পারেন। ‘ঢাকার নিম্নআয়ের এলাকার সব মানুষকে একীভূতকরণ ও দরিদ্রতা’ শীর্ষক প্রতিবেদনে বলা হয়, ঢাকা শহরের যেসব এলাকায় নিম্নআয়ের মানুষ বাস করে সেখানকার ৩১ শতাংশ নারী নিজেদের ঘরের বাইরে অনিরাপদ মনে করেন। ৬৯ শতাংশ নিজেদের নিরাপদ মনে করেন। একই এলাকার ৯৬ শতাংশ পুরুষ ঘরের বাইরে নিজেদের নিরাপদ মনে করেন। বিশ্বব্যাংকের গবেষক তানিমা আহমেদের এ প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, ঢাকা শহরের নিম্নআয়ের মানুষের ওইসব এলাকার নারীদের ভীতি বয়স বাড়ার সঙ্গে কমে যায়। অর্থনৈতিকভাবে সক্রিয় নারীদের ৬১ শতাংশ ঘরের বাইরে নিজেকে নিরাপদ ভাবে। আবার যেসব নারী পোশাক কারখানায় কাজ করেন তাদের ১৯ শতাংশ নিজেদের নিরাপদ ভাবেন। গৃহকর্মীদের ৩৭ শতাংশ নিজেদের নিরাপদ ভাবেন আর ৩৫ শতাংশ নিজেদের অনিরাপদ ভাবেন। ঢাকার নিম্নআয়ের এলাকার ৯০ শতাংশ নারী হেঁটে কাজের জায়গায় যেতে অনিরাপদ মনে করেন। আরেক গবেষণায় বলা হয়েছে, করোনা মহামারির সময় তথ্যপ্রযুক্তির ব্যবহার ব্যাপক বেড়ে যায়। জীবনযাত্রা সচল রাখতে এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। ই-কমার্স শিল্প ব্যাপক বিকাশ লাভ করেছে। অপ্রাতিষ্ঠানিক খাত অনেক ধীর। সেক্ষেত্রে অনলাইন অত্যন্ত দ্রুততার সঙ্গে ক্রেতাদের কাছে পণ্য পৌঁছে দেয়।


ই-কমার্স ব্যবস্থা যাতায়াত সময়, খরচ ও শ্রম সাশ্রয় করে। সেই সঙ্গে অবকাঠামোগত বাধা দূর করতে ভূমিকা রাখে। বাজার সুবিধা বাড়াতে কাজ করে। ই-কমার্স প্রাতিষ্ঠানিক ও অপ্রাতিষ্ঠানিক খাতের মধ্যে ফারাক কমাতে সাহায্য করছে। তবে ই-কমার্সের ক্ষেত্রে বেশ কিছু চ্যালেঞ্জও তৈরি হচ্ছে। সেগুলোর বিষয়ে সতর্ক থাকতে হবে।


আলোচনায় অংশ নিয়ে ফজলে কবির বলেন, ২০৪১ সালে রপ্তানিনির্ভর অর্থনীতিতে যেতে প্রচেষ্টা অব্যাহত আছে। ডলারের বিপরীতে টাকার মান অনেক ভালো আছে। বিশেষ করে প্রতিবেশী দেশগুলোর তুলনায়। বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ অনেক সন্তোষজনক। এর অর্থ দিয়ে পায়রা বন্দর উন্নয়নে ঋণ দেওয়া হয়েছে। আব্দুর রউফ তালুকদার বলেন, আমাদের বড় সমস্যা হচ্ছে রাজস্ব আদায়ের হার জিডিপির তুলনায় অনেক কম। এ ছাড়া দুটি বড় চ্যালেঞ্জ রয়েছে-একটি হচ্ছে বিদ্যুৎ, গ্যাস ও ইউরিয়া সারে বড় ভর্তুকি এবং অন্যটি মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে রাখা।

পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউটের চেয়ারম্যান জাইদী সাত্তার বলেন, ভিয়েতনাম অনেক দূর এগিয়ে গেলেও আমরা কেন যেতে পারছি না। আমাদের মানবসম্পদ আছে। এ দেশের কৃষক, শ্রমিক, গবেষক, উদ্যোক্তা সবাই কঠোর পরিশ্রমী। এই উদ্যমকে কাজে লাগাতে হবে। পোশাক খাতের পাশাপাশি অন্য শিল্পেও একই সুবিধা দিতে হবে।


সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের সম্মানীয় ফেলো ড. মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, এলডিসি উত্তরণ-পরবর্তী চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় বাংলাদেশের প্রস্তুতি খুবই কম। ভিয়েতনাম যেখানে বিভিন্ন দেশের সঙ্গে এফটিএসহ বিভিন্ন চুক্তি করেছে। আমরা তাদের ধারেকাছেও নেই। আমাদের বড় চ্যালেঞ্জ হচ্ছে কীভাবে বাণিজ্যের ক্ষেত্রে পার্টনারশিপ তৈরি করা যায়। প্রযুক্তি উন্নয়ন ও দক্ষতা বৃদ্ধি সংক্রান্ত প্রকল্পে বিশেষ প্রণোদনা দেওয়া উচিত।


বিশ্বব্যাংকের সাবেক লিড ইকোনমিস্ট ড. সৈয়দ আকতার মাহমুদ বলেন, মধ্য আয়ের ফাঁদ থেকে রক্ষা পেতে বিনিয়োগ বৃদ্ধি ও উৎপাদন বহুমুখীকরণ করতে হবে। পোশাক খাতের পাশাপাশি অন্য শিল্পগুলোকে সহায়তা দিয়ে রপ্তানি বহুমুখীকরণ করতে হবে। জসিম উদ্দিন বলেন, সব রপ্তানিমুখী শিল্পে সমান সুবিধা দিতে হবে। অন্যতম চ্যালেঞ্জগুলো হচ্ছে দক্ষতা বৃদ্ধি, সক্ষমতা বৃদ্ধি, খাতভিত্তিক উন্নয়ন, গবেষণা ও একাডেমিশিয়ান ও শিল্প উদ্যোক্তাদের মধ্যে সমন্বয় সাধন করা। আসিফ সালেহ বলেন, নগর দারিদ্র্য শনাক্তকরণ এবং তাদের সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচিতে অন্তর্ভুক্তির চ্যালেঞ্জ রয়েছে। নিহাদ কবীর বলেন, আমাদের প্রধান চ্যালেঞ্জই হচ্ছে মানসম্মত তথ্যের অভাব। এ ছাড়া রয়েছে পলিসি চ্যালেঞ্জ।


পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী ড. শামসুল আলম বলেন, বাংলাদেশ পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনার সফল বাস্তবায়নের কারণে আজকের অবস্থানে এসেছে। ২০০৯ সালে সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে পুনরায় পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনায় ফিরে আসে। ফলে এমডিজি বাস্তবায়নে অনেক ক্ষেত্রেই সফলতা এসেছে। প্রথম প্রেক্ষিত পরিকল্পনা ও দ্বিতীয় প্রেক্ষিত পরিকল্পনা অন্যতম মাইলফলক। একই সঙ্গে শতবর্ষের ডেল্টা প্ল্যান জলবায়ুর পরিবর্তন মোকাবিলার পরিপ্রেক্ষিতে অন্যতম একটি দলিল। আর্থসামাজিক সূচকে ভারত ও পাকিস্তানকে পেছনে ফেলেছে বাংলাদেশ।


ড. মসিউর রহমান বলেন, সরকার লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড তৈরি করেছে। বিনিয়োগকারীরা পছন্দমতো বিনিয়োগ করতে পারছেন। সরকার ঘোষিত প্রণোদনা প্যাকেজ করোনা মোকাবিলায় কাজে লেগেছে। জমির স্বল্পতা থাকায় প্রযুক্তিনির্ভর উৎপাদন ব্যবস্থায় গুরুত্ব দিতে হবে। কর আদায়ের দিকে নজর দিতে হবে। কর জিডিপির অনুপাত বাংলাদেশে অত্যন্ত কম। তিনি আরও বলেন, ব্যাংকগুলোকে ঋণ দেওয়ার ক্ষেত্রে খোঁজখবর নিয়ে দিতে হবে। তাহলে খেলাপি কম হবে।


প্রফেসর ওয়াহিদ উদ্দিন মাহমুদ বলেন, দুটি অনুপ্রেরণামূলক লক্ষ্য অর্জনের জন্য আরও সুনির্দিষ্ট পথের দিকে মনোযোগ দেওয়া প্রয়োজন। উন্নয়নশীল দেশগুলোর মধ্যে দ্রুত প্রবৃদ্ধি খুব কমই টেকসই হয়। টেকসই প্রবৃদ্ধি হলেও উচ্চ বৈষম্যের কারণে দেশের মর্যাদাকে বিঘ্নিত করে। ড. আহমদ কায়কাউস বলেন, দেশে সুশাসনের কথা বলা হয়। কিন্তু এর সঠিক কোনো মাপকাঠি নেই। একেক দেশের প্রেক্ষাপটে সুশাসন একেক রকম। আমাদের দেশে রোহিঙ্গা নেতা মুহিবউল্লাহ হত্যার ঘটনায় সারা বিশ্বে তোলপাড় করেছে।


কিন্তু ব্রিটিশ পার্লামেন্টের একজন এমপিকে যখন অফিসে ঢুকে হত্যা করা হয়, তখন তেমন কোনো আলোচনা হয় না। তাই সুশাসনের মাপকাঠি বের করা কঠিন। তবে কোনো হত্যাকাণ্ডই কাক্সিক্ষত নয়। তিনি বলেন, সরকার উন্নয়ন করছে। জনগণের জন্য কাজ করছে। তার সুফল পাচ্ছে জনগণ। এলডিসি উত্তরণের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সরকার ব্যাপক প্রস্তুতি নিয়েছে। ফজলে কবীর বলেন, খেলাপি ঋণ বেসরকারি ব্যাংকগুলোতে কিছুটা কম। কেননা, তাদের উদ্দেশ্যই থাকে ব্যবসা করা। কিন্তু সরকারি ব্যাংকগুলো বিশেষ করে রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংক এবং বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের খেলাপি ঋণ সবচেয়ে বেশি। এর পেছনে অনেক কারণ আছে। কোনোভাবেই খেলাপি ঋণ ভালো নয়। তবে এখন খেলাপি ঋণ কিছুটা কমতির দিকে থাকলেও আরও কমাতে হবে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here