দেশে জনসংখ্যা ১৬ কোটি ৭৪ লাখ এবং গড় আয়ু ৭২.৬ বছর

0
262

অনলাইন ডেস্ক: দেশের মানুষের প্রত্যাশিত আয়ুষ্কাল বেড়ে হয়েছে ৭২ দশমিক ৬ বছর। পুরুষের ক্ষেত্রে গড় আয়ুষ্কাল ৭১ দশমিক ১ বছর এবং নারীদের ৭৪ দশমিক ২ বছর। বাংলাদেশের জনসংখ্যা (১ জানুয়ারি ২০২০, প্রাক্কলিত) বেড়ে হয়েছে ১৬ কোটি ৭৪ লাখ। এর মধ্যে পুরুষ ৮ কোটি ৩৮ লাখ এবং নারী ৮ কোটি ৩৬ লাখ। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) ‘রিপোর্ট অন বাংলাদেশ স্যাম্পল ভাইটাল স্ট্যাটিস্টিকস-২০১৯’ প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে। দেশের মোট জনসংখ্যা এবং তাদের আর্থ সামাজিক অবস্থা জানতে প্রতি দশ বছর পরপর সারাদেশে আদমশুমারি করা হয়। আর এই তথ্যের সঙ্গে সমন্বয় করতে প্রতি বছর নমুনা সংগ্রহ করে এই প্রতিবেদন প্রকাশ করে বিবিএস।

গত মঙ্গলবার আগারগাঁওয়ের পরিসংখ্যান ভবনে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রতিবেদনটি প্রকাশ করা হয়। এতে দেখা যায়, দেশের শিশু মৃত্যুর হার, প্রসূতি মৃত্যুর হার উন্নতি হওয়ার পাশাপাশি শিক্ষার হারেও উন্নতি হয়েছে। তবে দেশের মানুষের মাইগ্রেশন (স্থানান্তর) হার বেড়ে গেছে অস্বাভাবিক হারে। পরিবারের আকার ছোট হয়ে আসছে, পুরুষেরা আরো কম বয়সে বিয়ে করছে। জন্মনিয়ন্ত্রণ পদ্ধতির ব্যবহার বাড়ছে না।

বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর মহাপরিচালক মোহাম্মদ তাজুল ইসলামের সভাপতিত্বে প্রতিবেদন প্রকাশ অনুষ্ঠানে ভার্চুয়াল পদ্ধতিতে প্রধান অতিথি হিসেবে যোগ দেন পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান। বিশেষ অতিথি ছিলেন পরিসংখ্যান ও তথ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগের সচিব মোহাম্মদ ইয়ামিন চৌধুরী। মূল প্রতিবেদন উপস্থাপন করেন প্রকল্প পরিচালক এ কে এম আশরাফুল হক। তিনি বলেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বাংলাদেশের মানুষের প্রত্যাশিত গড় আয়ু ধারাবাহিকভাবেই বাড়ছে। উল্লেখ্য, ২০১৮ সালের জরিপে পুরুষের প্রত্যাশিত গড় আয়ু ছিল ৭০ দশমিক ৬ বছর এবং নারীর ৭৩ দশমিক ৫ বছর। এবার সেটি হয়েছে পুরুষের ক্ষেত্রে ৭১ দশমিক ১ বছর এবং নারীর ৭৪ দশমিক ২ বছর।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে পরিকল্পনামন্ত্রী বলেন, উন্নয়নে সঠিক তথ্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। মাঠ পর্যায় থেকে বিশুদ্ধ তথ্য তুলে আনতে হবে। বিশেষ অতিথির বক্তব্যে পরিসংখ্যান ও তথ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগের সচিব বলেন, এই জরিপের মাধ্যমে আমরা অন্যান্য দেশের সঙ্গে বাংলাদেশের আর্থসামাজিক অবস্থার পরিমাপ করি। এবারের প্রতিবেদনে দেখা গেছে, আর্থসামাজিক অনেক সূচকেই ভারত, পাকিস্তান, নেপালসহ অনেক দেশ থেকে বাংলাদেশ এগিয়ে রয়েছে।

২০১৯ সালে মোট ২০১২টি নমুনা এলাকা থেকে সংগৃহীত তথ্যের ওপর ভিত্তি করে প্রতিবেদনটি প্রস্তুত করা হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, ২০১৫ সালে দেশে খানার গড় সদস্যসংখ্যা ছিল ৪ দশমিক ৪, যা ২০১৯ সালে হয়েছে ৪ দশমিক ২। বাংলাদেশের নারীরা এখনো পুরুষ দ্বারা উচ্চমাত্রায় নিয়ন্ত্রিত। ৮৫ দশমিক ৪ ভাগ পরিবারের খানাপ্রধান হচ্ছে পুরুষ। দেশে বয়স্ক শিক্ষার হার বেড়েছে। ২০১৫ সালে বয়স্ক শিক্ষার হার ছিল ৬৪ দশমিক ৬ শতাংশ এবং এই হার ২০১৯ সালে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৭৪ দশমিক ৭ শতাংশ।

জন্মহার: বাংলাদেশে প্রতি হাজারে জন্মহার দাঁড়িয়েছে ১৮ দশমিক ১, যা ২০১৫ সালে ছিল ১৮ দশমিক ৮। অর্থাৎ, পাঁচ বছরের ব্যবধানে জন্মহার কমেছে শূন্য দশমিক ৭ শতাংশের বেশি। তবে নারীদের প্রজনন হার সাম্প্রতিক বছরগুলোতে প্রায় স্থির (২০ দশমিক ৪) রয়েছে। জন্মনিয়ন্ত্রণ পদ্ধতি ব্যবহারের হার ৬৩ দশমিক ৪ শতাংশে স্থির রয়েছে।

এদিকে প্রতি হাজার জীবিত জন্ম নেওয়া শিশুর ক্ষেত্রে মৃত্যুর হার (নিওনেটাল মর্টালিটি রেট) দাঁড়িয়েছে ১৫ জনে, যা ২০১৫ সালে ছিল হাজারে ২০ জন। এছাড়া ২০১৯ সালে এক থেকে চার বছর বয়সি শিশু মৃত্যুর হার কমে হয়েছে প্রতি হাজারে ১ দশমিক ৭ জন, যা ২০১৫ সালে ছিল ২ জন। অন্যদিকে প্রসূতি মৃত্যুর হারও কমেছে। এটি গত পাঁচ বছরে সমহারে কমেছে। ২০১৫ সালে প্রসূতি মৃত্যুর অনুপাত ছিল ১ দশমিক ৮১, যেটি ২০১৯ সালে কমে দাঁড়িয়েছে ১ দশমিক ৬৫।

বিবাহের গড় বয়স: প্রতিবেদন অনুযায়ী পুরুষদের ক্ষেত্রে বিবাহের গড় বয়স কিছুটা নিম্নমুখী, যা ২০১৫ সালে ছিল ২৫ দশমিক ৩ বছর। এটি ২০১৯ সালে হয়েছে ২৪ দশমিক ২ বছর। পক্ষান্তরে নারীদের মধ্যে এই বয়স ২০১৫ সালে ছিল ১৮ দশমিক ৪ বছর, যা ২০১৯ সালে হয়েছে ১৮ দশমিক ৫ বছর।

আগমন ও বহির্গমন: ২০১৪ থেকে ২০১৯ সালের মধ্যে আগমন ও বহির্গমন উভয়ই অস্বাভাবিকভাবে বেড়েছে।
শিক্ষার হারের ক্ষেত্রে বলা হয়েছে, সাত বছরের ঊর্ধ্বে জনসংখ্যার মধ্যে এখন শিক্ষার হার ৭৪ দশমিক ৪ শতাংশ। এছাড়া ১৫ বছর থেকে তার ওপরের জনসংখ্যার মধ্যে শিক্ষার হার ৭৪ দশমিক ৭ শতাংশ।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here