চক্রান্তের বেড়াজালে মোহাম্মদী ইসলাম

3
353

আশেকে রাসুল আল-আমিন ভূইয়া
বিশ্বনবি হযরত রাসুল (সা.) হেদায়াতের জলন্ত প্রদীপরূপে শান্তি ও মুক্তির বার্তা নিয়ে ৫৭০ খ্রিষ্টাব্দে পবিত্র মক্কা নগরীর সম্ভ্রান্ত কুরাইশ বংশের হাশেমি গোত্রে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর সম্মানিত পিতা আন্তর্জাতিক ব্যবসায়ি হযরত আব্দুল্লাহ্ (আ.) ও সম্মানিত মাতা হযরত আমিনা (আ.)। হযরত আব্দুল্লাহ (আ.) পৃথিবীতে এসেছিলেন তাঁর পিতার মানতের মাধ্যমে। হযরত আবদুল মুত্তালিব (আ.) আল্লাহ্র দরবারে মানত আদায় করতে গিয়ে আবদুল্লাহ্ (আ.)-এর পরিবর্তে ১০০টি উট কোরবানি করেছিলেন। এ প্রসঙ্গে আল্লাহ্র রাসুল (সা.) বলেন, “আনা ইবনুজ জাবেহাইন।’’ অর্থাৎÑ আমি দুই জবাইকৃত পিতার সন্তান। আমার পূর্ব পুরুষের মধ্যে দুজনের জীবন আল্লাহ্র নামে উৎসর্গীত হয়েছিল। আল্লাহ্র রাসুল (সা.)-এর আগমনের ৪০ দিন পূর্বে আবরাহার বাদশা ও তার হস্তিবাহিনী মক্কার কাবাঘর ধ্বংস করার জন্য মক্কার দিকে অগ্রসর হয়। সেই সংবাদ শুনে মক্কার আদিবাসিরা আবরাহার বাদশাহ্র ভয়ে মক্কা ছেড়ে অন্যত্র চলে যেতে শুরু করে। হযরত আমেনা (আ.)-এর গর্ভে তখন আমাদের প্রিয় নবি হযরত রাসুল (সা.) ছিলেন। হযরত রাসুল (সা.)-এর দাদা হযরত আব্দুল মুত্তালিব (আ.) বলছিলেন, হে আমেনা! তুমি যেহেতু অসুস্থ তাই তোমার পক্ষে এখানে অবস্থান করা ঠিক হবে না, আমাদের সাথে চলো। তখন হযরত আমেনা (আ.) তাদের উদ্দেশে বলেন, ঐ অত্যাচারী বাদশাহ মক্কায় প্রবেশ করতে পারবে না। তাঁর আগেই সে ধ্বংস হয়ে যাবে। পরবর্তিতে দেখা গেলো যে সত্যিই আবরাহার বাদশাহ পবিত্র কাবা শরিফের কাছেই আসতে পারেনি। হযরত আমেনা (আ.) এর ভবিষ্যদ্বাণী সত্যি বলে প্রমাণিত হয়। তাই বলা যায় যে, পিতামাতার দিক দিয়ে হযরত রাসুল (সা.) সর্বশ্রেষ্ঠ পিতামাতার সন্তান। অথচ একশ্রেণির জ্ঞানীগুণি পন্ডিত বলে থাকেন, হযরত রাসুল (সা.)-এর পিতামাতা মুসলমানই ছিলেন না। একথা সম্পূর্ণ ভুল। তারা প্রথম শ্রেণির মুসলমান ছিলেন।

হযরত রাসুল (সা.) ২৫ বছর বয়সে আরবের শ্রেষ্ঠ ধনী হযরত খাদিজা (রা.)-এর সাথে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন। তিনি তাঁর মহান মালিক আল্লাহ্র পরিচয় লাভ করার জন্য দীর্ঘ ১৫ বছর হেরা গুহায় ধ্যান সাধনা করেন। দীর্ঘ ১৫ বছর ধ্যান সাধনার পর ৪০ বছর বয়সে আল্লাহ্র পক্ষ থেকে নবুয়ত প্রাপ্ত হন। মক্কাবাসীর কাছে যখনই তিনি এক আল্লাহ্র দাওয়াত দিতে শুরু করেন, তখনই তাঁরা বিরোধিতা করতে শুরু করেন, তাঁর উপরে নেমে আসে অমানবিক নির্যাতন ও অত্যাচার নিপীড়ন। যে রাসুল (সা.) মক্কাবাসীর কাছে এত প্রিয় পাত্র ছিলেন এক মুহূর্তেই শত্রুতে পরিণত হয়ে যান। রাসুল (সা.)-এর উপর এমন অত্যাচার নির্যাতন শুরু করে, যা বর্ণনাতীত। আল্লাহ্ তাঁর শ্রেষ্ঠ বন্ধু রাহমাতুল্লিল আলামিনকে জগদ্বাসীর জন্য রহমত হিসেবে প্রেরণ করেছেন। অথচ মক্কাবাসী তাঁকে এক মুহূর্তের জন্যও শান্তিতে থাকতে দেয়নি। হযরত রাসুল (সা.)-কে মক্কাবাসী এক আল্লাহ্র দাওয়াত দেওয়ার কারণে ‘শিহাবে আবু তালিব’ নামক স্থানে প্রায় ৩ বছর অবরুদ্ধ করে রাখে। এক পর্যায়ে আল্লাহ্ তাঁকে নির্দেশ করেন মদিনায় হিজরত করার জন্য, তখন তিনি মদিনায় হিজরত করেন। হযরত রাসুল (সা.) মদিনাকে একটি আদর্শ রাষ্ট্র হিসাবে প্রতিষ্ঠা করে মোহাম্মদী ইসলামের প্রচার শুরু করেন। কিন্তু পরিতাপের বিষয় হলো, সেই কুচক্রি মহল ৮০০ কিলোমিটার দূরে গিয়ে তাঁকে হত্যা করার চেষ্টা করে। আল্লাহ্র বন্ধুদের হত্যা করা কী এত সহজ? এই প্রসঙ্গে আল্লাহ্ বলেন, “সাবধান! আল্লাহ্র বন্ধুদের কোনো ভয়ভীতি নেই এবং তাঁরা কোনোরূপ দুঃখিতও হবেন না।” (সূরা ইউনুস : আয়াত ৬২) এক আল্লাহ্র বাণী প্রচার করতে গিয়ে তাঁর ৬৩ বছর হায়াতে জিন্দেগিতে ২৭টি যুদ্ধের মোকাবেলা করতে হয়েছিল। এত যুদ্ধ বিগ্রহের মধ্য দিয়েই হযরত রাসুল (সা.) ধর্ম প্রচার করেছেন, যা বিদায় হজের ভাষণের মাধ্যমে পূর্ণতা লাভ করে। মক্কায় অবস্থিত সকলকেই বিদায় সম্ভাষণ করে নিজে এহরামের পোশাক না ছেড়েই মদীনার পথে রওনা হন। প্রায় সোয়া লক্ষ সাহাবি তাঁর সাথে ছিলেন। মহান আল্লাহ্র পক্ষ থেকে তিনি যে রেসালাত প্রাপ্ত হন তার পূর্ণতাও শক্ত ভিত্তির উপর প্রতিষ্ঠা করার জন্য (তাঁর উত্তরাধিকারী নির্বাচন করার লক্ষ্য নিয়ে) তিনি ১৮ জিলহজ তারিখে ‘গাদিরে খুম’ নামক স্থানে সকলের উদ্দেশে বাণী প্রদান করেন। তিনি তাঁর বাণীতে বলেন, “নিশ্চয় আমি তোমাদের মধ্যে দুটি জিনিস আমানত রেখে যাচ্ছি, যদি এ দুটিকে আঁকড়ে ধরো তাহলে কখনো গোমরাহ হবে না। আর তাঁর একটি হলো আল্লাহ্্্র কুরআন ও অপরটি আমার আহলে বাইত।” তিনি আরও বলেন, “আমি কি তোমাদের আপন জীবন হতে অধিক প্রিয় নই? সবাই একবাক্যে বলে, হ্যাঁ, ইয়া রাসুলাল্লাহ (সা.)। সমবেত সাহাবিদের কাছ থেকে পর পর তিনবার এই সম্মতি নেওয়ার পর হযরত আলী (রা.)-এর বাহু সামনে তুলে ধরে বলেন, “আমি যার মাওলা, আলীও তার মাওলা। হে আল্লাহ্! তুমি তাকে বন্ধুরূপে গ্রহণ করো। আর যে তাকে সাহায্য করবে তুমিও তাকে সাহায্য করো এবং লাঞ্ছনা দাও, তাকে যে লাঞ্ছনা দেয়। মূলত সেদিন আল্লাহ্র রাসুল (সা.) তাঁর ওফাতের পর হযরত আলী (রা.)-কে উত্তরাধিকারী মনোনীত করেন।

কিন্তু অপ্রিয় হলেও সত্য, মদিনায় আসার পর সাহাবিদের মাঝে খেলাফত নিয়ে মতবিরোধ দেখা দেয়। এই অবস্থা দেখে হযরত রাসুল (সা.) ওফাতের চারদিন পূর্বে বলতে ছিলেন, আমাকে কাগজ কলম দাও, আমি লিখে দিয়ে যাই আমার পরে কে ইমামতের দায়িত্ব পালন করবে। হযরত ওমর (রা.)-এর প্রচণ্ড বিরোধিতার জন্য খাতা কলম দেওয়া সম্ভব হয়নি। দুঃখের বিষয় হলো, হযরত রাসুল (সা.)-এর সু®পষ্ট আদেশের পরেও হযরত ওমর (রা.) তা করতে দেননি। হযরত ওমর (রা.) বলেন যে, “আমাদের কাছে কুরআন আছে, কুরআনই আমাদের জন্য যথেষ্ট।”এক পর্যায়ে আল্লাহ্র রাসুল (সা.) বিরক্ত হয়ে সকলকে গৃহ থেকে বের হয়ে যেতে বলেন। এই সম্পর্কে বিস্তারিত বর্ণনা পাওয়া যায় ‘হাদিসে কিরতাসে’। হযরত রাসুল (সা.) এই ঘটনার চার দিন পর দারুল বাকায় তশরিফ নেন। তাঁর দেহ মোবারক দাফন না করে খেলাফত নিয়ে আনসার ও মুহাজিরদের মাঝে হট্টগোল শুরু হয়েছে কে হবে খলিফা? পরিতাপের বিষয় হলো যে, হযরত রাসুল (সা.) আমাদের জন্য সারাটা জীবন কষ্ট করেছেন আর বলেছেন, ‘উম্মতি ইয়া হাবলিল উম্মতি’।

হযরত রাসুল (সা.)-এর ওফাতের পরই মোহাম্মদী ইসলামের উপর নেমে আসে অমানিশার অন্ধকার। মোহাম্মদী ইসলামকে ধ্বংস করার কাজটা শুরু করেছে কিছু লেবাসধারি মুসলমান। তাদের মাঝে হযরত রাসুল (সা.)-এর কোনো আদর্শই ছিল না, তাদের চরিত্র হলো মোনাফিকের চরিত্র। হযরত রাসুল (সা.) বলেন, “মোনাফেকের চেয়ে কাফের উত্তম। কারণ কাফের চিনা যায় কিন্তু মোনাফেক কে চিনা যায় না।” সেই মোনাফেকের দল মোহাম্মদী ইসলামের যে ক্ষতি করেছে, এর প্রভাব লক্ষ্য করা যায় খোলাফায়ে রাশেদিনের শাসনকার্য পর্যালোচনা করলে।

যে আহলে বাইতকে আল্লাহ্র রাসুল (সা.) আমাদের কাছে আমানত হিসেবে দিয়ে গেলেন তাঁদের সাথে আমরা কেমন আচরণ করেছি? আল্লাহ্র রাসুল (সা.) আমাদেরকে যে আদর্শ দিয়ে গেলেন তার বাস্তবতা কোথায়? বারংবার সাবধান করার পরও তাদের সাথে এমন আচরণ করা হলো কেন? এটা স্পষ্টতই প্রতীয়মান হয় যে, হযরত রাসুল (সা.)-এর আহলে বাইত-এর সাথে যে শ্রেণিটা এমন আচরণ করেছে, তাদের মাঝে হযরত রাসুল (সা.)-এর লেবাস ব্যতীত মোহাম্মদী ইসলামের কোনো আদর্শই ছিল না। সেই লেবাসধারি মুসলমানরা রাসুল (সা.)-এর জামানায় যেমন ছিল, বর্তমানে আছে, ভবিষ্যতেও থাকবে। তাই বলে কি রাসুল (সা.)-এর আদর্শ সমাজ থেকে হারিয়ে যাবে? অবশ্যই না। হযরত রাসুল (সা.)-এর আদর্শ আল্লাহ্র বন্ধুদের মাধ্যমে জগতের বুকে প্রচারিত হচ্ছে, যা কেয়ামত পর্যন্ত অব্যাহত থাকবে। এ প্রসঙ্গে আল্লাহ্ বলেন, “আমার সৃষ্টির মধ্যে এমন একটি সম্প্রদায় রয়েছে, যারা মানুষকে হেদায়েতের পথ দেখাবে এবং ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করবে।” (সূরা আরাফ : আয়াত-১৮১)

এ সম্প্রদায় হলেন নবুয়তের যুগে নবি-রাসুল আর বেলায়েতের যুগে অলী-আল্লাহ্গণ।একবিংশ শতাব্দিতে মহান রাব্বুল আলামিন তাঁর প্রতিশ্রুত মহামানবকে, পাপ পঙ্কিলতায় নিমজ্জিত মানুষকে মোহাম্মদী ইসলামের সত্য ও সুমহান আদর্শ প্রচার করার জন্য ও পথ হারা মানুষকে সিরাতুল মুস্তাকিমের পথ দেখানোর জন্য মহান আল্লাহ্ দয়া করে সূফী সম্রাট দেওয়ানবাগী (মা. আ.) হুজুর কেব্লাজানকে এই বাংলায় প্রেরণ করেন। তিনি ১৯৪৯ খ্রিষ্টাব্দের ১৪ ডিসেম্বর ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার আশুগঞ্জ উপজেলাধীন বাহাদুরপুর গ্রামে সম্ভ্রান্ত এক সুফি পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি এমনি একজন মহামানব, যিনি মোহাম্মদী ইসলামের কালো ছায়াকে দূরীভুত করার লক্ষ্য নিয়ে এক মহাপরিল্পনা গ্রহণ করেছেন। তিনি একটি একটি করে মোহাম্মদী ইসলামের আগাছা দূরীভুত করে যাচ্ছেন। তাঁর যুগোপযোগী সংস্কারগুলো মোহাম্মদী ইসলাম যে শান্তির ধর্ম, তা বাস্তবায়ন করে যাচ্ছে। তাঁর এই মহতী কাজের জন্য হযরত রাসুল (সা.)-এর যুগের মতো কিছু স্বার্থন্বেষী মহলের আতে ঘা লেগেছে। কীভাবে এই মোহাম্মদী ইসলামের অগ্রযাত্রাকে প্রতিহত করা যায় তার জন্য তারা সদা তৎপর। কিন্তু তাদের জানা নেই যে, মোহাম্মদী ইসলামের প্রতিষ্ঠাতা হলো হযরত রাসুল (সা.)। সেই ধর্মকে দমিয়ে রাখা জগতের কারো সাধ্য নেই। তাই আল্লাহ্র প্রতিশ্রুত মহামানব মোহাম্মদী ইসলামকে বিশ্বময় প্রতিষ্ঠা করার লক্ষ্য নিয়ে নিরলস পরিশ্রম করে যাচ্ছেন। তাঁর বলিষ্ঠ পদক্ষেপের জন্য কিছু স¦ার্থান্বেষী মহল বারংবার চেষ্টা করছে কীভাবে তাকে দমিয়ে রাখা যায়। সমাজের কাছে হেয় প্রতিপন্ন করার জন্য এমন কোনো অপপ্রচার নেই যে, তারা করছে না। তিনি এমনি একজন মহামানব যে তাঁর অনুসারিদেরকে সঠিক রাস্তায় রাখার জন্য সকল ব্যক্তিস¦ার্থের উর্ধ্বে থেকে ধর্ম প্রচার করে যাচ্ছেন। সেই মহামানব আর কেউ নন, তিনি হলেন, মহান সংস্কারক, মোহাম্মদী ইসলামের পুনর্জীবনদানকারী, সূফী সম্রাট হযরত সৈয়দ মাহ্বুব-এ-খোদা দেওয়ানবাগী (মা. আ.) হুজুর কেব্লাজান। হযরত রাসুল (সা.)-এর জীবদ্দশায় মোহাম্মদী ইসলাম যেমন দুর্বার গতিতে অগ্রসরমান ছিল, তা তাঁর ওফাতের পরে কিছু মোনাফেকের কারণে কিছুটা স্থিমিত হয়ে গিয়েছে। আর কারবালার সেই ঐতিহাসিক ট্রাজেডির মাধ্যমে মোহাম্মদী ইসলামের কবর রচিত হয়, এজিদি ইসলামের প্রচার শুরু হয়। সূফী সম্রাট হুজুর কেব্লাজান বলেন, “আল্লাহ্ যদি ইচ্ছা করেন, তাহলে কলাগাছ দিয়েও ধর্ম প্রচার করতে পারেন।” তার বাস্তব উদাহরণ হলো, কারবালায় এজিদের দল ইমাম হোসাইন (রা.) ও তাঁর পরিবারের সবাইকে হত্যা করার পরও কিন্তু মোহাম্মদী ইসলামকে বিলুপ্ত করতে পারেনি। মহান আল্লাহ্ তাঁর বন্ধুদের মাধ্যমে জগতের বুকে হযরত রাসুল (সা.)-এর আদর্শ প্রচার করে যাচ্ছেন। বর্তমান জামানায় মোহাম্মদী ইসলাম প্রচারের সুমহান দায়িত্ব পালন করছেন সূফী সম্রাট হযরত দেওয়ানবাগী হুজুর কেব্লাজান।

সূফী সম্রাট হুজুর কেব্লাজান তাঁর ভক্তদেরকে সিরাতুল মোস্তাকিমের পথে রাখার জন্য প্রাণপণ চেষ্টা করে যাচ্ছেন। একজন মানুষ কীভাবে তার ইমান রক্ষা করবে সেই লক্ষ্যেই দিন রাত পরিশ্রম করে যাচ্ছেন। তিনি বলেন যে, ‘‘আমরা কোনো তরিকা করি না, আমরা মোহাম্মদী ইসলাম পালন করি।’’ মোহাম্মদী ইসলাম হলো গাছ আর তরিকা হলো এর শাখা-প্রশাখা। তাই মোহাম্মদী ইসলামের মাঝে যদি পির হয় তাহলে তা আর মূলে থাকবে না, শাখায় চলে যাবে। কাজেই মোহাম্মদী ইসলামের মাঝে কোনো পির হওয়ার সুযোগ নেই। খোলাফায়ে রাশেদিনের মতো ইমাম হবে, তারাই পর্যায়ক্রমে মোহাম্মদী ইসলামকে এগিয়ে নিয়ে যাবে।

অলী-আল্লাহ্গণ হলেন মোমবাতির মতো, যে নিজে জ¦লে সারা পৃথিবীকে আলো দিয়ে যায়। যুগের ইমামের আদর্শ নিজের মাঝে ধারণ করলে আত্মশুদ্ধি লাভ করে আশেকে রাসুল হওয়া যায়, আল্লাহ্ ও রাসুল (সা.)-এর দিদার লাভ করা যায়। বর্তমানে আমাদের সকলের দায়িত্ব হলো মোহাম্মদী ইসলামকে আরও দুর্বার গতিতে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া। মহান রাব্বুল আলামিনের দরবারে একটাই ফরিয়াদ, সকল ফেৎনা থেকে দূরে থেকে মোহাম্মদী ইসলামের শান্তি ও সুমহান আদর্শ হৃদয়ে ধারণ করে জীবন পরিচালিত করতে পারি। আমিন।

3 COMMENTS

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here