ডলারের বিপরীতে টাকার মান কমেছে ২.৬৫ ভাগ

0
24

অর্থনীতি ডেস্ক: এক বছরের ব্যবধানে অর্থাৎ ২০২১ সালে ডলারের বিপরীতে টাকার অবমূল্যায়ন হয়েছে ২ দশমিক ৬৫ শতাংশ। বাজারে চাহিদা অনুযায়ী সরবরাহ কম থাকায় ডলারের দাম বেড়েছে, এর বিপরীতে কমেছে টাকার মান। বৈদেশিক মুদ্রার প্রকৃত বিনিময় হার নির্ধারণ সূচকেও টাকার মান কমেছে। এ কারণে টাকার মান কমানোর ওপর চাপ বেড়েছে। যা বছর শেষে আরও তীব্র হয়েছে। তবে কেন্দ্রীয় ব্যাংক বাজারে বৈদেশিক মুদ্রার জোগান বাড়িয়ে টাকার মান কিছুটা ধরে রেখেছে।


সূত্র জানায়, গত বছরের শুরুতে ব্যাংকগুলো গড়ে গ্রাহকদের কাছে প্রতি ডলার বিক্রি করেছে ৮৪ টাকা ৯৫ পয়সা দরে। বছর শেষে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৮৬ টাকা ১৫ পয়সা। এ হিসাবে টাকার অবমূল্যায়ন হয়েছে ১ দশমিক ৪১ শতাংশ। একই সময়ে নগদ ডলারের দাম বেড়ে ৮৬ টাকা ৯০ পয়সা থেকে ৯০ টাকা ৩০ পয়সা হয়েছে। আলোচ্য সময়ে নগদ ডলারের বিপরীতে টাকার অবমূল্যায়ন হয়েছে ৯০ দশমিক ৩০ শতাংশ। ওই দুটি হিসাবের মধ্যে গড়ে টাকার অবমূল্যায়ন হয়েছে ২ দশমিক ৬৫ শতাংশ। বাজারে ব্যাংকগুলোর ডলার বেচাকেনার গড় হিসাব বিশ্লেষণ করে এ তথ্য পাওয়া গেছে।


যদিও কেন্দ্রীয় ব্যাংকের হিসাবে টাকার অবমূল্যায়ন হয়েছে আরও কম। তাদের হিসাবে বছরের শুরুতে কেন্দ্রীয় ব্যাংক বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর কাছে প্রতি ডলার বিক্রি করত ৮৪ টাকা ৮০ পয়সা দরে। বছর শেষে তা বিক্রি করেছে ৮৫ টাকা ৮০ পয়সা দরে। আলোচ্য সময়ে টাকার অবমূল্যায়ন হয়েছে ১ দশমিক ১৮ শতাংশ। তবে কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে কেবল বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোই ডলার কিনতে পারে। সাধারণ গ্রাহকরা পারে না। সাধারণ গ্রাহকদের বাণিজ্যিক ব্যাংক থেকেই বেশি দামে ডলার কিনতে হয়। বাংলাদেশ ব্যাংকের নিয়ম অনুযায়ী ডলারের বিপরীতেই টাকার বিনিময় হার বাজার নির্ধারণ করে। আগে ঘোষণা দিয়ে টাকার বিনিময় হার নির্ধারণ করা হলেও ২০০২ সাল থেকে এই হার বাজারের ওপর ছেড়ে দেওয়া হয়। তবে টাকার মান ধরে রাখতে কেন্দ্রীয় ব্যাংক বাজারের ওপর হস্তক্ষেপ করে ডলার বিক্রি করে বা ক্রয় করে। টাকার প্রকৃত বিনিময় হার নির্ধারণের জন্য বাংলাদেশের সঙ্গে বৈদেশিক বাণিজ্যিক সম্পর্ক রয়েছে এমন ১৫টি দেশের মুদ্রা নিয়ে একটি ঝুড়ি তৈরি করেছে। এসব মুদ্রার গড় হারের ভিত্তিতে টাকার প্রকৃত বিনিময় হার নির্ধারণ করা হয়। টাকার মান ওঠানামা করার ক্ষেত্রে ওই হার বাজারকে প্রভাবিত করে।

যুক্তরাজ্যের মুদ্রা পাউন্ডের বিপরীতে টাকার অবম্যূায়ন হয়েছে ৭ দশমিক ৯৬ শতাংশ। গত বছরের শুরুতে প্রতি পাউন্ডের দাম ছিল ১১৩ টাকা ৫৬ পয়সা। বছর শেষে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১১৮ টাকা। আলোচ্য সময়ে পাউন্ডের বিপরীতে টাকার অবমূল্যায়ন হয়েছে প্রায় ৪ শতাংশ। একই সময়ে নগদ বিক্রির ক্ষেত্রে পাউন্ডের দাম ১১১ টাকা ২৫ পয়সা থেকে বেড়ে হয়েছে ১২৪ টাকা ৫০ পয়সা। এক্ষেত্রে টাকার অবমূল্যায়ন হয়েছে ১১ দশমিক ৯১ শতাংশ। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের হিসাবে পাউন্ডের বিপরীতে টাকার মান বেড়েছে শূন্য দশমিক ৫৮ শতাংশ।


মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মুদ্রা ডলার ও যুক্তরাজ্যের মুদ্রা পাউন্ডের বিপরীতে টাকার অবমূল্যায়ন হলেও ইউরোপীয় ইউনিয়নের একক মুদ্রা ইউরোর বিপরীতে টাকার অবমূল্যায়ন হয়নি। বরং এর বিপরীতে টাকার মান বেড়েছে ২ দশমিক ৫৬ শতাংশ। গত বছরের শুরুর দিকে প্রতি ইউরো বিক্রি হতো ১০৩ টাকা ১১ পয়সা দরে। বছর শেষে তা বিক্রি হয়েছে ৯৯ টাকা ৮৯ পয়সা দরে। আলোচ্য সময়ে টাকার মান বেড়েছে ৩ দশমিক ১২ শতাংশ। একই সময়ে নগদ ইউরোর দাম ১০২ টাকা ৫০ পয়সা থেকে কমে ১০০ টাকা ৫০ পয়সা হয়েছে। এ ক্ষেত্রে টাকার মান বেড়েছে প্রায় ২ শতাংশ। এদিকে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের হিসাবে ইউরোর বিপরীতে টাকার মান বেড়েছে ৬ দশমিক ৭৪ শতাংশ। করোনার কারণে ইউরোর ব্যাপক দরপতন ঘটেছে। টাকার সেভাবে দরপতন হয়নি। এ কারণে ইউরোর বিপরীতে টাকা শক্তিশালী হয়েছে।


বাংলাদেশে বেশির ভাগ এলসিই খোলা হয় ডলারে। ইউরোতে খোলা হয় খুবই কম। ফলে ইউরোর বিপরীতে টাকা শক্তিশালী হওয়ার সুবিধা দেশ পায়নি।


এদিকে বাজারে ডলারের চাহিদা মেটাতে কেন্দ্রীয় ব্যাংক চলতি বছরের জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর এই তিন মাসে ব্যাংকগুলোর কাছে ৯৪ কোটি ৬০ লাখ ডলার বিক্রি করেছে। এর বিপরীতে ক্রয় ২০ কোটি ৫০ লাখ ডলার ক্রয় করেছে। গত অর্থবছরে বাজার থেকে ৭৯৩ কোটি ৭০ লাখ ডলার করেছে। এর বিপরীতে ২৩ কোটি ৫০ লাখ ডলার বাজারে ছেড়েছে। অর্থাৎ করোনার কারণে স্থগিত হওয়া এলসি অর্থ পরিশোধ করায় গত জুলাই থেকে ডলারের চাহিদা বেড়েছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here