জ্ঞান-বিজ্ঞান-শিল্পে মুসলিম নারীদের যত কীর্তি

0
278

নারী ডেস্ক: ইসলামে নারীর অবদান কোনও অংশে কম নয়। ইসলাম যেমন নারীকে প্রাপ্য মানবিক মর্যাদা দিয়েছে, তেমনি নারীও ইসলামের বিকাশে যথেষ্ট অবদান রেখেছে। সর্বপ্রথম ইসলাম গ্রহণ করেছেন একজন নারী হযরত খাদিজা (রা.)। সর্বপ্রথম ইসলামের জন্য শহিদও হয়েছেন একজন নারী- হযরত সুমাইয়া (রা.)। এগুলো সৎসিদ্ধ ও বিখ্যাত ঘটনা।

কিন্তু ইতিহাস গবেষণা করলে দেখা যায়, এর বাইরেও পূর্ণাঙ্গ ইসলামী পদ্ধতিতে জীবনযাপন করে মুসলিম নারীরা পেশাদারিত্বের ক্ষেত্রে অনুপম ও উজ্জ্বল কৃতিত্বের স্বাক্ষর রেখেছেন। তাদের তালিকা ও নির্ঘণ্ট বেশ দীর্ঘ।

কয়েকজনের নাম এখানে উপস্থাপন করা হলো:
আয়েশা বিনতে তালহা (রা.): তিনি কবিতা, সাহিত্য, জ্যোতিষশাস্ত্র ও নভোমণ্ডল বিষয়ে অত্যন্ত পারঙ্গমতার পরিচয় দিয়েছিলেন। সাকিনা বিনতে হোসাইন ও খানসা; তারা কাব্য ও সাহিত্যে প্রবাদতুল্য ছিলেন।
মায়মুনা বিনতে সাদ (রা.): তিনি হাদিসশাস্ত্রে পারদর্শী ছিলেন। ইসলামের চতুর্থ খলিফা হযরত আলী (রা.)ও তাঁর কাছ থেকে হাদিস বর্ণনা করেছেন।
কারিমা মারজিয়া (রহ.): তিনি হাদিসের বিজ্ঞ পণ্ডিত ছিলেন। ইমাম বুখারি (রহ.) তার কাছ থেকে হাদিস সংগ্রহ করেছেন।
আসমা বিনতে আবি বকর (রা.) ও উম্মে আবিদুল্লাহ বিন জুবায়ের (রা.): তারা উভয়েই হাদিস বর্ণনায় দক্ষ ও পারদর্শী ছিলেন।
ফাতিমা বিনতে আব্বাস (রা.): তিনি প্রখ্যাত ইসলামী আইনবিদ ছিলেন। তিনি মিসর ও দামেশকের প্রভাবশালী নেত্রী ছিলেন।
উখত মজনি (রহ.): তিনি ছিলেন ইমাম শাফেয়ী (রহ.)-এর শিক্ষক। আল্লামা মারাদিয়ি (রহ.) তাঁর কাছ থেকে জাকাতবিষয়ক মাসআলা বর্ণনা করেছেন।
হুজায়মা বিনতে হায়ই (রহ.): তিনি প্রখ্যাত তাবেয়ি ও হাদিসবিদ ছিলেন। ইমাম তিরমিজি (রহ.) ও ইবনে মাজাহ (রহ.) তাঁর কাছ থেকে হাদিস বর্ণনা করেছেন।
আয়েশা বিনতে আহমদ বিন কাদিম (রহ.): তিনি স্পেনের অধিবাসী ছিলেন। ক্যালিওগ্রাফিতে অনন্যতার পরিচয় দিয়েছেন।

লুবনি (রহ.): তিনি ভাষাবিদ হওয়ার পাশাপাশি আরবি ব্যাকরণশাস্ত্রে প্রাজ্ঞ ছিলেন।
ফাতিমা বিনতে আলী বিন হোসাইন বিন হামজাহ (রা.): তিনি ছিলেন হাম্বলি মাজহাবের পণ্ডিত। সমসাময়িক আলেমরা তার কাছ থেকে হাদিস শিখেছেন এবং প্রসিদ্ধ হাদিসগ্রন্থ দারেমি শরিফের সনদের অনুমতি নিয়েছেন। রাবিয়া কসিসাহ (রহ.): তিনি সুপ্রসিদ্ধ বক্তা ছিলেন। হাসান বসরি (রহ.)ও তার কাছ থেকে বিভিন্নভাবে উপকৃত হয়েছেন।

ফাতিমা বিনতে কায়েস (রহ.): তিনি শিক্ষাবিদ ও আইনজ্ঞ ছিলেন।
উম্মে ফজল, উম্মে সিনান হাদিস বর্ণনাকারী ছিলেন। শিফা বিনতে আবদিল্লাহ প্রখ্যাত আইনতাত্ত্বিক ছিলেন। হযরত ওমর (রা.) তাকে ইসলামী আদালতের ‘কাজাউল হাসাবাহ’ (Accountability court) ও ‘কাজাউস সুক’ (Market administration) ইত্যাদির দায়িত্বভার অর্পণ করেন।

শায়েখ আলাউদ্দিন সমরকন্দি (রহ.) ‘তুহফাতুল ফুকাহা’ নামে একটি কিতাব লিখেছেন। এটির ব্যাখ্যাগ্রন্থ রচনা করেছেন তারই ছাত্র আবু বকর ইবনে মাসউদ কাস্তানি (রহ.)। ব্যাখ্যাগ্রন্থটির নাম ‘বাদায়েউস সানায়ি’। ইসলামী ফিকহশাস্ত্রে এটি নজিরবিহীন কিতাব। এটা দেখে শিক্ষক তার ছাত্রের কাছে নিজ মেয়েকে বিয়ে দেন। মেয়েটির নাম ফাতিমা। সমকালীন রাজা-বাদশাহরা মেয়েটিকে বিবাহ করতে আগ্রহী ছিলেন। সে মেয়েটি ছিলেন মুফতি। তার স্বাক্ষরিত অসংখ্য ফতোয়া প্রকাশিত হয়েছে। (ফতোয়ায়ে শামি : ১/১০০)

ইবনে কায়েসের বর্ণনায় দেখা যায়, প্রায় ২২ জন নারী সাহাবি ফতোয়া ও ইসলামী আইনশাস্ত্রে খ্যাতি অর্জন করেছেন। তাদের মধ্যে সাতজন উম্মাহাতুল মুমিনিন বা নবীপত্নী ছিলেন। ১১ শতাব্দীতে মামলুক শাসনামলে তৎকালীন মুসলিম নারীরা দামেস্কে ৫টি বিশ্ববিদ্যালয় ও ১২টি জ্ঞানচর্চার কেন্দ্র প্রতিষ্ঠা করে। এই বিশ্ববিদ্যালয়গুলো সম্পূর্ণরূপে মুসলিম নারীদের দ্বারা পরিচালিত হতো।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here