তারাবীহ: বরকতময় রমজান মাসের একটি ফজিলতপূর্ণ ইবাদত

8
1110

ইমাম ড. সৈয়দ এ.এফ.এম. মঞ্জুর-এ-খোদা (মা. আ.)
তারাবীহ কী?
আরবি ‘তারাবীহ’ শব্দটি ‘তারবীহা’ শব্দের বহুবচন। এর বাংলা অর্থ হচ্ছে, ‘অল্পক্ষণের জন্য বিশ্রাম নেওয়া’। হযরত রাসুল (সা.) রমজান মাসে এশার নামাজের পর তারাবীহর নামাজ পড়ার সময় প্রতি ৪ রাকাত নামাজ পড়ার পর কিছু সময় বিশ্রাম নিতেন। তাই এই নামাজকে তারাবীহ বলা হয়। তারাবীহর নামাজ সুন্নতে মুআক্কাদাহ (অবশ্য পালনীয় সুন্নত)-এর অন্তর্ভুক্ত। তারাবীহর নামাজকে ‘কিয়াম আল লাইল’ বা ‘রাত্রকালীন নামাজ’-এর অন্তর্ভুক্ত হিসেবে গণ্য করা হয়।

তারাবীহর নামাজের সময়
যে রাতে রমজানের চাঁদ দেখা যাবে, সেই রাত থেকে তারাবীহ শুরু হয়। ঈদুল ফিতরের চাঁদ দেখা গেলে তারাবীহ বন্ধ হয়ে যায়। তারাবীহর নামাজের সময় এশার নামাজের পর থেকে শুরু হয় এবং ফজরের সময় হওয়ার পূর্ব পর্যন্ত থাকে। তবে এক-তৃতীয়াংশ রাতের পর মধ্য রাতের আগেই তারাবীহর নামাজ আদায় করে ফেলা মুস্তাহাব (উত্তম)।

তারাবীহর নামাজের ফজিলত
তারাবীহর নামাজ অত্যন্ত ফজিলতপূর্ণ একটি ইবাদত। এই প্রসঙ্গে হাদিস শরিফে বর্ণিত হয়েছে- হযরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি রাসুলুল্লাহ (সা.)-কে রমজান সম্পর্কে বলতে শুনেছি, “যে ব্যক্তি ইমানের সাথে পুণ্য লাভের আশায় কিয়ামে রমজান অর্থাৎ তারাবীহর নামাজ আদায় করবে, তার পূর্ববর্তী গুনাহসমূহ মাফ করে দেওয়া হবে।” [বোখারি শরিফ, ই.ফা.বা, অধ্যায়-২৪ (তারাবীহর সালাত), হাদিস নং-১৮৮২]

তারাবীহর নামাজের ইতিহাস
হযরত রাসুল (সা.)-এর হায়াতে জিন্দেগির শেষ বছর, ১০ম হিজরির রমজান মাসের এক রাতে তিনি তারাবীহর নামাজ পড়ার জন্য মসজিদে নববীতে যান। সেই রাতে যে সাহাবিরা মসজিদে নববীতে উপস্থিত ছিলেন, তাঁরা হযরত রাসুল (সা.)-এর সাথে তারাবীহর নামাজ আদায় করেন। পরের দিন সকালে সেই সাহাবিদের নিকট থেকে আরও অনেক সাহাবি মসজিদে নববীতে হযরত রাসুল (সা.)-এর তারাবীহর নামাজ পড়ার কথা জানতে পারেন। তাই পরের রাতে মসজিদে নববীতে হযরত রাসুল (সা.)-এর সাথে আগের রাতের চেয়েও বেশি সাহাবি নামাজ আদায় করেন। এর পরের দিন আরও অনেক সাহাবি এই বিষয়টি জানতে পারেন। ফলে সকলেই হযরত রাসুল (সা.)-এর সাথে তারাবীহর নামাজ আদায়ের জন্য ব্যাকুল হয়ে যান। সেই রাতে, অর্থাৎ ৩য় রাতে সকল সাহাবি হযরত রাসুল (সা.) আসার পূর্বেই মসজিদে নববীতে গিয়ে উপস্থিত হন। এই সময় মসজিদে নববী আল্লাহর রাসুল (সা.)-এর সাহাবি দ্বারা পরিপূর্ণ হয়ে যায়। অতঃপর পূর্বের ২ রাতের মতো হযরত রাসুল (সা.) মসজিদে নববীতে যান এবং সমবেত সাহাবিদের নিয়ে তারাবীহর নামাজ আদায় করেন। পরপর ৩ রাত হযরত রাসুল (সা.)-এর মসজিদে নববীতে তারাবীহর নামাজ আদায়ের সংবাদ মদীনার সর্বত্র প্রচার হয়ে যায়। ৪র্থ রাতে মসজিদে নববীতে এত সাহাবি আগমন করেন যে, সেখানে তিল ধারণের স্থান ছিল না। মসজিদের ভিতরে জায়গা না পেয়ে অনেক সাহাবি বাইরে অবস্থান করছিলেন। কিন্তু সবাইকে অবাক করে দিয়ে এই রাতে হযরত রাসুল (সা.) মসজিদে আসলেন না। ফজরের নামাজের সময় তিনি মসজিদে নববীতে তশরিফ নিলেন। ফজরের নামাজের পর সাহাবিগণ তাঁকে প্রশ্ন করলেন, “ইয়া রাসুলাল্লাহ! আজ রাতে আমরা সকলে অধীর আগ্রহে আপনার জন্য অপেক্ষা করছিলাম। আপনি দয়া করে বলবেন কি, আজ রাতে আপনি কেন আসেননি?” তখন হযরত রাসুল (সা.) জবাব দিলেন, “তোমাদের উপস্থিতি আমার অজানা ছিল না। কিন্তু আমি ভয় পাচ্ছিলাম যে, হয়তো তোমাদের উপর এই নামাজ ফরজ হয়ে যাবে।”
এই প্রসঙ্গে বিখ্যাত হাদিস গ্রন্থ বোখারি শরিফ, মুসলিম শরিফ এবং সুনানে আবু দাউদ শরিফের হাদিস রয়েছে। নিম্নে বোখারি শরিফের একটি হাদিস উদ্ধৃত করা হলো-
উম্মুল মুমিনিন হযরত আয়েশা (রা.) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, “আল্লাহর রাসুল (সা.) এক রাতে মসজিদে নামাজ আদায় করছিলেন, কিছু লোক তাঁর সঙ্গে নামাজ আদায় করলেন। পরবর্তী রাতেও তিনি নামাজ আদায় করলেন এবং লোক আরো বেড়ে গেল। অতঃপর তৃতীয় কিংবা চতুর্থ রাতে লোকজন সমবেত হলেন, কিন্তু আল্লাহর রাসুল (সা.) বের হলেন না। সকাল হলে তিনি বললেন, ‘তোমরা যা করেছ, তা আমি লক্ষ্য করেছি। তোমাদের নিকট বেরিয়ে আসার ব্যাপারে এই আশঙ্কাই আমাকে বাধা দিয়েছে যে, তোমাদের উপর তা ফরজ হয়ে যাবে।’ এটি ছিল রমজান মাসের ঘটনা।” [বোখারি শরিফ, ই.ফা.বা, অধ্যায়-১৯ (তাহাজ্জুদ), হাদিস নং-১০৬২]

হযরত রাসুল (সা.)-এর তারাবীহ
প্রসিদ্ধ হাদিস গ্রন্থসমূহের বর্ণনা থেকে জানা যায়, হযরত রাসুল (সা.) ৮ রাকাত তারাবীহর নামাজ পড়তেন এবং এই রাকাতগুলো তিনি দীর্ঘ সময় নিয়ে আদায় করতেন। তবে হযরত রাসুল (সা.) ২০ রাকাত তারাবীহর নামাজ পড়েছেন, এমন হাদিসও রয়েছে। কিন্তু অধিকাংশ মুহাদ্দিস এই হাদিসকে জইফ বা দুর্বল হাদিস হিসেবে সনাক্ত করেছেন। নিম্নে হযরত রাসুল (সা.)-এর তারাবীহর নামাজ সম্পর্কে বোখারি শরিফের একটি হাদিস উদ্ধৃত করা হলো-
হযরত আবু সালামা ইবনে আবদুর রহমান (রহ.) থেকে বর্ণিত, তিনি উম্মুল মুমিনিন হযরত আয়েশা (রা.)-কে জিজ্ঞেস করেন যে, রমজানে রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর নামাজ কীরূপ ছিল? উম্মুল মুমিনিন হযরত আয়েশা (রা.) জবাব দিলেন, “রমজান মাসে ও রমজান ছাড়া অন্য সময়ে তিনি রাতের বেলায় ১১ রাকাতের বেশি নামাজ কখনো পড়েননি। তিনি ৪ রাকাত নামাজ আদায় করতেন, সেই ৪ রাকাতের সৌন্দর্য ও দৈর্ঘ্য ছিল প্রশ্নাতীত। এরপর ৪ রাকাত নামাজ আদায় করতেন, সেই ৪ রাকাতের সৌন্দর্য ও দৈর্ঘ্য ছিল প্রশ্নাতীত। এরপর ৩ রাকাত (বিতরের) নামাজ আদায় করতেন। আমি বললাম, ইয়া রাসুলাল্লাহ! আপনি বিতর আদায়ের আগে ঘুমিয়ে যাবেন? তিনি বললেন, ‘হে আয়েশা! আমার চোখ দুটি ঘুমায় বটে কিন্তু আমার ক্বালব নিদ্রাভিভূত হয় না’।” [বোখারি শরিফ, ই.ফা.বা, অধ্যায়-২৪ (তারাবীহর সালাত), হাদিস নং-১৮৮৬]

সাহাবি, তাবেঈ এবং তাবে-তাবেঈগণের তারাবীহ
হযরত রাসুল (সা.)-এর ওফাতের পর হযরত আবু বকর (রা.)-এর খিলাফতকালে এবং হযরত উমর (রা.)-এর খিলাফতের শুরুর দিকে মুসলমানগণ রমজানের রাতে একাকী অথবা মসজিদে সমবেত হয়ে জামাতের সাথে তারাবীহর নামাজ আদায় করতেন। এরপর হযরত উমর (রা.) সকলের জন্য একজন ইমাম নির্ধারিত করে দিলেন। যেন সবাই একটি জামাতে তারাবীহর নামাজ আদায় করতে পারে। এই প্রসঙ্গে বোখারি শরিফের হাদিসে বর্ণিত হয়েছে-
হযরত ইবনে শিহাব (রহ.) হযরত উরওয়া ইবনে জুবায়ের (রহ.)-এর সূত্রে হযরত আবদুর রহমান ইবনে আবদ আল ক্বারী (রহ.) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন, “আমি রমজানের এক রাতে হযরত উমর ইবনুল খাত্তাব (রা.)-এর সঙ্গে মসজিদে নববীতে গিয়ে দেখতে পাই যে, লোকেরা বিক্ষিপ্ত জামাতে বিভক্ত। কেউ একাকী নামাজ আদায় করছে আবার কোনো ব্যক্তি নামাজ আদায় করছে এবং তার এক্তেদা করে একদল লোক নামাজ আদায় করছে। হযরত উমর (রা.) বললেন, ‘আমি মনে করি যে, এই লোকদের যদি আমি একজন ক্বারীর (ইমামের) পিছনে একত্রিত করে দেই, তবে তা উত্তম হবে।’ এরপর তিনি হযরত উবাই ইবনে কাব (রা.)-এর পিছনে সকলকে একত্রিত করে দিলেন। পরে আর এক রাতে আমি তাঁর [হযরত উমর (রা.)] সঙ্গে বের হই। তখন লোকেরা তাদের ইমামের সাথে নামাজ আদায় করছিল। হযরত উমর (রা.) বললেন, ‘কত না সুন্দর এই নতুন ব্যবস্থা! তোমরা রাতের যে অংশে ঘুমিয়ে থাকো, তা রাতের ঐ অংশ অপেক্ষা উত্তম যে অংশে তোমরা নামাজ আদায় করো।’ এর দ্বারা তিনি শেষ রাত বুঝিয়েছেন, কেননা তখন রাতের প্রথমভাগে লোকেরা নামাজ আদায় করত।” [বোখারি শরিফ, ই.ফা.বা, অধ্যায়-২৪ (তারাবীহর সালাত), হাদিস নং-১৮৮৩]

তখন প্রথমদিকে সকলে একত্র হয়ে ৮ রাকাত তারাবীহর নামাজ আদায় করতেন। পরবর্তীতে হযরত উমর (রা.)-এর সময়েই পর্যায়ক্রমে জামাতের সাথে ২০ রাকাত তারাবীহর নামাজ পড়া শুরু হয়। মুসলিম জাহানের ৩য় খলিফা হযরত উসমান (রা.) এবং ৪র্থ খলিফা হযরত আলী (কা.)-এর সময়েও এই নিয়ম মেনে চলা হয়। ইমাম আবু হানিফা (রহ.), ইমাম শাফেয়ী (রহ.) এবং ইমাম আহমদ বিন হাম্বল (রহ.)-ও ২০ রাকাতের তারাবীহর নামাজের জামাতকে সমর্থন করেছেন।

কিছু বর্ণনায় পাওয়া যায়, অনেক সাহাবি, তাবেঈ এবং তাবে-তাবেঈনগণ ৮ রাকাত, ১০ রাকাত, ১২ রাকাত, ১৬ রাকাত, ২০ রাকাত, এমনকি ৩৬ রাকাত পর্যন্ত তারাবীহর নামাজ পড়েছেন। (মুসান্নাফ ইবনে আবু শায়বাহ, খণ্ড ২, পৃষ্ঠা: ১৬৫-১৬৬) উমাইয়া খিলাফতের ৮ম খলিফা উমর বিন আব্দুল আজিজ (২য় উমর) ২০ রাকাতের পরিবর্তে ৩৬ রাকাতের জামাত প্রবর্তন করেন। এর কারণ ছিল, তিনি চেয়েছিলেন মক্কার বাইরের অধিবাসীরাও ফজিলতের দিক দিয়ে মক্কার অধিবাসীদের সমান হোক। কেননা তখন মক্কাবাসী তারাবীহর প্রত্যেক ৪ রাকাতের পর পবিত্র কাবা শরীফ তাওয়াফ করতেন। এভাবে তারা ২০ রাকাত তারাবীহর নামাজের জামাতে ৪ বার কাবা শরীফ তাওয়াফ করার সুযোগ পেতেন। তাই উমর বিন আব্দুল আজিজ প্রত্যেক তাওয়াফের বদলে অতিরিক্ত ৪ রাকাত নামাজ পড়ার নিয়ম তৈরি করেন। এই নিয়ম মদিনাবাসীদের মধ্যে প্রচলিত ছিল। যেহেতু মালেকি মাজহাবের ইমাম, ইমাম মালেক (রহ.) মদীনাবাসীদের আমলকে প্রাধান্য দিতেন, সেহেতু তিনিও পরবর্তীতে ২০ রাকাতের স্থলে ৩৬ রাকাতের ফতোয়া দেন। (আসান ফেকাহ, মাওলানা মুহাম্মদ ইউসুফ ইসলাহী, অনুবাদ ও সম্পাদনা: আব্বাস আলী খান, আধুনিক প্রকাশনী।)

তারাবীহর নামাজ কত রাকাত পড়তে হয়
অনেকেই প্রশ্ন করে থাকেন, তারাবীহর নামাজ কত রাকাত পড়া উচিত? তারাবীহর নামাজের প্রকৃত রাকাত সংখ্যা কত, এই বিষয়টি নিয়ে আলেমগণের মধ্যে মতভেদ লক্ষ্য করা যায়। এই প্রসঙ্গে বোখারি শরিফের একটি হাদিস নিম্নে উপস্থাপন করা হলো-
হযরত ইবনে উমর (রা.) বলেন, “হযরত রাসুল (সা.) মিম্বরে বসা ছিলেন। এমন সময় একজন তাঁকে জিজ্ঞেস করলেন, ‘রাত্রকালীন নামাজ (কিয়াম আল লাইল) কীভাবে আদায় করতে হয়?’ হযরত রাসুল (সা.) জবাব দিলেন, ‘প্রথমে ২ রাকাত নামাজ আদায় করো, এরপর আবার ২ রাকাত নামাজ আদায় করো, এভাবে ২ রাকাত করে নামাজ আদায় করতে থাকো। যখন তোমার মনে হবে যে, ফজরের নামাজের সময় সন্নিকটে, তখন ১ রাকাত নামাজ আদায় করো, যাতে এটি তোমার আদায়কৃত রাকাতসমূহের বিতর (বেজোড়) হয়ে যায়’।” হযরত ইবনে উমর (রা.) বলেন, “কিয়াম আল লাইল-এর শেষ রাকাত বিজোড় হওয়া আবশ্যক, যেহেতু হযরত রাসুল (সা.) এমনটি করতে বলেছেন।” [বোখারি শরিফ, ইংরেজি অনুবাদ, অধ্যায়-৮ (সালাত), হাদিস নং-৪৭২]
হযরত রাসুল (সা.) কখনো ৮ রাকাতের বেশি তারাবীহর নামাজ পড়েননি। তবে তিনি অনুমতি দিয়েছেন, যত রাকাত ইচ্ছা তত রাকাত পড়া যায়। হাদীসের বর্ণনা এবং ফিকাহ শাস্ত্রবিদগণের অভিমত অনুযায়ী ‘কিয়াম আল লাইল’ বা ‘তারাবীহর নামাজ’-এর রাকাতের কোনো নির্দিষ্ট সংখ্যা নেই। তাই তারাবীহর নামাজ ৮ রাকাত, ১২ রাকাত অথবা ২০ রাকাত পড়া যেতে পারে। ২০ রাকাতের বেশি পড়লেও কোনো সমস্যা নেই।

তারাবীহর নামাজ আদায়ের নিয়ম
তারাবীহর নামাজ জামাতে পড়া যেতে পারে অথবা নিজ গৃহে একাকীও পড়া যেতে পারে। মূলত, নিয়ম হচ্ছে- এশার ৪ রাকাত ফরজ নামাজ আদায়ের পর এশার ২ রাকাত সুন্নতে মুআক্কাদাহ এবং ২ রাকাত নফল নামাজ পড়তে হয়। অতঃপর তারাবীহর নামাজের নিয়ত করে ফজরের সময়ের পূর্ব পর্যন্ত ২ রাকাত করে তারাবীহর নামাজ পড়া যায়। প্রতি ৪ রাকাত নামাজ আদায়ের পর কিছুক্ষণ বিশ্রাম নেওয়া সুন্নত। বিশ্রামের সময় তারাবীহর নামাজের দোয়া বা অন্য যে কোনো দোয়া, তাসবিহ অথবা দরূদ শরিফ পড়া যায়। তবে এই সময় চুপচাপ বসে বিশ্রাম নিলেও কোনো সমস্যা নেই। সবশেষে ৩ রাকাত বিতরের ওয়াজিব নামাজ পড়তে হয়।
পবিত্র রমজান মাস হচ্ছে মহান আল্লাহর নৈকট্য লাভের মাস। আল্লাহ্ রাব্বুল আলামিন যেন আমাদেরকে তাঁর মহান বন্ধু মহান সংস্কারক, মোহাম্মদী ইসলামের পুনর্জীবনদানকারী সূফী সম্রাট হযরত সৈয়দ মাহ্বুব-এ-খোদা দেওয়ানবাগী (মা. আ.) হুজুর কেবলাজানের অসিলায় এই পবিত্র মাসে সিয়াম সাধনা এবং সঠিকভাবে ফরজ, সুন্নত এবং নফল ইবাদত করার মাধ্যমে তাঁর নৈকট্য লাভের সুযোগ করে দেন। আমিন।

8 COMMENTS

  1. অসাধারণ একটি প্রবন্ধ !!!
    অনেক দিন ধরেই তারাবীহ নামাজ নিয়ে মনে প্রশ্ন ছিল। এই প্রবন্ধটি পড়ে আজ তারাবীহ সম্পর্কিত প্রশ্নের উত্তর জানতে পারলাম।

  2. ইমাম ডক্টর সৈয়দ এ এফ এম মঞ্জুর এ খোদা মাদ্দাজিল্লুহুল আলী হুজুর, আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ, এই তারাবির নামাজ নিয়ে সমাজে অনেক প্রশ্ন ছুড়া ছুড়ি হয় এখনো আছে, বিভিন্ন লোকের বিভিন্ন মত ছিল এই তারাবির নামাজ নিয়ে।
    আজ জাতি আপনার দেওয়া পোস্টের মাধ্যমে, তারাবির নামাজের সঠিক সমাধান পেল।

    সত্যিই আপনাকে পেয়ে আমরা ধন্য।
    আপনাকে লাখো কোটি সালাম।

  3. স্যার আপনার লেখা তারাবীহ সম্পর্কিত আর্টিকালটি পড়লাম।

    অনেক তথ্যবহুল একটি কাজ। সহজ-সাবলীল ভাষা সকল শ্রেণির পাঠককে এক প্লাটফর্মে নিয়ে আসে যা সত্যিই নতুন লেখকদের জন্য অনুপ্রাণিত।
    সেই সাথে প্রয়োজনীয় সংখ্যক হাদীস-র রেফারেন্স কাজটিকে আরো ইনফরমেটিভ করে তোলে যা একজন পাঠককে মানসিকভাবে সন্তুষ্ট করে; অর্থাৎ শুধুমাত্র নিজের পারসেপশন ব্যক্ত করে বিষয়টি পাঠকে গিলিয়ে না দিয়ে পর্যাপ্ত পরিমাণ এবং অথেন্টিক প্রমাণ দলিল দিয়ে একটি স্টেটমেন্টকে স্যাটিস্ফাই করার ধরণটি আপনি প্রফেশনাভাবেই লজিকালি উপ্সথাপন করেছেন।

    আজ বহুদিন পর আপানার নতুন একটি গবেষণা পেলাম। পাঠক হিসেবে অনুরোধ করব, আপনি আপনার এই কাজ সামনেও অব্যাহত রাখবেন।

    বিশেষ করে ইসলামিক স্টাডিজের আন্ডারগ্র্যাজুয়েট শিক্ষার্থী হিসেবে বলছি শিক্ষকদের এরূপ গবেষণামূলক কাজ আমাকে উৎসাহিত করে শুধুমাত্র বই, নোটস আর সিজিপিএ ৪-র মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে গবেষণামূলক একাডেমিক ক্যারিয়ারের প্রতি মনোযোগ দিতে।

    অনেক অনেক দোয়া ও শুভ কামনা। <3

  4. তারাবীহ নামায সম্পর্কে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা।
    কলামটি পড়ে অনেক কিছু জানতে পারলাম।
    স্যারকে অনেক অনেক ধন্যবাদ।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here