ঘাড় ব্যথার যত কথা

0
213

ডা. স্নিগ্ধা সরকার

আমাদের মাঝে ঘাড় ব্যথা একটি কমন সমস্যা। ভুক্তভোগী অনেকে একে সাধারণ ভাবে নেয়। অনেকে আবার ঘাড়ে ব্যথায় ভীষণ ঘাবড়ে যায়। চলুন জানা যাক কি কি কারণে ঘাড় ব্যথা হতে পারে-

মেকানিকাল ব্যথা:
ঘাড়ে ব্যথা হবার কারণগুলোর মধ্যে এটি সবচেয়ে বেশি পাওয়া যায়। আমাদের প্রায় সবার হাতেই এখন স্মার্ট ফোন রয়েছে। অনেকক্ষণ একই ভঙ্গিতে ঘাড় কাত করে বসে থেকে মোবাইল ব্যবহারের ফলে ঘাড়ে এমন ব্যথা অনুভূত হতে পারে। তাছাড়া যারা দীর্ঘ সময় বসে থেকে কম্পিউটারে কাজ করে বা দুই ঘন্টার অধিক সময় একইভাবে টিভি দেখার ফলে মেকানিকাল নেক পেইন হয়।
খারাপ ভঙ্গিতে বিছানায় শোবার অভ্যাসের দরুন বিশেষ করে যারা উঁচু বালিশ ব্যবহার করে তারাও দীর্ঘদিন ধরে ঘাড় ব্যথায় ভুগে। এমনকি আমাদের দেশের অনেক খেটে খাওয়া মানুষ যেমন- কুলি, ইট ভাটার শ্রমিক, ফেরিওয়ালা যারা ঘাড়ে ভারী বোঝা বহন করে তাদের জন্যও ঘাড়ে ব্যথা একটি অন্যতম সমস্যা।

স্পনডায়লোটিক পেইন:
সাধারণত ৫০ বছরের পর এই ধরনের সমস্যায় ঘাড় ব্যথা হয়। তবে তার আগেও হতে পারে। আমাদের ঘাড়ের মেরুদণ্ডের হাড় ক্ষয় বা আর্থাইটিস এর প্রধান কারণ। এক্ষেত্রে ঘাড়ের নির্দিষ্ট স্থানে দীর্ঘদিন ব্যথা থাকে। ঘাড়ের একটি সাধারণ এক্সরে পরীক্ষা করেই এই সমস্যা নির্ণয় করা সম্ভব।

রেডিকুলোপ্যাথি:
আমাদের ঘাড়ের মেরুদণ্ডের হাড্ডির মাঝখানে যে নরম ডিস্ক থাকে, সেটা প্রলাপ্স হয়ে ঘাড়ে ব্যথা হতে পারে।
ঘাড় নড়াচড়ার সাথে ব্যথা বেশি বাড়ে। ঘাড়ের ব্যথা হাতে চলে আসে। নার্ভ বা স্নায়ুগুলোতে চাপ পড়ার কারণে হাত, আঙ্গুল ঝিম ঝিম করে। হাতে শক্তি না পাওয়া এমনকি হাতের মাংসগুলো শুকিয়ে যায়।
কখনো ঘাড়ের মেরুদণ্ডের অংশের ডিস্ক হার্নিয়েশন হয়ে স্পাইনাল কর্ডে চাপ দিতে পারে। তখন হাত-পা অবশ বা প্যারালাইজড হওয়া অসম্ভব না। এসব ক্ষেত্রে ঘাড়ের এম.আর.আই. পরীক্ষা জরুরি। ব্যথা কমানোর জন্য ঔষধ, মাস্ল, রিলাক্সেন্ট ব্যবহার করা হয়। তাছাড়া ফিজিওথেরাপী বিশেষ সহায়ক। তবে কিছু ক্ষেত্রে সার্জারি প্রয়োজন।

ঘাড় ব্যথার অন্যান্য কারণ:
এছাড়া অন্যান্য অনেক কারণে ঘাড় ব্যথা হতে পারে। এর মধ্যে রয়েছে-

  • ঘাড়ে কোনো আঘাত বা ইনজুরি
  • ঘাড়ে মেরুদণ্ডের হাড়ে যক্ষ্মা
  • স্পাইনাল টিউমার
  • কোনা প্রদাহ বা ইনফেকশন

প্রতিকার:
ঘাড় ব্যথার প্রতিকারের জন্য কিছু নিয়ম মেনে চলতে হবে।

  • একটানা ঘাড় ঝুঁকে বা বাকা হয়ে মোবাইল, কম্পিউটার ব্যবহার বা লেখার কাজ থেকে বিরত থাকতে হবে।
  • ঘুমের সময় একটি নরম ও পাতলা বালিশ ব্যবহার করা ভালো। শক্ত, উঁচু বালিশ ব্যবহার করা যাবে না।
  • যেসব কাজে ঘাড় ব্যথা বাড়ে তা করা যাবে না।
  • ঘাড়ের মাংসপেশীতে হালকা গরম স্যাঁক দেওয়া যেতে পারে। কিছু ক্ষেত্রে ডাক্তারের পরামর্শে ঘাড়ে বিশেষ ধরনের কলার ব্যবহার করতে হয়।
  • হাড় ক্ষয় রোধে ভিটামিন ডি, ক্যালসিয়ামের ঘাটতি থাকলে তা পূরণ করতে হবে। সেই সাথে এক্সারসাইজও খুব উপকারী।
  • ঘাড়ের ব্যথা হাতে আসলে, দীর্ঘ সময় ঘাড় ব্যথা থাকলে বা ঘাড় ব্যথার সাথে জ্বর, কাশি, হাত-পা অবশ লাগলে অতিসত্বর বিশেষজ্ঞ ডাক্তারের শরণাপন্ন হতে হবে।

[লেখক: এমডি, রেসিডেন্ট (নিউরোলজি), ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল]

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here