জমজমের পানিতে ধোয়া হলো কাবা

0
185

অনলাইন ডেস্ক: ধুয়ে পরিষ্কার করা হল পবিত্র কাবা শরিফ। পবিত্র জমজম কূপের পানি দিয়ে বৃহস্পতিবার ধোয়া-মোছার কাজ সম্পন্ন করা হয়। সৌদি বাদশাহ ও পবিত্র দুই মসজিদের জিম্মাদার সালমান বিন আবদুল আজিজ আল সৌদের পক্ষ থেকে মক্কার আমির যুবরাজ খালিদ আল ফয়সাল কাবা শরিফ ধোয়ার কাজে নেতৃত্ব দেন। কাবা ভ্রমণকারীরা যেন চলমান করোনাভাইরাস সংক্রমণ থেকে রক্ষা পান, সে জন্য কাবা শরিফ ধোয়ার ব্যবস্থা করা হয়।

আরব নিউজ জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার কাবা শরিফ ধোয়ার কাজ পর্যবেক্ষণে যান মক্কার আমীর ও বাদশা সালমানের উপদেষ্টা খালিদ আল ফয়সাল ও অন্য কর্মকর্তারা। এ সময় মসজিদুল হারামে তাকে অভ্যর্থনা জানান দুই মসজিদের সভাপতি শেখ ড. আবদুল রহমান আল সুদাইস। এরপর কাবা শরিফের ভেতরের অংশ পরিষ্কার করেন যুবরাজ খালিদ আল ফয়সাল। জমজম কূপের পানি ও গোলাপ জলের বিশেষ মিশ্রণ কাপড়ে ভিজিয়ে কাবা শরিফের দেওয়ালগুলো ঘষে ঘষে পরিষ্কার করেন তিনি।

নিয়মানুযায়ী প্রতিবছর দু’বার কাবা শরিফ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার কাজ করা হয়। মক্কার মসজিদুল হারামের অভ্যন্তরে অবস্থিত একটি প্রসিদ্ধ কূপ জমজম। পবিত্র কাবা ও এই কূপের মধ্যে দূরত্ব মাত্র ৩৮ গজ। এই কূপের কাছে একটি শক্তিশালী পাম্পিং মেশিন বসানো হয়েছে। সে মেশিনের মাধ্যমে পানি উত্তোলন করে একটি প্রশস্ত জায়গায় নিক্ষেপ করা হয়। সেখান থেকে লাখ লাখ মানুষ তৃপ্তিভরে পানি পান করে এবং পাত্রে ভরে নিয়ে যায়। হেরেম শরিফের বিভিন্ন জায়গায় পাইপলাইনের মাধ্যমেও জমজমের পানি সরবরাহের ব্যবস্থা রয়েছে।

আল আরাবিয়া জানায়, করোনার প্রাদুর্ভাবের কারণে অন্যান্য বছরের তুলনায় এ বছর অত্যন্ত ভালো করে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। গত বছর ১৪৪১ হিজরি সালে কাবাঘরের সম্প্রসারণ পরিকল্পনার বাস্তবায়ন চলমান থাকায় এই পবিত্র স্থাপনা ১৫ মহররমে শুধু একবার ধোয়া হয়। কাবাঘর ধোয়ার এই ধারাবাহিকতা মহানবি (সা.) থেকেই শুরু হয়েছে। মক্কা বিজয়ের পর কাবাঘর থেকে মূর্তি অপসারণ শেষে তিনি সর্বপ্রথম তা ধোন। পরে খোলাফায়ে রাশেদাও এই ধারা অব্যাহত রাখেন। সুন্নতের অনুসরণে বর্তমান শাসকরাও কাবাঘর ধোয়ার ধারাবাহিকতা অব্যাহত রেখেছেন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here