তরুণদের কৃষিতে টানতে গঠন হচ্ছে ‘কৃষি উদ্যোক্তা ফাউন্ডেশন’

0
31

কৃষি সংবাদদাতা: দেশে প্রতি বছর কর্মক্ষম নারী ও পুরুষ যুক্ত হচ্ছে প্রায় ২০ থেকে ২২ লাখ। তাদের কর্মসংস্থান নিশ্চিত করতে না পারলে বাড়বে বেকারত্ব। ফলে প্রাতিষ্ঠানিক চাকরির পাশাপাশি প্রয়োজন উদ্যোক্তা হিসেবে কর্মসংস্থান নিশ্চিত করা। দেশের কৃষিকাজে নানাভাবে যুক্ত হচ্ছেন তরুণরা। এসব তরুণদের কৃষিতে আগ্রহ বাড়াতে এবং উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে তুলতে ‘কৃষি উদ্যোক্তা ফাউন্ডেশন’ তৈরি করতে যাচ্ছে কৃষি মন্ত্রণালয়।
সম্প্রতি বাংলাদেশ কৃষি সাংবাদিক ফোরাম (বিএজেএফ) আয়োজিত ‘বৈরি আবহাওয়ায় কৃষিজ উৎপাদন: অস্থিতিশীল বৈশ্বিক কৃষিপণ্যের বাণিজ্য’ শীর্ষক জাতীয় সংলাপে প্রধান অতিথির বক্তব্যে কৃষি উদ্যোক্তা ফাউন্ডেশনের ধারণাপত্র উপস্থাপন করেন কৃষি মন্ত্রী ড. মো. আব্দুর রাজ্জাক। তিনি জানান, উদ্যোক্তাদের কল্যাণে দ্রুত এ ফাউন্ডেশন গড়ে তোলা হবে।


জানা গেছে, কৃষি উদ্যোক্তাদের উৎসাহ দিতে ও নতুন উদ্যোক্তা তৈরি করতে এ ফাউন্ডেশন গঠনের বিষয়ে কৃষি মন্ত্রণালয় কাজ শুরু করেছে। প্রতি বছর বাংলাদেশে ২০ থেকে ২২ লাখ তরুণ যুক্ত হচ্ছে। এসব তরুণের কর্মসংস্থানের অন্যতম মাধ্যম হতে পারে কৃষি। এ জন্য ‘কৃষি উদ্যোক্তা ফাউন্ডেশন’ তৈরি করলে তরুণদের কর্মসংস্থান নিশ্চিত করা সম্ভব হবে। এ ফাউন্ডেশনের মাধ্যমে উদ্যোক্তা তৈরিতে কৃষি মন্ত্রণালয় নানারকম সহায়তা দেবে।
কৃষিমন্ত্রী বলেন, ‘কৃষি উদ্যোক্তাদের উৎসাহ দিতে ও নতুন উদ্যোক্তা তৈরি করতে কৃষি মন্ত্রণালয় ‘কৃষি উদ্যোক্তা ফাউন্ডেশন’ গঠন করতে কাজ করছে। এখন কৃষি উদ্যোক্তা তৈরি ও তাদের উৎসাহিত করা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। সারা দেশে কৃষি উদ্যোক্তারা কে কী ফসল চাষ করবে, কোন ধরনের কৃষিপণ্য প্রক্রিয়াজাত করবে, তাদের কী সহযোগিতা দরকার- এসব বিষয়ে দেখভাল, সহযোগিতা ও যোগাযোগ রক্ষা করবে এই ফাউন্ডেশন।’
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের হিসাবে, দেশের কৃষিকাজ এখন তারুণ্য নির্ভর। এখন কৃষিকাজে জড়িতদের ৬০ থেকে ৭০ শতাংশই ১৮ থেকে ৩৫ বছর বয়সী। তরুণদের এই অংশগ্রহণের ফলে কৃষিকাজেও আধুনিক প্রযুক্তির ছোঁয়া লেগেছে। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, তরুণ উদ্যোক্তাদের চ্যালেঞ্জও কম নয়। বাঁধা পেরিয়েই এগুতে হচ্ছে তাদের। নীতিমালা না থাকা, ব্যাংক ঋণ পেতে ভোগান্তি, সরকারি প্রণোদনার ঘাটতিসহ নানা রকম বাধার মুখে পড়তে হচ্ছে তাদের।


এসিআই এগ্রিবিজনেস প্রেসিডেন্ট ড. এফএইচ আনসারী বলেন, ‘আমাদের দেশে কৃষি উদ্যোক্তা ফাউন্ডেশন তৈরি করা দরকার। ফাউন্ডেশন এর মাধ্যমে ঋণ দিতে পারলে দেশের যুবক এবং তরুণ ছেলে-মেয়েরা কৃষি উদ্যোক্তা হয়ে কর্মসংস্থান সৃষ্টি করবে। ফলে দেশের বেকার সমস্যা দূর হবে। অনেক তরুণদের প্রশিক্ষণের মাধ্যমে অর্থ সহায়তা দিতে পারলে তারা ফলের বাগান, মুরগির খামার, গরুর খামার, মাছের খামার করতে সক্ষম হবে।’
তিনি আরো বলেন, ‘কৃষি উদ্যোক্তা ফাউন্ডেশন করতে পারলে দেশের কৃষি উদ্যোক্তারা সেখান থেকে ঋণ নিতে পারবে। ঋণ নিয়ে তারা কর্মসংস্থান করতে পারে এবং টাকা রিটার্ন করতে পারবে। যদি ঋণ নিয়ে একটা কৃষি যন্ত্রপাতি, বীজ, সার কিনে উৎপাদন করে সেখান থেকে লাভবান হবে। এক্ষেত্রেও সরকারের পর্যাপ্ত নীতি সহায়তা প্রয়োজন। কৃষি খাতে আরো বড় সরকারি বিনিয়োগের প্রয়োজন। ছোট-ছোট উদ্যোক্তাদের জন্য সহজ শর্তে ঋণ ও অন্যান্য সুবিধাদি সহজ করার জন্য ‘উদ্যোক্তা ফাউন্ডেশন’ গঠন করতে হবে। এতেকরে প্রাইভেট সেক্টরের গবেষণার ক্যাপাসিটি বাড়বে এবং অনেক দ্রুত সহনশীল জাতগুলো বাজারজাত করতে পারবে।’

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here