চামড়ার বাজারে কোনও উদ্যোগই কাজে আসলো না

0
141

দেওয়ানবাগ প্রতিবেদক: গতবারের মতো এবারও কোরবানিকৃত পশুর চামড়া বিক্রি হয়েছে নামমাত্র দরে। অনেক জায়গায় বিক্রিই করা যায়নি। সরকার গত বছরের চেয়ে চামড়ার দর কম নির্ধারণ করে দিলেও কোথাও এর অর্ধেক দামেও বেচাকেনা হয়নি। দেশের অনেক এলাকায় কোরবানিদাতারা বিক্রি করতে না পেরে চামড়া দান করে দিয়েছেন। চামড়া ফেলে দিয়েছেন অনেকে।

ঈদের দিন প্রতিটি গরুর চামড়া সর্বনিম্ন ৫০ থেকে সর্বোচ্চ ৬০০ টাকায় বেচাকেনা হয়েছে। সরকার নির্ধারিত লবণযুক্ত চামড়ার দরের সঙ্গে হিসাব করলে এই দর বেশিরভাগ ক্ষেত্রে পাঁচ ভাগের এক ভাগ। আর ছাগলের চামড়ার কোনো দরই ছিল না। কোরবানিদাতারা বিনামূল্যে দিয়ে দিয়েছেন। বিনামূল্যে নেবে এমন লোকও পাওয়া যায়নি কিছু ক্ষেত্রে।

গতবারের অভিজ্ঞতা থেকে দর বিপর্যয় ও চামড়া নষ্ট হওয়া ঠেকাতে ঈদুল আজহার আগে চামড়া ব্যবসায়ীদের সঙ্গে দফায় দফায় বৈঠক করেছে সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও সংস্থা। এমনকি ট্যানারি মালিকদের অর্থের ঘাটতি মেটাতে বিশেষ ঋণ সুবিধাও অব্যাহত রাখতে সার্কুলার জারি করে বাংলাদেশ ব্যাংক। কেস টু কেস ভিত্তিতে কাঁচা ও ওয়েট ব্লু চামড়া রপ্তানির সুযোগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। এর পরও চামড়ার দর পাওয়া যায়নি।

প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, এবার সারাদেশে এক কোটি পশু কোরবানি হয়েছে। এদিকে বাংলাদেশ হাইড অ্যান্ড স্কিন মার্চেন্ট অ্যাসোসিয়েশন জানায়, এবার লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ঢাকায় ২০ শতাংশ এবং ঢাকার বাইরে ৩০ শতাংশ কম চামড়া সংরক্ষণ হয়েছে। চামড়ার ন্যায্যমূল্য কেন পাওয়া গেল না, তার জন্য জেলা প্রশাসক ও বিভাগীয় কমিশনারদের সঙ্গে যোগাযোগ করে বিষয়টি পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন শিল্প সচিব কে এম আলী আজম।

জানা গেছে, ট্যানারি মালিক ও আড়তদাররা বেশি লাভের আশায় নির্ধারিত দামের অনেক কম দামে চামড়া কিনেছেন। অন্য বছর আড়তদার ও ট্যানারি মালিকরা এক পক্ষ অন্য পক্ষকে দোষারোপ করলেও এবার মিলেমিশে কম দামে চামড়া কিনেছে তারা। এ কারণে অনেক ক্ষুদ্র মৌসুমি ব্যবসায়ী চামড়া কেনার ঝুঁকি নেননি। তাই অনেক এলাকায় চামড়ার ক্রেতা মেলেনি। আবার কিছু এলাকায় ক্রেতা থাকলেও তারা অনেক কম দামে কিনেছেন। এর ফলে অনেক এলাকায় চামড়া নষ্ট হওয়ায় ফেলে দিতে হয়েছে। চট্টগ্রামে হাজার হাজার চামড়া রাস্তাতেই নষ্ট হয়েছে। চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন ও ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের হিসাবে ২২ হাজার চামড়া রাস্তায় নষ্ট হয়েছে। সিলেটে মৌসুমি ব্যবসায়ীরা চামড়া কিনতে মাঠে নামেননি। মাদ্রাসাগুলোতে চামড়া দিলেও তারা বিক্রি করতে পারেননি। প্রতিবাদস্বরূপ নদী ও সড়কে ফেলে রেখে গেছেন অনেকে। সিলেটের প্রায় ৯০ শতাংশ চামড়া নষ্ট হয়েছে। রাজশাহীতেও চামড়ার ক্রেতা না থাকায় নদীতে হাজার হাজার চামড়া ফেলে দেওয়া হয়েছে। আবার অনেকে মাটিতে পুঁতে ফেলেছেন।

সাতক্ষীরা জেলার বারুইহাটি গ্রামের আবদুল্লাহ আল মাসুদ জানান, কয়েক বছর ধরে চামড়ার দর কম হলেও কেউ না কেউ কিনতে আসতেন। তবে এবার তাদের এলাকায় কেউ চামড়া কিনতে আসেননি। যে কারণে গরুর চামড়া সবাই মাদ্রাসা ও এতিমখানায় দান করে দিয়েছেন। চাঁদপুরের হাজীগঞ্জের আবদুল বাতেন তালুকদার বলেন, ক্রেতার আশায় দু’দিন ধরে চামড়া ফেলে রেখেছেন। ক্রেতার দেখা মেলেনি, তাই বাধ্য হয়ে মাটিতে পুঁতে রেখেছেন।

এবার দাম এত কম কেন জানতে চাইলে আড়তদার ক্রেতারা জানান, ট্যানারিগুলো টাকা দেয়নি। ট্যানারি টাকা না দিলে কোনো বছরই কেনাবেচা জমে না। দুই বছর ধরে ট্যানারি মালিকরা টাকা না দেওয়ায় এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here