চাকরি প্রত্যাশীদের ভিন্ন পথ খুঁজতে হবে

0
303

অনিরুদ্ধ রুদ্র: বাংলাদেশে প্রতিবছর ২২ লাখ তরুণ চাকরি বাজারে প্রবেশ করছে। এর মধ্যে দেশের ভিতরে পূর্ণকালীন কাজ পাচ্ছে মাত্র ৭ লাখ। আর প্রতিবছর ৫ লাখ যাচ্ছে বিদেশে। আর ১০ লাখের মধ্যে একটি অংশ আত্মকর্মসংস্থানে ও খণ্ডকালীন চাকরিতে যাচ্ছে। একটি বড় অংশই প্রতিবছর বেকারের তালিকায় যোগ হচ্ছে। প্রতিবছর দেড় থেকে দুই লাখ গ্রাজুয়েট বের হচ্ছে বিশ্ববিদ্যালয়গুলো থেকে। এর মধ্যে ৪৭ শতাংশ চাকরি পান না। আইএলও’র হিসাবে, বাংলাদেশে বর্তমানে তিন কোটি বেকার।

চাকরি বাজারের এই ভয়াবহ পরিস্থিতিতে বিশ্বব্যাপী হানা দিয়েছে করোনা। বিশ্ব ভয়াবহ অর্থনৈতিক মন্দার মুখে। বাংলাদেশ-সহ সারা পৃথিবীতেই চাকরির বাজার সংকুচিত হয়ে পড়েছে। নতুন কোনও চাকরিতো সৃষ্টি হচ্ছেই না, উল্টো প্রতিদিন চাকরি হারাচ্ছেন লোকজন। বিদেশে চাকরি হারিয়ে কয়েক লাখ প্রবাসীকে দেশে ফিরে আসতে হবে। শিগগিরেই নতুন কেউ বিদেশে যেতে পারবেন না। বাংলাদেশেও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে হাজার হাজার মানুষের চাকরি হারানোর খবর পাওয়া যাচ্ছে। শিগগিরই কোথাও নতুন কোনও নিয়োগের সম্ভাবনা নেই।

ধারণা করা হচ্ছে, করোনার অর্থনৈতিক প্রভাব থেকে বের হওয়া যাবে ২০২১ সালের শেষ নাগাদ। অর্থাৎ এই দুই বছরে বাংলাদেশে যে ৪৪ লাখ তরুণ চাকরি বাজারে প্রবেশ করতে যাচ্ছে তাদের অধিকাংশেরই কোনও গতি হচ্ছে না। এর বাইরে কয়েক লাখ চাকরিজীবী চাকরি হারিয়ে বেকারের তালিকায় প্রবেশ করবে। আবার ২০২১ সালেও যদি পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয় তাহলেই যে তখন চাকরি পাওয়া যাবে তেমন কোনও নিশ্চয়তা নেই। কারণ তখন প্রতিযোগীর সংখ্যা অনেক বেড়ে যাবে। তাই এখনই ভিন্ন পথ খুঁজে বের করতে হবে তরুণদের। প্রতিটি সমস্যাই একটি নতুন রাস্তা খুলে দেয়। এখন সেই রাস্তা খুজে বের করার দায়িত্ব তরুণদেরকেই নিতে হবে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here