চলতি মাসেই ছাড় হচ্ছে রপ্তানি খাতের প্রণোদনা

0
201

নিজস্ব প্রতিবেদক: করোনা ভাইরাসের প্রভাব মোকাবিলায় সরকার ঘোষিত প্রণোদনা প্যাকেজ বাস্তবায়নে রূপরেখা তৈরিতে সরকারের সঙ্গে যৌথভাবে কাজ করছে তৈরি পোশাকসহ অন্যান্য রপ্তানিমুখী সংগঠন। এপ্রিলের মধ্যে অর্থছাড়ের পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করছেন সংশ্নিষ্টরা, যাতে প্রণোদনা প্যাকেজের আওতায় মে মাসের বেতন পেতে পারেন শ্রমিক-কর্মচারীরা।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ঘোষিত প্যাকেজের আওতায় টাকা দ্রুত ছাড় করা, কারা পাবেন এবং কোন পদ্ধতিতে দেওয়া হবে তা নিয়ে কাজ করছেন সংশ্লিষ্টরা। সরকার ঘোষিত সাধারণ ছুটি শেষ হওয়ার পর অর্থ মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে বিজিএমইএ, বিকেএমইএ সহ অন্যান্য রপ্তানিমুখী সংগঠনের শীর্ষ নেতারা বৈঠক করবেন। ওই বৈঠকে রূপরেখা চূড়ান্তের পর অর্থছাড়ের বিষয়ে সিদ্ধান্ত হবে বলে জানা গেছে।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা করোনা ভাইরাসের সংকটময় পরিস্থিতি কাটাতে রপ্তানিমুখী শিল্পের জন্য পাঁচ হাজার কোটি টাকার প্রণোদনার প্যাকেজ ঘোষণা করেন। এ অর্থ শুধু কর্মী ও শ্রমিকদের বেতন-ভাতা বাবদ খরচ করার নির্দেশনা দেন তিনি। এখন এ অর্থ কীভাবে সুবিধাভোগীদের দেওয়া হবে সে বিষয়ে কাজ শুরু হয়েছে।

অর্থনীতিবিদরা যথাসময়ে টাকা ছাড় করার তাগাদা দিয়েছেন। তারা বলেন, কারা অর্থ পাওয়ার যোগ্য তাদের চিহ্নিত করতে হবে। এ ক্ষেত্রে যাতে অনিয়ম না হয় সেদিকে নজর দিতে হবে। সরকারের উদ্যোগকে ইতিবাচক উল্লেখ করে তারা সীমিত সামর্থ্যের মধ্যে প্রণোদনার অর্থের যথাযথ ব্যবহার করতে হবে। তবে অন্যান্য দেশের মতো পরিস্থিতি ভয়াবহ হলে তখন আরও ব্যাপক প্রস্তুতি নিতে হবে সরকারকে।

বিজিএমইএ ও বিকেএমইএ-এর শীর্ষ নেতারা বলেন, ইউরোপ ও আমেরিকায় যেভাবে করোনা ভাইরাস সংক্রমণ ছড়িয়েছে তাতে অন্তত তিন মাসের আগে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে না। ফলে আগামীতে বড় ধরনের সংকট মোকাবিলা করতে হবে। এ জন্য প্রণোদনার পাশাপাশি নীতি সহায়তা অব্যাহত রাখতে হবে।

দেশের রপ্তানি আয়ের ৮০ শতাংশ আসে পোশাক খাত থেকে। মোট রপ্তানির ৫৩ শতাংশ আসে ইউরোপের জোটভুক্ত দেশ থেকে। অন্যদিকে একক দেশ হিসেবে ৪১ শতাংশ আসে যুক্তরাষ্ট্র থেকে। বাকিটা অন্যসব দেশ থেকে। বর্তমানে ইউরোপ ও আমেরিকায় করোনার সংক্রমণ সবচেয়ে বেশি। যে কারণে রপ্তানি আয়ের প্রধান খাত পোশাক শিল্প হুমকির মুখে।

বর্তমানে পোশাক খাতে ওভেন ও নিট মিলে মোট দুই হাজার ৭৮০ কারখানা চালু আছে। এর মধ্যে ওভেন দুই হাজার ৮০টি এবং নিট ৭০০টি। এসব কারখানায় প্রায় ৪০ লাখ শ্রমিক-কর্মচারী কাজ করেন, যাদের মোট মাসিক বেতন চার হাজার ৩০০ কোটি টাকা।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here